অনুশীলন (৬)

আজ, পিতরের যে বোধশক্তি ছিল তা অর্জন করার কথা তো দূরের কথা—অনেক মানুষই পৌলের যে বোধশক্তি ছিল সেটাই অর্জন করতে পারে না। তাদের এমনকি পৌলের ন্যয় আত্মসচেতনতাও নেই। যদিও পৌল প্রভুর দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল কারণ সে প্রভু যীশুকে নির্যাতন করেছিল, পরে সে প্রভুর জন্য কাজ করার এবং কষ্ট সহ্য করার সংকল্পও করেছিল। যীশু তাকে একটি ব্যাধি দিয়েছিলেন, এবং পরবর্তীকালে, কাজ শুরু করার পরে, পৌল এই ব্যাধির প্রকোপে কষ্টভোগ থাকে। সে কেন বলছিল যে তার শরীরে একটি কাঁটা ছিল? আসলে, এই কাঁটাই ছিল সেই ব্যাধি—এবং পৌল-এর কাছে, তা ছিল এক মারাত্মক দুর্বলতা। সে যতই কাজ করুক বা যতই কষ্ট সহ্য করুক না কেন, সেই কাঁটা থেকে সে মুক্তি পেতে পারেনি। তবুও পৌল-এর আজকের তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্যতা, এবং তার আত্ম-সচেতনতাও ছিল, এবং সে তোমাদের চেয়ে অধিক বোধের অধিকারী ছিল। যীশুর দ্বারা পৌল আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর, সে যীশুর শিষ্যদের নির্যাতন করা বন্ধ করে দিয়েছিল এবং যীশুর জন্য প্রচার এবং ক্লেশসাধন শুরু করেছিলেন। এবং কী তাকে ক্লেশসাধনে অনুপ্রাণিত করেছিল? পৌল বিশ্বাস করেছিল যে, যেহেতু সে মহান আলোক চাক্ষুষ করেছে, তাই তাকে অবশ্যই প্রভু যীশুর সাক্ষ্য দিতে হবে, আর কখনো যীশুর শিষ্যদের নির্যাতন এবং ঈশ্বরের কাজের বিরোধিতা করা যাবে না। পৌল ছিল ধর্মের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্বদের একজন। সে অত্যন্ত জ্ঞানী এবং প্রতিভাধর ছিল, গড়পড়তা মানুষদের সে অবজ্ঞার চোখে দেখত, এবং অধিকাংশের চেয়েই শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিল সে। কিন্তু “মহান আলোক” তাকে আলোকিত করার পরে, সে প্রভু যীশুর জন্য কাজ করতে সক্ষম হয়েছিল, ঈশ্বরের জন্য ক্লেশসাধন করার লক্ষ্যে তার সংকল্প স্থাপন করতে এবং নিজেকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করতে সক্ষম হয়েছিল, যা প্রমাণ করে যে, সে চেতনার অধিকারী ছিল। যখন সে যীশুর শিষ্যদের নিপীড়ন ও আটক করছিল, তখন যীশু তার কাছে আবির্ভূত হয়ে বললেন: “পৌল, তুমি কেন আমাকে নির্যাতন কর?” পৌল তৎক্ষণাৎ ভুলুণ্ঠিত হয়ে বলল: “প্রভু, আপনি কে?” আকাশ থেকে একটি কণ্ঠস্বর বলে উঠল: “আমি যীশু, যাকে তুমি নির্যাতন করছ।” অকস্মাৎ, পৌল জেগে উঠল, এবং তখনই সে জানতে পারল যে, যীশুই হলেন খ্রীষ্ট, যে, তিনিই হলেন ঈশ্বর। “আমায় অনুগত হতেই হবে। ঈশ্বর আমাকে এই অনুগ্রহ প্রদান করেছেন—আমি তাঁকে এইভাবে নির্যাতন করেছি, তবুও তিনি আমায় আঘাত করেননি, বা আমায় অভিশাপও দেননি। আমায় তাঁর জন্য কষ্ট সহ্য করতে হবে।” পৌল স্বীকার করেছিল যে সে প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে নির্যাতন করেছিল এবং তারপর তাঁর শিষ্যদের হত্যা করছিল, ঈশ্বর তা-ও তাঁকে অভিশাপ দেননি, বরং তাকে আলোকিত করেছিলেন। এটি তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং সে বলেছিলে: “যদিও আমি তাঁর মুখের দিকে চেয়ে দেখিনি, আমি তাঁর কণ্ঠস্বর শুনেছি এবং তাঁর মহান আলো চাক্ষুষ করেছি। শুধুমাত্র এখনই আমি যথার্থই দেখতে পাচ্ছি যে ঈশ্বর আমায় প্রকৃতপক্ষেই ভালোবাসেন, এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট হলেন প্রকৃতপক্ষে সেই ঈশ্বর, যিনি মানুষের প্রতি করুণা করেন, এবং অনন্তকাল ধরে মানুষের পাপসমূহকে ক্ষমা করেন। আমি সত্যিই দেখতে পাচ্ছি যে আমি একজন পাপী।” যদিও, পরবর্তীকালে, ঈশ্বর পৌলের প্রতিভাগুলিকে কাজে লাগিয়েছিলেন, আপাতত তা ভুলে যাও। সেই সময়ে তার সংকল্প, তার স্বাভাবিক মানবতাবোধ এবং তার আত্ম-সচেতনতা—তোমরা এই বিষয়গুলি অর্জনে অক্ষম। আজ, তোমরা কি অনেকটাই আলোক পাওনি? অনেক মানুষই কি চাক্ষুষ করেনি যে ঈশ্বরের স্বভাব হল মহিমা, ক্রোধ, বিচার এবং শাস্তিস্বরূপ? অভিশাপ, পরীক্ষা এবং পরিমার্জনা অনেকবারই মানুষের উপর সংঘটিত হয়েছে—এবং তারা কী শিখেছে? অনুশাসিত এবং মোকাবিলা করার মাধ্যমে তোমরা কী অর্জন করেছ? কড়া কথা, কটূক্তি এবং বিচার তোমাদের মধ্যে বহুবার সংঘটিত হয়েছে, তবুও তোমরা সেগুলিতে কোন কর্ণপাত করোনি। তোমাদের এমনকি পৌলের অধিকৃত সামান্য বুদ্ধিটুকুও নেই—তুমি কি অত্যন্ত পশ্চাদভিমুখী নও? এমনকি পৌলও অনেক কিছুই স্পষ্টভাবে দেখতে পায়নি। সে কেবল জানত যে সে আলোকিত হয়েছে, কিন্তু সে জানত না যে তাকে আঘাত করা হয়েছে; সে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করত যে সে আলোকিত হওয়ার পরে, তাকে অবশ্যই ঈশ্বরের জন্য নিজেকে ব্যয় করতে হবে, ঈশ্বরের জন্য কষ্ট পেতে হবে, প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পথ প্রশস্ত করার জন্য তাকে সবকিছু করতে হবে, এবং প্রভুর দ্বারা মুক্তি পাওয়ার জন্য আরও পাপীদের নিয়ে আসতে হবে। এটাই ছিল তার সংকল্প, এবং তার কাজের একমাত্র লক্ষ্য—কিন্তু সে কাজ করে চলার সময়েও, সেই ব্যাধি আমৃত্যু তাকে পরিত্যাগ করেনি। পৌল বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছে। সে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে, এবং প্রচুর অত্যাচার এবং প্রভূত ক্লেশের সম্মুখীন হয়েছে, যদিও, অবশ্যই, এগুলি পিতরের পরীক্ষার চেয়ে অনেক কমই ছিল। তোমাদের মধ্যে যদি পৌলের অধিকৃত ধারণাটুকুও না থাকে, তবে তা কতটা শোচনীয়? তা-ই যদি হয়, তবে ঈশ্বর কীভাবে তোমাদের মধ্যে মহত্ত্বর কাজ শুরু করতে পারেন?

সুসমাচার প্রচার করার সময় পৌল প্রভূত যন্ত্রণাভোগ করেছিল। সে যে কাজটি করেছিল, তার সংকল্প, তার বিশ্বাস, আনুগত্য, ভালোবাসা, ধৈর্য এবং বিনয়, এবং অন্যান্য অনেক বাহ্যিক বিষয় যা সে যাপন করেছিল, তা আজকের তোমাদের চেয়ে উচ্চতর ছিল। আরও কঠোরভাবে বলতে গেলে, তোমাদের মধ্যে কোন স্বাভাবিক বোধ নেই; এমনকি তোমাদের বিবেকবোধ বা মানবিকতাও নেই। তোমাদের এত অভাব! এইভাবে, বেশিরভাগ সময়, তোমরা যা যাপন কর তাতে কোন স্বাভাবিক বোধ খুঁজে পাওয়া যায় না এবং আত্ম-সচেতনতার কোন চিহ্ন থাকে না। যদিও পৌল সেই সময়ে শারীরিক ব্যাধিতে ভুগছিল, তবুও সে প্রার্থনা করতে আর অন্বেষণ করতে থাকে: “এই ব্যাধি আসলে কী? আমি প্রভুর জন্য এই সমস্ত কাজ করেছি, এই যন্ত্রণা কেন আমাকে ছেড়ে যায় না? এটা কি হতে পারে যে প্রভু যীশু আমাকে পরীক্ষা করছেন? তিনি কি আমাকে আঘাত করেছেন? তিনি যদি আমাকে আঘাত করতেন, তখনই আমার মৃত্যু ঘটত, আর আমি তাঁর জন্য এই সমস্ত কাজ করতে পারতাম না, বা আমি এত আলোকও পেতে পারতাম না। তিনিও আমার সংকল্প উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন”। পৌল সর্বদা অনুভব করেছিল যে, এই ব্যাধি হল ঈশ্বরের তাকে পরীক্ষা করা, যে, এটি তার বিশ্বাস এবং ইচ্ছাশক্তিকে দুর্বল করছে—পৌল তার ব্যাধিটিকে এভাবেই দেখেছিল। বাস্তবে, তার ব্যাধিটি ছিল প্রভু যীশুর তাকে আঘাত করাকালীন রয়ে যাওয়া একটি প্রভাব। এটি তাকে আবেগজনিত পীড়ার মধ্যে রেখেছিল, এবং তার বিদ্রোহী মনোভাবের রাশ টেনেছিল। যদি তোমরা নিজেদের পৌলের পরিস্থিতিতে খুঁজে পাও, তাহলে তোমরা কী করবে? তোমাদের সংকল্প এবং কষ্ট পাওয়ার ক্ষমতা কি পৌলের সমতুল? আজ, যদি তোমাদের কোনো ব্যাধি হয়, অথবা তোমরা যদি কোনো বড় পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাও, এবং তোমাদের যদি কষ্ট পেতে হয়, কে-ই বা জানে তোমরা কেমন হবে। যদি তোমাদের একটি পাখির খাঁচায় বন্দী করে রাখা হয় এবং ক্রমাগত তোমাদের রসদ যোগান দিয়ে যাওয়া হয়, তোমরা ভালোই থাকবে। অন্যথায় তোমরা হয়ে উঠবে ঠিক নেকড়েদের মতো, কোনোরকম মানবিকতা ছাড়াই। সুতরাং তোমরা যদি সামান্য প্রতিবন্ধকতা বা কষ্ট ভোগ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক; যদি তোমাদের জীবন সহজতর করে দেওয়া হয়, তাহলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন তাহলে তোমরা কীভাবে রক্ষিত হবে? আজ, তোমাদের শাস্তি, বিচার, এবং অভিশাপ দেওয়া হয়েছে বলেই কিন্তু তোমাদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তোমরা অনেক কষ্ট পেয়েছ বলেই কিন্তু সুরক্ষিত রয়েছ। যদি তা না হত, তাহলে তুমি অনেক আগেই বিকৃতিতে অধঃপতিত হয়ে যেতে। এইসব ইচ্ছাকৃতভাবে তোমাদের জন্য বিষয়সকল কঠিন করে তুলছে না—মানুষের প্রকৃতি পরিবর্তন করা কঠিন, এবং অবশ্যই এইভাবেই তাদের স্বভাব পরিবর্তন করতে হবে। পৌল যে বিবেক বা বোধশক্তির অধিকারী ছিল, আজ তোমাদের মধ্যে সেটুকুও নেই, তোমাদের এমনকি তার অধিকৃত আত্ম-সচেতনতাও নেই। তোমাদের উপর সর্বদা চাপসৃষ্টি করতে হবে, এবং তোমাদের আত্মাগুলিকে জাগ্রত করার জন্য তোমাদের সর্বদা শাস্তি দিতে আর বিচার করতে হবে। শাস্তি এবং বিচার তোমাদের জীবনের জন্য সবচেয়ে শ্রেয়। এবং প্রয়োজন অনুসারে, তোমার উপর সত্যের শাস্তিও নেমে আসবে; কেবলমাত্র তারপরই তোমরা সম্পূর্ণরূপে সমর্পন করবে। তোমাদের প্রকৃতি হল এমনই যে, শাস্তি এবং অভিশাপ ছাড়া তুমি মাথা নত করতে ইচ্ছুক হবে না, রয়ে যাবে সমর্পণে অনিচ্ছুক। তোমাদের চোখের সামনে তথ্য না থাকলে, কোন ফলই হবে না। চরিত্রগতভাবে তোমরা অত্যন্ত নীচ এবং মূল্যহীন! শাস্তি এবং বিচার ছাড়া, তোমাদের জয় করা কঠিন, এবং তোমাদের ন্যায়বিহীনতা এবং অবাধ্যতাকে পরাস্ত করা কঠিন। তোমাদের পুরানো প্রকৃতি এত গভীরভাবে বদ্ধমূল। যদি তোমাদের সিংহাসনে বসানো হয়, তোমাদের স্বর্গের উচ্চতা এবং পৃথিবীর গভীরতা সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকবে না, তোমরা যে কোন দিকে এগিয়ে চলেছ সে সম্পর্কে ধারণা তো আরোই থাকবে না। তোমরা জানো না যে তোমরা কোথা থেকে এসেছ, তাহলে তোমরা সৃষ্টির প্রভুকে কীভাবে চিনতে পারবে? বর্তমানের যথাকালীন শাস্তি এবং অভিশাপ না থাকলে, তোমাদের শেষ দিনটি অনেক আগেই চলে আসত। এবং তোমার নিয়তির বিষয়ে তো কিছুই বলার নেই—তা কি আরও বেশি করে আসন্ন বিপদে পড়বে না? এই যথাকালীন শাস্তি এবং বিচার না হলে, কে-ই বা জানে, যে, তোমরা যে কতটা অহংকারী হয়ে উঠতে, বা কতটা নিকৃষ্ট হয়ে উঠতে। এই শাস্তি এবং বিচার তোমাদের আজকের দিনে নিয়ে এসেছে, এবং এগুলি তোমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করেছে। যদি তোমরা এখনও তোমাদের “পিতা”-র মতো একই পদ্ধতি ব্যবহার করে “শিক্ষিত” হতে, তাহলে কে-ই বা বলতে পারে যে তোমরা কোন পরিসরে প্রবেশ করতে! তোমাদের নিজেকে নিয়ন্ত্রণের এবং আত্ম-প্রতিফলনের ক্ষমতা নেই। তোমাদের মত মানুষদের ক্ষেত্রে, তোমরা যদি কোনো হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে শুধুমাত্র অনুসরণ এবং মান্য করে চল, আমার লক্ষ্য অর্জিত হবে। আজকের শাস্তি ও বিচার মেনে নেওয়াই কি তোমাদের পক্ষে ভালো নয়? তোমাদের কাছে আর কি কি বিকল্প রয়েছে? পৌল যখন প্রভু যীশুকে বক্তব্য রাখতে ও কাজ করতে দেখেছিল, তখনও সে বিশ্বাস করে নি। পরবর্তীতে, প্রভু যীশুকে ক্রুশে পেরেক-বিদ্ধ করার পরে, এবং তাঁর পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পরে, সে এই সত্যটি জেনেছিল, তবুও সে নির্যাতন এবং বিরোধিতা করা অব্যাহত রাখে। ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ করা বলতে এটাই বোঝানো হয়েছে, এবং তাই তাকে আঘাত করা হয়েছিল। শুরুতে, সে জানত যে ইহুদীদের মধ্যে একজন রাজা আছেন যাঁকে যীশু বলা হয়, সে এমনটা শুনেছিল। পরে, যখন সে মন্দিরে ধর্মোপদেশ দিয়েছিল এবং সারা দেশে প্রচার করেছিল, সে যীশুর বিরুদ্ধাচার করেছিল, উদ্ধত ভঙ্গিতে যেকোনো কারোর কথা মান্য করতে অস্বীকার করেছিল। এই বিষয়গুলো সে সময় কাজের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যীশু যখন কাজ করছিলেন, তখন পৌল সরাসরি মানুষকে নির্যাতন ও আটক করেনি, কিন্তু সে যীশুর কাজকে তছনছ করে ফেলার জন্য প্রচার এবং কথনের ব্যবহার করেছিল। পরবর্তীকালে, প্রভু যীশু খ্রীষ্ট ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর, সে শিষ্যদের গ্রেফতার করতে শুরু করে, জায়গায় জায়গায় ছুটে গিয়ে তাদের নির্যাতন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে। তার উপর “আলো” জ্বলে উঠার পরেই সে জেগে ওঠে এবং অত্যন্ত অনুশোচনা অনুভব করে। সে অসুস্থ হওয়ার পর, তার সেই অসুস্থতা আর তাকে ছেড়ে যায়নি। কখনও কখনও, সে অনুভব করেছিলেন যে তার কষ্ট আরও বেড়েছে, এবং সে বিছানা থেকে উঠতেও অক্ষম। সে ভেবেছে: “কী হচ্ছে? আমি কি সত্যিই আঘাত পেয়েছিলাম?” ব্যাধি তাকে ছেড়ে যায়নি, এবং এই ব্যাধির কারণেই সে অনেক কাজ করেছিল। এটা বলা যেতে পারে যে, যীশু তার অহংকার এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই পৌলকে এই ব্যাধি দিয়েছিলেন; এটি ছিল পৌলকে দেওয়া একটি শাস্তি, কিন্তু এটি ঈশ্বরের কাজে পৌলের প্রতিভাগুলি ব্যবহার করার জন্যও করা হয়েছিল, যাতে তাঁর কাজকে প্রসারিত করা যায়। প্রকৃতপক্ষে, ঈশ্বরের অভিপ্রায় ছিল না, পৌলকে উদ্ধার করা, তা ছিল তাকে ব্যবহার করা। তবুও পৌলের স্বভাব ছিল খুব উদ্ধত এবং স্বেচ্ছাচারী, এবং তাই তার মধ্যে একটি “কণ্টক” প্রোথিত হয়েছিল। অবশেষে, পৌল যখন তার কাজ শেষ করে, তখন সেই ব্যাধি আর তার জন্য ততটা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ছিল না, এবং তার কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে সে এই কথাগুলি বলতে সক্ষম হয়েছিল “আমি ভালোভাবে লড়াই করেছি, আমি আমার যাত্রা শেষ করেছি, আমি বিশ্বাস বজায় রেখেছি: এখন থেকে আমার জন্য ন্যায়পরায়ণতার মুকুট তুলে রাখা হয়েছে”—এমনটা সে বলেছিল কারণ সে ঈশ্বরের কাজ জানত না। তোমাদের মধ্যে পৌলের মতো অনেকেই আছে, কিন্তু যদি তোমাদের সত্যিই পথের শেষ পর্যন্ত অনুসরণ করার সংকল্প থাকে, তবে তোমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হবে না। আমরা এখানে পৌল কী কী উপায়ে বিদ্রোহী আর প্রতিরোধী ছিল তার আলোচনা করব না; বরং তার যে অংশটি ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয় ছিল সেটাই ধরে রাখা যাক: তার একটা বিবেকবোধ ছিল এবং একবার “আলো” পাওয়ার পরে, সে নিজেকে ঈশ্বরের কাছে নিবেদিত করতে এবং ঈশ্বরের জন্য কষ্ট সহ্য করতে সক্ষম হয়েছিল। এটি ছিল তার একটি শক্তিশালী দিক। যাইহোক, যদি কেউ কেউ এটা বিশ্বাস করে যে, তার একটি শক্তিশালী দিক ছিল বলেই সে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়েছিল, যদি তারা মনে করে যে, এমনটা নাও হতে পারে যে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তাহলে এগুলি হল বোধহীন মানুষের কথা।

প্রার্থনা করার সময় এবং ঈশ্বরের বাক্যসমূহ পাঠ করার সময়, অনেকেই বলে যে তারা ঈশ্বরের কাছে আত্মনিবেদন করতে ইচ্ছুক, কিন্তু তারপরে একান্তে তারা দুশ্চরিত্র হয়ে পড়ে এবং সেই নিয়ে আর কিছুই ভাবে না। ঈশ্বরের বাক্যগুলি বারবার উচ্চারিত হয়, স্তরের পর স্তর প্রকাশ করে চলে, এবং শুধুমাত্র একবার মানুষের নিম্নতম স্তরটি অনাবৃত হলে তবেই তারা “শান্তি খুঁজে পায়”, এবং তাদের ঔদ্ধত্য এবং স্বেচ্ছাচারের, অসহনীয় অহংকারের মাত্রা কমে। আজ তোমাদের যেরকম অবস্থা, তাতে তোমাদের এখনও নির্মমভাবে আঘাত করা এবং অনাবৃত করা উচিত, এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার করা উচিত, যাতে তোমরা বিশ্রামের সুযোগটুকুও না পাও। কঠোর শাস্তি আর বিচার তোমাদের ছেড়ে না গেলে, এবং নিন্দা ও অভিশাপের তোমাদের থেকে দূরে না থাকলেই, তা তোমাদের ভালো, এতে তোমরা দেখতে পাও যে ঈশ্বরের প্রশাসনিকের ফরমানসমূহের হাত তোমাদের কাছ থেকে কখনও সরে যায় না। ঠিক যেমন বিধানের যুগে, হারোণ যখন দেখেছিল যে যিহোবা তাকে কখনও পরিত্যাগ করেননি (সে যা দেখেছিল তা হল যিহোবার অবিরাম নির্দেশনা এবং সুরক্ষা; ঈশ্বরের যে নির্দেশনা তোমরা আজ দেখেছ তা হল শাস্তি, অভিশাপ এবং বিচার), আজ যিহোবার প্রশাসনিক ফরমানসমূহের হাত তোমাদের পরিত্যাগ করবে না। তবে, তোমরা একটি বিষয়ে স্বচ্ছন্দ হতে পার: তোমরা যেভাবেই বিরোধিতা, বিদ্রোহ আর বিচার করো না কেন, তোমাদের শারীরিক কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু যদি কেউ কেউ তাদের বিরোধিতায় অনেক দূরে চলে গিয়ে কাজে বাধা দেয়, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়; তার একটি সীমা আছে। গির্জার জীবনকে ব্যাহত বা বিপর্যস্ত কোরো না, এবং পবিত্র আত্মার কাজে বাধা দিও না। বাকিদের ক্ষেত্রে, তুমি যা চাও তাই করতে পার। যদি তুমি বল যে তুমি জীবনের সাধনা করতে চাও না, এবং পৃথিবীতে ফিরে যেতে চাও, তাহলে সত্বর ফিরে যাও! তোমরা যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারো, যতক্ষণ না তা ঈশ্বরের কাজে বাধা দিচ্ছে। তবুও আরও একটি বিষয়ে তোমাকে অবশ্যই জানতে হবে: শেষ পর্যন্ত, এই ধরনের ইচ্ছাকৃত পাপীদের সবাইকে নির্মূল করা হবে। আজ, তোমাকে ভর্ত্সনা করা না-ও হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত, মানুষের একটিমাত্র অংশই সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হবে—এবং বাকিরা সকলেই বিপদে পড়বে। যদি তুমি এই স্রোতে থাকতে না চাও, তাহলে তা-ও ঠিক আছে। আজকের মানুষদের সঙ্গে সহনশীলভাবে আচরণ করা হয়; আমি তোমাকে সীমাবদ্ধ করি না, যতক্ষণ তুমি আগামীকালের শাস্তির বিষয়ে অকুতোভয় হয়ে থাকো। কিন্তু যদি তুমি এই স্রোতে থাকো, তাহলে তোমাকে অবশ্যই সাক্ষ্য দিতে হবে, এবং তোমাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তুমি যদি তা প্রত্যাখ্যান করতে চাও এবং পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাও, তাহলে ঠিক আছে—কেউ তোমাকে বাধা দিচ্ছে না! কিন্তু যদি তুমি এমন কাজ কর যা ধ্বংসাত্মক এবং ঈশ্বরের কাজকে ব্যাহত করে, তাহলে তার জন্য তোমাকে একেবারেই ক্ষমা করা যাবে না! কাদের শাস্তি দেওয়া হয় এবং কাদের পরিবারগুলি অভিশপ্ত হয় এই ব্যাপারে তোমার চোখ যা দেখে এবং তোমার কান যা শোনে—সেই সমস্ত কিছুরই সীমা-পরিসীমা রয়েছে। পবিত্র আত্মা লঘুভাবে কিছু করেন না। তোমরা যে পাপ করেছ তার উপর ভিত্তি করে, যদি তোমাদের সঙ্গে তোমাদের নিজেদের ন্যায়বিহীনতা অনুযায়ী আচরণ করা হয় এবং তোমাদের গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়, তাহলে তোমাদের মধ্যে কে কে বেঁচে থাকতে সক্ষম হবে? তোমরা সকলেই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে এবং তোমাদের কারোরই ভালো পরিণতি হবে না। তবুও, বর্তমানে, অনেক মানুষের সঙ্গেই সহনশীলতার সাথে আচরণ করা হয়। যদিও তোমরা বিচার কর, বিদ্রোহ এবং বিরোধিতা কর, যতক্ষণ না তোমরা বাধা দিচ্ছ, আমি হাসিমুখে তোমাদের সম্মুখীন হব। তোমরা যদি সত্যিই জীবন অনুসরণ কর, তাহলে তোমাকে অবশ্যই কিছু শাস্তি ভোগ করতে হবে, এবং তুমি যা ভালোবাসো তার বিচ্ছেদের বেদনা সহন করে অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্যে উপচারশালায় যেতে হবে; পিতর যেমন পরীক্ষা এবং কষ্টকে মেনে নিয়েছিল, তেমনি তোমাকেও অবশ্যই বেদনা সহন করতে হবে। আজ তুমি বিচারাসনের সম্মুখে রয়েছ। ভবিষ্যতে, তোমাকে অবশ্যই “হাঁড়িকাঠ”-এ যেতে হবে, যে যাওয়া-ই হবে তোমাদের “আত্মবলিদান”।

অন্তিম সময়ের কাজের এই শেষ পর্যায়ে, সম্ভবত তোমরা বিশ্বাস করো যে, ঈশ্বর তোমার দেহকে ধ্বংস করবেন না, এবং এটা বলা যেতে পারে যে, তুমি তাঁর বিরোধিতা করলেও, এবং তাঁর বিচার করলে-ও তোমাকে কোনো অসুস্থতায় না-ও ভুগতে হতে পারে—কিন্তু যখন ঈশ্বরের কঠোর বাক্যগুলি তোমার উপর আগত হয়, যখন তোমার সকল বিদ্রোহ ও প্রতিরোধ এবং তোমার কুৎসিত চেহারা অনাবৃত হয়, তুমি লুকিয়ে থাকতে পারবে না। তুমি নিজেকে আতঙ্কিত এবং সম্পূর্ণরূপে বিভ্রান্ত অবস্থায় খুঁজে পাবে। বর্তমানে, তোমাদের কিছুটা বিবেকবোধ থাকতেই হবে। ঈশ্বরের বিরোধিতা ও বিদ্রোহকারী মন্দ লোকেদের ভূমিকা পালন কোরো না। তুমি তোমার পুরানো পূর্বপুরুষের দিকে ফিরে তাকাও; এই আত্মিক উচ্চতা এবং এই মানবতারই অধিকারী হওয়া উচিত তোমার। তুমি সর্বদাই নিজের ভবিষ্যত সম্ভাবনা বা বর্তমানের ভোগবিলাসকে একপাশে সরিয়ে রাখতে অক্ষম। ঈশ্বর বলেছেন: “যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আমাকে অনুসরণ এবং সত্যের অন্বেষণ করার উদ্দেশ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, আমি অবশ্যই তোমাদের নিখুঁত করব। একবার তোমরা নিখুঁত হয়ে উঠলে, তোমাদের একটি সুন্দর গন্তব্য থাকবে—আমার সাথে আশীর্বাদ উপভোগ করার জন্য তোমাদের আমার রাজ্যে আনা হবে।” তোমাদের একটি সুন্দর গন্তব্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তবুও তোমাদের প্রয়োজনীয়তা কখনোই হ্রাস করা যাবে না। একটি শর্তও রয়েছে: তোমাদের জয় অথবা নিখুঁত যা-ই করা হোক না কেন, আজ তোমাদের কিছুটা শাস্তি এবং কষ্ট সহ্য করতেই হবে; তোমাকে আঘাতপ্রাপ্ত এবং অনুশাসিত হতে হবে; তোমাকে অবশ্যই আমার বাক্যগুলি শুনতে হবে, আমার পথ অনুসরণ করতে হবে, এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে হবে—তোমাদের, অর্থাৎ মানুষদের, এমনটাই করা উচিত। যেভাবেই তুমি অনুসরণ কর না কেন, তোমাকে অবশ্যই এইরকম স্পষ্টভাবেই শ্রবণ করতে হবে৷ তোমার যদি প্রকৃত অন্তর্দৃষ্টি থাকে, তাহলে তুমি অনুসরণ করা চালিয়ে যেতে পার। তুমি যদি বিশ্বাস কর যে এখানে কোন সম্ভাবনা বা আশা নেই, তাহলে তুমি চলে যেতে পারো। এই বাক্যগুলি তোমাকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কিন্তু তুমি যদি সত্যিই যেতে চাও, তাহলে তা শুধু এটাই দেখায় যে তোমার সামান্য বিবেকবোধ নেই; তোমার এই কর্ম তোমাকে শয়তান প্রতিপন্ন করার পক্ষে যথেষ্ট। যদিও তুমি বলছ যে তুমি সমস্ত কিছু ঈশ্বরের সমন্বয়সাধনের উপর ছেড়ে দিয়েছ, কিন্তু তোমার দেহ এবং তোমার যাপনের উপর ভিত্তি করে দেখা যায় যে, তুমি এখনও শয়তানের আধীপত্যেরই অধীন রয়েছ। যদিও শয়তানও ঈশ্বরেরই হাতে, তবু তুমি নিজে এখনও শয়তানেরই অন্তর্গত এবং এখনও ঈশ্বরের দ্বারা প্রকৃতপক্ষে উদ্ধারলাভ করনি, কারণ তুমি এখনও শয়তানের প্রভাবে বাস করছ। উদ্ধারলাভের উদ্দেশ্যে তোমায় কীভাবে সাধনা করতে হবে? পছন্দ তোমার—তোমার যে পথে চলা উচিত সেই পথই তোমার বেছেও নেওয়া উচিত। পরিশেষে, তুমি যদি বলতে পারো: “আমার পক্ষে এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না, আমি আমার বিবেক সহকারে ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রতিদান দিই, এবং আমার কিছুটা মানবতা থাকতে হবে। আমি এর চেয়ে বড় কিছু অর্জন করতে পারি না, বা আমার ক্ষমতাও এত বেশি নয়; আমি ঈশ্বরের কাজের দর্শন এবং অর্থ বুঝতে পারি না। আমি কেবল ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রতিদান দিই, ঈশ্বর যা চান তা-ই করি, এবং আমি যথাসাধ্য করি। আমি ঈশ্বরের জীব হিসাবে আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি,” তাহলেই আমি তৃপ্তি বোধ করব। এটাই হল সর্বোচ্চ সাক্ষ্য যা দিতে তুমি সক্ষম। এ-ই হল মানুষের একটি অংশের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ মান: ঈশ্বরের এক জীব হিসাবে দায়িত্বপালন। তুমি যতটা সক্ষম ততটাই করো; তোমার থেকে সুউচ্চ কোনও চাহিদা নেই। তুমি যদি যথাসাধ্য করো, তবে তা-ই হবে তোমার সাক্ষ্য।

পূর্ববর্তী: বিজয়কার্যের অন্তর্নিহিত সত্য (৪)

পরবর্তী: অনুশীলন (৭)

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন