ঈশ্বরের সামনে তোমার হৃদয়কে শান্ত রাখা

ঈশ্বরের বাক্যকে অনুধাবন করার জন্য তাঁর সামনে তোমার হৃদয়কে শান্ত করার চেয়ে কোনও পদক্ষেপই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি একটি শিক্ষা যা বর্তমানে সকল ব্যক্তির অনুধাবনের জন্য জরুরি। ঈশ্বরের সামনে তোমার হৃদয় শান্ত করার গ্রহণীয় পথগুলি নিম্নরূপ:

১. বাহ্যিক বিষয়গুলি থেকে তোমার হৃদয়কে সরিয়ে নাও। ঈশ্বরের সামনে তোমার হৃদয়কে প্রশান্ত রাখো এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার জন্য তোমার মনকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করো।

২. ঈশ্বরের সামনে তোমার হৃদয়কে প্রশান্ত রেখে, তাঁর বাক্য ভোজন ও পান করো এবং উপভোগ করো।

৩. ঈশ্বরের কাজ এবং তাঁর ভালবাসা তোমার হৃদয়ে অনুভব করো, গভীরভাবে চিন্তা করো ও গভীর ধ্যানে মগ্ন হও।

প্রথমে, প্রার্থনা দিয়ে শুরু করো। নির্দিষ্ট সময়ে পূর্ণ মনোযোগ সহকারে প্রার্থনা করো। সময়ের ব্যাপারে তুমি যতই উদ্বিগ্ন থাকো, নিজের কাজ নিয়ে যতই ব্যস্ত থাকো, অথবা তোমার জীবনে যাকিছু ঘটুক না কেন তাসত্ত্বেও প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে প্রার্থনা করো এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক ভাবেই ঈশ্বরের বাক্য ভোজনও পান করো। যতক্ষণ তুমি ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করবে, তোমার আশে-পাশের পরিবেশ যাই হোক না কেন, তোমার অন্তরাত্মাতে এক পরম আনন্দের অনুভূতি হবে এবং তোমার চারপাশের মানুষ, ঘটনা অথবা জিনিসসমূহ কোনও কিছুই তোমার শান্তি বিঘ্নিত করতে পারবেনা। যখন তুমি সাধারণভাবে তোমার হৃদয়ে ঈশ্বরের কথা ভাবো, তখন বাইরের জগতে যা কিছু ঘটে তোমাকে বিচলিত করতে পারেনা। এর অর্থ হল উচ্চ মানসিক গুণমানের অধিকারী হওয়া। প্রার্থনা দিয়ে শুরু করো: ঈশ্বরের সামনে নীরবে প্রার্থনা করা সবচেয়ে ফলদায়ক। এর পরে, ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করো, ঈশ্বরের বাক্য নিয়ে চিন্তা করো ও তাতে আলোর অনুসন্ধান করো, অনুশীলনের পথ খুঁজে দেখো, ঈশ্বরের বাক্যে তাঁর উদ্দেশ্যকে জানো এবং মূল বিষয় থেকে বিচ্যুতি ছাড়াই সেগুলি বোঝো। সাধারণভাবে, বাহ্যিক বিষয়গুলি দ্বারা বিচলিত না হয়ে, তোমার হৃদয়ে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হতে, ঈশ্বরের ভালবাসার কথা ভাবতে এবং ঈশ্বরের বাক্যগুলি চিন্তা করতে পারা তোমার পক্ষে স্বাভাবিক হওয়া উচিৎ। যখন তোমাদের হৃদয় একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় শান্তি অর্জন করবে, তুমি নীরবে চিন্তা করতে এবং তোমার মধ্যে, ঈশ্বরের ভালবাসার কথা চিন্তা করতে সক্ষম হবে এবং যখন তুমি চূড়ান্তভাবে হৃদয়ের সেই স্থানে পৌঁছবে, তোমার পারিপার্শ্বিক অবস্থা নির্বিশেষে সত্যই তাঁর নিকটবর্তী হতে পারবে, এবং এটি প্রার্থনার চেয়েও উত্তম। তারপরে তুমি একটি নির্দিষ্ট মানসিক গুণমানের অধিকারী হবে। যদি তুমি উপরে বর্ণিত অবস্থা অর্জন করতে সক্ষম হও, তাহলে প্রমাণ হবে যে ঈশ্বরের সামনে তোমাদের হৃদয় সত্যই প্রশান্ত রয়েছে। এটাই হল প্রথম মৌলিক পাঠ। মানুষ যখন ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে সক্ষম হয় তখনই তারা পবিত্র আত্মার স্পর্শ পায় এবং পবিত্র আত্মার দ্বারা জ্ঞানদীপ্ত হয় এবং আলোকপ্রাপ্ত হয়, এবং শুধুমাত্র তখনই তারা ঈশ্বরের সাথে সত্যিকারের যোগাযোগ করতে পারে সেইসাথে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে ও পবিত্র আত্মার নির্দেশনাকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। তখন তারা তাদের আধ্যাত্মিক জীবনে সঠিক পথে প্রবেশ করে। যখন তাদের ঈশ্বরের সামনে জীবনধারণের প্রশিক্ষণ একটি নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছে যায় এবং তারা নিজেদের বন্ধনমুক্ত করতে, নিজেদেরকে তুচ্ছ মনে করতে এবং ঈশ্বরের বাক্য অনুযায়ী জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়, তখন তাদের হৃদয় সত্যই ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকে। নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করা, নিজেকে শাস্তি দেওয়া এবং নিজেকে বন্ধনমুক্ত করতে পারাই হল ঈশ্বরের কাজ করার দ্বারা অর্জিত প্রভাব, মানুষ নিজেরা এটা করতে পারে না। সুতরাং, ঈশ্বরের সামনে নিজের হৃদয়কে প্রশান্ত করার অনুশীলন হল এমন একটি শিক্ষা যা মানুষকে অবিলম্বে অনুধাবন করতে হবে। কিছু লোকের ক্ষেত্রে, তারা যে শুধুমাত্র ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে পারেনা তা নয় তারা প্রার্থনা করার সময়ও ঈশ্বরের সামনে তাদের হৃদয়কে প্রশান্ত রাখতে পারে না। এটি ঈশ্বরের মানকে হ্রাস করে! যদি তোমার হৃদয় ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত হতে না পারে, তবে তুমি কি পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হতে পারো? তুমি যদি এমন একজন হও যে ঈশ্বরের সামনে প্রশান্তভাবে থাকতে পারেনা, যখন কেউ আসে তোমাদের চিত্ত বিক্ষিপ্ত হয়, অথবা যখন অন্যেরা কথা বলে, যখন অন্যেরা কিছু করে তখন তোমার মন সেই দিকে আকর্ষিত হয়, সে ক্ষেত্রে তোমাদের ঈশ্বরের সামনে বাস করা হয় না। যদি তোমাদের হৃদয় সত্যিই ঈশ্বরের সামনে শান্ত থাকে, তাহলে বহির্বিশ্বে যা ঘটছে, অথবা কোনও ব্যক্তি, ঘটনা, বা জিনিস তোমার মনকে অশান্ত করতে পারবেনা। যদি তুমি এই অবস্থায় প্রবেশ করো, তবে সেই সকল নেতিবাচক অবস্থা এবং সকল নেতিবাচক জিনিস-মানুষের মনোভাব, জীবনযাপনের দর্শন, মানুষের মধ্যে অস্বাভাবিক সম্পর্ক, ধারণা ও চিন্তাভাবনা এবং এই সমস্ত-স্বাভাবিকভাবেই অদৃশ্য হয়ে যাবে। কারণ তুমি সর্বদা ঈশ্বরের বাক্য নিয়ে চিন্তা করছো, তোমার হৃদয় সর্বদা ঈশ্বরের নিকটবর্তী হচ্ছে এবং সর্বদা ঈশ্বরের বর্তমান বাক্যগুলিতে নিমগ্ন থাকছো, সেই নেতিবাচক জিনিসগুলি তোমার কিছু বোঝার আগেই তোমার কাছ থেকে দূরে চলে যাবে। যখন নতুন এবং ইতিবাচক জিনিসগুলি তোমার মনকে দখল করে নেবে, নেতিবাচক পুরানো জিনিসগুলির কোনও স্থান থাকবে না, তাই সেই নেতিবাচক জিনিসগুলিতে মনোযোগ দিও না। সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তোমাকে চেষ্টা করতে হবে না। তোমার উচিৎ ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকার দিকে মনোনিবেশ করা, যতটা সম্ভব ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করা, এবং উপভোগকরা, যতটা সম্ভব ঈশ্বরের প্রশংসায় স্তব করা এবং ঈশ্বরকে তোমার উপর কাজ করার সুযোগ দেওয়া, কারণ ঈশ্বর এখন ব্যক্তিগতভাবে মানুষকে নিখুঁত করতে চান এবং তিনি তোমার হৃদয় লাভ করতে চান; তাঁর আত্মা তোমাদের হৃদয়কে চালিত করে এবং যদি, পবিত্র আত্মার নির্দেশনা অনুসরণ করো, তোমরা ঈশ্বরের উপস্থিতিতে বাস করবে, ঈশ্বর সন্তুষ্ট হবেন। তোমরা যদি ঈশ্বরের কথায় জীবনযাপনের দিকে মন দাও এবং পবিত্র আত্মার আলোকপ্রাপ্ত অবস্থা এবং প্রদীপ্তি লাভ করার জন্য সত্যের বিষয়ে অধিকতর সহকারিতায় নিযুক্ত হও, তাহলে সেই ধর্মীয় ধারণাগুলি এবং তোমার স্ব-ধার্মিকতা, আত্ম-গুরুত্বভাব সবই অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং কীভাবে নিজেকে ঈশ্বরের জন্য ব্যয় করতে হয়, কীভাবে ঈশ্বরকে ভালবাসতে হয় এবং কীভাবে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে হয় তা জানবে। এবং তোমার উপলব্ধি ছাড়াই, ঈশ্বরের বাইরের জিনিসগুলি তোমার চেতনা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যাবে।

ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করা এবং পান করার সময় তাঁর বর্তমান বাক্য সম্পর্কে চিন্তা এবং প্রার্থনা করা হল ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকার প্রথম পদক্ষেপ। যদি তুমি সত্যিই ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত হয়ে থাকতে পারো, তাহলে পবিত্র আত্মার জ্ঞান এবং প্রদীপ্তি তোমার সাথে থাকবে। সমস্ত আধ্যাত্মিক জীবন ঈশ্বরের সামনে প্রশান্তভাবে থাকার দ্বারা অর্জিত হয়। প্রার্থনা করার সময়, তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে হবে এবং শুধুমাত্র তখনই তুমি পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হতে পারো। যখন তুমি ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকো, যখন তুমি ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করো তখন তুমি জ্ঞানদীপ্ত এবং আলোকপ্রাপ্ত হতে পারো এবং ঈশ্বরের বাক্যের সত্যিকারের বোধগম্যতা অর্জন করতে পারো। যখন তোমার ধ্যান ও সাহচর্যের সাধারণ ক্রিয়াকলাপে, তোমার হৃদয় ঈশ্বরের নিকটবর্তী হয়, তুমি ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত হও, তুমি ঈশ্বরের প্রকৃত নৈকট্য উপভোগ করতে পারবে ঈশ্বরের ভালবাসা এবং তাঁর কাজ এবং ঈশ্বরের উদ্দেশ্যর প্রতি সত্যিকারের চিন্তাশীলতা ও যত্ন প্রদর্শন করতে পারবে। তুমি যত বেশি সাধারণভাবে ঈশ্বরের সামনে প্রশান্তিতে থাকতে পারবে তত বেশি আলোকপ্রাপ্ত হবে, তত বেশি তোমার নিজের কলুষিত স্বভাবকে বুঝতে পারবে, তোমার মধ্যে কী অভাব আছে, তোমাকে কী উপলব্ধি করতে হবে, তোমাকে কী কাজ করতে হবে এবং কোথায় তোমার ত্রুটিবিচ্যুতি আছে। এই সবই ঈশ্বরের সান্নিধ্যে থাকার মাধ্যমে অর্জিত হয়। যদি তুমি সত্যই ঈশ্বরের সামনে তোমার প্রশান্তির গভীরতা অর্জন করো, তবে তুমি আত্মার কিছু রহস্য উপলব্ধি করতে পারবে, ঈশ্বর বর্তমানে তোমাকে দিয়ে কী করাতে চান, ঈশ্বরের বাক্যগুলির গভীরতর উপলব্ধি, ঈশ্বরের বাক্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশকে উপলব্ধি করা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আয়ত্ত করা, ঈশ্বরের বাক্যের সারমর্ম এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার উপলব্ধি, এবং তুমি অনুশীলনের পথটি আরও স্পষ্টভাবে এবং সঠিকভাবে দেখতে পারবে। তুমি যদি তোমার আত্মাকে প্রশান্ত রাখার জন্য যথেষ্ট গভীরতা অর্জন করতে ব্যর্থ হও, তবে তুমি পবিত্র আত্মার দ্বারা কেবলমাত্র কিছুটা চালিত হবে; তুমি অন্তরে শক্তিশালী অনুভব করবে এবং তুমি কিছু পরিমাণ আনন্দ ও প্রশান্তি অনুভব করবে, কিন্তু তুমি কোনও কিছুই গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারবেনা। আমি আগেই বলেছি: মানুষ যদি তাদের শক্তির প্রতিটি কণা কাজে না লাগায় তবে তাদের পক্ষে আমার কণ্ঠস্বর শুনতে বা আমার মুখ দর্শন কঠিন হবে। এটি ঈশ্বরের সামনে একজনের প্রশান্তভাবকে বোঝায়, ভাসা ভাসা প্রচেষ্টা বোঝায়না। যে ব্যক্তি সত্যই ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে পারে সে সমস্ত জাগতিক বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করতে এবং ঈশ্বরের অধিকৃত হতে সক্ষম হয়। যারা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে অক্ষম তারা নিশ্চিতভাবে উচ্ছৃঙ্খল ও অনিয়ন্ত্রিত চরিত্রের মানুষ। যারা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে সক্ষম তারাই ধার্মিক এবং ঈশ্বরের আকাঙ্খিত। শুধুমাত্র যারা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকে তারাই জীবনের মূল্য দেয়, আত্মার মধ্যে সহভাগিতাকে মূল্য দেয়, ঈশ্বরের বাক্যের জন্য তৃষ্ণা অনুভব করে এবং সত্যের অন্বেষণ করে। যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকার মূল্য দেয়না এবং ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকার অভ্যাস করেনা তার জীবনই বৃথা এবং অগভীর, জগতের সাথে সে সংযুক্ত থাকে এবং তার জীবন হয় প্রাণহীন; এমনকি যদি তারা বলে যে তারা ঈশ্বরে বিশ্বাসী, তা কেবলই তাদের মুখের কথা। ঈশ্বর যাদের শেষ পর্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করেন তারাই এমন লোক যারা তাঁর সামনে প্রশান্ত থাকতে পারে। অতএব, যারা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকে তারাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ সহ অতুলনীয় করুণা লাভ করে। যে সকল ব্যক্তি সারাদিনে ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করার জন্য খুব কম সময় ব্যয় করে, যারা বাহ্যিক বিষয়ে ব্যস্ত থাকে এবং জীবনের উপলব্ধিকে খুব কম মূল্য দেয়-এরা সবাই ভণ্ড এদের ভবিষ্যতে মানসিক দর্শনের বিকাশের কোনও সম্ভাবনা নেই। তারাই যারা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে পারে এবং যারা সত্যিকারের ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে তারাই ঈশ্বরের লোক।

ঈশ্বরের সামনে আসার জন্য তার বাক্যকে তোমার জীবন হিসাবে গ্রহণ করতে তোমাকে অবশ্যই প্রথমে ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে হবে। শুধুমাত্র যখন তুমি ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকবে তখনই ঈশ্বর তোমাকে পথ দেখাবেন এবং জ্ঞান দান করবেন। ঈশ্বরের সামনে ব্যক্তিসমূহ যত বেশী প্রশান্ত থাকে তত বেশী তারা ঈশ্বরের দ্বারা আলোকপ্রাপ্ত হয় এবং তিনি তাদের জ্ঞানের আলোয় সমুজ্জ্বল করেন। এসবের জন্য মানুষের ধর্মানুরাগ ও বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন; শুধুমাত্র এইভাবে তারা নিখুঁত হতে পারে। আধ্যাত্মিক জীবনে প্রবেশের প্রাথমিক শিক্ষা হল ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকা। তুমি যদি শুধুমাত্র ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকো তবেই তোমাদের সমস্ত আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ কার্যকর হবে। যদি তোমার হৃদয় ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে অক্ষম হয় তবে তুমি পবিত্র আত্মার নির্দেশ পাবে না। যদি তোমার হৃদয় ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকে তুমি যাই করোনা না কেন তুমি হবে ঈশ্বরের উপস্থিতিতে থাকা এক মানুষ। যদি তোমাদের হৃদয় ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকে এবং ঈশ্বরের নিকটবর্তী আকর্ষিত হয়, তবে তুমি যাই করোনা না কেন, এটি প্রমাণ করে যে তুমি হলে এমন ব্যক্তি যে ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকে। তুমি যখন অন্যদের সাথে কথা বলো বা হাঁটো, তুমি বলতে পারবে, “আমার হৃদয় ঈশ্বরের নিকটবর্তী হচ্ছে, এবং বাহ্যিক জিনিসগুলিতে মনোনিবেশ করছি না এবং আমি ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে পারি”, তাহলে তুমি এমন একজন যে ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকে। এমন কিছুর সাথে জড়িত হোয়োনা যা তোমার হৃদয়কে বাহ্যিক বিষয়ের দিকে টানে, অথবা এমন কোনও ব্যক্তিদের সাথে জড়িত থেকো নাযারা তোমার হৃদয়কে ঈশ্বরের থেকে আলাদা করে। যা কিছু তোমাদের হৃদয়কে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়ার থেকে বিরত রাখে সেটিকে দূরে রাখো বা তার থেকে দূরে থাকো। এটাই তোমাদের জীবনের জন্য আরও বেশী কল্যাণদায়ক। এখনই পবিত্র আত্মার মহান কাজের সঠিক সময়, সেই সময় যখন পবিত্র আত্মা নিজে মানুষকে নিখুঁতভাবে তৈরি করে। যদি, এই মুহূর্তে, তুমি ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে না পারো, তাহলে তুমি ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে ফিরে আসা সেই ব্যক্তি নও। যদি তোমরা ঈশ্বর ছাড়া অন্য জিনিসের অন্বেষণ করো তাহলে ঈশ্বরের দ্বারা তোমার পরিপূর্ণতা লাভের কোনও উপায় থাকবে না। যারা ঈশ্বরের কাছ থেকে এই ধরণের কথা শুনতে পায় এবং আজকে তাঁর সামনে প্রশান্ত থাকতে ব্যর্থ হয়, তারাই সেই লোক যারা সত্যকে ভালবাসে না এবং ঈশ্বরকেও ভালবাসে না। তোমরা যদি এই মুহূর্তেনিজেকে ঈশ্বরের কাছে নিবেদন না করতে পারো তবে কিসের জন্য অপেক্ষা করছো? নিজেকে নিবেদন করা মানে ঈশ্বরের সামনে নিজের হৃদয়কে প্রশান্ত রাখা। সেটাই হবে প্রকৃত আত্ম নিবেদন। যে সত্যিকারে তাদের হৃদয় ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করে তারা ঈশ্বরের দ্বারা নিশ্চিতভাবে পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। কোনও কিছুই তোমার শান্তি ভঙ্গ করতে পারে না, তা যাই হোক না কেন; এটি তোমার আধ্যাত্মিক বিকাশে বাধা অথবা ব্যর্থতা বা হতাশা যাই হোকনা কেন, তোমার হৃদয় সর্বদা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকা উচিৎ। মানুষ তোমার সাথে কেমন ব্যবহার করলো সেটা কোনও ব্যাপার নয়, তোমার হৃদয়কে ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত রাখতে হবে। তুমি যে কোনও পরিস্থিতির মুখোমুখি হওনা কেন-তুমি বিদ্বেষ, কষ্ট, নিপীড়ন, অথবা বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা বেষ্টিত থাকো না কেন-তোমার হৃদয়কে সর্বদা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত রাখতে হবে; এইগুলিই হল নিখুঁত হওয়ার পথ। শুধুমাত্র ঈশ্বরের সামনে যখন তুমি সত্যিকারের প্রশান্ত থাকবে তখনই ঈশ্বরের বর্তমান বাক্যগুলি তোমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তারপরে তুমি পবিত্র আত্মার প্রদীপ্তি এবং জ্ঞান আরও সঠিকভাবে এবং কোনও বিচ্যুতি ছাড়াই অনুশীলন করতে পারবে, ঈশ্বরের ইচ্ছাগুলি আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করবে, যেটা তোমাদের কাজকে একটি পরিষ্কার নির্দেশনা দেবে, পবিত্র আত্মার নির্দেশনাকে অধিকতর সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারবে, এবং নিশ্চিতভাবে পবিত্র আত্মার নির্দেশনায় জীবনযাপন করতে পারবে। ঈশ্বরের সামনে সত্যিকারের প্রশান্ত থাকলে এই ধরণের প্রভাব অর্জিত হয়। যখন লোকেদের কাছে ঈশ্বরের বাক্যগুলি স্পষ্ট নয়, তাদের কাছে অনুশীলন করার কোনও পথ থাকে না, ঈশ্বরের উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়, অথবা অনুশীলন করার নীতিগুলির অভাব থাকে, এর কারণ তাদের হৃদয় ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত নয়। ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকার উদ্দেশ্য হল আন্তরিক ও বাস্তববাদী হওয়া, ঈশ্বরের বাক্যে সঠিকতা এবং স্বচ্ছতার অনুসন্ধান করা, এবং শেষে সত্যকে বোঝা এবং ঈশ্বরকে জানা।

যদি তোমাদের হৃদয় প্রায়শই ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত না থাকে তবে ঈশ্বর কোনও ভাবেই তোমাকে ত্রুটিমুক্ত করে নিখুঁত করবেন না। সংকল্পহীন হওয়া মানে হৃদয় না থাকার সমতুল্য এবং হৃদয়হীন ব্যক্তি ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে পারে না; এই ধরণের ব্যক্তি জানেনা ঈশ্বর কতটা কাজ করেন, অথবা কতটা কথা বলেন, এমনকি এটাও জানেনা কীভাবে অনুশীলন করতে হয়। এ কি হৃদয়হীন মানুষ নয়? হৃদয়হীন ব্যক্তি কি ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে পারে? ঈশ্বর হৃদয়হীন ব্যক্তিকে ত্রুটিমুক্ত করে নিখুঁত করেন না-তারা ভারবাহী পশুদের থেকে আলাদা নয়। ঈশ্বর এতো স্পষ্ট এবং স্বচ্ছভাবে কথা বলেছেন, তথাপি তোমার হৃদয় অবিচল রয়েছে এবং তুমি ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে অক্ষম। তুমি কি বোবা-কালা? কিছু লোক ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকার অনুশীলনে বিপথগামী হয়। যখন রান্না করার সময় হয় তখন তারা রান্না করে না, যখন দৈনন্দিন কাজ করার সময় তখন তারা সেগুলি করে না, কিন্তু কেবল প্রার্থনা এবং ধ্যান করতে থাকে। ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকা মানে এই নয় যে রান্না বা কাজ না করা, অথবা নিজের জীবনযাপন না করা; বরং, সকল স্বাভাবিক অবস্থায় ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে হবে, এবং নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরকে স্থান দিতে হবে। যখন তুমি প্রার্থনা করো, তখন প্রার্থনা করার জন্য তোমার ঈশ্বরের সামনে সঠিকভাবে নতজানু হওয়া উচিৎ; যখন কাজ করো বা খাবার তৈরি করো, তখন ঈশ্বরের কাছে তোমার হৃদয়কে প্রশান্ত রাখো, তখন ঈশ্বরের কথা চিন্তা করো, বা স্তোত্র গাও। তুমি তখন যে পরিস্থিতিতেই থাকনা কেন তোমার নিজস্ব উপায়ে অনুশীলন করো, ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য তুমি যা করতে পারো তাই করো, এবং ঈশ্বরের সামনে তোমার হৃদয়কে প্রশান্ত রাখার জন্য তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করো। অনুকূল পরিস্থিতিতে একমনে প্রার্থনা করো; যখন পরিস্থিতি প্রতিকূল হবে, তখন হাতের কাজটি করার সময়েই তোমার হৃদয় ঈশ্বরের নিকটবর্তী নিয়ে যাও। যখন তুমি ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করতে পারবে, তখন তাঁর বাক্য ভোজন ও পান করবে, যখন তুমি প্রার্থনা করতে পারবে তখন তুমি প্রার্থনা করবে; যখন তুমি ঈশ্বরের ধ্যান করতে পারবে, তখন তাঁর ধ্যান করবে। অন্য কথায়, তোমার পরিবেশ অনুযায়ী প্রথম পদক্ষেপের জন্য নিজেকে প্রশিক্ষিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করো। কিছু মানুষ ঈশ্বরের সামনে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত থাকতে পারে, কিন্তু কিছু ঘটলেই তাদের মন বিপথে যায়। এটা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকা নয়। এটি অনুভব করার সঠিক অবস্থা হল: যখন যেকোনো পরিস্থিতিতে একজনের হৃদয় ঈশ্বরের থেকে দূরে সরে যায় না, অথবা বাইরের মানুষ, ঘটনা অথবা জিনিস মনকে বিচ্যুত করে না, শুধুমাত্র তখনই একজন ব্যক্তি ঈশ্বরের সামনে সত্যিই প্রশান্ত থাকে। কিছু লোক বলে যে, যখন তারা সমাবেশে প্রার্থনা করে, তখন তাদের হৃদয় ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে পারে, কিন্তু অন্যদের সংসর্গে তারা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকতে অক্ষম এবং তাদের চিন্তা নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এটা ঈশ্বরের সামনে প্রশান্ত থাকা নয়। বর্তমানে, বেশীরভাগ লোক এই অবস্থায় রয়েছে, তাদের হৃদয় ঈশ্বরের সামনে সর্বদা প্রশান্ত থাকতে অক্ষম। তাই, তোমাদের এই ক্ষেত্রে অনুশীলন করার জন্য আরও বেশী চেষ্টা করতে হবে, ধাপে ধাপে, জীবনের অভিজ্ঞতার সঠিক পথে প্রবেশ করতে হবে, এবং ঈশ্বর দ্বারা পরিপূর্ণ হওয়ার পথে যাত্রা করতে হবে।

পূর্ববর্তী: যারা ঈশ্বরের বাক্যের বাস্তবতার মধ্যে প্রবেশ করেছে শুধু সেইসব মানুষেরই স্বভাব পরিবর্তিত হয়েছে

পরবর্তী: নিখুঁত হওয়ার জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পর্কে সচেতন হও

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

ঈশ্বরের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

যে পথে মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, সেই পথটি হল নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম শক্তিকে স্থান দিয়ে তাঁর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন