অধ্যায় ৪৬

যে-ই আন্তরিকভাবে আমার জন্য নিজেকে ব্যয় করে এবং উৎসর্গ করে, আমি অন্তিম সময় পর্যন্ত নিশ্চয়ই তোমাকে রক্ষা করব; আমার হাত নিশ্চিতভাবেই তোমাকে ধরে রাখবে, যাতে তুমি সব সময়েই শান্তি ও আনন্দের মধ্যে থাকো এবং যাতে প্রতিদিন তুমি আমার আলোক ও উদ্ঘাটন লাভ করতে পারো। আমার যা আছে, তুমিও যাতে তা পাও এবং আমি যা তুমিও যাতে তার অধিকারী হও, সেজন্য আমি নিঃসন্দেহে তোমার উপর আমার দ্বিগুণ আশীর্বাদ বর্ষণ করব। তোমাকে তোমার মধ্যে যা দেওয়া হয়েছে, তা হল তোমার জীবন, এবং তা তোমার থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারে না। নিজের উপর সমস্যাটেনে এনো না, বা অবসাদে ভুগো না; আমার ভিতর শুধু শান্তি ও আনন্দই আছে। ওহে বালক, আমি আন্তরিকভাবেই তোমাকে ভালোবাসি, তুমি যে কিনা আন্তরিকভাবে আমার কথার প্রতি মনোযোগ দেয় ও আমাকে মান্য করে। আমি যাদের সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি, তারা হল ভণ্ড; আমি নিঃসন্দেহে তাদের নির্মূল করে দেব। আমার ভবন থেকে আমি পৃথিবীর যাবতীয় সংকেত মুছে দেব, এবং যাদের দর্শন পর্যন্ত আমি সহ্য করতে পারি না, সেই সমস্ত বস্তুকে নির্মূল করে দেব।

কে আন্তরিকভাবে আমাকে চায় এবং কে চায় না, সেকথা আমার হৃদয়ে আমি সঠিকভাবেই জানি। তারা হয়তো ছদ্মবেশ ধরতে দক্ষ এবং যে ভূমিকায় তারা অভিনয় করছে, সেই ভূমিকা অনুযায়ী সাজতে পারে, এমনকী একথাও বলা যেতে পারে যে তারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাদের হৃদয়ে যা কিছু ধারণ করে রেখেছে, তা আমি স্পষ্ট দেখতে পাই। একথা ভেবো না যে তোমার হৃদয়ে কী আছে তা আমার জানা নেই; বস্তুত আমার থেকে স্পষ্ট করে বোঝে এমন কেউ নেই। তোমার হৃদয়ে কী আছে তা আমি জানি; তুমি নিজেকে ঈশ্বরের প্রতি উৎসর্গ করতে চাও এবং ঈশ্বরের জন্য নিজেকে ব্যয় করতে চাও, তুমি কেবল অন্যদের আনন্দ দেওয়ার জন্য মিষ্টি কথার আশ্রয় নিতে চাও না। স্বচ্ছ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখো! আজকের এই রাজ্য মানুষের শক্তির দ্বারা গড়ে ওঠেনি, বরং তাকে সাফল্যের সঙ্গে গড়ে তোলা সম্ভব শুধুমাত্র আমার বহুমুখী প্রজ্ঞা ও শ্রমসাধ্য উদ্যোগকে ব্যবহার করার মাধ্যমে। যারা তাদের মধ্যে এই প্রজ্ঞা এবং আমি যা তাকে অধিকার করে, তারা এই রাজ্য নির্মাণের অংশীদার হবে। আর দুশ্চিন্তা কোরো না; তুমি সব সময়েই চূড়ান্ত রকমের উদ্বিগ্ন থাকো, তোমার মধ্যে আমার ইচ্ছার উদ্ঘাটন বা প্রদীপ্তির প্রতি তুমি বিন্দুমাত্র মনোযোগ দাও না। আর এ কাজ কোরো না। সমস্যা যা-ই হোক না কেন, সে বিষয়ে আমার সঙ্গে আরও বেশি আলাপ-আলোচনা করো, যাতে তুমি তোমার নিজস্ব কর্মের ফলাফলজাত কষ্টভোগ এড়াতে পারো।

হয়তো আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে আমি সকলের প্রতিই উদাসীন, কিন্তু আমার অন্তরে আমি কী ভাবি, সেকথা কি তুমি জানো? যে বিনয়ী তাকে আমি সব সময়েই উপরে তুলে আনছি, এবং যারা আত্মাভিমানী ও আত্মগর্বী, তাদের আমি সব সময়েই নীচে নামিয়ে দিচ্ছি। যারা আমার ইচ্ছাকে উপলব্ধি করতে পারে না, তারা বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তোমার অবশ্যই জানা প্রয়োজন যে, আমি ঠিক এটিই এবং এটিই আমার প্রকৃতি — কারোর পক্ষেই তাকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয় এবং কারোর পক্ষেই তাকে বিশদে উপলব্ধি করাও সম্ভব নয়। শুধুমাত্র আমার উদ্ঘাটনের মধ্যে দিয়েই তোমার পক্ষে তা উপলব্ধি করা সম্ভব, অন্য কোনওভাবে তোমার পক্ষে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উপলব্ধি করাও সম্ভব নয়; উদ্ধত হয়ে উঠো না। কেউ কেউ হয়তো আমার প্রশস্তি করে, কিন্তু তাদের হৃদয় কখনওই আমার প্রতি অনুগত নয়, গোপনে তারা সব সময়েই আমার বিরোধিতা করে চলেছে; আমি এ জাতীয় ব্যক্তিদের বিচার করব।

শুধুমাত্র অন্যদের অনুকরণ করার দিকেই মনোযোগ দিও না, তোমার উচিত আমার আচরণ ও আমার রীতিনীতির প্রতি মনোযোগী হওয়া। শুধুমাত্র এই পথেই তুমি ক্রমশ আমার ইচ্ছাকে উপলব্ধি করতে পারবে; তারপর তোমার কাজকর্ম আমার ইচ্ছারসাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, এবং তুমি কোনো ভুল করবে না। কান্নাকাটি কোরো না বা দুঃখিত হয়ে উঠো না; তুমি যা কিছু করো, তোমার যাবতীয় আচরণ এবং তুমি যা কিছু ভাবো, সবই আমি স্পষ্ট দেখতে পাই, এবং তোমার আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার কথাও আমি জানি; আমি তোমায় ব্যবহার করবো। এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তোমাকে পরীক্ষা করার সময় উপস্থিত। তুমি কি এখনও তা দেখতে পাওনি? তুমি কি এখনও উপলব্ধি করে উঠতে পারোনি? তোমার প্রতি আমার এহেন মনোভাবের কারণ কী? তুমি কি তা জানো? আমি তোমার কাছে এই বিষয়গুলি প্রকাশ করেছি এবং তোমার কিঞ্চিৎ অন্তর্দৃষ্টি লাভ হয়েছে। কিন্তু এখানেই থেমে যেও না — তোমার প্রবেশের চেষ্টা বজায় রাখো, এবং আমিও তোমাকে আলোকিত করতে থাকব। তুমি কি একথা উপলব্ধি করেছ যে তুমি আমাকে যত মান্য করবে ও আমার প্রতি যত মনোযোগ দেবে, নিজের অন্তরে তুমি ততই উজ্জ্বলতর হয়ে উঠবে এবং তোমার অভ্যন্তরে তত বেশি করে উদ্ঘাটন লাভ করবে? তুমি কি এ বিষয়ে সচেতন যে তুমি আমাকে যত মান্য করবে ও আমার প্রতি যত মনোযোগ দেবে, আমার সম্পর্কে তুমি তত বেশি জ্ঞান লাভ করবে এবং ততই বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করবে? সব সময় তোমার নিজস্ব ধারণাকে আঁকড়ে থেকো না; এ কাজের ফলে আমার প্রাণময় জলস্রোতের গতি রুদ্ধ হবে এবং আমার ইচ্ছা পালনের পথে বাধার সৃষ্টি হবে। তোমার অবশ্যই জানা প্রয়োজন যে কোনও ব্যক্তিকে সম্পূর্ণভাবে অর্জন করা সহজ কর্ম নয়। জটিল চিন্তার স্রোতে ভেসে যেও না। শুধুমাত্র অনুসরণ করে চলো এবং আর চিন্তা কোরো না!

পূর্ববর্তী: অধ্যায় ৪৫

পরবর্তী: অধ্যায় ৪৭

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

পরিশিষ্ট ১: ঈশ্বরের আবির্ভাব এক নতুন যুগের সূচনা করেছে

ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা শেষ হতে চলেছে, এবং যারা তাঁর আবির্ভাবের পথ চেয়ে আছে তাদের সকলের জন্য স্বর্গের দ্বার ইতিমধ্যেই...

ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

ক্রন্দনরত অবস্থায় এই জগতে ভূমিষ্ঠ হবার সময় থেকেই তুমি তোমার কর্তব্য পালন করা শুরু করো। ঈশ্বরের পরিকল্পনা ও তাঁর নির্ধারিত নিয়তি অনুসারে...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন