ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 18

যিহোবা ইস্রায়েলীদের উপর যে কাজ করেছিলেন, তা মানবজাতির কাছে ঈশ্বরের আদি পার্থিব স্থানটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, যা আবার ছিল সেই পবিত্র স্থানও যেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর কাজ ইস্রায়েলের জনগণের মধ্যেই আবদ্ধ রেখেছিলেন। প্রথমে, ইস্রায়েলের বাইরে তিনি কাজ করেননি, বরং তার পরিবর্তে এমন মানুষদের মনোনীত করেছিলেন, যারা তাঁর কাজের পরিধিকে সীমাবদ্ধ রাখার উপযুক্ত। ইস্রায়েলই সেই স্থান যেখানে ঈশ্বর আদম ও হবাকে সৃষ্টি করেছিলেন, এবং সেই স্থানের ধূলিকণা দিয়ে যিহোবা তৈরী করেছিলেন মানুষকে; এই স্থানই পৃথিবীতে তাঁর কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে। নোহ এবং আদমের বংশধর ইস্রায়েলীরাই ছিল পৃথিবীতে যিহোবার কাজের মানব ভিত্তি।

এই সময়, ইস্রায়েলে যিহোবার কাজের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ ছিল সমগ্র বিশ্বে তাঁর কাজের সূচনা করার জন্য, যে কাজ ইস্রায়েলকে কেন্দ্র করে, ক্রমে অইহুদি জাতিবর্গের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এই নীতি অনুসারেই তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে কাজ করেন—একটি আদর্শ স্থাপন করা এবং ক্রমে তাকে প্রসারিত করা, যতক্ষণ না বিশ্বের সব মানুষ তাঁর সুসমাচার গ্রহণ করে। প্রথম ইস্রায়েলীরা ছিল নোহর বংশধর। এই মানুষেরা শুধুমাত্র যিহোবার নিঃশ্বাসের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছিল, এবং জীবনের মূল প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান যথেষ্ট পরিমাণেই পেয়েছিল, কিন্তু যিহোবা কেমন ঈশ্বর, বা মানুষের সম্পর্কে তাঁর কী ইচ্ছা এসব তারা জানতো না, সকল সৃষ্টির প্রভুকে সম্মান কীভাবে করতে হবে, তাও তাদের অজানা ছিল। কোনো নিয়ম ও বিধান মেনে চলতে হবে কিনা, অথবা স্রষ্টার প্রতি সৃষ্ট সত্তার পালন করার মতো কোনো কর্তব্য আছে কিনা, আদমের উত্তরপুরুষেরা এসবের কিছুই জানতো না। তারা কেবল জানতো যে, স্বামী তার পরিবার প্রতিপালনের জন্য প্রভূত পরিশ্রম করবে, আর স্ত্রী তার স্বামীর কাছে নিজেকে সমর্পণ করবে এবং যিহোবার সৃষ্ট মানবজাতির বংশধারাকে অক্ষুণ্ণ রাখার কাজ করবে। অন্যভাবে বলতে গেলে, এই ধরনের লোকেরা যারা শুধুমাত্র যিহোবার নিঃশ্বাস ও তাঁর প্রাণশক্তি পেয়েছিল, কীভাবে ঈশ্বরের বিধান অনুসরণ করা যায় অথবা সকল সৃষ্টির প্রভুকে কী উপায়ে সন্তুষ্ট করা যায়, এ সম্পর্কে তারা কিছুই জানতো না। তাদের জ্ঞানের পরিধি বড়ই সামান্য ছিল। তাই যদিও তাদের হৃদয়ে কোনো কুটিলতা অথবা শঠতা ছিল না এবং তাদের মধ্যে ঈর্ষা ও বিবাদপ্রবণতাও খুবই কম ছিল, তা সত্ত্বেও সকল সৃষ্টির প্রভু যিহোবা সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান বা বোধ ছিল না। মানবজাতির এই পূর্বপুরুষরা কেবল যিহোবার বস্তু ভোজন করতে এবং যিহোবার বস্তু উপভোগ করতে জানতো, কিন্তু কীভাবে যিহোবার প্রতি সম্মান জানাতে হবে তা জানতো না; তারা অবহিত ছিল না যে যিহোবাই সেই এক ও অদ্বিতীয়, যাঁর সামনে তাদের নতজানু হয়ে প্রার্থনা করা উচিত। অতএব তাদের কীভাবে তাঁর সৃষ্ট জীব বলা যাবে? তাই যদি হত, তাহলে “যিহোবাই হলেন সকল সৃষ্টির প্রভু” এবং “তিনি মানবজাতির সৃষ্টি করেন যাতে মানুষ তাকে মূর্ত করে তুলতে পারে, তাঁকে গৌরবান্বিত করে, এবং তাঁর প্রতিনিধিত্ব করে”-এইসব কথা কি অর্থহীন হয়ে যেত না? যিহোবার প্রতি যাদের কোনো সম্মান ছিল না, তারা কীভাবে তাঁর মহিমার সাক্ষ্য হয়ে উঠতে পারতো? কীভাবেই বা তারা তাঁর মহিমার প্রকাশ হয়ে উঠতে পারতো? “আমি আমার প্রতিমূর্তিতেই মানুষকে সৃষ্টি করেছি”-যিহোবার এই বাক্য কি তাহলে সেই মন্দ, সেই শয়তানের হাতের অস্ত্র হয়ে উঠতো না? এই কথাগুলি কি তাহলে যিহোবার মানবজাতি সৃষ্টির প্রতি অসম্মানের চিহ্ন হয়ে উঠতো না? সেই পর্যায়ের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য, যিহোবা, মানবজাতিকে সৃষ্টি করার পরে, আদম থেকে নোহ পর্যন্ত তাদের কোনো নির্দেশ দেননি অথবা পরিচালনা করেননি। বরং, বিধ্বংসী বন্যায় পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি আদম ও নোহর উত্তরপুরুষ ইস্রায়েলীদের পথনির্দেশ দেওয়া শুরু করেন। ইস্রায়েলে তাঁর কাজ এবং কথন সমগ্র ইস্রায়েল ভূমি জুড়ে যারা তাদের জীবন যাপন করতো তাদের সকলকে পথনির্দেশ দিয়েছিল, এইভাবে মানবজাতিকে দেখিয়েছিল, এই নয় যে যিহোবা শুধু মানুষের মধ্যে প্রাণবায়ু সঞ্চার করতে পারেন যাতে মানুষ তাঁর কাছ থেকে জীবন লাভ করে এবং ধূলিকণা থেকে এক সৃষ্ট সত্তা হিসাবে উত্থিত হয়, বরং তিনি মানবজাতিকে ভস্মীভূতও করতে পারেন, মানবজাতিকে অভিসম্পাতও করতে পারেন, এবং তাঁর দণ্ড দিয়ে মানবজাতিকে পরিচালনাও করতে পারেন। তাই তারা এও দেখেছিল যে, যিহোবা পৃথিবীতে মানুষের জীবনের পথনির্দেশ দিতে পারেন এবং দিন ও রাত্রির সময় অনুসারে মানবজাতির মাঝে কথা বলতে ও কাজ করতে পারেন। তাঁর কাজের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাঁর সৃষ্ট প্রাণীরা যাতে জানতে পারে যে তাঁর চয়ন করা ধূলার থেকেই মানবজাতির জন্ম, এবং মানুষ তাঁরই হাতে সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর কাজ ইস্রায়েলেই শুরু করেছিলেন যাতে অন্যান্য মানুষ এবং রাষ্ট্র (যারা বস্তুত ইস্রায়েলের থেকে পৃথক ছিল না, বরং ইস্রায়েলীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা আদম ও ইভেরই বংশধর) ইস্রায়েলের থেকে যিহোবার সুসমাচার গ্রহণ করতে পারে, যাতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল প্রাণী যিহোবাকে সম্মান করতে ও তাঁকে মহান হিসাবে গণ্য করতে পারে। যিহোবা যদি তাঁর কাজ ইস্রায়েলে শুরু না করে তার পরিবর্তে মানবজাতিকে সৃষ্টি করে পৃথিবীর বুকে ইচ্ছামতো জীবনযাপন করতে দিতেন, তাহলে সেই ক্ষেত্রে মানুষের জৈবিক প্রকৃতির কারণেই (এক্ষেত্রে প্রকৃতির অর্থ হল, মানুষ চোখে যা দেখতে পায়না, তা তারা কোনোদিনই জানতে পারেনা, অর্থাৎ তারা কখনোই জানতে পারতো না যে যিহোবাই মানবজাতির সৃষ্টি করেছেন, এমনকি কেন তা করেছেন, তাও উপলব্ধি করতে পারতো না) তারা জানতেও পারতো না যে যিহোবাই মানবজাতির সৃষ্টি করেছেন অথবা তিনিই সকল সৃষ্টির প্রভু। যিহোবা যদি মানবজাতির সৃষ্টি করে তাদের পৃথিবীতে এনে হাত ঝেড়ে চলে যেতেন, তাদের পথনির্দেশ দেওয়ার জন্য কিছু সময় পর্যন্ত তাদের মাঝে না থাকতেন, তাহলে সমগ্র মানবজাতি শূন্যতায় ফিরে যেত; এমনকি, আকাশ ও পৃথিবী এবং তাঁর সৃষ্টি করা অগণ্য সমস্ত কিছু, এবং সকল মানবজাতি, শূন্যতায় ফিরে যেত এবং সর্বোপরি তারা শয়তানের দ্বারা পদদলিত হয়ে যেত। এইভাবে “এই পৃথিবীতে, অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টির মাঝে, তাঁর অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য একটি স্থান থাকা উচিত, একটি পবিত্র স্থান” এই মর্মে যিহোবার যে ইচ্ছা তা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যেত। আর তাই, মানবজাতিকে সৃষ্টি করার পর, তিনি যে তাদের জীবনে পথনির্দেশ দেওয়ার জন্য তাদের মাঝে অবস্থান করতে এবং তাদের মাঝে থেকে তাদের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন—তা সবই শুধু তাঁর বাসনা বাস্তবায়িত করার জন্য, এবং তাঁর পরিকল্পনা রূপায়ণের জন্য। ইস্রায়েলে তিনি যে কাজ করেছিলেন তা ছিল শুধুমাত্র তাঁর সেই পরিকল্পনার বাস্তব রূপায়ণের জন্য, যা তিনি তৈরী করেছিলেন তাঁর সকল বস্তু সৃষ্টি করারও আগে। এবং তাই, তাঁর সর্বপ্রথমে ইস্রায়েলীদের মাঝে কাজ করা এবং তাঁর সকল বস্তু সৃষ্টি করার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, বরং উভয়ই করা হয়েছিল তাঁর ব্যবস্থাপনার, তাঁর কাজের, ও তাঁর মহিমার স্বার্থে, এবং তাঁর মানবজাতি সৃষ্টির অর্থকে গভীরতর করতে। নোহর পরে আরো দুহাজার বছর পর্যন্ত তিনি পৃথিবীতে মানবজাতির জীবনের পথনির্দেশ করেছিলেন, যে সময় তিনি মানবজাতিকে শিখিয়েছিলেন যে যিহোবা, যিনি সকল সৃষ্টির প্রভু, তাঁর প্রতি কীভাবে সম্মান জ্ঞাপন করতে হয়, কীভাবে নিজেদের জীবনকে পরিচালনা করতে হয়, এবং কীভাবে জীবনযাপন অব্যাহত রাখতে হয়, এবং সবচেয়ে বেশি, কীভাবে যিহোবার সাক্ষী হিসাবে কাজ করতে হয়, তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে হয়, ও তাঁকে সম্মান জ্ঞাপন করতে হয়, এমনকি সঙ্গীতের মাধ্যমে কীভাবে তাঁর স্তুতি করতে হয়, যেমন দায়ূদ ও তার ধর্মযাজকরা করেছিল।

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, বিধানের যুগের কার্য

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: মানবজাতির দুর্নীতি উদ্ঘাটিত করা | উদ্ধৃতি 358

খুব শীঘ্রই আমার কার্য সম্পন্ন হবে, এবং অনেকগুলো বছর একসঙ্গে মিলে একটা দুঃসহ স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। আমি বিরামহীন ভাবে আমার বাক্য বারবার বলে...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 27

অন্তিম সময়ের কার্যে প্রতীক এবং বিস্ময়ের প্রকাশের চেয়ে বাক্য বেশি শক্তিশালী, এবং বাক্যের ক্ষমতা প্রতীক এবং বিস্ময়কে ছাড়িয়ে যায়। সেই বাক্য...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: অবতার জন্ম | উদ্ধৃতি 110

যিনি ঈশ্বরের অবতার তিনি ঈশ্বরের সারসত্যের অধিকারী হবেন, এবং যিনি ঈশ্বরের অবতার তিনি ঈশ্বরের অভিব্যক্তির অধিকারী হবেন। যেহেতু ঈশ্বর দেহরূপ...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: জীবনে প্রবেশ | উদ্ধৃতি 483

কেন তুমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করো? অধিকাংশ মানুষ এই প্রশ্ন দ্বারা বিভ্রান্ত হয়। বাস্তববাদী ঈশ্বর এবং স্বর্গের ঈশ্বর সম্পর্কে তাদের সর্বদা দুটি...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন