মানবজাতিকে পরিচালনা করার উদ্দেশ্য

মানুষ যদি যথার্থই মানবজীবনের সঠিক পথ, এবং, সেইসাথে, ঈশ্বরের মানবজাতিকে পরিচালনা করার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে দেখতে পায়, তবে তারা তাদের ব্যক্তিগত ভবিষ্যত এবং ভাগ্যকে হৃদয়ের ধন হিসাবে ধরে রাখবে না। তারা তখন তাদের পিতামাতা – যারা শূকর এবং কুকুরেরও অধম, তাদের আর সেবা করতে আগ্রহী রইবে না। মানুষের ভবিষ্যত এবং ভাগ্য কি যথাযথভাবেই বর্তমান সময়ের পিতর-এর তথাকথিত “পিতামাতা” নয়? তারা মানুষের রক্ত ও মাংসের মতোই। দেহের গন্তব্য ও ভবিষ্যৎ ঠিক কী হবে? তার উদ্দেশ্য কি জীবদ্দশাতেই ঈশ্বর-দর্শন, নাকি মৃত্যুর পর আত্মার সাথে ঈশ্বরের মিলন? দেহের কি কাল অন্ত হবে দুর্গতির এক প্রখর চুল্লিতে, অথবা অগ্নিদহনে? এই সকল প্রশ্নের মূল প্রতিপাদ্য কি এই নয়, যে, মানবদেহ দুর্ভাগ্য সহন করবে নাকি যা এই সময়ের সবচেয়ে বড় সংবাদ – যার বিষয়ে এই ধারায় যাদের বুদ্ধি এবং বিচক্ষণতা রয়েছে তারা সকলেই উদ্বিগ্ন – তার দ্বারা পীড়িত হবে? (এখানে, পীড়িত হওয়ার অর্থ আশীর্বাদ গ্রহণ; এর অর্থ এই, যে, মানুষের ভবিষ্যত পরীক্ষাগুলি তার গন্তব্যে সহায়ক হবে। দুর্ভাগ্য অর্থে দৃঢ় হয়ে দাঁড়াবার অক্ষমতা, অথবা, প্রতারিত হওয়া; অথবা, এর অর্থ হলো, যে, কেউ দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে, ও বিপর্যয়ে প্রাণ হারাবে, এবং তার আত্মার কোনো উপযুক্ত গন্তব্য থাকবে না।) যদিও মানুষের কাছে যথাযথ যৌক্তিকতা রয়েছে, তবু, সম্ভবত তারা যা ভাবে তার সাথে তাদের যৌক্তিকতার যেমন প্রস্তুত থাকা উচিত, তার সম্পুর্ণ সাযুজ্য নেই। এর কারণ তারা সকলেই বেশ বিভ্রান্ত এবং অন্ধভাবে সবকিছু অনুসরণ করে। তাদের যেখানে প্রবেশ করা উচিত, এবং, বিশেষত, অগ্নিপরীক্ষার সময়ে (অর্থাৎ, চুল্লিতে পরিমার্জনার সময়ে), কোথায় প্রবেশ করতে হবে, এবং কীসের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকতে হবে, সে বিষয়ে তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা থাকা উচিৎ। সর্বদা নিজের পিতামাতার, (অর্থাৎ, দেহের) – যারা শূকর ও কুকুরের মত এবং পিপিলিকা ও কীটেরও অধম, তাদের সেবা করে যেও না। এ বিষয়ে এত কষ্ট করার, এত কঠিন চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে উতলা হয়ে ওঠার, অর্থ কী? এ দেহ তোমার নয়, তা রয়েছে যাঁর হাতে সেই ঈশ্বর যে শুধু তোমাকেই নিয়ন্ত্রণ করেন, এমন নয় – তিনি শয়তানকেও আজ্ঞা করেন। (এর অর্থ হল এই, যে, দেহ আদতে শয়তানের দখলে। কিন্তু যেহেতু শয়তানকেও ঈশ্বরই নিয়ন্ত্রণ করছেন, সেহেতু এই বিষয়টিকে এমন ভাবেও বলাই যায়। এর কারণ, এভাবে বললেই বিষয়টিকে আরো ভালোভাবে বলা হয়; এর থেকে বোঝা যায় যে মানুষ সম্পূর্ণভাবে শয়তানের দখলে রয়েছে, এমন নয়, বরং তারা ঈশ্বরের হাতেই রয়েছে।) তুমি তো দৈহিক পীড়নের অধীন হয়ে জীবনধারণ করছো, কিন্তু এই দেহ কি তোমার? তা কি তোমার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে? তাহলে তাকে নিয়ে অযথা অতিরিক্ত চিন্তা কেন করো? কেন তুমি বহুদিন যাবৎ অশুচি আত্মাদের দ্বারা ঘৃণিত, অভিশপ্ত এবং কলুষিত সেই দূষিত মাংসের জন্য বারংবার ঈশ্বরের কাছে মিনতি করো? শয়তানের জুড়িদারদের তোমার হৃদয়ের এত কাছে সদাসর্বদা ধরে রাখার কী প্রয়োজন? তুমি কি এই দুশ্চিন্তা করো না, যে, দৈহিক ইচ্ছা তোমার প্রকৃত ভবিষ্যতকে, তোমার অপূর্ব আশাগুলিকে এবং তোমার জীবনের প্রকৃত গন্তব্যকে বিনষ্ট করতে পারে?

আজকের পথে হাঁটা সহজ নয়। এমন বলা যেতেই পারে যে তা সম্পন্ন করা অতীব দুরূহ, এবং এবং যুগে যুগে অত্যন্ত বিরল। কিন্তু, কেই বা এমন ভেবেছিল যে কেবল মানুষের দেহই তাকে ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট হবে? আজকের কর্ম অবশ্যই বসন্তের বৃষ্টির মতো মূল্যবান এবং মানুষের প্রতি ঈশ্বরের দয়ার ন্যায় মহার্ঘ। তবে, মানুষ যদি তাঁর বর্তমান কাজের উদ্দেশ্য না জানে বা মানবজাতির সারসত্য না বোঝে, তবে কীভাবেই বা আর এর মূল্যবানতা এবং মহার্ঘতার কথা বলা যাবে? দেহ মানুষের নিজস্ব নয়, তাই তার গন্তব্য আসলে কোথায় হবে তা কেউ স্পষ্টভাবে দেখতে পায় না। তবুও, তোমার ভালোভাবে জানে রাখা উচিত যে, সৃষ্টির প্রভু তাঁর দ্বারা সৃষ্ট মানবজাতিকে তাদের মূল অবস্থানে ফিরিয়ে দেবেন, এবং সৃষ্টির সময়কালে তাদের যে মূল রূপ ছিলো, তা পুনরুদ্ধার করবেন। তিনি মানুষের মধ্যে যে প্রাণবায়ু দিয়েছিলেন তা সম্পূর্ণরূপে ফিরিয়ে নেবেন, তার অস্থি-মাংসের পুনর্দখল নিয়ে সমস্তকিছু সৃষ্টির প্রভুর কাছে ফিরিয়ে দেবেন। তিনি মানবজাতির সম্পূর্ণ রূপান্তরণ ও পুনর্নবীকরণ করবেন, এবং মানুষের কাছ থেকে তিনি ফিরিয়ে নেবেন ঈশ্বরের সমস্ত উত্তরাধিকার যা মানবজাতির নয়, কিন্তু ঈশ্বরের, এবং তা আর কখনও মানবজাতির কাছে হস্তান্তরিত করবেন না। এর কারণ এই, যে, এই জিনিসগুলির কোনটিই প্রাথমিক ভাবে মানবজাতির ছিল না। তিনি সেই সবকিছু ফিরিয়ে নেবেন – এটি অন্যায় লুণ্ঠন নয়; বরং, এর উদ্দেশ্যে হলো স্বর্গ ও পৃথিবীকে তাদের মূল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মানুষের রূপান্তরণ ও পুনর্নবীকরণ। এই হলো মানুষের যুক্তিসঙ্গত গন্তব্য, যদিও, যেমন লোকেরা কল্পনা করে, সম্ভবত এটি তেমন শাস্তিদানের অন্তে দেহের পুনঃউপয়োগ নয়। ঈশ্বর দেহের লয়প্রাপ্তির পর তার অস্থিমজ্জা চান না, মানুষের মধ্যে তিনি চান সেই মৌলিক উপাদানগুলি যা আদিতে ঈশ্বরেরই ছিলো। অতএব, তিনি মানবজাতিকে ধ্বংস করবেন না বা মানবদেহকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করবেন না, কারণ মানবদেহ তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বরং, তা যিনি মানবজাতিকে পরিচালনা করেন সেই ঈশ্বরেরই সংযোজন। তিনি কীভাবে নিজের “উপভোগের” জন্য মানবদেহ বিনাশ করতে পারেন? এতক্ষণে, তুমি কি যথার্থভাবেই তোমার সম্পূর্ণ দৈহিকতা – যার মূল্য এক নয়াপয়সাও নয় – তা পরিহার করেছো? ঈশ্বর অন্তিম সময়ে যে কার্য করছেন তার ত্রিশ শতাংশও যদি তুমি বুঝে থাকো (এই সামান্য ত্রিশ শতাংশ অনুধাবন করার অর্থ হলো পবিত্র আত্মার বর্তমান কর্ম এবং অন্তিম সময়ে ঈশ্বর যে বাক্যের কার্য করবেন তা বুঝতে পারা), তাহলে তুমি তোমার বহু বছর ধরে ভ্রষ্ট হওয়া দেহের “সেবা”, বা তার প্রতি “সন্তানসূলভ” আচরণ করতে না, আজ যেমন করছো। তোমাকে স্পষ্টভাবে দেখতে হবে যে মানুষ এখন এক অভূতপূর্ব অবস্থায় অগ্রসর হয়েছে, এবং নিছক ইতিহাসের চাকার মতো সে গড়গড়িয়ে এগিয়ে চলতে থাকবে না আর। তোমার পচন ধরা মাংস বহুকাল যাবৎ মাছিতে ছেয়ে গিয়েছে, তাহলে কীভাবে তার মধ্যে ক্ষমতা থাকবে ইতিহাসের যে চাকা ঈশ্বর আজ অবধি সচল রাখতে সক্ষম হয়েছেন সেই চাকার গতিপথ বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার? সে কীভাবে পারবে ঘড়ির যে কাঁটা নিঃশব্দে অন্তিম সময়ের দিকে চলেছে, তাকে উল্টোদিকে ঘুরিয়ে দিতে? সে কীভাবে পারবে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন বলে মনে হওয়া এই বিশ্বকে আবার নতুন করে রূপান্তরিত করতে? পারবে কি তোমার মাংসে পাহাড় ও নদীগুলি পুনরুজ্জীবিত হতে? তোমার দেহ, যার কার্যকারিতা যৎসামান্যই, সে কি সত্যিই পারবে যেই ধরণের মানবজগতের জন্য তুমি আকুল হয়েছো তা পুনরুদ্ধার করতে? তুমি কি পারবে তোমার উত্তরসূরিদের যথার্থ শিক্ষার মাধ্যমে “মানুষ” করে তুলতে? কি তুমি এবার বুঝতে পারছো? কে যথার্থভাবে তোমার দেহের অধিকারী? মানুষকে উদ্ধার করার, মানুষকে নিখুঁত করার এবং মানুষকে রূপান্তরিত করার পিছনে ঈশ্বরের মূল উদ্দেশ্য তোমার জন্য একটি সুন্দর জন্মভূমি অথবা মানবদেহের জন্য শান্তিময় বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেওয়া নয়; সেই কাজের উদ্দেশ্য হলো তাঁর মহিমা এবং তাঁর সাক্ষ্য, ভবিষ্যতে মানবজাতির উত্তমতর উপভোগ, এবং যাতে তারা শীঘ্রই বিশ্রাম নিতে সক্ষম হয় তা নিশ্চিৎ করা। সেই কার্যের উদ্দেশ্য তোমার দেহ নয়, কারণ ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনায় মানুষই মূলধন, এবং মানবদেহ নিছক একটি অনুষঙ্গ। (মানুষ আত্মা এবং দেহ উভয়েরই সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে কেবলমাত্র দেহ এমন বস্তু যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর অর্থ হল, দেহ পরিচালনামূলক পরিল্পনায় ব্যবহার্য একটি উপকরণমাত্র।) তোমার জানা উচিত, যে, ঈশ্বরের পরিপূর্ণতা, তাঁর সম্পুর্ণতা এবং তাঁর মানুষকে অর্জন করা মানবদেহের উপর তলোয়ার এবং আঘাত, এবং, সেইসাথে, সীমাহীন যন্ত্রণা, জ্বলন, নির্দয় বিচার, শাস্তি ও অভিশাপ, এবং নিরন্তর পরীক্ষা ছাড়া কিছুই আনে না। মানুষকে পরিচালনা করার কার্যে নিহিত কাহিনী ও সত্য এমনই। তবুও, এই সবকিছু মানবদেহের দিশায় নিক্ষিপ্ত, এবং বৈরীতার সকল নির্দয় শরসন্ধান ঘটে মানবদেহ লক্ষ্য করেই (কারণ মানুষ নির্দোষ)। এই সবকিছুরই উদ্দেশ্য তাঁর মহিমা এবং সাক্ষ্য, এবং তাঁর ব্যবস্থাপনা। এর কারণ হলো এই, যে, তাঁর কর্ম কেবলমাত্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে নয়, বরং তা তাঁর সামগ্রিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে, এবং, একই সাথে, তিনি যখন মানবজাতির সৃষ্টি করেছিলেন তখন তাঁর মূল যা ইচ্ছা ছিলো তা পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে। সুতারং, মানুষ যা অভিজ্ঞতার করে তার সম্ভবত নব্বই শতাংশের সাথে কষ্টভোগ এবং অগ্নিপরীক্ষা জড়িত, এবং মানবদেহ আকাঙ্খা করে এমন সুমিষ্ট, সুখময় দিন অতি অল্পই রয়েছে, অথবা আদৌ নেই। আরো অল্প যা রয়েছে মানুষের, তা হলো ঈশ্বরের সান্নিধ্যে সুন্দর সময়কাল অতিবাহিত করে, দেহিভাবে, আনন্দময় মুহুর্তগুলি উপভোগ করার সামর্থ। দেহ কলুষময়, তাই মানবদেহ যা দেখে অথবা ভোগ করে তা ঈশ্বরের শাস্তি ছাড়া আর কিছু নয়, যা মানুষ প্রতিকূল গণ্য করে, ভাবে যে এর বুঝি কোনো সঙ্গত কারণ নেই। এর কারণ হল এই, যে, ঈশ্বর তাঁর ধার্মিক স্বভাব – যা মানুষ পছন্দ করে না, যা মানুষের অপরাধ সহ্য করে না এবং যা শত্রুদের ঘৃণা করে – তা প্রকাশ করবেন। সকল প্রয়োজনীয় উপায় অবলম্বন করে ঈশ্বর তাঁর সামগ্রিক স্বভাব অকপটে প্রকাশ করেন, যার ফলে সম্পন্ন হয় তাঁর ছয় হাজার বৎসর ধরে জারি থাকা শয়তানের সাথে যুদ্ধের কাজ, সমগ্র মানবজাতির পরিত্রাণের কাজ, এবং পুরাতন সেই শয়তানকে ধ্বংস করার কাজ!

পূর্ববর্তী: কিভাবে তুমি তোমার ভবিষ্যৎ জীবনের ব্রত পালন করবে?

পরবর্তী: মানুষের সারসত্য ও পরিচয়

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

সম্পর্কিত তথ্য

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রিষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

সর্বশক্তিমানের দীর্ঘশ্বাস

তোমার হৃদয়ে এক বিপুল গোপন বিষয় আছে যার ব্যাপারে তুমি কখনও সচেতন ছিলে না, কারণ তুমি বেঁচে আছ আলোহীন এক জগতে। তোমার হৃদয় আর তোমার আত্মা দখল...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন