যাদের নিখুঁত করা হবে তাদের অবশ্যই পরিমার্জনা ভোগ করতে হবে

তুমি যদি ঈশ্বরবিশ্বাসী হও, তাহলে তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরকে মান্য করতে হবে, সত্যকে অনুশীলন করতে হবে, এবং তোমার সমস্ত কর্তব্য পূরণ করতে হবে। উপরন্তু, তোমার যেসব অভিজ্ঞতা লাভ করা উচিত সেই সব বিষয়ে তোমাকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে। যদি তুমি কেবলমাত্র মোকাবিলা, অনুশাসন এবং বিচারের সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতা লাভ করো, যদি তুমি শুধুমাত্র ঈশ্বরকে উপভোগ করতে সক্ষম হও কিন্তু তিনি যখন তোমাকে অনুশাসন বা মোকাবিলা করছেন তখন তা অনুভব করতে না-পারো – তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। হয়তো এই পরিমার্জনার কালে তুমি তোমার ভিত্তিতে অটল থাকতে সক্ষম, তবু তা কিন্তু যথেষ্ট নয়; তোমাকে অবশ্যই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ঈশ্বরকে ভালোবাসার শিক্ষা কখনও থামে না এবং এর কোনো অন্ত নেই। ঈশ্বরে বিশ্বাস করার বিষয়টিকে মানুষেরা এক অত্যন্ত সহজ বিষয় হিসাবে দেখে, কিন্তু একবার কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে নেওয়ার পর তারা বুঝতে পারে যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করা মানুষ যেমন কল্পনা করে তেমন সহজ নয়। ঈশ্বর যখন মানুষকে পরিমার্জনার কাজ করেন, তখন মানুষ যন্ত্রণা ভোগ করে। কোনও ব্যক্তির পরিমার্জনা যত বেশি হবে, ঈশ্বরের প্রতি তাদের ভালোবাসা তত বেশি হবে এবং তাদের মধ্যে ঈশ্বরের শক্তিও তত বেশি প্রকাশিত হবে। পক্ষান্তরে, কোনও ব্যক্তি যত কম পরিমার্জনা পাবে, ঈশ্বরের প্রতি তাদের ভালোবাসা তত কমবে এবং তাদের মধ্যে ঈশ্বরের শক্তিও তত কম প্রকাশিত হবে। এই ধরনের একজন ব্যক্তির পরিমার্জনা এবং কষ্ট যত বেশি হবে এবং তারা যত বেশি যন্ত্রণা ভোগ করবে, ঈশ্বরের প্রতি তাদের ভালোবাসা তত বেশি গভীর হবে, তাদের বিশ্বাস আরও অকৃত্রিম হবে, এবং ঈশ্বর সম্পর্কিত জ্ঞানও তত বেশি প্রগাঢ় হবে। তোমার অভিজ্ঞতায় তুমি দেখতে পাবে, যে সমস্ত মানুষেরা পরিমার্জনাকালে গভীর যন্ত্রণা পেয়েছে, যারা অত্যন্তরকমের মোকাবিলা এবং অনুশাসনের সম্মুখীন হয়েছে, তাদের মধ্যেই ঈশ্বরের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং ঈশ্বর সম্পর্কে প্রগাঢ় ও সুতীক্ষ্ণ জ্ঞান রয়েছে। যারা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা লাভ করেনি তাদের কেবল ভাসা-ভাসা জ্ঞান রয়েছে, এবং তারা শুধু বলতে পারে: “ঈশ্বর কত ভালো, তিনি মানুষদের ওপর অনুগ্রহ প্রদান করেন যাতে তারা তাঁকে উপভোগ করতে পারে।” মানুষদের যদি মোকাবিলা এবং অনুশাসনের অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলেই তারা ঈশ্বরের বিষয়ে প্রকৃত জ্ঞান সম্পর্কে বলতে পারে। সুতরাং মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের কাজ যত বিস্ময়কর হয়, তা ততই মূল্যবান এবং তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তোমার কাছে এটা যত দুর্ভেদ্য লাগে এবং যতই তা তোমার ধারণাগুলির সাথে অসঙ্গত মনে হয়, ততই ঈশ্বরের কাজ তোমাকে জয় করে নিতে, অর্জন করতে এবং তোমাকে নিখুঁত করে তুলতে সক্ষম হয়। ঈশ্বরের কাজের তাৎপর্য কত মহান! ঈশ্বর যদি মানুষদের এইভাবে পরিমার্জন না করতেন, যদি এই পদ্ধতি অনুসারে কাজ না করতেন, তাহলে তাঁর কাজ নিষ্ফল এবং তাৎপর্যহীন হয়ে যেত। অতীতে বলা হয়েছিল যে ঈশ্বর এই গোষ্ঠীকে নির্বাচন এবং অর্জন করবেন, এবং অন্তিম সময়ে তাদের সম্পূর্ণ করবেন; এটার মধ্যে অসামান্য তাৎপর্য রয়েছে। তোমাদের মধ্যে তিনি যত বেশি কার্য নির্বাহ করবেন, ঈশ্বরের প্রতি তোমাদের ভালোবাসাও তত সুগভীর এবং বিশুদ্ধ হবে। ঈশ্বরের কাজ যত বেশি হবে, মানুষ তত বেশি তাঁর প্রজ্ঞার কিছু অংশ উপলব্ধিতে সক্ষম হবে এবং তাঁর সম্পর্কে সুগভীর জ্ঞানলাভ করবে। অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সমাপ্তি ঘটবে। এটা কি সত্যিই এত সহজে সমাপ্ত হতে পারে? এটা কি এতই সহজ? মানুষেরা সত্যিই এটাকে এত সহজ হিসাবে কল্পনা করতে পারলেও, ঈশ্বর যা করেন তা এত সহজ নয়। ঈশ্বরের কাজের যে অংশেরই উল্লেখ তুমি করো না কেন, তা মানুষের কাছে অতল। তুমি তার তল পেতে সক্ষম হলে ঈশ্বরের কাজ মূল্যহীন অথবা তাৎপর্যহীন হয়ে যেত। ঈশ্বরের করা কাজ অতল, তা তোমার ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত, এবং যত তা তোমার ধারণার সাথে অ-সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, ততই তা ঈশ্বরের কাজকে অর্থপূর্ণ প্রতিপন্ন করে; এটা তোমার ধারণার সাথে সুসঙ্গত হলে তা হয়ে যেত অর্থহীন। বর্তমানে তুমি মনে করো যে ঈশ্বরের কাজ কত বিস্ময়কর, এবং তোমার এটা যত বেশি বিস্ময়কর মনে হয়, ততই তুমি উপলব্ধি করো যে ঈশ্বর অতল এবং প্রত্যক্ষ করো ঈশ্বরের কাজগুলি কত মহান। তিনি যদি মানুষকে জয় করার জন্য কেবল কিছু ভাসা-ভাসা, যেমন-তেমন কাজ করতেন এবং তারপরে আর কিছুই না করতেন, তাহলে মানুষ ঈশ্বরের কাজের তাৎপর্য প্রত্যক্ষ করতে অক্ষম হত। তুমি বর্তমানে সামান্য পরিমার্জনা পেলেও, তা তোমার জীবনে সমৃদ্ধির পক্ষে খুবই উপকারী; তাই তোমাদের এই ধরনের কষ্ট সহ্য করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বর্তমানে, তুমি সামান্য পরিমার্জনা পাচ্ছ, কিন্তু পরবর্তীকালে তুমি প্রকৃতই ঈশ্বরের কাজ দেখতে সক্ষম হবে, এবং শেষ পর্যন্ত তুমি বলবে: “ঈশ্বরের কাজগুলি খুবই বিস্ময়কর!” এই কথাগুলো কিন্তু হবে তোমার অন্তরের কথা। কিছু সময়ের জন্য ঈশ্বরের পরিমার্জনার অভিজ্ঞতা পেয়ে (সেবাদাতাদের পরীক্ষা এবং শাস্তির সময়) কেউ কেউ শেষে বলেছে: “ঈশ্বর-বিশ্বাস সত্যিই কঠিন!” তারা যে এই “সত্যিই কঠিন” শব্দবন্ধ ব্যবহার করে, এটাই দেখায় যে ঈশ্বরের কাজ অতল, তাঁর কাজের মহান তাৎপর্য ও মূল্য রয়েছে, এবং তাঁর কাজ মানুষের সঞ্চয় করার পক্ষে খুবই মূল্যবান। আমি এত কাজ করার পরও যদি তোমার মধ্যে সামান্যতম জ্ঞানও না থাকত, তাহলে কি আমার কাজের এখনও মূল্য থাকত? এটা তোমাকে বলতে বাধ্য করবে: “ঈশ্বরের সেবা করা সত্যিই কঠিন, ঈশ্বরের কাজগুলি কত বিস্ময়কর, এবং ঈশ্বর সত্যিই প্রজ্ঞাময়! ঈশ্বর কত সুন্দর!” যদি অভিজ্ঞতার একটি সময়কাল অতিবাহিত করার পরেও, তুমি এই ধরনের কথা বলতে সক্ষম হও, তবে তা প্রমাণ করে যে তুমি তোমার মধ্যে ঈশ্বরের কাজ অর্জন করেছো। একদিন, যখন তুমি বিদেশে সুসমাচার প্রচার করছ আর কেউ তোমাকে জিজ্ঞাসা করে: “ঈশ্বরের প্রতি আপনার বিশ্বাস কেমন চলছে?” তুমি বলতে পারবে: “ঈশ্বরের কাজগুলি খুবই বিস্ময়কর!” তারা অনুভব করবে যে তোমার বাক্যগুলি বাস্তবিক অভিজ্ঞতার কথাই বলে। এই-ই হল প্রকৃত সাক্ষ্য বহন করা। তুমি বলবে যে ঈশ্বরের কাজ প্রজ্ঞায় পূর্ণ এবং তোমার মধ্যে করা তাঁর কাজ সত্যিই তোমাকে প্রত্যয়ী করেছে এবং তোমার হৃদয় জয় করেছে। তুমি সর্বদা তাঁকে ভালবাসবে কারণ তাঁকে মানবজাতির ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য বললে কম বলা হয়! তুমি যদি এই কথাগুলি বলতে পারো, তাহলে তুমি মানুষদের অন্তরকে অনুপ্রাণিত করতে পারবে। এসবই হল সাক্ষ্য বহন করা। তুমি যদি আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাক্ষ্য বহন করতে পারো, মানুষদের চোখে অশ্রু এনে দিতে পারো, তাহলে তা দেখায় যে তুমিই সেই ব্যক্তি যে ঈশ্বরকে সত্যিই ভালোবাসে, কারণ তুমি ঈশ্বরকে ভালবাসার সাক্ষ্য দিতে পারো এবং তোমার মাধ্যমেই ঈশ্বরের কাজগুলি সাক্ষ্যে প্রতীয়মান হতে পারে। তোমার সাক্ষ্যের দ্বারা, অন্যান্যরা ঈশ্বরের কাজ অন্বেষণ করতে, তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা পেতে, এবং যেকোনো পরিবেশের অভিজ্ঞতাতেই তারা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। এটাই সাক্ষ্য দেওয়ার একমাত্র প্রকৃত উপায়, এবং এটাই এখন তোমার প্রয়োজন। তোমার দেখা উচিত যে ঈশ্বরের কাজ অত্যন্ত মূল্যবান এবং মানুষের কাছে সঞ্চয় করে রাখার যোগ্য, যে ঈশ্বর কত উত্তম এবং কতই না সর্বময়; তিনি যে শুধু বাক্য বলতে পারেন তা-ই নয়, বরং তিনি মানুষের বিচার করতে পারেন, তাদের হৃদয় পরিমার্জিত করতে পারেন, উপভোগের জন্য আনন্দ এনে দিতে পারেন, তাদের অর্জন, জয় এবং নিখুঁত করতে পারেন। তোমার অভিজ্ঞতা থেকে তুমি দেখতে পাবে যে ঈশ্বর খুবই ভালবাসার যোগ্য। তাহলে তুমি এখন ঈশ্বরকে কতটা ভালোবাসো? তুমি কি সত্যিই তোমার অন্তর থেকে এই কথাগুলি বলতে পারো? যখন তুমি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে এই কথা বলতে পারবে, তখনই তুমি সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হবে। একবার তোমার অভিজ্ঞতা এই স্তরে পৌঁছে গেলে তুমি ঈশ্বরের জন্য সাক্ষী হতে সক্ষম এবং সুযোগ্য হবে। তুমি যদি তোমার অভিজ্ঞতায় এই স্তরে না পৌঁছাও তবে তুমি তখনও অনেক দূরে রয়ে যাবে। পরিমার্জনাকালে মানুষদের পক্ষে দুর্বলতা দেখানো স্বাভাবিক, কিন্তু পরিমার্জনার শেষে তোমার একথা বলতে সক্ষম হওয়া উচিত: “ঈশ্বর তাঁর কাজে কতই না প্রাজ্ঞ!” তুমি যদি সত্যিই এই কথাগুলির ব্যবহারিক উপলব্ধি অর্জন করতে পারো, তাহলে তা এমন বিষয় হয়ে উঠবে যা তুমি পোষণ করবে, এবং তোমার অভিজ্ঞতার মূল্য থাকবে।

তোমার এখন কী অন্বেষণ করা উচিত? ঈশ্বরের কাজে তুমি সাক্ষ্য দিতে সক্ষম কিনা, অথবা তুমি ঈশ্বরের সাক্ষ্য এবং প্রকাশ হয়ে উঠতে পারবে কিনা, এবং তুমি তাঁর দ্বারা ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত কিনা – এগুলিই তোমার অনুসন্ধান করা উচিত। ঈশ্বর তোমার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কতখানি কাজ করেছেন? তুমি কতটুকু প্রত্যক্ষ করেছ, কতটুকুই বা স্পর্শ করেছ? কতটুকুই বা অভিজ্ঞতা এবং আস্বাদ করেছ? ঈশ্বর তোমাকে পরীক্ষা, মোকাবিলা বা অনুশাসন করেছেন কিনা তা নির্বিশেষে তাঁর ক্রিয়া এবং তাঁর কর্ম তোমার মধ্যে নির্বাহিত হয়েছে। কিন্তু একজন ঈশ্বরবিশ্বাসী হিসাবে, এবং তাঁর দ্বারা নিখুঁত হতে চাওয়া ব্যক্তি হিসাবে, তুমি কি তোমার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঈশ্বরের কাজের সাক্ষ্য বহন করতে সক্ষম? তুমি কি তোমার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ঈশ্বরের বাক্য যাপন করতে পারো? তুমি কি নিজের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অন্যান্যদের জন্য যোগান দিতে পারো, এবং ঈশ্বরের কাজের সাক্ষ্য বহন করার জন্য তোমার পুরো জীবন ব্যয় করতে পারো? ঈশ্বরের কাজের সাক্ষ্য বহন করতে তোমাকে অবশ্যই নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং প্রদত্ত মূল্যের উপর নির্ভর করতে হবে। কেবল এইভাবেই তুমি তাঁর ইচ্ছাকে সন্তুষ্ট করতে পারবে। তুমি কি ঈশ্বরের কাজের সাক্ষ্য বহনকারী? তোমার কি এই আকাঙ্ক্ষা রয়েছে? যদি তুমি তাঁর নামের, এবং তদুপরি, তাঁর কাজের সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হও, এবং, অধিকন্তু, তিনি তাঁর লোকেদের কাছে যে প্রতিমূর্তি স্থাপন করতে চান তা অনুসারে যাপন করতে পারো, তাহলে তুমি হলে ঈশ্বরের জন্য একজন সাক্ষী। তুমি আসলে কীভাবে ঈশ্বরের জন্য সাক্ষ্য দিতে পারো? ঈশ্বরের বাক্য অনুসন্ধান এবং যাপনের আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে, এবং তোমার কথার দ্বারা সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে, মানুষদের তাঁর কাজ উপলব্ধি এবং প্রত্যক্ষ করানোর মাধ্যমে, তুমি এমন করতে পারো। তুমি যদি সত্যিই এই সমস্ত অন্বেষণ করো, তাহলে ঈশ্বর তোমাকে নিখুঁত করবেন। যদি তুমি শুধুমাত্র ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হতে এবং শেষাবধি আশীর্বাদপ্রাপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে অন্বেষণ করো, তাহলে তোমার ঈশ্বর-বিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গি বিশুদ্ধ নয়। তোমাকে অন্বেষণ করতে হবে কীভাবে বাস্তব জীবনে ঈশ্বরের কাজগুলি দেখা যায়, যখন তিনি তোমার কাছে তাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করবেন তখন কীভাবে তাঁকে সন্তুষ্ট করা যায় এবং কীভাবে তাঁর বিস্ময় ও প্রজ্ঞার সাক্ষ্য দেওয়া উচিত, এবং তিনি তোমার সাথে যেভাবে অনুশাসন এবং মোকাবিলা করেন তার সাক্ষ্য কীভাবে বহন করা উচিত। এই সব বিষয়গুলিই তোমার এখন চিন্তা করা উচিত। যদি তোমার ঈশ্বর-বিশ্বাসের উদ্দেশ্য কেবলমাত্র তোমার নিখুঁতকরণের পরে তাঁর মহিমার অংশীদার হওয়া হয়, তাহলে তা এখনও অপর্যাপ্ত এবং তা ঈশ্বরের চাহিদা পূরণ করতে অপারগ। তোমাকে ঈশ্বরের কাজের সাক্ষ্য দিতে, তাঁর চাহিদা পূরণ করতে এবং মানুষের উপর ব্যবহারিক উপায়ে তিনি যে কাজ করেছেন তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হতে হবে। ব্যথা, অশ্রু বা দুঃখ যাই হোক না কেন, তোমার অনুশীলনে তোমাকে অবশ্যই এই সমস্ত জিনিসগুলির অভিজ্ঞতা লাভ করতে হবে। ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহনকারী ব্যক্তি হিসাবে তোমাকে নিখুঁত করার জন্যই এগুলি ব্যবহৃত হয়। তাহলে আসলে কোন জিনিস এখন তোমাকে যন্ত্রণা পেতে এবং নিখুঁত হওয়ার অন্বেষণে বাধ্য করে? তোমার বর্তমান যন্ত্রণা কি সত্যিই ঈশ্বরকে ভালোবাসার জন্য এবং তাঁর সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য? নাকি তা দৈহিক আশীর্বাদের জন্য, তোমার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং ভাগ্যের জন্য? তোমার সমস্ত উদ্দেশ্য, প্রেরণা, এবং সাধিত লক্ষ্য অবশ্যই সংশোধন করা উচিত এবং সেগুলি তোমার নিজের ইচ্ছার দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না। যদি কোনও ব্যক্তি আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য নিখুঁতকরণের অন্বেষণ করে, আবার অপর কোনও ব্যক্তি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্য, ঈশ্বরের কাজের বাস্তবিক সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নিখুঁতকরণের অন্বেষণ করে, তাহলে তুমি এই দুটি অন্বেষণের উপায়ের মধ্যে কোনটিকে বেছে নেবে? তুমি যদি প্রথমটি বেছে নাও, তবে তুমি এখনও ঈশ্বরের মান থেকে অনেক দূরে রয়ে যাবে। আমি একবার বলেছিলাম যে আমার কাজগুলি পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে উন্মুক্তভাবে পরিচিত হবে এবং আমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রাজা হিসাবে রাজত্ব করব। অন্যদিকে, তোমাদের উপর যা ন্যস্ত করা হয়েছে, তা হল ঈশ্বরের কাজের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়া, রাজা হয়ে ওঠা নয় বা পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সামনে আবির্ভূত হওয়া নয়। ঈশ্বরের কাজগুলি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এবং আকাশকে পূর্ণ করুক। সকলে সেগুলি দেখুক এবং স্বীকার করুক। এই বাক্যগুলি স্বয়ং ঈশ্বরের সম্বন্ধে বলা হয়, এবং মানুষের শুধু ঈশ্বরের জন্য সাক্ষ্য দেওয়া উচিত। তুমি এখন ঈশ্বরকে কতটুকু জানো? তুমি ঈশ্বরের কতটুকু সাক্ষ্য দিতে পারো? মানুষকে নিখুঁতকরণের পিছনে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য কী? একবার তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে পারলে, কীভাবে তাঁর ইচ্ছার প্রতি তোমার বিবেচনা করা উচিত? যদি তুমি নিখুঁত হতে চাও এবং তোমার যাপনের মাধ্যমে ঈশ্বরের কাজের সাক্ষ্য দিতে চাও, যদি তোমার এই চালিকা শক্তি থাকে, তবে কোনোকিছুই খুব কঠিন নয়। মানুষের বর্তমানে যা প্রয়োজন তা হল বিশ্বাস। তোমার এই চালিকা শক্তি থাকলে যেকোনো নেতিবাচকতা, নিষ্ক্রিয়তা, অলসতা এবং দেহকেন্দ্রিক ধারণা, জীবনযাপনের দর্শন, বিদ্রোহী স্বভাব, আবেগ এবং আরও অনেক কিছু ছেড়ে দেওয়া সহজ।

পরীক্ষা চলাকালীন মানুষদের পক্ষে দুর্বল হয়ে পড়া, নিজেদের মধ্যে নেতিবাচকতা থাকা অথবা ঈশ্বরের ইচ্ছার বা তাদের অনুশীলনীয় পথের বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যেকোনো ক্ষেত্রেই, তুমি অবশ্যই ঈশ্বরের কাজে বিশ্বাস রেখো, আর ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান কোরো না, ঠিক যেমনটা ইয়োব করেছিল। যদিও ইয়োব ছিল দুর্বল এবং নিজের জন্মের দিনেই অভিশপ্ত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও সে কিন্তু অস্বীকার করে নি যে মানবজীবনে যা কিছু রয়েছে সবই যিহোবার দান এবং যিহোবাই হলেন সেইজন যিনি তাদের সকলকে নিয়ে যাবেন। তাকে যেভাবেই পরীক্ষা করা হয়ে থাক না কেন, সে কিন্তু এই বিশ্বাস বজায় রেখেছিল। তোমার অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে তুমি ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা যে পরিমার্জনার মধ্য দিয়েই যাও না কেন, ঈশ্বর মানবজাতির কাছ থেকে যা চান তার সারসংক্ষেপ হল তাঁর প্রতি তাদের বিশ্বাস এবং ভালোবাসা। এইভাবে কাজ করার মাধ্যমে তিনি মানুষদের মধ্যেকার বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং প্রেরণা নিখুঁত করে তোলেন। ঈশ্বর মানুষদের নিখুঁতকরণের কাজ করেন, এবং তারা তা প্রত্যক্ষ করতে পারে না, অনুভব করতে পারে না; এই ধরনের পরিস্থিতিতে তোমার বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। যখন কিছু খালি চোখে দেখা যায় না তখন মানুষের বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়, এবং যখন তুমি নিজের ধারণাগুলি বর্জন করতে পারো না, তখনই তোমার বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। যখন তোমার ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে স্পষ্টতা থাকে না, তখন তোমাদের প্রয়োজন হল বিশ্বাস রাখা এবং দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং সাক্ষ্য দেওয়া। ইয়োব যখন এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখন ঈশ্বর তার কাছে দেখা দিয়েছিলেন এবং তার সাথে কথা বলেছিলেন। অর্থাৎ, তোমার ঈশ্বরকে দেখতে সক্ষম হওয়া নিহিত রয়েছে তোমার বিশ্বাসেই, এবং যখন তোমার মধ্যে বিশ্বাস থাকবে, তখন ঈশ্বর তোমাকে নিখুঁত করবেন। বিশ্বাস না থাকলে, তিনি তা করতে পারেন না। তুমি যা কিছু লাভের আশা করো ঈশ্বর তোমাকে সেসব দান করবেন। যদি তোমার বিশ্বাস না থাকে, তাহলে তোমাকে নিখুঁত করা যাবে না, এবং তুমি ঈশ্বরের কাজ প্রত্যক্ষ করতে অক্ষম হবে, তাঁর সর্বশক্তিমত্তা প্রত্যক্ষ করা তো দূরের কথা। যখন তোমার বিশ্বাস থাকে যে তোমার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতায় তুমি তাঁর কাজগুলি দেখতে পাবে, তখন ঈশ্বর তোমার কাছে উপস্থিত হবেন, এবং তিনি তোমাকে অন্তর থেকে আলোকিত এবং নির্দেশিত করবেন। সেইরূপ বিশ্বাস ব্যতীত, ঈশ্বর তা করতে অক্ষম হবেন। ঈশ্বরের উপর থেকে তুমি যদি আশা হারিয়ে ফেলো, তাহলে তুমি কীভাবে তাঁর কাজ অনুভব করতে পারবে? অতএব, শুধুমাত্র যখন তোমার মধ্যে বিশ্বাস থাকবে এবং তুমি ঈশ্বরের প্রতি নিঃসন্দেহ হবে, শুধুমাত্র যখন ঈশ্বরের কাজ নির্বিশেষে তুমি তাঁর প্রতি সত্যিকারের বিশ্বাস রাখবে, তখনই তিনি তোমার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তোমাকে আলোকিত ও প্রদীপ্ত করবেন এবং তখনই তুমি তাঁর কাজ দেখতে সক্ষম হবে। এই সমস্ত জিনিস বিশ্বাসের মাধ্যমে অর্জিত হয়। কেবলমাত্র পরিমার্জনার মাধ্যমেই বিশ্বাস আসে, পরিমার্জনার অভাবে বিশ্বাস বিকশিত হতে পারে না। “বিশ্বাস” এই শব্দটি বলতে কী বোঝায়? বিশ্বাস হল প্রকৃত আস্থা এবং আন্তরিক হৃদয় যা মানুষের থাকা উচিত যখন তারা কিছু দেখতে বা স্পর্শ করতে পারে না, যখন ঈশ্বরের কাজ মানুষের ধারণার সাথে সঙ্গত হয় না, যখন তা মানুষের নাগালের বাইরে থাকে। আমি এই বিশ্বাসের কথাই বলি। মানুষের কষ্ট ও পরিমার্জনার সময়ে বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় এবং পরিমার্জনার পরেই বিশ্বাসের আগমন ঘটে; পরিমার্জনা এবং বিশ্বাসকে আলাদা করা যায় না। ঈশ্বর যেভাবেই কাজ করুন না কেন এবং তোমার পরিবেশ যেমনই হোক না কেন, তুমি জীবনের অনুসরণ, সত্যের সন্ধান, ঈশ্বরের কাজের জ্ঞান অন্বেষণ এবং তাঁর কর্ম সম্পর্কে উপলব্ধি করতে সক্ষম হও, এবং তুমি সত্য অনুযায়ী কাজ করতে পারো। সত্যিকারের বিশ্বাস থাকার অর্থই হল তা করা, এবং তেমন করার মাধ্যমেই প্রতীয়মান হয় যে তুমি ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস হারাও নি। শুধুমাত্র যদি তুমি পরিমার্জনার মাধ্যমে সত্যের অনুসরণে অটল থাকতে সক্ষম হও, যদি সত্যই ঈশ্বরকে ভালোবাসতে সক্ষম হও এবং তাঁর সম্পর্কে নিঃসন্দেহ থাকো, যদি তুমি তাঁর কাজ নির্বিশেষে এখনও তাঁকে সন্তুষ্ট করার জন্য সত্য অনুশীলন করো, এবং যদি তাঁর ইচ্ছার গভীরে অনুসন্ধান করতে পারো এবং তাঁর ইচ্ছার প্রতি সচেতন হও, তাহলেই তুমি ঈশ্বরের প্রতি সত্যিকারের বিশ্বাস রাখতে পারবে। অতীতে যখন ঈশ্বর বলেছিলেন যে তুমি রাজা হিসাবে রাজত্ব করবে, তাঁকে তুমি ভালবেসেছিলে, এবং যখন তিনি প্রকাশ্যে নিজেকে তোমার সামনে দেখিয়েছিলেন, তখন তুমি তাঁকে অন্বেষণ করেছিলে। কিন্তু এখন ঈশ্বর অন্তরালে রয়েছেন, তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ না, এবং তোমার সামনে সমস্যা উপস্থিত হয়েছে – তাহলে কি তুমি এখন ঈশ্বরের ওপর আশা হারিয়ে ফেলবে? অতএব, তোমার উচিত সর্বদা জীবনের অন্বেষণ এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার সন্তুষ্টির অনুসন্ধান করা। একেই বলে নিখাদ বিশ্বাস এবং এটাই হল প্রকৃত এবং সর্বোত্তম ধরনের ভালোবাসা।

অতীতে, সকল মানুষেরা তাদের সংকল্প তৈরির জন্য ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত হতো এবং বলত: “এমনকি আর কেউ ঈশ্বরকে ভালো না বাসলেও, আমি অবশ্যই তাঁকে ভালবাসবো।” কিন্তু এখন, তোমার ওপর পরিমার্জনা আরোপিত হয়েছে, এবং তা তোমার ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায়, তুমি ঈশ্বরের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছ। এ কি নিখাদ প্রেম? তুমি অনেকবারই ইয়োবের কীর্তিসমূহের বিষয়ে পড়েছ – তা কি তুমি বিস্মৃত হয়েছ? প্রকৃত ভালোবাসা শুধুমাত্র বিশ্বাসের মধ্যে থেকেই গঠিত হয়। তুমি তোমার সহন করা পরিমার্জনার মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত ভালবাসার বিকাশ ঘটাও, এবং তোমার বিশ্বাসের দ্বারাই তুমি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি মনোযোগী হতে সক্ষম হও, আর এই বিশ্বাসের দ্বারাই তুমি তোমার নিজস্ব দৈহিক ইচ্ছা ত্যাগ করে জীবনের অনুবর্তী হও; এমনটাই মানুষদের করা উচিত। এমন করতে পারলে, তুমি ঈশ্বরের কাজ প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হবে, কিন্তু যদি তোমার বিশ্বাসের অভাব থাকে, তাহলে তুমি ঈশ্বরের কাজ প্রত্যক্ষ করতে বা অনুভব করতে পারবে না। ঈশ্বরের দ্বারা ব্যবহৃত এবং নিখুঁত হতে চাইলে, তোমাকে অবশ্যই এই সবকিছুর অধিকারী হতে হবে: কষ্ট সহ্য করার ইচ্ছা, বিশ্বাস, সহনশীলতা, আজ্ঞাকারিতা, এবং ঈশ্বরের কাজ অনুভব করা, তাঁর ইচ্ছা উপলব্ধি করা, তাঁর দুঃখের প্রতি মনোযোগী হওয়ার ক্ষমতা, প্রভৃতি। কাউকে নিখুঁত করা সহজ নয়, এবং তোমার অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতিটি পরিমার্জনায় তোমার বিশ্বাস এবং ভালোবাসা প্রয়োজন। ঈশ্বরের দ্বারা তুমি নিখুঁত হতে চাইলে, শুধুমাত্র পথে তাড়াতাড়ি এগিয়ে যাওয়া এবং কেবলমাত্র ঈশ্বরের জন্য নিজেকে ব্যয় করাই যথেষ্ট নয়। ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হতে গেলে তোমাকে অবশ্যই অনেক কিছুর অধিকারী হতে হবে। দুঃখকষ্টের সম্মুখীন হলে, তোমাকে অবশ্যই দৈহিক উদ্বেগকে দূরে রাখতে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করতে সক্ষম হতে হবে। যখন ঈশ্বর নিজেকে তোমার কাছ থেকে আড়াল করে রাখেন, তখন তোমাকে অবশ্যই তাঁকে অনুসরণ করার বিশ্বাস রাখতে সক্ষম হতে হবে, পূর্বের ভালবাসাকে স্খলিত অথবা বিলীন হতে না দিয়ে তা বজায় রাখতে সক্ষম হতে হবে। ঈশ্বর যা-ই করুন না কেন, তোমাকে অবশ্যই তাঁর পরিকল্পনায় সমর্পণ করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পরিবর্তে নিজের দৈহিক সত্তাকে অভিশাপ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার সময়, তোমাকে আকুল হয়ে কাঁদতে হলেও বা কোনো প্রিয় বস্তুর সাথে বিচ্ছেদে অনিচ্ছুক বোধ করলেও, তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে হবে। একমাত্র এটাই সত্যিকারের ভালোবাসা এবং বিশ্বাস। তোমার প্রকৃত আত্মিক উচ্চতা যাই হোক না কেন, তোমার মধ্যে অবশ্যই প্রথমে কষ্ট সহ্য করার ইচ্ছা এবং প্রকৃত বিশ্বাস দুটোই থাকতে হবে, এবং অবশ্যই দৈহিক বাসনা ত্যাগ করার ইচ্ছাও থাকতেই হবে। ঈশ্বরের ইচ্ছাকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমার ব্যক্তিগত দুঃখকষ্ট সহ্য করা এবং ব্যক্তিস্বার্থের ক্ষতি বহনে ইচ্ছুক হওয়া উচিত। তোমাকে অবশ্যই অন্তরে নিজের সম্পর্কে অনুশোচনা অনুভব করতে সক্ষম হতে হবে: অতীতে, তুমি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম ছিলে, এবং এখন, আত্ম-অনুশোচনা করতে পারো। তোমার মধ্যে যেন অবশ্যই এই বিষয়ে কোনপ্রকার অভাব না থাকে – বিষয়সমূহের মাধ্যমেই ঈশ্বর তোমাকে নিখুঁত করবেন। তুমি এই মানদণ্ড পূরণ করতে না পারলে, তোমাকে নিখুঁত করা যাবে না।

ঈশ্বরের কোনও সেবাকারীর পক্ষে কেবলমাত্র তাঁর জন্য কীভাবে দুঃখকষ্ট পেতে হয় সেইটুকু জানাই যথেষ্ট নয়; তদুপরি, তাদের বুঝতে হবে যে ঈশ্বর-বিশ্বাসের উদ্দেশ্য হল ঈশ্বরের ভালবাসার অন্বেষণ করা। ঈশ্বর কেবলমাত্র যে তোমার পরিমার্জনার জন্য বা তোমাকে দুঃখকষ্ট দেওয়ার জন্যই তোমাকে ব্যবহার করেন, এমন নয়, বরং তিনি তোমাকে ব্যবহার করেন যাতে তুমি তাঁর ক্রিয়াকলাপ জানতে পারো, মানবজীবনের প্রকৃত তাৎপর্য জানতে পারো, এবং বিশেষত যাতে তুমি জানতে পারো, যে, ঈশ্বরের সেবা করা সহজ কাজ নয়। ঈশ্বরের কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করা অনুগ্রহ উপভোগের জন্য নয়, বরং তা তাঁর প্রতি তোমার ভালবাসার জন্য কষ্টভোগ বিষয়ক। যেহেতু তুমি ঈশ্বরের অনুগ্রহ উপভোগ করো, তাই তোমাকে অবশ্যই তাঁর শাস্তিও ভোগ করতে হবে; তোমার অবশ্যই এই সমস্ত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তুমি তোমার মধ্যে ঈশ্বরের আলোকপ্রাপ্তি উপলব্ধি করতে পারো, এবং তিনি কীভাবে তোমার সাথে মোকাবিলা করেন এবং বিচার করেন সেগুলিও উপলব্ধি করতে পারো। এইভাবে, তোমার উপলব্ধি সর্বাঙ্গীণ হবে। ঈশ্বর তোমার উপর তাঁর বিচার ও শাস্তির কাজ সম্পন্ন করেছেন। ঈশ্বরের বাক্য কেবল যে তোমার মোকাবিলা করেছে তা-ই নয়, তা তোমাকে আলোকিত ও প্রদীপ্তও করেছে। যখন তুমি নেতিবাচক এবং দুর্বল থাকো, ঈশ্বর তোমার জন্য উদ্বিগ্ন হন। এই সকল কাজের উদ্দেশ্য হল তোমাকে জানানো যে মানুষের সবকিছু ঈশ্বরের সমন্বয়সাধনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। তোমার মনে হতে পারে যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করার অর্থ হল দুঃখকষ্ট ভোগ করা, অথবা তাঁর জন্য সমস্ত কিছু করা; তুমি ভাবতে পারো যে ঈশ্বর-বিশ্বাসের উদ্দেশ্য হল দৈহিক শান্তি লাভ, বা যাতে তোমার জীবনের সবকিছু সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে, বা যাতে তুমি সমস্ত বিষয়ে আরাম এবং স্বাচ্ছন্দ্য পেতে পারো। যাইহোক, এই উদ্দেশ্যগুলির কোনোটিকেই মানুষের ঈশ্বর-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্ত করা উচিত নয়। যদি তুমি এই সমস্ত উদ্দেশ্যে বিশ্বাস করো, তাহলে তোমার দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক নয়, এবং তোমার পক্ষে নিখুঁত হওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। ঈশ্বরের কাজ, ঈশ্বরের ধার্মিক স্বভাব, তাঁর প্রজ্ঞা, বাক্য, তাঁর বিস্ময় এবং অতলতা – এই সমস্ত জিনিসই মানুষের উপলব্ধি করা উচিত। এই উপলব্ধি থাকলে, হৃদয় থেকে সকল ব্যক্তিগত চাহিদা, আশা এবং ধারণা মুক্ত করতে তোমার তা ব্যবহার করা উচিত। শুধুমাত্র এই বিষয়সমূহকে নির্মূল করার মাধ্যমেই তুমি ঈশ্বরের দাবিকৃত শর্তগুলি পূরণ করতে পারো, এবং কেবলমাত্র এমন করার মাধ্যমেই তুমি জীবন অর্জন এবং ঈশ্বরের সন্তুষ্টিবিধান করতে পারো। ঈশ্বর বিশ্বাসের উদ্দেশ্য হল তাঁকে সন্তুষ্ট করা এবং তিনি যে স্বভাব চান তা যাপন করা, যাতে তাঁর কর্ম ও মহিমা এই অযোগ্য মানুষদের দলের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই হল ঈশ্বর-বিশ্বাসের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, এবং এই লক্ষ্যটিই তোমাদের অনুসন্ধান করা উচিত। ঈশ্বর-বিশ্বাস সম্পর্কে তোমার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত এবং ঈশ্বরের বাক্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। তোমাকে ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করতে হবে এবং অবশ্যই সত্য যাপনে সক্ষম হতে হবে, এবং বিশেষত, অবশ্যই তাঁর ব্যবহারিক কার্য সমগ্র বিশ্বময় তাঁর বিস্ময়কর কীর্তি, এবং সেইসাথে, দেহরূপে তাঁর দ্বারা কৃত বাস্তবিক কর্ম চাক্ষুষ করতে সক্ষম হতে হবে। মানুষ, তাদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, উপলব্ধি করতে পারে, যে, ঈশ্বর কীভাবে তাদের উপর তাঁর কাজ করেন এবং তাদের প্রতি তাঁর কী ইচ্ছা রয়েছে। এই সমস্তকিছুর উদ্দেশ্য হল মানুষদের শয়তানোচিত ভ্রষ্ট স্বভাব নির্মূল করা। তোমার মধ্যেকার সকল মলিনতা এবং ন্যায়বিহীনতাকে পরিহারের পরে, মন্দ অভিপ্রায় অপসারণের পরে, ঈশ্বরে প্রকৃত বিশ্বাস বিকশিত হওয়ার পরে – কেবলমাত্র প্রকৃত বিশ্বাসের দ্বারাই তুমি ঈশ্বরকে যথার্থরূপে ভালবাসতে পারবে। তুমি কেবলমাত্র তোমার বিশ্বাসের ভিত্তিতেই ঈশ্বরকে প্রকৃতভাবে ভালবাসতে পারো। তুমি কি ঈশ্বরকে বিশ্বাস না করে তাঁর প্রতি ভালোবাসা অর্জন করতে পারো? যেহেতু তুমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করো, তাই এই বিষয়ে হতবুদ্ধি হয়ে থাকলে চলবে না। যখন কিছু মানুষ দেখে যে ঈশ্বর বিশ্বাস তাদের জন্য আশীর্বাদ বহন করে আনবে, তখন তারা প্রাণশক্তিতে পূর্ণ হয়ে যায়, কিন্তু তারপরে যখন তারা দেখে যে তাদের পরিমার্জনা ভোগ করতে হবে, তখনই সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলে। এটা কি ঈশ্বর-বিশ্বাস? শেষ পর্যন্ত, তোমাকে অবশ্যই তোমার বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ঈশ্বরের সামনে সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্ত আজ্ঞাকারিতা অর্জন করতে হবে। তুমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেও এখনও তাঁর কাছে দাবি রাখো, তোমার মধ্যে প্রভূত ধর্মীয় ধারণা রয়েছে যা তুমি ত্যাগ করতে অক্ষম, ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে যা তুমি বর্জন করতে অক্ষম, এবং এতদসত্ত্বেও তুমি দৈহিক আশীর্বাদের অন্বেষণ করো এবং ঈশ্বরের দ্বারা তোমার দৈহিক মুক্তির, আত্মার উদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা করো – এই সমস্তই ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মানুষের আচরণ। ধর্মীয় বিশ্বাসযুক্ত মানুষদের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস থাকলেও, তারা তাদের স্বভাব পরিবর্তন করতে চায় না, ঈশ্বরের জ্ঞানের অনুসরণ করে না, বরং, তদপরিবর্তে কেবলমাত্র তাদের দৈহিক স্বার্থের অনুসন্ধান করে। তোমাদের মধ্যে অনেকেরই বিশ্বাস ধর্মীয় প্রত্যয়ের শ্রেণীতে পড়ে; তা ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত বিশ্বাস নয়। ঈশ্বর-বিশ্বাসের উদ্দেশ্যে, মানুষের অতি অবশ্যই যা প্রয়োজন তা হল এমন এক হৃদয় যা তাঁর জন্য যন্ত্রণা পেতে প্রস্তুত, এবং নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার ইচ্ছা। যতক্ষণ না মানুষেরা এই দুটি শর্ত পূরণ করে, ঈশ্বরের প্রতি তাদের বিশ্বাস বৈধ হয় না, এবং তারা তাদের স্বভাবে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে না। শুধুমাত্র যে মানুষেরা নিখাদভাবে সত্যের অনুসরণ করে, ঈশ্বরের জ্ঞানের অন্বেষণ করে, এবং জীবনের সন্ধান করে, তারাই ঈশ্বরে প্রকৃত বিশ্বাসী।

তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হলে, কীভাবে সেই সব পরীক্ষা সামলানোর জন্য তুমি ঈশ্বরের কাজ প্রয়োগ করবে? তুমি কি নেতিবাচক থাকবে, নাকি ইতিবাচক প্রেক্ষিত থেকে ঈশ্বরের পরীক্ষা এবং মানুষের পরিমার্জনার বিষয়টি বুঝবে? ঈশ্বরের পরীক্ষা এবং পরিমার্জনার দ্বারা তুমি কী লাভ করবে? তোমার ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা কি বৃদ্ধি পাবে? পরিমার্জনার সম্মুখীন হলে, তুমি কি ইয়োবের পরীক্ষা প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে এবং ঈশ্বর তোমার মধ্যে যে কাজ করেন তার সাথে আগ্রহপূর্বক নিয়োজিত হতে পারবে? তুমি কি দেখতে পাও যে ইয়োবের পরীক্ষার মাধ্যমে ঈশ্বর কীভাবে মানুষের পরীক্ষা নিচ্ছেন? ইয়োবের পরীক্ষা তোমার মধ্যে কী ধরনের প্রেরণার সঞ্চার করে? তুমি কি পরিমার্জনা চলাকালীন ঈশ্বরের হয়ে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক হবে, নাকি আরামদায়ক পরিবেশে তুমি নিজের দৈহিক সন্তুষ্টি চাইবে? ঈশ্বর-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তোমার প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি কেমন? তা কি যথার্থই তাঁরই উদ্দেশ্যে, এবং দৈহিক সুখের অভিপ্রায়ে নয়? তোমার অন্বেষণে আকাঙ্ক্ষিত কোনো লক্ষ্য কি সত্যিই তোমার রয়েছে? তুমি কি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়ার জন্য পরিমার্জনা ভোগ করতে চাও, নাকি পরিবর্তে ঈশ্বরের দ্বারা শাস্তি ও অভিশাপ পেতে চাও? ঈশ্বরের জন্য সাক্ষ্য বহনের ক্ষেত্রে তোমার প্রকৃত উপলব্ধি কী? নির্দিষ্ট পরিবেশে ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহনের জন্য মানুষদের কী করা উচিত? বাস্তববাদী ঈশ্বর তোমার মধ্যে করা তাঁর প্রকৃত কাজে এত কিছু প্রকাশ করা সত্ত্বেও তোমার মধ্যে সর্বদা ছেড়ে চলে যাওয়ার চিন্তাভাবনা কেন আসে? ঈশ্বরের প্রতি তোমার বিশ্বাস কি ঈশ্বরেরই নিমিত্ত? তোমাদের বেশিরভাগের মধ্যেই, এই বিশ্বাস হল তোমাদের ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার জন্য নিজেদের করা হিসাবনিকাশেরর অংশমাত্র। মুষ্টিমেয় মানুষই ঈশ্বরের জন্যই ঈশ্বরে বিশ্বাস করে; তা কি বিদ্রোহ নয়?

পরিমার্জনার কাজের উদ্দেশ্য হল মূলত মানুষের বিশ্বাসকে নিখুঁত করে তোলা। শেষাবধি, তুমি যা কিছু অর্জন করেছ তা হল এই যে তুমি প্রস্থান করতে চাও কিন্তু, তুমি তা পারছ না; কিছু মানুষ আশার ক্ষুদ্রতম অংশ থেকে বঞ্চিত হওয়া সত্ত্বেও এখনও বিশ্বাস রাখতে সক্ষম; এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়ে তাদের মধ্যে আর কোনও আশাই অবশিষ্ট নেই। কেবলমাত্র এই সময়েই ঈশ্বরের পরিমার্জনা সমাপ্ত হবে। মানুষ এখনও জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে গমনাগমনের পর্যায়ে পৌঁছায় নি, এবং মৃত্যুর স্বাদ পায় নি, তাই পরিমার্জনার প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয় নি। এমনকি যারা সেবাদাতাদের পদে ছিল, তাদেরও সম্পূর্ণ পরিমার্জিত করা হয় নি। ইয়োব চূড়ান্ত পরিমার্জনা লাভ করেছিল, এবং তার কাছে নির্ভর করার মতো আর কিছুই ছিল না। মানুষদের অবশ্যই সেই চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত পরিমার্জনা ভোগ করা উচিত যেখানে তাদের আর কোনোরূপ আশা এবং নির্ভর করার মতো কোনোকিছু অবশিষ্ট না থাকে – কেবল এই-ই হল প্রকৃত পরিমার্জনা। সেবাদাতাদের সময়কালে, যদি তোমার হৃদয় সর্বদা ঈশ্বরের সামনে শান্ত থাকত, এবং যদি তোমার প্রতি তাঁর কাজ ও ইচ্ছা নির্বিশেষে, তুমি যদি সর্বদা তাঁর ব্যবস্থা মান্য করে চলতে, তাহলে পথের শেষে তুমি ঈশ্বর যা কিছু করেছেন তা বুঝতে পারতে। তুমি ইয়োবের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাও এবং একই সময়ে পিতরের পরীক্ষাও ভোগ করো। যখন ইয়োবকে পরীক্ষা করা হয়েছিল, তখন সে সাক্ষ্য দিয়েছিল, এবং শেষ পর্যন্ত, যিহোবা তাঁর কাছে প্রকাশিত হয়েছিলেন। কেবলমাত্র সাক্ষী হিসাবে দাঁড়ানোর পরই সে ঈশ্বরের মুখ প্রত্যক্ষ করার যোগ্য হয়েছিল। কেন এমন বলা হয়: “আমি কলুষতাপূর্ণ ভূমি থেকে লুকিয়ে থাকি কিন্তু নিজেকে পবিত্র রাজ্যের কাছে প্রকাশ করি”? এর অর্থ হল, তুমি পবিত্র হলে এবং সাক্ষী হিসাবে দাঁড়াতে পারলে তবেই ঈশ্বরের মুখ প্রত্যক্ষ করার মর্যাদা লাভ করতে পার। তাঁর জন্য সাক্ষ্য দিতে না পারলে, তাঁর মুখ দেখার মর্যাদা তোমার নেই। যদি তুমি পশ্চাদপসরণ করো, অথবা পরিমার্জনার সময় ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করো, আর এইভাবে তাঁর জন্য সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হও এবং শয়তানের হাসির পাত্রে পরিণত হও, তাহলে তুমি ঈশ্বরের আবির্ভাব অর্জন করতে পারবে না। যদি তুমি ইয়োবের মতো হও, যে পরীক্ষার মধ্যে নিজের দেহকে অভিশাপ দেওয়া সত্ত্বেও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নি, এবং তার কথার মাধ্যমে অভিযোগ বা পাপ না করেই নিজের দেহকে ঘৃণা করতে সক্ষম হয়েছিল, তাহলে তুমি সাক্ষী হিসাবে দাঁড়াবে। যখন তুমি নির্দিষ্ট মাত্রায় পরিমার্জনা ভোগ করো এবং তখনও ইয়োবের মতো হতে পারো, ঈশ্বরের সামনে অন্যান্য প্রয়োজন বা নিজস্ব ধারণা ছাড়াই সম্পূর্ণরূপে বাধ্য থাকতে পারো, তখন ঈশ্বর তোমার কাছে উপস্থিত হবেন। বর্তমানে ঈশ্বর তোমার কাছে উপস্থিত হন না কারণ তোমার মধ্যে প্রভূত পরিমাণে নিজস্ব ধারণা, ব্যক্তিগত সংস্কার, স্বার্থপর চিন্তা, স্বতন্ত্র চাহিদা এবং দৈহিক স্বার্থ রয়ে গিয়েছে, এবং তুমি তাঁর মুখ দেখার যোগ্য নও। যদি তুমি ঈশ্বরকে দেখতে পেতে, তাহলে তাঁকে নিজস্ব ধারণার মাধ্যমে পরিমাপ করতে এবং, তেমন করার ফলে, তিনি তোমার দ্বারা ক্রুশবিদ্ধ হতেন। যদি তোমার কাছে অনেক বিষয় আসে যা তোমার ধারণার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু তুমি সেগুলিকে একপাশে সরিয়ে দিতে সক্ষম হও এবং এগুলি থেকে ঈশ্বরের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারো, এবং যদি পরিমার্জনার মধ্যে তুমি ঈশ্বরের প্রতি তোমার প্রেমপূর্ণ হৃদয় প্রকাশ করতে পারো, তাহলে তা-ই হল সাক্ষী হিসাবে দাঁড়ানোর অর্থ। যদি তোমার গৃহ শান্তিপূর্ণ হয়, তুমি দৈহিক আরাম উপভোগ করো, কেউ তোমাকে পীড়ন না-করে, এবং গির্জায় তোমার ভাই ও বোনেরা তোমাকে মান্য করে, তাহলে কি তুমি ঈশ্বরের প্রতি প্রেমপূর্ণ হৃদয় প্রদর্শন করতে পারো? এই পরিস্থিতি কি তোমাকে পরিমার্জিত করতে পারে? শুধুমাত্র পরিমার্জনার মাধ্যমেই ঈশ্বরের প্রতি তোমার ভালোবাসা প্রদর্শিত হয় এবং শুধুমাত্র তোমার ধারণার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ জিনিস ঘটার মাধ্যমেই তোমাকে নিখুঁত করা যেতে পারে। বহুল পরিমাণে বিপরীতধর্মী এবং নেতিবাচক বিষয়ের পরিষেবা অবলম্বন করে, এবং শয়তানের সমস্ত রকম প্রকাশ কাজে লাগিয়ে – তার কাজ, অভিযোগ, ঝঞ্ঝাট এবং প্রতারণার দ্বারা ঈশ্বর তোমাকে স্পষ্টভাবে শয়তানের ঘৃণ্য চেহারা প্রদর্শন করান, এবং যাতে তুমি শয়তানকে ঘৃণা ও পরিত্যাগ করতে পারো, সেই উদ্দেশ্যেই এইভাবে তোমার শয়তানকে আলাদা করে চিনে নেওয়ার ক্ষমতাকে নিখুঁত করে তোলেন।

তোমার প্রভূত ব্যর্থতার, দুর্বলতার, নেতিবাচক সময়ের অভিজ্ঞতাকে, ঈশ্বরের পরীক্ষা বলা যেতে পারে। এর কারণ সবই ঈশ্বরের কাছ থেকেই আসে, এবং সকল বস্তু এবং ঘটনা তাঁরই হাতে রয়েছে। তুমি যদি ব্যর্থ হও বা দুর্বল হয়ে পড় এবং পদস্খলিতও হও, সকলই ঈশ্বরে ন্যস্ত, এবং তাঁর নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণ থেকে, এ হল তোমার পরীক্ষা, এবং তুমি তা চিনতে না পারলে, তা প্রলোভনে পরিণত হবে। মানুষের চিনতে পারার মতো দুই ধরনের অবস্থা দেখা যেতে পারে: একটি পবিত্র আত্মার থেকে আসে এবং অপরটির সম্ভাব্য উৎস হল শয়তান। একটি অবস্থায় পবিত্র আত্মা তোমায় আলোকিত করবে এবং তোমায় জানতে সাহায্য করবে, নিজের বিষয়ে ঘৃণা এবং অনুতাপ করতে দেবে এবং ঈশ্বরকে প্রকৃতভাবে ভালোবাসতে সক্ষম করবে, তোমার হৃদয়কে তাঁর সন্তুষ্টিবিধানে সক্ষম করবে। অপর অবস্থায় তুমি নিজেকে জানো, কিন্তু তুমি নেতিবাচক ও দুর্বল অবস্থায় থাকো। বলা যেতে পারে যে এটি হল ঈশ্বরের পরিমার্জনা এবং, এটি শয়তানের প্রলোভনও। যদি তুমি বুঝতে পারো যে এ হল তোমার প্রতি ঈশ্বরের পরিত্রাণ এবং যদি তোমার মনে হয় যে তুমি এখন গভীরভাবে তাঁর কাছে ঋণী, এবং এখন থেকে তুমি তাঁকে পরিশোধ করতে চেষ্টা করো, এবং পুনরায় এই ধরনের অভাবে পতিত হতে না চাও, যদি তুমি তাঁর বাক্য ভোজন ও পানের উদ্দেশ্যে তোমার প্রচেষ্টাকে চালিত করো, এবং সর্বদা নিজের মধ্যে অভাব বোধ করো, হৃদয়ে আকুলতা অনুভব করো, তাহলে এই-ই হল ঈশ্বরের পরীক্ষা। যন্ত্রণা ভোগের শেষে তুমি যখন আরও একবার সামনে এগিয়ে যেতে শুরু করো, ঈশ্বর তখনও তোমাকে নেতৃত্ব দেবেন, আলোকিত, প্রদীপ্ত এবং পুষ্ট করবেন। কিন্তু তুমি যদি তা চিনতে না পারো ও নেতিবাচক থাকো, নিজেকে নিতান্ত হতাশায় একলা ফেলে রাখো, যদি তুমি এমন চিন্তাভাবনা করে থাকো, তাহলে শয়তানের প্রলোভন তোমার ওপর উপনীত হবে। ইয়োবের পরীক্ষা চলাকালীন, ঈশ্বর আর শয়তান একে অপরের সাথে বাজি লাগিয়েছিল, এবং ঈশ্বর ইয়োবকে শয়তানের দ্বারা পীড়িত হতে দিয়েছিলেন। ঈশ্বর ইয়োবের পরীক্ষা নিলেও, আসলে শয়তান তার উপর ভর করেছিল। শয়তান ইয়োবকে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিল, কিন্তু সে ছিল ঈশ্বরের পক্ষে। যদি তেমন না হত তাহলে ইয়োব হয়তো প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে যেত। মানুষ প্রলোভনের ফাঁদে পড়লেই, তারা বিপদে পতিত হয়। পরিমার্জনার মধ্যে দিয়ে যাওয়া হল ঈশ্বরের হতে আগত একপ্রকারের পরীক্ষা, কিন্তু তুমি যদি ভালো অবস্থায় না থাকো, তাহলে তাকে শয়তানের প্রলোভন বলা যেতে পারে। তুমি যদি দর্শন সম্পর্কে স্পষ্ট না হও, তাহলে শয়তান তোমাকে অভিযুক্ত করবে এবং তোমার দর্শনের বিষয়ে তোমাকে বাধা দেবে। তোমার জানার আগেই, তুমি প্রলোভনে পড়ে যাবে।

তুমি যদি ঈশ্বরের কাজের অভিজ্ঞতা লাভ না করো, তাহলে তোমাকে কখনোই নিখুঁত করা যাবে না। তোমার অভিজ্ঞতায়, তোমাকে অবশ্যই এর বিশদে প্রবেশ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কী কী জিনিস তোমাকে ধারণা ও অতিরিক্ত উদ্দেশ্য বিকাশের দিকে নিয়ে যায়, এবং এই সমস্যাগুলির সমাধানে কী ধরনের উপযুক্ত অনুশীলন তোমার রয়েছে? তুমি যদি ঈশ্বরের কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারো, তার অর্থ হল তোমার আত্মিক উচ্চতা রয়েছে। তোমার মধ্যে কেবলই উদ্দীপনা থাকলে, তা প্রকৃত আত্মিক উচ্চতা নয় এবং তুমি কোনোমতেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারবে না। যখন তুমি ঈশ্বরের কাজের অভিজ্ঞতা লাভে সক্ষম হবে এবং স্থান-কাল নির্বিশেষে সে বিষয়ে চিন্তা করতে পারবে, যখন তোমরা যাজকদের পরিত্যাগ করে ঈশ্বরের ভরসায় স্বতন্ত্র ভাবে জীবনযাপন করতে পারবে এবং ঈশ্বরের প্রকৃত কাজ দেখতে সক্ষম হবে – কেবলমাত্র তখনই ঈশ্বরের ইচ্ছা অর্জিত হবে। এই মুহূর্তে, অধিকাংশ মানুষই জানে না কীভাবে অভিজ্ঞতা লাভ করতে হবে, এবং তারা যখন সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন তারা জানে না তার সমাধান কীভাবে করতে হবে; তারা ঈশ্বরের কাজের অভিজ্ঞতালাভের অযোগ্য, তারা আধ্যাত্মিক জীবন অতিবাহিত করতে পারে না। তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্য এবং কাজকে নিজের ব্যবহারিক জীবনের অন্তর্গত করতে হবে।

মাঝে মাঝে ঈশ্বর তোমার মধ্যে বিশেষ ধরনের অনুভূতি প্রদান করেন, যে অনুভূতির ফলে তোমার আভ্যন্তরীণ আনন্দ এবং ঈশ্বরের উপস্থিতি হারিয়ে যায়, তার মাত্রা এমনই যে তুমি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাও। এ হল একপ্রকার পরিমার্জনা। তুমি যখনই কিছু করো, তা সর্বদাই ভ্রান্ত অথবা নিষ্ফল হয়। এ হল ঈশ্বরের অনুশাসন। কখনো কখনো, যখন ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্যহীনতা অথবা বিদ্রোহী মনোভাব প্রকাশকারী কোনও কিছু করো, তা অন্য কেউ জানতে না পারলেও – ঈশ্বর ঠিকই জানেন। তিনি তোমাকে রেহাই দেবেন না, এবং তিনি তোমাকে অনুশাসন করবেন। পবিত্র আত্মার কর্ম অত্যন্ত বিস্তারিত হয়। তিনি মানুষদের প্রতিটি কথা এবং কাজ, প্রতিটি ক্রিয়াকলাপ এবং গতিবিধি, প্রতিটি চিন্তাভাবনা এবং ধারণা সযত্নে পর্যবেক্ষণ করেন, যাতে তারা এই সমস্ত বিষয়ের অন্তরে চেতনা লাভ করত পারে। তুমি একবার কিছু করলে তা ভুল হয়, আবার কিছু করলে তা তখনও বিফল হয়, এবং এইভাবে ধীরে ধীরে তুমি পবিত্র আত্মার কাজ বুঝতে পারবে। বহুবার অনুশাসিত হওয়ার মাধ্যমে, তুমি জানতে পারবে যে ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতি রাখতে কী করা উচিত এবং কী কী তাঁর ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পরিশেষে, তুমি নিজের অন্তর থেকে থেকে পবিত্র আত্মার নির্দেশনা অনুসারে সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া দিতে পারবে। মাঝে মাঝে তুমি বিদ্রোহী হয়ে যাবে এবং অন্তরে ঈশ্বরের দ্বারা তিরস্কৃত হবে। এই সকলই ঈশ্বরের অনুশাসনের থেকে আসে। তুমি যদি ঈশ্বরের বাক্য মূল্যবান গণ্য না করো, যদি তুমি তাঁর কাজ সামান্য বলে মনে করো, তাহলে তিনি তোমার প্রতি মনোযোগ দেবেন না। তুমি যত গুরুত্ব সহকারে ঈশ্বরের বাক্য গ্রহণ করবে, ততই তিনি তোমাকে আলোকিত করবেন। এই মুহূর্তে, গির্জায় এমন অনেক লোক রয়েছে যাদের বিশ্বাস বিশৃঙ্খল ও ভ্রান্তিকর, এবং তারা নানান অনুপযুক্ত কাজ করে ফেলে এবং অনুশাসনবিহীনভাবে আচরণ করে, অতএব, পবিত্র আত্মার কার্য তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট ভাবে পরিলক্ষিত হয় না। অনেকেই অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে, ব্যবসা চালিত করার উদ্দেশ্যে, অনুশাসিত না হয়েই স্বীয় কর্তব্য ত্যাগ করে; সেই ধরনের মানুষ অধিকতর সংকটে পতিত রয়েছে। শুধু যে তাদের মধ্যে বর্তমানে পবিত্র আত্মার কার্য নেই তা-ই নয়, বরং ভবিষ্যতে তাদের নিখুঁত করাও কঠিন হবে। অনেকেই এমন আছে যাদের মধ্যে পবিত্র আত্মার কার্য দেখা যায় না, আবার অনেকের মধ্যে ঈশ্বরের অনুশাসন দেখা যায় না। অনেকেই আছে যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পর্কে স্পষ্ট নয় এবং অনেকে ঈশ্বরের কার্য সম্পর্কে অবগত নয়। যারা পরিমার্জনার মাঝে দৃঢ় ভাবে দাঁড়াতে পারে, যারা ঈশ্বরের কাজ নির্বিশেষে তাঁকে অনুসরণ করে, এবং ন্যূনতমভাবে তাঁকে পরিত্যাগ করে না, অথবা পিতর যা অর্জন করেছিল তার ০.১% অর্জন করেছে তারা ভালোই রয়েছে, কিন্তু ঈশ্বরের দ্বারা ব্যবহৃত হওয়ার ক্ষেত্রেতাদের কোনো মূল্য নেই। অনেক মানুষ দ্রুত সকল বিষয়ে উপলব্ধি করে, ঈশ্বরের প্রতি তাদের প্রকৃত ভালোবাসা রয়েছে, এবং তা পিতরের স্তর অতিক্রম করতে পারে, এবং ঈশ্বর তাদের মধ্যেই নিখুঁতকরণের কাজ সম্পন্ন করেন। অনুশাসন এবং আলোকপ্রাপ্তি এই ধরণের মানুষের দ্বারাই প্রাপ্ত হয়, এবং তাদের মধ্যে যদি কিছু থাকে যা ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গত নয়, তাহলে তারা তৎক্ষণাৎ তা পরিহার করতে পারে। এই ধরনের মানুষেরা যেন সোনা, রুপো এবং বহুমূল্য রত্ন – তাদের মূল্য সর্বাধিক! যদি ঈশ্বর বহুল কর্ম সম্পাদন সত্ত্বেও তুমি এখনও বালুকণা অথবা প্রস্তরখণ্ডের ন্যায়ই রয়ে যাও, তাহলে তোমরা মূল্যহীন!

অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশে ঈশ্বরের কাজ বিস্ময়কর এবং অতল। তিনি এক মানবগোষ্ঠীকে নিখুঁত করবেন, আবার অন্যদের পরিহার করবেন, তার কারণ হল গির্জায় সমস্ত ধরনের মানুষ থাকে – অনেকে সত্যকে ভালোবাসে আবার অনেকে বাসে না; অনেকে ঈশ্বরের কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করে, আবার অনেকে করে না; অনেকে ঈশ্বরের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারে, আবার অনেকে পারে না – এবং তাদের একাংশ অবিশ্বাসী এবং মন্দ, তারা নিশ্চিতভাবেই নির্মূল হবে। তুমি যদি স্পষ্টভাবে ঈশ্বরের কাজ না জানো তাহলে তুমি নেতিবাচক হয়ে রইবে; এর কারণ হল ঈশ্বরের কাজ শুধুমাত্র অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। এই সময়ে স্পষ্ট হয়ে যাবে কারা সত্যিই ঈশ্বরকে ভালোবাসে আর কারা বাসে না। যারা সত্যিই ঈশ্বরকে ভালোবাসে, তারা পবিত্র আত্মার কাজ লাভ করে, আর যারা তাঁকে প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসে না, তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের স্বরূপ উদ্ঘাটিত হবে। তারা বিনাশের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এই মানুষেরা বিজয়কার্যের পর্বে প্রকাশিত হবে, এবং এই মানুষদের নিখুঁতকরণের কোনো মূল্য নেই। যাদের নিখুঁত করা হয়েছে তারা সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হয়েছে, এবং তারা পিতরের ন্যায় ঈশ্বরকে ভালবাসতে সক্ষম। যাদের জয় করা হয়েছে, তাদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা থাকে না, কেবল থাকে নিশ্চেষ্ট ভালোবাসা, এবং তারা ঈশ্বরকে ভালবাসতে বাধ্য হয়। স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা কেবলমাত্র ব্যবহারিক অভিজ্ঞতালব্ধ উপলব্ধির দ্বারাই বিকশিত হয়। এই ভালোবাসা মানুষের হৃদয় জুড়ে থাকে এবং তাদের স্বেচ্ছায় ঈশ্বরের অনুগত করে তোলে; ঈশ্বরের বাক্য তাদের ভিত্তি হয়ে ওঠে এবং তারা ঈশ্বরের জন্য যন্ত্রণা ভোগ করতে সক্ষম হয়। অবশ্যই, ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়ার ব্যক্তিই এই সকল বিষয়ের অধিকারী। যদি তুমি কেবলই বিজিত হওয়ার সন্ধান করো, তাহলে ঈশ্বরের সাক্ষ্য দিতে পারবে না; যদি ঈশ্বর মানুষদের জয় করার মাধ্যমে তাঁর পরিত্রাণের উদ্দেশ্য অর্জন করতেন, তাহলে সেবাদাতাদের পর্যায়টিই এই কাজ সম্পূর্ণ করে দিত। তবে, মানুষদের জয় করা ঈশ্বরের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, তা হল মানুষদের নিখুঁতকরণ। তাই এই পর্যায়টিকে বিজয়কার্যের পর্যায় না বলে, বরং একে নিখুঁতকরণ এবং নির্মূলকরণের পর্যায় বলো। কিছু মানুষদের সম্পূর্ণভাবে জয় করা যায় নি, এবং তাদের জয় করার পর্বেই একদল মানুষকে নিখুঁত করা হবে। এই দুটি আলাদা অংশের কাজ একসাথে সাধিত হয়। এই দীর্ঘ সময়ের কাজ চলাকালীনও মানুষেরা প্রস্থান করে নি, এবং এটাই দেখায় যে জয় করার লক্ষ্য অর্জিত হয়েছ – এটাই বিজিত হওয়ার সত্য। পরিমার্জনা কিন্তু বিজিত হওয়ার স্বার্থে হয় না, বরং তা হয় নিখুঁতকরণের উদ্দেশ্যে। পরিমার্জনা ছাড়া মানুষদের নিখুঁত করে তোলা যায় না। তাই পরিমার্জনা বস্তুতই মূল্যবান! বর্তমানে একদল মানুষকে নিখুঁত এবং অর্জন করা হচ্ছে। পূর্বে উল্লিখিত দশটি আশীর্বাদের সবক’টির অভিমুখই নিখুঁত হওয়া মানুষদের লক্ষ্য করে। পৃথিবীতে তাদের প্রতিমূর্তি পরিবর্তন-বিষয়ক সকলকিছুরই অভিমুখ এই নিখুঁত হওয়া ব্যক্তিগণ। যাদের নিখুঁত করা হয় নি, তারা ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি লাভের যোগ্য নয়।

পূর্ববর্তী: ঈশ্বরের বাক্যর দ্বারাই সমস্ত অর্জন সম্ভব

পরবর্তী: শুধুমাত্র বেদনাদায়ক পরীক্ষার অভিজ্ঞতার দ্বারাই তুমি ঈশ্বরের মাধুর্য জানতে পারবে

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

যে পথে মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, সেই পথটি হল নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম শক্তিকে স্থান দিয়ে তাঁর...

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন