ঈশ্বরকে জানার পথ হল তাঁর কাজের তিনটি পর্যায় জানা

মানবজাতিকে পরিচালনার কাজটি তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত, অর্থাৎ মানবজাতিকে উদ্ধার করার কাজের তিনটি পর্যায় রয়েছে। এই তিনটি পর্যায়ে বিশ্ব সৃষ্টির কাজ অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এগুলি হ'ল বিধানের যুগ, অনুগ্রহের যুগ এবং রাজ্যের যুগের কাজের তিনটি পর্যায়। পৃথিবী সৃষ্টির কাজ ছিল সমগ্র মানব জাতিকে সৃষ্টি করার কাজ। এটি মানবজাতিকে উদ্ধার করার কাজ ছিল না এবং মানবজাতিকে উদ্ধার করার কাজের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই, কারণ যখন পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছিল, তখন মানব জাতি শয়তানের দ্বারা কলুষিত হয়নি, এবং তাই মানবজাতির পরিত্রাণের কাজটি সম্পাদন করার প্রয়োজন ছিল না। মানবজাতিকে উদ্ধার করার কাজটি তখনই শুরু হয়েছিল যখন মানবজাতি শয়তানের দ্বারা কলুষিত হয়েছিল এবং তাই মানবজাতিকে পরিচালনার কাজটিও তখনই শুরু হয়েছিল যখন মানবজাতি কলুষিত হয়েছিল। অন্যভাবে বলতে গেলে, মানুষের জন্য ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা শুরু হয়েছিল মানবজাতিকে উদ্ধার করার কাজের ফল হিসাবে, তা বিশ্বসৃষ্টির কাজ থেকে উদ্ভূত হয়নি। মানবজাতি কলুষিত স্বভাব অর্জন করার পরেই পরিচালনামূলক কার্যের সূচনা ঘটে এবং তাই মানবজাতিকে পরিচালনার কাজে চারটি পর্যায়ের বা চারটি যুগের পরিবর্তে তিনটি অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করার এ-ই হল সঠিক উপায়। যখন চূড়ান্ত যুগের অন্ত হবে, তখন মানবজাতিকে পরিচালনা করার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে। পরিচালনামূলক কার্যের সমাপ্তির অর্থ হল সমস্ত মানব জাতিকে উদ্ধার করার কাজ সম্পূর্ণ রূপে সমাপ্ত হবে এবং এই পর্যায়টি মানবজাতির জন্য শেষ হবে। সমগ্র মানবজাতিকে উদ্ধারের কাজ ব্যতীত, মানবজাতিকে পরিচালনার কাজ থাকবে না, কাজের তিনটি পর্যায়ও থাকবে না। ঠিক মানবজাতির অধঃপতনের কারণেই, এবং মানবজাতির পরিত্রাণের এত জরুরি প্রয়োজন ছিল বলেই, যিহোবা বিশ্ব সৃষ্টির কাজ সমাপ্ত করেছিলেন এবং বিধানের যুগের কাজ শুরু করেছিলেন। কেবলমাত্র তারপরই মানবজাতিকে পরিচালনার কাজ শুরু হয়েছিল, অর্থাৎ তখনই মানবজাতিকে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছিল। “মানবজাতিকে পরিচালনা করা”-র অর্থ পৃথিবীতে নতুন সৃষ্ট মানবজাতির(অর্থাৎ, এমন এক মানবজাতি যা এখনও কলুষিত হয়নি) জীবন পরিচালনা করা নয়। বরং এর অর্থ হল শয়তান দ্বারা কলুষিত মানবজাতির পরিত্রাণ, অর্থাৎ, এই কলুষিত মানবজাতির রূপান্তর ঘটানো। এই হল “মানবজাতিকে পরিচালনা” করার অর্থ। মানবজাতিকে উদ্ধার করার কাজে বিশ্ব-সৃষ্টির কাজ অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং তাই মানবজাতিকে পরিচালনা করার কাজেও বিশ্বসৃষ্টির কাজ অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তাতে কেবলমাত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তিনটি পর্যায়ের কাজ যা বিশ্ব-সৃষ্টির থেকে পৃথক। মানবজাতিকে পরিচালনা করার কাজটি উপলব্ধি করার জন্য, কাজের তিনটি পর্যায়ের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন — উদ্ধার পাওয়ার জন্য সেই বিষয়ে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। ঈশ্বরের জীব হিসাবে, তোমাকে বুঝতে হবে যে মানুষ ঈশ্বরের দ্বারা সৃষ্ট হয়েছিল, এবং তোমার উচিত মানবজাতির অনাচারের উত্সটি, এবং তদ্ব্যতীত, মানুষের পরিত্রাণের প্রক্রিয়াকে চিনতে হবে। যদি তোমরা শুধুমাত্র ঈশ্বরের অনুগ্রহলাভের উদ্দেশ্যেই কীভাবে মতবাদ অনুযায়ী কাজ করতে হয় তাই জানো, অথচ ঈশ্বর কীভাবে মানবজাতিকে উদ্ধার করেন বা মানবজাতির অনাচারের উত্স সম্পর্কে যদি তোমার কোনো ধারণা না থাকে, তাহলে ঈশ্বরের জীব হিসাবে তোমার ঠিক এটারই অভাবই রয়েছে। ঈশ্বরের পরিচালনামূলক কার্যের বিস্তৃত পরিধি সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে, যে সত্যগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করা যেতে পারে কেবলমাত্র সেগুলি উপলব্ধি করেই তোমার সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয় — যদি তেমনটা হয়, তাহলে তুমি অত্যন্ত গোঁড়া। কাজের তিনটি পর্যায়ই হল ঈশ্বরের দ্বারা মানুষের ব্যবস্থাপনার অন্তর্নিহিত কাহিনী, সমগ্র বিশ্বের সুসমাচারের আবির্ভাব, সমস্ত মানবজাতির মধ্যে বৃহত্তম রহস্য, এবং সেগুলি সুসমাচার প্রসারের ভিত্তিও বটে। যদি তুমি শুধুমাত্র তোমার জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সরল সত্যগুলি উপলব্ধি করার দিকেই মনোনিবেশ কর, এবং এর, অর্থাৎ যাবতীয় রহস্য এবং দর্শনের মধ্যে যা সর্বশ্রেষ্ঠ তার কিছুই না জানো তাহলে কি তোমার জীবন একটি ত্রুটিপূর্ণ পণ্য-সামগ্রীর অনুরূপ নয়, যার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করা যায় না?

মানুষ যদি কেবল অনুশীলনে মনোনিবেশ করে, এবং ঈশ্বরের কাজ এবং মানুষের যা জানা উচিত তাকে গৌণ বলে দেখে, তাহলে এটি কি তার ক্ষেত্রে বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো নয়? যা তোমার জ্ঞাতব্য, তা তোমায় অবশ্যই জানতে হবে; যা তোমার অনুশীলন করা দরকার, তা তোমায় অবশ্যই অনুশীলন করতে হবে। তাহলেই তুমি এমন একজন হয়ে উঠবে যে সত্যের অনুসরণ করতে জানে। যখন তোমার সুসমাচার প্রচার করার দিনটি আসবে, তখন যদি তুমি বলতে পারো যেঈশ্বর একজন মহান এবং ন্যায়পরায়ণ ঈশ্বর, তিনিই সর্বোত্তম ঈশ্বর, এমন একজন ঈশ্বর যার সঙ্গে কোনো মহান মানুষই তুলনীয় হতে পারে না, এবং তিনি এমন এক ঈশ্বর যাঁর উর্ধ্বে কেউই নেই..., যদি তুমি শুধু এই অপ্রাসঙ্গিক এবং অগভীর কথাগুলো বলতে পারো, অথচ যে শব্দগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যার সারসত্য আছে সেগুলি বলতে সম্পূর্ণরূপে অক্ষম হও; যদি ঈশ্বরকে জানা বা ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে তোমার বলার কিছুই না থাকে, উপরন্তু, সত্যের ব্যাখ্যা করতে না পারো, বা মানুষের মধ্যে যার অভাব রয়েছে তা সরবরাহ করতে না পারো তাহলে তোমার মতো কেউই তাদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে অক্ষম। ঈশ্বরের সাক্ষ্য দেওয়া এবং রাজ্যের সুসমাচার প্রসার কোনো সহজ বিষয় নয়। তোমাকে প্রথমে সত্য এবং যে দর্শনগুলি অবশ্যই অনুধাবন করা উচিত সেগুলির দ্বারা সজ্জিত হতে হবে। যখন তুমি ঈশ্বরের কাজের দর্শনসমূহ এবং তার বিভিন্ন দিকের সত্য সম্পর্কে স্পষ্ট হও এবং তুমি তোমার অন্তরে ঈশ্বরের কাজ উপলব্ধি করতে পারো, এবং ঈশ্বর যা করেন — তা ন্যায়পরায়ণ বিচারই হোক বা মানুষের পরিমার্জনা — সেইসব নির্বিশেষে তুমি যখন তোমার বুনিয়াদ হিসাবে সর্বশ্রেষ্ঠ দর্শনের অধিকারী হয়ে ওঠ, এবং তুমি অনুশীলন করার জন্য সঠিক সত্যের অধিকারী হও, তখনই তুমি শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরকে অনুসরণ করতে সক্ষম হবে। তোমাকে অবশ্যই জানতে হবে যে, তিনি যে কাজই করুন না কেন, ঈশ্বরের কাজের লক্ষ্য পরিবর্তিত হয় না, তাঁর কাজের মূলগত পরিবর্তন হয় না, এবং মানুষের প্রতি তাঁর ইচ্ছার পরিবর্তন হয় না। তাঁর বাক্য যতই কঠোর হোক না কেন, পরিবেশ যতই প্রতিকূল হোক না কেন, তাঁর কাজের নীতির পরিবর্তন হবে না এবং তাঁর মানুষকে উদ্ধার করার অভিপ্রায়ও বদলাবে না। যেহেতু তা মানুষের সমাপ্তি প্রকাশের, অথবা মানুষের গন্তব্য প্রকাশের কাজ নয়, এবং তা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ নয় বা ঈশ্বরের সামগ্রিক পরিচালনামূলক পরিকল্পনাকে শেষ করার কাজ নয়, এবং যেহেতু এটা তাঁর মানুষের উপর কাজ করার সময়, সেহেতু তাঁর কাজের অন্তঃকরণটির পরিবর্তন হবে না। তা সর্বদাই হবে মানবজাতির পরিত্রাণ এটাই হওয়া উচিত তোমার ঈশ্বরে বিশ্বাসের ভিত্তি। কাজের তিনটি পর্যায়ের লক্ষ্য হল সমগ্র মানবজাতির পরিত্রাণ—এর অর্থ হল শয়তানের রাজত্ব থেকে মানুষের সম্পূর্ণ পরিত্রাণ। যদিও কাজের তিনটি পর্যায়ের প্রতিটির আলাদা উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য রয়েছে, তবে প্রতিটিই হল মানবজাতিকে উদ্ধার করার কাজের অংশ, এবং প্রতিটিই মানবজাতির প্রয়োজনীয়তা অনুসারে পরিচালিত পরিত্রাণের কাজ। একবার তুমি কাজের এই তিনটি পর্যায়ের লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত হয়ে গেলে, তুমি কাজের প্রতিটি পর্যায়ের তাৎপর্যকে কীভাবে কদর করতে হয় সে সম্পর্কেও সচেতন হবে, এবং ঈশ্বরের আকাঙ্ক্ষাপরি তৃপ্ত করার উদ্দেশ্যে কীভাবে কাজ করতে হবে তা বুঝতে পারবে। তুমি যদি এই সন্ধিক্ষণে পৌঁছাতে পার, তবে সর্বশ্রেষ্ঠ এই দর্শন ঈশ্বরে তোমার বিশ্বাসের ভিত্তি হয়ে উঠবে। তোমার কেবলমাত্র অনুশীলনের সহজ উপায় বা গভীর সত্যের সন্ধান করাই উচিত নয়, বরং অনুশীলনের সঙ্গে দর্শনগুলির মেলবন্ধন ঘটানো উচিত, যাতে বাস্তবে প্রয়োগ করা যায় এমন সত্য এবং দর্শন-ভিত্তিক জ্ঞান উভয়ই থাকে। শুধুমাত্র তখনই তুমি এমন একজন হয়ে উঠবে যে সর্বতোভাবে সত্যের অনুসরণ করে।

কাজের তিনটি পর্যায় ঈশ্বরের সমগ্র ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে, এবং সেগুলির মধ্যে ঈশ্বরের স্বভাব এবং তিনি যা, তা প্রকাশিত হয়।যারা ঈশ্বরের কাজের তিনটি পর্যায় সম্পর্কে জানে না, তারা ঈশ্বর কীভাবে তাঁর স্বভাব প্রকাশ করেন তা বুঝতে অক্ষম, আবার তারা ঈশ্বরের কার্যের প্রজ্ঞা সম্পর্কেও অবগত নয়। এমনকি তাঁর মানবজাতিকে উদ্ধার করার বহুবিধ উপায়, এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য তাঁর ইচ্ছাসম্পর্কেও তারা অবগত নয়। কাজের তিনটি পর্যায় হল মানবজাতিকে উদ্ধারের কাজের পূর্ণপ্রকাশ। যারা কার্যের তিনটি পর্যায় জানে না তারা পবিত্র আত্মার কার্যের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং নীতিগুলি সম্পর্কেও অজ্ঞ থাকবে, এবং যারা শুধুমাত্র কাজের একটি নির্দিষ্ট পর্যায় থেকে অবশিষ্ট রয়ে যাওয়া মতবাদে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে, তারাই হল সেইসব মানুষ যারা ঈশ্বরকে মতবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে, এবং যাদের ঈশ্বর-বিশ্বাস অস্পষ্ট এবং অনিশ্চিত। এইধরনের মানুষেরা কখনই ঈশ্বরের পরিত্রাণ লাভ করবে না। কেবলমাত্র ঈশ্বরের কাজের তিনটি পর্যায়ই ঈশ্বরের স্বভাবের সম্পূর্ণতাকে, এবং সমগ্র মানবজাতিকে উদ্ধার করার অভিপ্রায়কে পূর্ণত অভিব্যক্ত করতে পারে, এবং মানবজাতির পরিত্রাণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারে। এই হল প্রমাণ যে তিনি শয়তানকে পরাজিত করেছেন এবং মানবজাতিকে লাভ করেছেন; এ হল ঈশ্বরের জয়ের প্রমাণ, এবং ঈশ্বরের সম্পূর্ণ স্বভাবের প্রকাশ। যারা ঈশ্বরের কাজের তিনটি পর্যায়ের মধ্যে মাত্র একটির বিষয়েই উপলব্ধি করে, তারা ঈশ্বরের স্বভাবের একটিমাত্র অংশকেই জানে। মানুষের পূর্বধারণায়, কাজের এই একক পর্যায়ের উপলব্ধি সহজেই মতবাদ হয়ে ওঠে, এবং মানুষের ঈশ্বর বিষয়ক নির্দিষ্ট নিয়ম প্রতিষ্ঠা করার এবং ঈশ্বরের স্বভাবের এই একক অংশটিকেই ঈশ্বরের সম্পূর্ণ স্বভাবের উপস্থাপনা হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা দেখা দেয়। অধিকন্তু, মানুষের কল্পনার বহুলাংশ এর মধ্যে এমনভাবে মিশ্রিত হয়, যে মানুষ কঠোর ভাবে ঈশ্বরের স্বভাব, সত্তা এবংপ্রজ্ঞাকে, তদসহযোগে ঈশ্বরের কাজের নীতিগুলিকে সীমিত সীমারেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখে, বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর যদি একবার এমন হতে পারেন, তাহলে তিনি সর্বকালের জন্য একই রকম থাকবেন এবং কখনও বদলাবেন না। কাজের তিনটি পর্যায়কে যারা জানে এবং কদর করে তারাই ঈশ্বরকে সম্পূর্ণ ও সঠিক ভাবে জানতে পারে। অন্ততপক্ষে, তারা ঈশ্বরকে ইসরায়েলীয় বা ইহুদিদের ঈশ্বর হিসাবে সংজ্ঞায়িত করবে না, এবং তাঁকে এমন একজন ঈশ্বর হিসাবে দেখবে না যিনি মানুষের খাতিরে চিরকালের জন্য ক্রুশে পেরেকবিদ্ধ হয়ে থাকবেন। যদি কেউ ঈশ্বরকে তাঁর কাজের একটি পর্যায় থেকে জানতে পারে, তবে তার জ্ঞান অত্যন্ত কম, যার পরিমাণ সমুদ্রের এক বিন্দু জলের বেশি নয়। তা না হলে কেন প্রভূত সংখ্যক ধর্মীয় পুরাতন রক্ষক ঈশ্বরকে জীবন্ত ক্রুশবিদ্ধ করে ফেলবে? এর কারণ কি এই নয় যে মানুষ ঈশ্বরকে নির্দিষ্ট মাপকাঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখে? অনেক মানুষই কি এই কারণে ঈশ্বরের বিরোধিতা করে না, এবং পবিত্র আত্মার কাজকে এই কারণে বাধা দেয় না, যে, তারা ঈশ্বরের বিবিধ এবং বৈচিত্র্যময় কার্য সম্পর্কে অবগত নয়, এবং উপরন্তু, এই কারণে কি নয় যে পবিত্র আত্মার কাজ পরিমাপ করার পক্ষে তাদের জ্ঞান ও মতবাদের পরিমাণ নিতান্তই যৎসামান্য? এই ধরনের মানুষদের অভিজ্ঞতা অগভীর হওয়া সত্ত্বেও তারা অহংকারী এবং অসংযত প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং তারা পবিত্র আত্মার কাজকে অবজ্ঞার সঙ্গে বিবেচনা করে, পবিত্র আত্মার অনুশাসন উপেক্ষা করে এবং, তদুপরি, পবিত্র আত্মার কাজকে “নিশ্চিত” করার জন্য তাদের তুচ্ছ পুরাতন যুক্তিসকল প্রয়োগ করে। তারা ভানও করে চলে, এবং নিজেদের শিক্ষা এবং পাণ্ডিত্যের বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাসী হয়, এবং তারা নিঃসন্দিহান যে তারা বিশ্বময় পরিভ্রমণে সক্ষম। এরাই কি সেইধরণের মানুষ নয় যাদের পবিত্র আত্মা ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করেছেন, এবং তারা কি নতুন যুগের দ্বারা বহিষ্কৃত হবে না? যারা ঈশ্বরের সামনে এসে প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধিতা করে তারা কি অজ্ঞানতাপূর্ণ এবং স্বল্প-অবগত ঘৃণ্য মানুষ নয়, যারা শুধুমাত্র দেখানোর চেষ্টা করছে যে তারা কতটা চমৎকার? বাইবেলের সামান্য জ্ঞান সহ তারা বিশ্বের “শিক্ষিত সমাজে” তর্জন-গর্জন চালানোর চেষ্টা করে; মানুষকে শিক্ষাদানের জন্য কোনো অগভীর মত বাদ সহকারেই, তারা পবিত্র আত্মার কাজকে সম্পূর্ণ উলটে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং চেষ্টা করে যাতে তা তাদের নিজস্ব চিন্তা-প্রক্রিয়ার চতুর্দিকে আবর্তিত হয়। অদূরদর্শী হওয়ায়, তারা ঈশ্বরের ৬,০০০ বছরের কাজকে এক পলকে দেখে ফেলার চেষ্টা করে। এই ব্যক্তিগণের, কোনো উল্লেখযোগ্য বোধশক্তি নেই! প্রকৃতপক্ষে, ঈশ্বর সম্বন্ধে মানুষের যত বেশি জ্ঞান থাকবে, ততই তারা তাঁর কাজের বিচার করতে ধীর হবে। উপরন্তু, তারা আজ ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সম্পর্কে সামান্য কথা বলে, কিন্তু তারা বেপরোয়া ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। মানুষ ঈশ্বর সম্পর্কে যত কম জানে, তারা তত বেশি অহংকারী এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়, এবং তারা তত বেশি যদৃচ্ছ ঈশ্বরের অস্তিত্বের ঘোষণা দেয়—তবুও তারা কেবল তত্ত্ব কথাই বলে, কোন বাস্তব প্রমাণ দর্শায় না। এমন মানুষের কোনো মূল্য নেই। যারা পবিত্র আত্মার কাজকে একটি খেলা হিসাবে দেখে তারা অসার! যারা পবিত্র আত্মার নতুন কাজের মুখোমুখি হওয়ার সময় সতর্ক হয় না, যারা প্রগলভ, যারা দ্রুত বিচার করে, যারা পবিত্র আত্মার কাজের সত্যতা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের স্বভাবকে লাগাম বিহীন ভাবে চালনা করে, এবং যারা তার অপমান করে এবং নিন্দা করে—এই ধরনের শ্রদ্ধাহীন মানুষেরা কি পবিত্র আত্মার কাজ সম্পর্কে অজ্ঞ নয়? উপরন্তু, তারা কি অত্যন্ত অহংকারী, সহজাতভাবেই গর্বিত এবং শাসনের অসাধ্য নয়? এমনকি যদি এমন দিনও আসে যখন এই ধরনের মানুষেরা পবিত্র আত্মার নতুন কাজকে গ্রহণ করে, তবুও ঈশ্বর তাদের সহ্য করবেন না। যারা ঈশ্বরের জন্য কাজ করে তাদের যে তারা কেবল অবজ্ঞা করে তা-ই নয়, বরং তারা স্বয়ং ঈশ্বরের বিরুদ্ধেও অশ্রদ্ধার সঙ্গে কথা বলে। এইধরনের বেপরোয়া মানুষদের ক্ষমা করা হবে না, এই যুগেই হোক বা আগামী যুগে, এবং তারা চিরতরে নরকে ধ্বংস হবে! এই ধরনের শ্রদ্ধাহীন, অসংযত মানুষেরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করার ভান করে এবং মানুষ যত বেশি এই রকম হয়ে ওঠে, ততই বেশি করে তারা ঈশ্বরের প্রশাসনিক ফরমান সমূহকে ক্ষুব্ধ করায় দায়ী হয়। সেইসমস্ত অহংকারী যারা স্বভাবসিদ্ধ ভাবে অসংযত, এবং যারা কখনও কাউকে মানেনি, তারা সকলেই কি এই পথের পথিক নয়? তারা কি দিনের পর দিন বিরোধিতা করে না সেই ঈশ্বরের, যিনি সর্বদা নতুন এবং কখনও পুরাতন নন? আজ, তোমাদের বুঝতে হবে যে কেন তোমাদের ঈশ্বরের কাজের তিনটি স্তরের গুরুত্ব জানতে হবে। আমি যে বাক্যগুলি বলি তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, নিছক শূন্যগর্ভ বুলি নয়। ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটে চলার পথে ফুলের প্রশংসা করার মতো করে যদি তোমরা সেগুলো পড়, তাহলে কি আমার সমস্ত পরিশ্রম বৃথা যাবে না? তোমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত থাকা উচিত। তোমাদের অধিকাংশই তর্ক-বিতর্কে দক্ষ; তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর তোমরা খুব সহজেই দিয়ে দাও, কিন্তু সারসত্য জড়িত থাকা প্রশ্নগুলিতে তোমাদের বলার কিছু নেই। এমনকি আজও, তোমরা এখনও তুচ্ছ কথোপকথনে লিপ্ত হও, তোমরা তোমাদের পুরাতন স্বভাব পরিবর্তন করতে অক্ষম, এবং তোমাদের অধিকাংশই উচ্চতর সত্য অর্জনের জন্য তোমরা যে পথ অনুসরণ কর, তা পরিবর্তনের কোন ইচ্ছাই রাখ না, তার পরিবর্তে কেবলই উদ্যমহীন জীবন যাপন কর। এই ধরনের মানুষেরা কীভাবে অন্তিম অবধি ঈশ্বরকে অনুসরণ করতে সক্ষম হয়? তুমি যদি কোনক্রমে পথের শেষপর্যন্ত পৌঁছাতেও পার, তাহলেও তাতে তোমাদের কী উপকার হবে? অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই নিজের ধারণাগুলি পরিবর্তন করে নেওয়াটা শ্রেয়, হয় প্রকৃত পক্ষেই অন্বেষণ কর, নয়তো তাড়াতাড়ি সরে এসো। সময়ের সঙ্গেসঙ্গে তুমি অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকা এক পরজীবী হয়ে উঠবে—তোমরা কি এমন এক হীন এবং অবজ্ঞা জনক ভূমিকা পালন করতে ইচ্ছুক?

কাজের তিনটি পর্যায় হল ঈশ্বরের সমগ্র কাজের দলিল; সেগুলি হল ঈশ্বরের মানবজাতিকে পরিত্রাণের একটি দলিল, এবং সেগুলি কাল্পনিক নয়। তোমরা যদি সত্যিই ঈশ্বরের সম্পূর্ণ স্বভাব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে চাও, তাহলে তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের দ্বারা সম্পাদিত কাজের তিনটি পর্যায় সম্পর্কে জানতে হবে, এবং, অধিকন্তু, এর কোনো পর্যায়কেই বাদ দিলে চলবে না। যারা ঈশ্বরকে জানতে চায় তাদের অন্ততপক্ষে এই অর্জনটুকু অবশ্যই করতে হবে। মানুষ নিজে-নিজেই ঈশ্বরের প্রকৃত জ্ঞান নির্মাণ করতে পারে না। তা এমন কিছু নয় যা মানুষ নিজে কল্পনা করতে পারে, বা তা কোনো ব্যক্তি বিশেষের প্রতি পবিত্র আত্মার বিশেষ অনুগ্রহের পরিণতি নয়। বরং, এ হল এমন এক জ্ঞান যা মানুষ ঈশ্বরের কাজকে অনুভব করার পরে আসে, এবং এ হল ঈশ্বরজ্ঞান, যা ঈশ্বরের কাজের বাস্তবিক অভিজ্ঞতা লাভ করার পরেই আসে। এই ধরনের জ্ঞান সহজে অর্জন করা যায় না, এবং তা এমন কিছু নয় যা শেখানো যেতে পারে। তা পূর্ণতই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ঈশ্বরের দ্বারা মানবজাতির পরিত্রাণই রয়েছে কাজের এই তিনটি পর্যায়ের মূলে, তবুও পরিত্রাণের কাজের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে কাজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি এবং বিভিন্ন উপায় যার মাধ্যমে ঈশ্বরের স্বভাব প্রকাশিত হয়। এটিই মানুষের পক্ষে সনাক্ত করা সবচেয়ে কঠিন এবং এটিই মানুষের পক্ষে উপলব্ধি করা কঠিন। যুগের ব্যবধান, ঈশ্বরের কাজের মধ্যে পরিবর্তন, কাজের অবস্থানের পরিবর্তন, এই কাজের গ্রহীতার মধ্যে পরিবর্তন, ইত্যাদি — এই সবই কাজের তিনটি পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে, পবিত্র আত্মার কাজ করার পদ্ধতিতে পার্থক্য, সেই সঙ্গে ঈশ্বরের স্বভাব, প্রতিমূর্তি, নাম, পরিচয়, বা অন্যান্য পরিবর্তন সমূহ, সকলই কাজের তিনটি পর্যায়েরই অংশ। কাজের একটি পর্যায় শুধুমাত্র একটি অংশেরই প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, এবং তা একটি নির্দিষ্ট পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে। তা যুগের ব্যবধান, বা ঈশ্বরের কাজের মধ্যে পরিবর্তনের সঙ্গেই জড়িত নয়, অন্যান্য দিক গুলির সাথে তো আরোই নয়। এ হল সংশয়াতিতভাবেই সুস্পষ্ট এক সত্য। কাজের তিনটি পর্যায়ই হল মানবজাতিকে উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের সামগ্রিক কাজ। মানুষকে অবশ্যই ঈশ্বরের কাজ এবং পরিত্রাণের কাজের মধ্যে ঈশ্বরের স্বভাব জানতে হবে; এই সত্য ব্যতীত, ঈশ্বর সম্বন্ধে তোমার জ্ঞান ফাঁপা শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়, গালভরা বক্তৃতার বেশি কিছু নয়। এই ধরনের জ্ঞান মানুষকে স্থিতপ্রত্যয়ী করতে বা জয় করতে পারে না; তা বাস্তবতার সাথে বিরোধপূর্ণ, এবং তা সত্য নয়। তা অপরিমিত বা শ্রুতিমধুর হতে পারে, কিন্তু তা যদি ঈশ্বরের সহজাত স্বভাবের বিরোধী হয়, তাহলে ঈশ্বর তোমায় রেহাই দেবেন না। তিনি যে কেবল তোমার জ্ঞানের প্রশংসা করবেন না তাই নয়, তাঁর সম্পর্কে চরম নিন্দা করা একজন পাপী হিসাবে তার প্রতিফলও তুমি তাঁর থেকে পাবে। ঈশ্বর জ্ঞানের বাক্যগুলি লঘুভাবে বলা হয় না। তুমি বাকপটু এবং সুমিষ্টভাষী হলেও, এবং তোমার চতুর কথাবার্তা দিয়ে তুমি সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা বলে তর্ক করতে পারলেও, ঈশ্বর জ্ঞানের বিষয়ে কথা বলা তোমার ক্ষমতার বাইরে। ঈশ্বর এমন কেউ নন যাঁকে তুমি আচম্বিতে বা উদ্দেশ্যহীনভাবে প্রশংসা করতে পারো, আবার অনুদ্বিগ্নমনে অবমাননা করতে পার। তুমি এর-ওর প্রশংসা কর, তবু ঈশ্বরের পরম অনুগ্রহের বর্ণনা করার জন্য তোমায় সঠিক শব্দগুলি খুঁজে নিতে বেগ পেতে হয় — এমনটা সকল হতভাগ্য ব্যক্তিই উপলব্ধি করতে পারে। এমন অনেক ভাষাবিদ রয়েছে যারা ঈশ্বরকে বর্ণনা করতে সক্ষম, কিন্তু তারা যা বর্ণনা করে তার যথার্থতা ঈশ্বরের মানুষ — যারা শুধুমাত্র একটি সীমিত শব্দভাণ্ডারের অধিকারী, যাদের কাছে সেগুলি ব্যবহারের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে — তাদের দ্বারা কথিত সত্যের একশভাগের এক ভাগও যথার্থ নয়। সুতরাং, এমন দেখা যায় যে, ঈশ্বরজ্ঞান যথাযথতা এবং বাস্তবিকতার মধ্যে নিহিত, শব্দের চতুর ব্যবহার বা সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডারের মধ্যে নয়, এবং মানুষের জ্ঞান এবং ঈশ্বরের জ্ঞানের মধ্যে কোনরকম সম্পর্ক নেই। ঈশ্বরকে জানার শিক্ষা মানবজাতির যেকোনো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের চেয়ে উচ্চতর। এ হল এমন এক শিক্ষা যা কেবলমাত্র ঈশ্বরজ্ঞানের অন্বেষী মুষ্টিমেয় ব্যক্তিগণই অর্জন করতে পারে, যেকোনো প্রতিভাবান ব্যক্তিই যে তা অর্জন করতে পারে, এমন নয়। সুতরাং, তোমরা ঈশ্বরজ্ঞান এবং সত্যের অন্বেষণকে এমন ভাবে যেন ভুলেও দেখো না যে এগুলি শিশুসাধ্য বিষয়। সম্ভবত তুমি তোমার পারিবারিক জীবন, বা তোমার কর্মজীবন, বা তোমার বিবাহের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রূপে সফল হয়েছ, কিন্তু যখন সত্য এবং ঈশ্বর জ্ঞান-শিক্ষার প্রসঙ্গ আসে, তখন তোমার আর নিজের জন্য দেখানোর মতো কিছুই থাকে না এবং তুমি কিছুই অর্জন করনি। বলা যেতে পারে যে সত্যের পালন তোমাদের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর, এবং ঈশ্বরজ্ঞান আহরণ হল বৃহত্তর সমস্যা। এই হল তোমাদের অসুবিধা, এবং এই হল সেই সমস্যা যার সম্মুখীন সমগ্র মানবজাতি। ঈশ্বরকে জানার কারণে যারা কিছু অর্জন করেছে, তাদের মধ্যে এমন প্রায় কেউই নেই যারা পর্যাপ্ত গুণমাণের অধিকারী। মানুষ জানে না ঈশ্বরকে জানার অর্থ কী, বা কেন ঈশ্বরকে জানা প্রয়োজন, বা ঈশ্বরজ্ঞান আহরণের উদ্দেশ্যে একজনকে কী উপাধি অর্জন করতে হবে। মানবজাতির কাছে এই বিষয়টিই বড় বিভ্রান্তিকর, এবং তা মানবজাতির সামনে আসা সবচেয়ে বড় ধাঁধা — কেউ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম নয়, এবং কেউই এই প্রশ্নের উত্তর দিতেও ইচ্ছুক নয়, কারণ, আজ পর্যন্ত, মানবজাতির মধ্যে কেউই এই কাজের অধ্যয়নে কোনো সফলতা পায়নি। সম্ভবত, যখন কাজের তিনটি পর্যায়ের ধাঁধা মানবজাতিকে জানানো হবে, তখন পরপর একদল প্রতিভাবান মানুষ আসবে যারা ঈশ্বরকে জানে। অবশ্যই, আমি আশা করি এমনটিই হবে, অধিকন্তু, আমি এই কাজটি সম্পাদন করে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি, এবং আমি আশা করি যে অদূরভবিষ্যতে এরকম আরও প্রতিভাবান মানুষের উপস্থিতি দেখতে পাব। তারাই হবে সেই সমস্ত মানুষ যারা কাজের এই তিনটি পর্যায়ের অস্তিত্বের বিষয়ে সাক্ষ্য দেবে এবং অবশ্যই, তারাই হবে প্রথম যারা কাজের এই তিনটি পর্যায়ের সাক্ষ্য দেবে। কিন্তু ঈশ্বরের কাজ সমাপ্ত হওয়ার দিনে যদি এই ধরনের প্রতিভাবান ব্যক্তিদের আবির্ভাব না হয়, বা যদি এহেন দুয়েকজনই থাকে যারা ব্যক্তিগত ভাবে ঈশ্বরের অবতারের দ্বারা নিখুঁত হয়ে ওঠাকে গ্রহণ করেছে, তাহলে তার চেয়ে দুঃখজনক এবং শোচনীয় আর কিছুই হবে না। যাইহোক, এমনটা হবে শুধু সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেই। ঘটনা যাই হোক না কেন, আমি এখনও আশা করি যে, যারা প্রকৃত অর্থে অন্বেষণ করে তারা এই আশীর্বাদ লাভ করতে পারবে। সময়ের সূচনাকাল থেকে, এর আগে কখনও এমন কাজ হয়নি; মানব উন্নয়নের ইতিহাসে এমন উদ্যোগ আর কখনও ঘটেনি। তুমি যদি প্রকৃত অর্থে তাদের মধ্যে একজন হতে পার যারা সবার প্রথমে ঈশ্বরকে চেনে, তাহলে তা কি সমস্ত জীবের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মান হবে না? মানবজাতির মধ্যে কোন জীব কি ঈশ্বরের দ্বারা এর অধিক প্রশংসিত হতে পারে? এই ধরনের কাজ সহজসাধ্য নয়, কিন্তু শেষপর্যন্ত এর পুরষ্কারও মিলবে। লিঙ্গ বা জাতীয়তা নির্বিশেষে, যে সকল ব্যক্তি ঈশ্বরের জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম, তারাই শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান লাভ করবে, এবং একমাত্র তারাই ঈশ্বরের কর্তৃত্বের অধিকারী হবে। এ হল আজকের কাজ, ভবিষ্যতেরও কাজ; এ হল ৬,০০০ বছরের কাজের মধ্যে সম্পন্ন করা শেষ এবং সর্বোচ্চ কাজ, এবং এ হল কাজের এমন একটি উপায় যা প্রতিটি শ্রেণীর মানুষকে প্রকাশিত করে। মানুষকে ঈশ্বরকে জানাবার কাজের মাধ্যমে, মানুষের বিভিন্ন পদমর্যাদা প্রকাশিত হয়: যারা ঈশ্বরকে জানে তারা ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়ার এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করার যোগ্য, এবং যারা ঈশ্বরকে জানে না তারা ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়ার এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করার যোগ্য নয়। যারা ঈশ্বরকে জানে তারা ঈশ্বরের অন্তরঙ্গ এবং যারা ঈশ্বরকে জানে না তাদের ঈশ্বর-ঘনিষ্ঠ বলা যায় না; ঈশ্বর-ঘনিষ্ঠরা ঈশ্বরের যেকোনো আশীর্বাদ লাভ করতে পারে, কিন্তু যারা তাঁর অন্তরঙ্গ নয়, তারা তাঁর কোনো কাজেরই যোগ্য নয়। তা কঠোর যন্ত্রণা, পরিমার্জনা, বা বিচার যাই হোক না কেন, এই সমস্ত কিছুর উদ্দেশ্য হল মানুষকে শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের জ্ঞান অর্জন করার অনুমতি দেওয়া, এবং যাতে মানুষ ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে তা সুনিশ্চিত করা। এ-ই একমাত্র প্রভাব যা শেষপর্যন্ত অর্জিত হবে। কাজের তিনটি পর্যায়ে কোনো কিছুই প্রচ্ছন্ন নেই, এবং তা মানুষের ঈশ্বর-জ্ঞানের পক্ষে কার্যকর, এবং মানুষকে আরও সম্পূর্ণ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ ঈশ্বর-জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। এই সব কাজ মানুষের পক্ষে হিতকর।

স্বয়ং ঈশ্বরের কাজ হল সেই দর্শন যা মানুষের আবশ্যিক ভাবে জ্ঞাতব্য, কারণ ঈশ্বরের কাজ মানুষের দ্বারা অর্জন করা যায় না, এবং তা মানুষের আয়ত্তাধীন নয়। কাজের তিনটি পর্যায় হল ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণতা, এবং এর চেয়ে বড় কোন দর্শন নেই যা মানুষের জানা উচিত। মানুষ যদি এই মহৎ দর্শন সম্পর্কে অবগত না হয়, তাহলে ঈশ্বরকে জানা সহজ নয়, ঈশ্বরের ইচ্ছা উপলব্ধি করা সহজ নয়, উপরন্তু, মানুষ যে পথে হাঁটবে তা-ও ক্রমশ কঠিনতর হয়ে উঠবে। দর্শন না থাকলে, মানুষ এতদূর আসতে পারত না। এ হল সেই দর্শন যা আজ অবধি মানুষকে সুরক্ষিত রেখেছে, এবং যা মানুষকে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দিয়েছে। ভবিষ্যতে, তোমাদের জ্ঞানকে অবশ্যই গভীর হতে হবে, এবং তোমায় অবশ্যই তাঁর ইচ্ছার সামগ্রিকতা এবং কাজের তিনটি পর্যায়ে তাঁর প্রাজ্ঞ কার্যের সারসত্য উপলব্ধি করতে হবে। এ-ই হল তোমাদের প্রকৃত আধ্যাত্মিক মর্যাদা। কার্যের চূড়ান্ত পর্যায়টি একক ভাবে থাকতে পারে না, তা পূর্ববর্তী দুটি পর্যায়ের সঙ্গে একত্রে সংগঠিত সামগ্রিকতার একটি অংশ, অর্থাৎ তিনটি পর্যায়ের কাজের মধ্যে মাত্র একটিকে সম্পাদন করে পরিত্রাণের সামগ্রিক কাজটি সম্পন্ন করা অসম্ভব। যদিও কাজের চূড়ান্ত পর্যায়টির মাধ্যমে মানুষকে সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করা সম্ভব হয়, এর অর্থ এই নয় যে একক ভাবে নিছকই এই পর্যায়টি পরিচালনা করাই প্রয়োজন, আর মানুষকে শয়তানের প্রভাব থেকে উদ্ধার করতে কাজের দুটি পূর্ববর্তী পর্যায়ের প্রয়োজন নেই। তিনটি পর্যায়ের কোনো একটিকে একক ভাবে মানুষের একমাত্র আবশ্যিক ভাবে জ্ঞাতব্য দর্শন হিসাবে ধরে রাখা যায় না, কারণ পরিত্রাণের কাজ হল সামগ্রিকভাবে কাজের তিনটি পর্যায়, সেগুলির মধ্যে কোন একটি মাত্র পর্যায় নয়। যতদিন না পরিত্রাণের কাজ সম্পন্ন হবে, ততদিন ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে সমাপ্ত হতে পারবে না। ঈশ্বরের সত্তা, তাঁর স্বভাব, এবং তাঁর প্রজ্ঞা সম্পূর্ণরূপে পরিত্রাণের কাজের মধ্যে প্রকাশিত হয়; এগুলি মানুষের কাছে প্রথমদিকে প্রকাশিত হয়নি, বরং পরিত্রাণের কাজের মধ্যে দিয়ে ধীরে-ধীরে প্রকাশিত হয়েছে। পরিত্রাণের কাজের প্রতিটি পর্যায় ঈশ্বরের স্বভাব এবং তাঁর সত্তাকে আংশিক প্রকাশ করে; কাজের কোন একটি পর্যায় সরাসরি এবং সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের সত্ত্বাকে প্রকাশ করতে পারে না। এইভাবে, পরিত্রাণের কার্যটি কেবলমাত্র তখনই সম্পূর্ণরূপে সমাপ্ত হতে পারে যখন কাজের তিনটি পর্যায় সম্পূর্ণ হয়, এবং তাই ঈশ্বরের সম্পূর্ণতা সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ঈশ্বরের কার্যের তিনটি পর্যায়ের থেকে অবিচ্ছেদ্য। কাজের একটি পর্যায় থেকে মানুষ যা লাভ করে তা হল ঈশ্বরের সেই স্বভাব যা তাঁর কাজের একটি অংশের দ্বারা প্রকাশিত। তা সেই স্বভাব এবং সত্তাকে উপস্থাপন করতে পারে না যা আগে বা পরের পর্যায়গুলিতে প্রকাশ করা হয়। এর কারণ হল মানবজাতিকে উদ্ধার করার কাজটি কোন একটি সময়ে বা একটি জায়গায় সরাসরি শেষ করা যায় না, বরং বিভিন্ন কালে এবং স্থানে মানুষের বিকাশের স্তর অনুসারে ধীরে-ধীরে গভীরতর হয়। এ হল এমন এক কাজ যা পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হয়, এবং তা কোনো একক পর্যায়ে সম্পন্ন হয় না। সুতরাং, ঈশ্বরের সমগ্র জ্ঞান একটি পৃথক পর্যায়ের পরিবর্তে তিনটি পর্যায়ে সুস্পষ্ট করা হয়। তাঁর সমগ্র সত্তা এবং তাঁর সমস্ত জ্ঞান এই তিনটি পর্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে, এবং প্রতিটি পর্যায়ই তাঁর সত্তাকে ধারণ করে, এবং প্রতিটি পর্যায় হল তাঁর কাজের প্রজ্ঞার দলিল। এই তিনটি পর্যায়ে প্রকাশিত ঈশ্বরের সম্পূর্ণ স্বভাব মানুষের জানা উচিত। ঈশ্বরের এই সমস্ত সত্তা সকল মানবজাতির পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং ঈশ্বরের উপাসনা করাকালীন যদি মানুষের এই জ্ঞান না থাকে, তাহলে তারা বুদ্ধের উপাসকদের থেকে পৃথক নয়। মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের কাজ মানুষের কাছ থেকে লুকানো থাকে না, এবং যারা ঈশ্বরের উপাসনা করে তাদের সকলেরই তা জানা উচিত। যেহেতু ঈশ্বর মানুষের মধ্যে পরিত্রাণের কাজের তিনটি পর্যায় সম্পাদন করেছেন, তাই এই তিনটি পর্যায়ে কাজের সময় তাঁর যা আছে এবং তিনি যা, তার প্রকাশ মানুষের জানা উচিত। এটাই হল সেই কাজ যা মানুষের অবশ্যই করা উচিত। ঈশ্বর মানুষের কাছ থেকে তা লুকিয়ে রাখেন যা মানুষ অর্জন করতে অক্ষম, এবং যা মানুষের জানা উচিত নয়, অন্যদিকে,ঈশ্বর মানুষকে তা-ই দেখান যা মানুষের জানা উচিত এবং যা মানুষের থাকা উচিত। কাজের তিনটি পর্যায়ের প্রতিটি পূর্ববর্তী পর্যায়ের ভিত্তির উপর সম্পাদিতহয়; এটি পরিত্রাণের কাজ থেকে আলাদা করে স্বতন্ত্র ভাবে করা হয় না। যদিও যুগের ভিতর এবং যে কাজ সম্পাদিত হয় তার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে, তবুও এর মূলে রয়েছে মানবজাতির পরিত্রাণ, এবং পরিত্রাণের কাজের প্রতিটি পর্যায় আগেরটির চেয়ে গভীরতর হয়। কাজের প্রতিটি পর্যায় চালিত হয় তার আগের পর্যায়ের ভিত্তি থেকে, যে ভিত্তি বিলুপ্ত হয় না। এই ভাবে, ঈশ্বর তাঁর কাজ —যা সর্বদাই নতুন এবং কখনও পুরোনো হয় না — সেই কাজের মাধ্যমে ক্রমাগত তাঁর স্বভাবের এমন সকল দিক প্রকাশ করে চলেছেন যা আগে কখনও মানুষের কাছে প্রকাশ করা হয়নি, এবং সর্বদা মানুষের কাছে তাঁর নতুন কাজ এবং তাঁর নতুন সত্তা প্রকাশ করে চলেছেন, এবং ধর্মের পুরাতন প্রহরীগণ তা প্রতিহত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে চললেও, এবং প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করলেও, ঈশ্বর সর্বদা সেই নতুন কার্য সম্পাদন করেন যা তিনি করতে চান। তার কাজ সর্বদা পরিবর্তনশীল, এবং সেই কারণে, তা সর্বদা মানুষের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। তাই, তাঁর স্বভাবও সর্বদা পরিবর্তনশীল, এবং তাঁর কাজের যুগ এবং তার প্রাপকও পরিবর্তিত হয়। তদুপরি, তিনি সর্বদা এমন কিছু করেন যা আগে কখনও করা হয়নি, এমনকি এমন কাজ করছেন যা মানুষের কাছে আগে যা করা হয়েছে তার তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত ও পরস্পর বিরোধী বলে মনে হয়। মানুষ শুধুমাত্র এক ধরনের কাজ, বা অনুশীলনের একটি মাত্র পদ্ধতিকেই গ্রহণ করতে সক্ষম, এবং মানুষের পক্ষে এমন কাজ বা অভ্যাসের পদ্ধতিগুলি গ্রহণ করা কঠিন, যা কমবেশি তাদের বিপরীত। কিন্তু পবিত্র আত্মা সর্বদা নতুন কাজ করছেন, এবং তাই ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের একের পর এক গোষ্ঠী আবির্ভূত হয় যারা ঈশ্বরের নতুন কাজের বিরোধিতা করে। এই মানুষগুলি বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে ঠিক এই কারণেই যে, ঈশ্বর কীভাবে চির-নবীন থাকেন এবং কখনই পুরাতন হন না — মানুষ সেই বিষয়ে সম্পূর্ণই জ্ঞানহীন, এবং সে ঈশ্বরের কার্যের নীতিগুলি সম্পর্কেও সম্পূর্ণ জ্ঞানহীন, উপরন্তু, সে ঈশ্বরের দ্বারা, মানুষকে উদ্ধার করার বহুবিধ উপায় সম্পর্কেও জ্ঞানহীন। এইভাবে, মানুষ সম্পূর্ণরূপে বলতে অক্ষম যে এই কার্য পবিত্র আত্মা থেকেই আগত কিনা, এবং তা স্বয়ং ঈশ্বরেরই কার্য কিনা। অনেক মানুষই এমন একটি মনোভাবকে আঁকড়ে ধরে যেখানে, যদি পূর্বে আগত বাক্যের সঙ্গে কিছু মিলে যায় তবে তারা তা গ্রহণ করে, এবং যদি বর্তমান কাজের সাথে পূর্বের কাজের কোনো পার্থক্য থাকে, তবে তারা তার বিরোধিতা করে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে। তোমরা সবাই কি আজ এই নীতিই অনুসরণ কর না? পরিত্রাণের কাজের তিনটি পর্যায় তোমাদের উপর খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি, এবং এমন কিছু কিছু মানুষও আছে যারা বিশ্বাস করে যে কাজের পূর্বের দুটি পর্যায়ের মধ্যে একটি আদতে অতিরিক্ত ভারমাত্র, যা তাদের জানার কোনোই প্রয়োজননেই। তারা মনে করে যে এই পর্যায় গুলি জনগণের কাছে ঘোষণা করাই উচিত নয় এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এগুলি প্রত্যাহার করা উচিত, যাতে মানুষজন তিনটি পর্যায়ের কাজের মধ্যে আগের দুটি পর্যায়ের বিষয়ে অভিভূত না হয়ে পড়ে। বেশিরভাগই বিশ্বাস করে যে কাজের শেষ দুটি পর্যায় জানা অনেক দূরের ব্যাপার, এবং ঈশ্বরকে জানার ক্ষেত্রে সেগুলি কোন রকম সহায়তা করে না — তোমরা ঠিক এমনটাই মনে কর। আজ, তোমরা সবাই বিশ্বাস কর যে এভাবেই কাজ করাটা ঠিক, কিন্তু এমনদিন আসবে যখন তোমরা আমার কাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করবে: জেনে রাখ যে, আমি এমন কোন কাজ করি না যার কোন গুরুত্ব নেই। যেহেতু আমি তোমাদের কাজের তিনটি পর্যায়ের ঘোষণা করছি, তাই সেগুলি তোমাদের উপকারে আসবে; যেহেতু কাজের এই তিনটি পর্যায় ঈশ্বরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দু, তাই সেগুলির ও সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া উচিত। একদিন তোমরা সবাই এই কাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবে। জেনে রাখ যে তোমরা ঈশ্বরের কাজের বিরোধিতা কর, অথবা আজকের কাজের পরিমাপ করার জন্য তোমাদের নিজস্ব ধারণার ব্যবহার কর, কারণ তোমরা ঈশ্বরের কাজের নীতিগুলি জান না, এবং কারণ তোমরা পবিত্র আত্মার কাজ সম্পর্কে হঠকারী আচরণ কর। ঈশ্বরের প্রতি তোমাদের বিরোধিতা এবং পবিত্র আত্মার কাজে বাধা দেওয়ার কারণ হল তোমাদের বিশ্বাস এবং স্বভাবগত ঔদ্ধত্য। এর কারণ এই নয় যে ঈশ্বরের কাজ ভুল, বরং এর কারণ হল এই, যে, তোমরা স্বভাবতই অত্যন্ত অবাধ্য। ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস অর্জনের পরেও, কিছু কিছু মানুষ নিশ্চিত ভাবে এটুকুও বলতে পারে না যে মানুষ কোথা থেকে এসেছে, তবুও তারা পবিত্র আত্মার কাজের ঠিক-ভুলের মূল্যায়ন করে জনসমক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার স্পর্ধা দেখায়। তারা এমনকি সেই প্রেরিতদের কাছেও বক্তৃতা দেয় যাদের পবিত্র আত্মার নতুন কাজ রয়েছে, তাদের কাছে গিয়ে মন্তব্য করে এবং অযাচিতভাবে কথা বলে; তাদের মনুষ্যত্ব অত্যন্ত কম, এবং তাদের বিন্দুমাত্র বিবেকবোধ নেই। এমন দিন কি আসবে না যখন, এই ধরনের মানুষদের পবিত্র আত্মার কাজ দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং নরকের আগুনে দগ্ধ করা হবে? তারা ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে অবগত নয়, অথচ তাঁর কাজের সমালোচনা করে, এবং ঈশ্বরকে কীভাবে কাজ করতে হয় তা নির্দেশ করার চেষ্টা করে। এমন মূর্খ মানুষ কীভাবে ঈশ্বরকে চিনবে? মানুষ ঈশ্বরকে অন্বেষণ ও অভিজ্ঞতা লাভের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জানতে পারে; মানুষ যে পবিত্র আত্মার দ্বারা আলোকপ্রাপ্তির মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানতে পারে, তা যদৃচ্ছ সমালোচনার মাধ্যমে হয় না। ঈশ্বর সম্বন্ধে মানুষের যত বেশি সঠিক জ্ঞান থাকে, ততই কম তারা তাঁর বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, ঈশ্বর সম্পর্কে মানুষ যত কম জানে, তার বিরোধিতা করার সম্ভাবনাও ততই বেশি। তোমার বিশ্বাস, তোমার পুরানো স্বভাব, এবং তোমার মনুষ্যত্ব, চরিত্র এবং নৈতিক মনোভাবই হল সেই মূলধন যা দিয়ে তুমি ঈশ্বরের বিরোধিতা কর, এবং তোমার নৈতিকতা যত বেশি কলুষিত হবে, তোমার গুণাবলীও ততই খারাপ হবে, এবং তোমার মনুষ্যত্বও তত হীন হবে, এবং ততই তুমি ঈশ্বরের শত্রু হয়ে উঠবে। যারা দৃঢ় ধারণাসমূহ দ্বারা আচ্ছন্ন, এবং যারা নিজেদের নৈতিকতার বিষয়ে উদ্ধত, তারা ঈশ্বর অবতারের প্রতি আরও বেশি বিরূপ; এই ধরনের লোকেরা হল খ্রীষ্টবিরোধী। যদি তোমার ধারণাগুলি সংশোধন করা না হয়, তাহলে সেগুলি সর্বদাই ঈশ্বরের বিরোধিতা করবে; তুমি কখনই ঈশ্বরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে না এবং সর্বদাই তাঁর থেকে দূরে থাকবে।

শুধুমাত্র তোমার পুরাতন ধারণাগুলিকে একপাশে সরিয়ে রেখেই তুমি নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পার, তবে পুরাতন জ্ঞান যে পুরাতন ধারণাগুলির সমতুল্য হবেই তা নয়। “ধারণাগুলি” বলতে মানুষের দ্বারা কল্পনা করা জিনিসগুলিকে বোঝায় যা বাস্তবতার সাথে বিরোধপূর্ণ। যদি পুরাতন জ্ঞান আগে থেকেই অপ্রচলিত হয়ে যায় এবং মানুষকে নতুন কাজে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে, তবে এজাতীয় জ্ঞানও একটি ধারণা মাত্রই। মানুষ যদি এই ধরনের জ্ঞানের প্রতি সঠিক পন্থা অবলম্বন করতে সক্ষম হয় এবং পুরাতন এবং নূতনের সমন্বয়ে বিভিন্ন দিক থেকে ঈশ্বরকে জানতে পারে, তবে পুরাতন জ্ঞান মানুষের জন্য সহায়ক হয়ে ওঠে, এবং মানুষের নূতন যুগে প্রবেশের ভিত্তি হয়ে ওঠে। ঈশ্বরকে জানার শিক্ষা লাভের জন্য তোমায় অনেক নীতি আয়ত্ত করতে হবে: কীভাবে ঈশ্বরকে জানার পথে প্রবেশ করতে হবে, ঈশ্বরকে জানার জন্য তোমাকে কোন সত্যগুলি বুঝতে হবে, এবং ঈশ্বরের নতুন কাজের সমস্ত ব্যবস্থার কাছে সমর্পণ করার লক্ষ্যে কীভাবে তোমার ধারণা এবং পুরাতন স্বভাবগুলি থেকে মুক্তি পাবে। তুমি যদি এই নীতিগুলিকে ঈশ্বরকে জানার পাঠে প্রবেশের ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার কর, তাহলে তোমার জ্ঞান গভীর থেকে গভীরতর হবে। কাজের তিনটি পর্যায় সম্পর্কে যদি তোমার একটি স্পষ্ট জ্ঞান থাকে — অর্থাৎ, ঈশ্বরের সামগ্রিক পরিচালনামূলক পরিকল্পনা সম্পর্কে — এবং তুমি যদি ঈশ্বরের কাজের পূর্ববর্তী দুটি পর্যায়কে বর্তমান পর্যায়ের সাথে পুরোপুরি সম্পর্ক যুক্ত করতে পার এবং দেখ যে এটি এক ঈশ্বরের দ্বারা কৃতকার্য, তাহলে তোমার ভিত হবে অতুলনীয় রকমের মজবুত। কাজের তিনটি পর্যায় এক ঈশ্বর দ্বারা সম্পন্ন করা হয়েছিল; এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টি, এবং এটিই ঈশ্বরকে জানার একমাত্র পথ। কাজের তিনটি পর্যায় শুধুমাত্র ঈশ্বর নিজেই করতে পারতেন, এবং কোন মানুষই তাঁর হয়ে এই ধরনের কাজ করতে পারে না — অর্থাৎ একমাত্র স্বয়ং ঈশ্বরই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত নিজের কাজ করতে পারতেন। যদিও ঈশ্বরের কাজের তিনটি পর্যায় বিভিন্ন যুগে এবং অবস্থানে সম্পাদিত হয়েছে, এবং যদিও প্রতিটির কাজ আলাদা, তা সত্ত্বেও এ সমস্তই এক ঈশ্বরের কার্য। সমস্ত দর্শনের মধ্যে, এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ দর্শন যা মানুষের জানা উচিত, এবং তা যদি মানুষ সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারে তাহলে সে অবিচল থাকতে সক্ষম হবে। আজ, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল যে তারা পবিত্র আত্মার কার্য সম্পর্কে অবগত নয় এবং পবিত্র আত্মার কার্য এবং পবিত্র আত্মার নয় এমন কাজের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম — এই কারণে তারা কাজের পূর্বের দুটি পর্যায়ের মতো, কাজের এই পর্যায়টিও যিহোবা ঈশ্বরের দ্বারাই কৃত কিনা, তা বলতে পারে না। মানুষ যদিও ঈশ্বরের অনুসরণ করে, তবুও তাদের অধিকাংশই বলতে পারে না যে সেটাই সঠিক পথ কিনা। মানুষ উদ্বিগ্ন হয় এই ভেবে যে, এই পথটি ব্যক্তিগত ভাবে ঈশ্বরের দ্বারা পরিচালিত হয় কিনা, এবং ঈশ্বরের অবতাররূপ-ধারণ বাস্তবিক কিনা এবং বেশির ভাগ মানুষেরই এখনও এই ধরনের বিষয়গুলি কীভাবে উপলব্ধি করা যায় সে সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। যারা ঈশ্বরকে অনুসরণ করে তারা পথনির্ধারণ করতে অক্ষম, এবং তাই যে বার্তাগুলি উচ্চারিত হয় তা এই মানুষ গুলির মধ্যে শুধুমাত্র আংশিক প্রভাব ফেলে, সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হতে সেগুলি অক্ষম, আর তাই তা এইধরনের মানুষের জীবনে প্রবেশকে প্রভাবিত করে। মানুষ যদি কাজের তিনটি পর্যায়ে দেখতে পায় যে সেগুলি স্বয়ং ঈশ্বরের দ্বারা বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন মানুষের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে; মানুষ যদি দেখতে পায় যে কাজগুলি ভিন্ন হলেও, তা সকলই এক ঈশ্বরের দ্বারা কৃত, এবং যেহেতু তা এক ঈশ্বরের দ্বারা সম্পন্ন করা হয়েছে, তাহলে তা অবশ্যই সঠিক এবং ত্রুটিমুক্ত হবে, এবং যদিও তা মানুষের ধারণার সাথে বিরোধপূর্ণ, তবুও এমন অস্বীকার্য যে, তা এক ঈশ্বরের কাজ — যদি মানুষ নিশ্চিত ভাবে বলতে পারে যে তা এক ঈশ্বরের কাজ, তাহলে মানুষের ধারণাগুলি নিতান্তই তুচ্ছ, উল্লেখের অযোগ্য হয়ে উঠবে। যেহেতু মানুষের দৃষ্টি অস্পষ্ট, এবং যেহেতু মানুষ কেবল যিহোবাকে ঈশ্বর এবং যীশুকে প্রভু হিসাবে জানে এবং আজকের ঈশ্বরের অবতার সম্পর্কে দ্বিধার মধ্যে রয়েছে, তাই অনেক মানুষই যিহোবা এবং যীশুর কাজের প্রতি নিবেদিত থাকে, এবং তারা বর্তমানের কার্য সম্পর্কে পূর্বধারণার দ্বারা আচ্ছন্ন থাকে, বেশিরভাগ মানুষই সর্বদা সংশয়াপন্ন, এবং বর্তমান কার্যকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে না। কার্যের পূর্বের দুই পর্যায়, যা ছিল অদৃশ্য, সেগুলি সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণা নেই। কারণ মানুষ কাজের পূর্বের দুই পর্যায়ের বাস্তবতা বুঝতে পারে না এবং ব্যক্তিগত ভাবে সেগুলি প্রত্যক্ষ করেনি। যেহেতু কাজের এই পর্যায়গুলি দেখা যায় না, সেহেতু মানুষ তার পছন্দ মতো কল্পনা করে নেয়; তার যাই মনে হোক না কেন, এই ধরনের কল্পনা প্রমাণ করার জন্য কোন তথ্য নেই, এবং সেগুলি সংশোধন করারও কেউ নেই। মানুষ তার স্বভাবকে লাগাম-ছাড়া করে দেয়, সতর্কতার পরোয়া করে না, এবং তার কল্পনাকে মুক্ত করে দেয়; তার কল্পনা যাচাই করার জন্য কোন তথ্য নেই, এবং তাই মানুষের কল্পনাগুলি “সত্য” হয়ে যায়, তাদের কাছে কোন প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক। এইভাবে মানুষ তার নিজের কল্পিত ঈশ্বরকে মনেমনে বিশ্বাস করে, বাস্তব ঈশ্বরের অন্বেষণ করে না। যদি এক ব্যক্তির মধ্যে একধরনের বিশ্বাস থাকে, তাহলে একশত মানুষের মধ্যে একশত ধরনের বিশ্বাস থাকবে। মানুষ এই ধরনের বিশ্বাসের অধিকারী হয় কারণ সে ঈশ্বরের কার্যের বাস্তবতা দেখেনি, কারণ সে কেবল কানেই তা শুনেছে, চোখে দেখেনি। মানুষ কিংবদন্তি এবং কাহিনী শ্রবণ করেছে — কিন্তু ঈশ্বরের কার্য-বিষয়ক তথ্যসমূহের জ্ঞান সে শ্রবণ করেছে খুবই কম। তাই যারা শুধুমাত্র এক বছর ধরে বিশ্বাসী হয়েছে তারাও তাদের নিজস্ব ধারণার মাধ্যমে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে। একই কথা আবার তাদের ক্ষেত্রেও সত্য যারা সারা জীবন ধরে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এসেছে। যারা সত্যকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, তারা কখনই এমন বিশ্বাস থেকে সরে যেতে পারবে না যেখানে তাদের ঈশ্বর সম্পর্কে পূর্বধারণা রয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করে যে সে তার পুরানো ধারণার বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পেরেছে, এবং নতুন পরিসরে প্রবেশ করেছে। মানুষ কি জানে না যে, যারা ঈশ্বরের প্রকৃত রূপ প্রত্যক্ষ করতে পারে না, তাদের জ্ঞান কল্পনা ও জনশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই নয়? মানুষ মনে করে যে তার ধারণাগুলি সঠিক এবং ত্রুটিহীন, এবং সে মনে করে যে এইধারণাগুলি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে। আজ, মানুষ যখন ঈশ্বরের কার্য প্রত্যক্ষ করে, তখন সে বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা ধারণাগুলোকে অবাধে প্রকাশ করে। অতীতের কল্পনা ও ধারণা এই পর্যায়ের কার্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং মানুষের পক্ষে এই ধরনের ধারণা পরিত্যাগ করা এবং এই ধরনের ধারণাগুলিকে খণ্ডন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যারা আজ অবধি ঈশ্বরকে অনুসরণ করেছে তাদের অনেকের এই পর্যায়ক্রমে সংঘটিত কাজের প্রতি ধারণাগুলি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে এবং এই মানুষগুলি ধীরে ধীরে ঈশ্বরের অবতারের সাথে দৃঢ় শত্রুতা তৈরি করেছে। এই বিদ্বেষের উৎস মানুষের পূর্বধারণা ও কল্পনার মধ্যে নিহিত।মানুষের পূর্বধারণা ও কল্পনা আজকের কার্যের শত্রু হয়ে উঠেছে, যে কার্য মানুষের পূর্বধারণার সাথে বিরোধপূর্ণ। এমনটা যে ঘটেছে, তার কারণ হল বাস্তব মানুষকে লাগাম-ছাড়া কল্পনা করতে দেয় না, এবং উপরন্তু, মানুষ সেগুলিকে সহজেই খণ্ডন করতে পারে না, এবং মানুষের ধারণা এবং কল্পনাগুলি সত্যের অস্তিত্বকে সহ্য করে না, এবং এছাড়াও, কারণ মানুষ বাস্তবের যথার্থতা এবং সত্যতা সম্পর্কে চিন্তা করে না এবং কেবলমাত্র অনন্যমনা হয়ে তার ধারণাগুলিকে প্রকাশ করে এবং নিজের কল্পনাকে কাজে লাগায়। এটিকে শুধুমাত্র মানুষের ধারণার ত্রুটি বলা যেতে পারে, একে ঈশ্বরের কাজের ত্রুটি বলা যাবে না। মানুষ যদৃচ্ছ কল্পনা করতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের কার্যের কোনো পর্যায় বা তার কোনো অংশ নিয়ে সে অবাধে বিতর্ক করতে পারে না; ঈশ্বরের কাজের বাস্তবতা মানুষের দ্বারা অলঙ্ঘনীয়। তুমি তোমার কল্পনাকে লাগাম-ছাড়া করতে পার, এবং এমনকি যিহোবা এবং যীশুর কাজ সম্পর্কে চমৎকার কাহিনীগুলি সংকলনও করতে পার, কিন্তু তুমি যিহোবা এবং যীশুর কাজের প্রতিটি পর্যায়ের সত্যতাকে খণ্ডন করতে পারবে না; এ হল এক নীতি, এবং এ একটি প্রশাসনিক ফরমানও, এবং তোমাদের এই বিষয়গুলির গুরুত্ব উপলব্ধি করা উচিত। মানুষ বিশ্বাস করে যে কাজের এই পর্যায়টি মানুষের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এবং কাজের দুটি পূর্ববর্তী পর্যায়ের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এরকম নয়। তার কল্পনায়, মানুষ বিশ্বাস করে যে আগের দুটি পর্যায়ের কাজ অবশ্যই আজকের কার্যের মতো নয় — কিন্তু তুমি কি কখনও ভেবে দেখেছ, যে, ঈশ্বরের কাজের নীতিগুলি সকলই অভিন্ন, তাঁর কাজ সর্বদাই ব্যবহারিক, এবং যুগ নির্বিশেষে, সর্বদাই তাঁর কাজের বাস্তবতার প্রতিরোধ এবং বিরোধিতা করার মত প্রচুর মানুষ থাকবে? যারা আজ এই পর্যায়ের কাজের বিরোধিতা ও বিরুদ্ধাচরণ করছে, তারা নিঃসন্দেহে অতীতেও ঈশ্বরের বিরোধিতা করেছে, কারণ এই ধরনের মানুষেরা সর্বদাই ঈশ্বরের শত্রু হবে। যারা ঈশ্বরের কাজের বাস্তবতা জানে, তারা কাজের তিনটি পর্যায়কে এক ঈশ্বরের কাজ হিসাবে দেখবে, এবং তাদের পূর্বধারণাগুলি পরিত্যাগ করবে। এরা হল এমন মানুষ যারা ঈশ্বরকে চেনে, এবং এই ধরনের মানুষেরা সত্যই ঈশ্বরকে অনুসরণ করে। ঈশ্বরের সমগ্র ব্যবস্থাপনা যখন সমাপ্তির নিকটবর্তী হবে, তখন প্রকার অনুসারে ঈশ্বর সমস্ত কিছু শ্রেণীবদ্ধ করবেন। মানুষ সৃষ্টিকর্তার হাতে তৈরি হয়েছিল, এবং শেষপর্যন্ত তাঁর মানুষকে সম্পূর্ণরূপে স্বীয় কর্তৃত্বের অধীনে ফিরিয়ে আনতে হবে; এটি কাজের তিনটি পর্যায়ের উপসংহার। অন্তিম সময়ের কার্যের পর্যায়, এবং ইসরায়েল এবং যিহুদীয়াতে সংঘটিত আগের দুটি পর্যায় হল ঈশ্বরের সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা। এমনটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না, এবং এ হল ঈশ্বরের কাজের সত্যতা। যদিও মানুষ এই কাজের অনেকটারই অভিজ্ঞতা নেই বা তা প্রত্যক্ষ করেনি, তবুও ঘটনাগুলি সত্যই, এবং কোনও মানুষই তা অস্বীকার করতে পারবে না। ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি ভূমিতে যারা ঈশ্বরে বিশ্বাসী তারা সকলেই কাজের তিনটি পর্যায়কে স্বীকার করবে। তুমি যদি কাজের একটি নির্দিষ্ট পর্যায় সম্পর্কে অবগত থাক, এবং কাজের অন্য দুটি পর্যায়কে উপলব্ধি করতে না পার, অতীতে ঈশ্বরের কাজকে বুঝতে না পার, তাহলে তুমি ঈশ্বরের সামগ্রিক পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সম্পূর্ণ সত্য কথনে অক্ষম, এবং তোমার ঈশ্বর বিষয়ক জ্ঞান এক তরফা, কারণ তোমার ঈশ্বর বিশ্বাসে তুমি তাঁকে জান না বা উপলব্ধি কর না, এবং তাই তুমি ঈশ্বরের সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত নও। এই বিষয়গুলি সম্পর্কে তোমার বর্তমান জ্ঞান গভীর বা ভাসাভাসা যাই হোক না কেন, শেষপর্যন্ত, তোমাদের অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে, এবং অবশ্যই পূর্ণত স্থিতপ্রত্যয়ী হতে হবে, এবং সমস্ত মানুষ ঈশ্বরের কাজের সম্পূর্ণতা প্রত্যক্ষ করতে পারবে এবং ঈশ্বরের আধিপত্যের অধীনে সমর্পণ করবে। এই কাজের শেষে, সমস্ত ধর্ম এক হয়ে যাবে, সকল জীব সৃষ্টিকর্তার আধিপত্যে ফিরে আসবে, সমস্ত জীব একমাত্র সত্য ঈশ্বরের উপাসনা করবে, এবং সমস্ত মন্দ ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যেগুলির আর কখনও আবির্ভাব ঘটবে না।

কেন ক্রমাগত কাজের এই তিনটি পর্যায়ের উল্লেখ? যুগের বিবর্তন, সামাজিক বিকাশ, এবং প্রকৃতির পরিবর্তন সবই কাজের তিনটি পর্যায়ের মধ্যের পরিবর্তনকে অনুসরণ করে। মানবজাতি ঈশ্বরের কাজ সহ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, এবং নিজে থেকে বিকাশিত হয় না। ঈশ্বরের কাজের তিনটি পর্যায় সমস্ত জীবকে এবং প্রতিটি ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সকল মানুষকে এক ঈশ্বরের আধিপত্যের অধীনে আনার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। তুমি যে ধর্মেরই হওনা কেন, শেষপর্যন্ত তোমরা সকলেই ঈশ্বরের আধিপত্যের অধীনে আত্মসমর্পণ করবে। একমাত্র ঈশ্বর নিজেই এই কাজ সম্পাদন করতে পারেন; এটা কোনো ধর্মীয় প্রধান দ্বারা করা যাবে না। পৃথিবীতে বেশ কয়েকটি প্রধান ধর্ম রয়েছে এবং প্রত্যেকের নিজস্ব প্রধান বা নেতা রয়েছে, এবং ধর্মের অনুসারীরা সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে; প্রায় প্রতিটি দেশ, তাবড় হোক বা ছোট, তার মধ্যেই বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে। তবে, বিশ্বজুড়ে যত ধর্মই থাকুক না কেন, মহাবিশ্বের সমস্ত মানুষ শেষপর্যন্ত এক ঈশ্বরের নির্দেশনায় বিদ্যমান, এবং তাদের অস্তিত্ব ধর্মীয় প্রধান বা নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হয় না। এর অর্থ হল যে, মানবজাতি কোন বিশেষ ধর্মীয় প্রধান বা নেতা দ্বারা পরিচালিত হয় না; বরং, সমগ্র মানব জাতির নেতৃত্ব দান করেন সৃষ্টিকর্তা, যিনি আকাশ, পৃথিবী এবং সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন মানবজাতিকেও—এটি একটি সত্য। যদিও বিশ্বে বেশ কয়েকটি প্রধান ধর্ম রয়েছে, সেগুলি যতই মহান হোক না কেন, সেগুলি সবই স্রষ্টার আধিপত্যের অধীনে বিদ্যমান এবং সেগুলির কোনোটিই এই আধিপত্যের পরিধি অতিক্রম করতে পারে না। মানবজাতির বিকাশ, সমাজের প্রতিস্থাপন, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিকাশ — প্রতিটিই সৃষ্টিকর্তার ব্যবস্থা থেকে অবিচ্ছেদ্য, এবং এই কাজ এমন কাজ নয় যা কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রধান দ্বারা করা যায়। একজন ধর্মীয় প্রধান শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধর্মের নেতা, এবং তারা ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না, বা তারা আকাশ ও পৃথিবী এবং সমস্ত কিছুর অদ্বিতীয় সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। একজন ধর্মীয় প্রধান তার ধর্মের অন্তর্গত সকলকে নেতৃত্ব দিতে পারে, কিন্তু সে স্বর্গের নীচে বাস করা সকল জীবকে আদেশ করতে পারে না — এটি একটি সর্বজন স্বীকৃত সত্য। একজন ধর্মীয় প্রধান শুধুমাত্র একজন নেতা, এবং সে ঈশ্বরের (সৃষ্টিকর্তার) সমকক্ষ হতে পারে না। সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার হাতে, এবং শেষ পর্যন্ত সবই সৃষ্টিকর্তার হাতেই ফিরে আসবে। মানবজাতি ঈশ্বরের দ্বারা সৃষ্ট, এবং ধর্ম নির্বিশেষে, প্রত্যেক ব্যক্তিই ঈশ্বরের আধিপত্যের অধীনে ফিরে আসবে — এ অনিবার্য। একমাত্র ঈশ্বরই সবকিছুর মধ্যে সর্বোচ্চ, এবং সকল জীবের মধ্যে সর্বোচ্চ শাসককেও তাঁর কর্তৃত্বেই ফিরে আসতে হবে। একজন মানুষের আধ্যাত্মিক মর্যাদা যত উঁচুই হোক না কেন, সেই মানুষ মানব জাতিকে উপযুক্ত গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে না, এবং কেউই সকল বস্তুর মধ্যে প্রকার ভেদ করতে পারে না। যিহোবা স্বয়ং মানবজাতির সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে প্রকার অনুসারে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন, এবং যখন অন্তিম সময় আসবে তখনও তিনি তাঁর নিজের কার্য নিজেই করবেন, সবকিছুকেই প্রকার অনুসারে শ্রেণীবদ্ধ করবেন—এই কাজটি ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কেউ করতে পারে না। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যে তিনটি পর্যায়ের কাজ হয়েছে, তা সবই স্বয়ং ঈশ্বরের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে এবং তা হয়েছে অদ্বিতীয় ঈশ্বরের দ্বারাই। এই তিন পর্যায়ের কাজের সত্য হল সকল মানবজাতির উপর ঈশ্বরের নেতৃত্বের সত্য, যা এমন এক সত্য যাকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তিন পর্যায়ের কাজের শেষে, সকল বস্তুকেই তাদের প্রকার অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হবে এবং ঈশ্বরের রাজত্বে ফেরানো হবে, কারণ সমগ্র বিশ্বব্রম্ভাণ্ড জুড়ে একমাত্র এই অদ্বিতীয় ঈশ্বরেরই অস্তিত্ব রয়েছে, এবং আর কোনও ধর্ম নেই। যিনি এই পৃথিবীকে সৃষ্টি করতে সক্ষম নন, তিনি তা শেষ করতেও সক্ষম হবেন না, কিন্তু যিনি এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি নিশ্চিত ভাবেই একে সমাপ্ত করতে পারেন। অতএব, কেউ যদি একটি যুগের অবসান ঘটাতে না পারে এবং মানুষকে নিছক তার মনের উন্নতি সাধনে সাহায্য করে, তাহলে সে অবশ্যই ঈশ্বর হবে না, এবং নিশ্চিতভাবেই মানব জাতির প্রভু হবে না। এইরকম মহান কর্ম করতে সে অক্ষম; একমাত্র একজনই আছেন যিনি এই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, এবং যারাই এই কাজ করতে অক্ষম তারা নিশ্চিত ভাবেই শত্রু, এবং ঈশ্বর নয়। সমস্ত মন্দ ধর্মই ঈশ্বরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এবং যেহেতু তারা ঈশ্বরের সঙ্গে অসঙ্গত, তারা ঈশ্বরের শত্রু। সকল কর্মই সম্পাদিত হয় অদ্বিতীয় সত্য ঈশ্বরের দ্বারা, এবং সমগ্র বিশ্বব্রম্ভাণ্ডই এই অদ্বিতীয় ঈশ্বরের আদেশের অধীনে। তাঁর কাজ ইস্রায়েলেই হোক অথবা চীনে, সেই কাজ আত্মাই করুক অথবা দেহ, সব কর্মই সম্পাদিত হয় স্বয়ং ঈশ্বরের দ্বারা, এবং অন্যকারো পক্ষেই তা করা সম্ভব নয়। সঠিকভাবে বলতে গেলে যেহেতু তিনি সকল মানবজাতির ঈশ্বর, তাই তিনি স্বাধীনভাবে, কোনও শর্তের দ্বারা সংকুচিত না হয়ে কাজ করেন — এটিই হল সকল দর্শনের মধ্যে বৃহত্তম। ঈশ্বরের এক জীব হিসাবে, তুমি যদি ঈশ্বরের একটি জীবের দায়িত্ব পালন করতে চাও, এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা উপলব্ধি করতে চাও, তাহলে তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের উপলব্ধি করতে হবে, তোমাকে অবশ্যই জীবগণের উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে বুঝতে হবে, তোমাকে অবশ্যই তাঁর পরিচালনামূলক পরিকল্পনা উপলব্ধি করতে হবে, এবং তিনি যে কাজ করেন তার সমস্ত তাৎপর্য তোমাকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে। যারা তা উপলব্ধি করে না তারা ঈশ্বরের যোগ্য জীব নয়! ঈশ্বরের সৃষ্ট জীব হিসাবে, তুমি যদি উপলব্ধি করতে না পার যে তুমি কোথা থেকে এসেছ, তুমি যদি মানবজাতির ইতিহাস এবং ঈশ্বরের দ্বারা করা সমস্ত কাজ উপলব্ধি করতে না পার, এবং উপরন্তু, আজ অবধি মানব জাতি কীভাবে উন্নত হয়েছে, এবং সমগ্র মানবজাতিকে কে অনুশাসন করেন, তা যদি না উপলব্ধি করতে পার, তাহলে তুমি নিজ দায়িত্ব পালনে অক্ষম। ঈশ্বর আজ অবধি মানবজাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবং যখন তিনি পৃথিবীতে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই তিনি তাকে পরিত্যাগ করেননি। পবিত্র আত্মা কখনই কাজ করা বন্ধ করেন না, মানবজাতির নেতৃত্ব দেওয়া বন্ধ করেন না, এবং কখনও মানবজাতিকে পরিত্যাগ করেননি। কিন্তু একজন ঈশ্বর যে রয়েছেন, মানুষ তা অনুধাবন করে না, আর ঈশ্বরকে জানেও খুবই কম। ঈশ্বরের সকল জীবের কাছে এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু আছে কি? ঈশ্বর ব্যক্তিগতভাবে মানুষকে নেতৃত্ব দেন, কিন্তু মানুষ ঈশ্বরের কাজ উপলব্ধি করে না। তুমি ঈশ্বরের জীব, তবুও তুমি তোমার নিজের ইতিহাস উপলব্ধি কর না, এবং তোমার যাত্রায় কে তোমায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তা জান না, তুমি ঈশ্বরের করা কাজ সম্পর্কে অবহিত নও, এবং তাই তুমি ঈশ্বরকে জানতে পার না। তুমি যদি এখনও এসমস্ত কিছু না জান, তাহলে তুমি কখনই ঈশ্বরের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য হবে না। আজ, সৃষ্টিকর্তা ব্যক্তিগতভাবে সমস্ত মানুষকে আবার নেতৃত্ব দেন, এবং সকল মানুষকে তাঁর প্রজ্ঞা, সর্বশক্তিমানতা, পরিত্রাণ এবং বিস্ময়করতা দেখান। তবুও তুমি এখনও অনুধাবন অথবা উপলব্ধি না করে থাক—তাহলে তুমি কি সেই ব্যক্তি নও, যে পরিত্রাণ লাভ করবে না? যারা শয়তানের অধিকারভুক্ত, তারা ঈশ্বরের বাক্য উপলব্ধি করতে পারে না, এবং যারা ঈশ্বরের অধিকারভুক্ত, তারা ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনতে পায়। আমার বলা বাক্যগুলি যারা অনুধাবন এবং উপলব্ধি করে, তারাই উদ্ধার পাবে এবং ঈশ্বরের প্রতি সাক্ষ্য দেবে; আমার কথিত বাক্যগুলি যারা উপলব্ধি করে না, তারা ঈশ্বরের প্রতি সাক্ষ্য দিতে পারে না এবং তাদের বহিষ্কার করা হবে। যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা উপলব্ধি করে না এবং ঈশ্বরের কাজ অনুধাবন করে না, তারা ঈশ্বর-জ্ঞান অর্জনে অক্ষম, এবং এই ধরনের মানুষেরা ঈশ্বরের সাক্ষ্য দিতে পারে না। তুমি যদি ঈশ্বরের সাক্ষ্য দিতে চাও, তাহলে তোমায় অবশ্যই ঈশ্বরকে জানতে হবে; ঈশ্বর-জ্ঞান ঈশ্বরের কাজের মাধ্যমে সিদ্ধ হয়। সর্বোপরি, তুমি যদি ঈশ্বরকে জানতে চাও, তাহলে তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের কাজও জানতে হবে: ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে অবগত হওয়া সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই তিন-পর্যায়ের কাজ যখন সমাধা হবে, তখন এই কাজের সাক্ষ্য বহনের জন্য গড়ে উঠবে এক মানবগোষ্ঠী যারা ঈশ্বরকে জেনেছে। এই গোষ্ঠীর সকলেই ঈশ্বরকে জানবে এবং সত্যকে বাস্তবায়িত করতে পারবে। তারা মানবিকতা এবং বোধের অধিকারী হবে এবং সকলেই ঈশ্বরের পরিত্রাণের কাজের তিনটি পর্যায় জানবে। এই কাজ শেষপর্যন্ত সম্পন্ন হবে এবং ৬,০০০ বছরের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন হবে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে; এবং তা হবে শয়তানের চূড়ান্ত পরাজয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সাক্ষ্য। ঈশ্বরের কাছে যারা এই সাক্ষ্য বহন করে নিয়ে যেতে পারবে, তারা পাবে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি এবং আশীর্বাদ এবং শেষপর্যন্ত তারাই হবে সেই গোষ্ঠী যারা ঈশ্বরের কর্তৃত্বের অধিকারী হয়ে উঠবে এবং বহন করবে ঈশ্বরের সাক্ষ্য। হয়তো তোমাদের মধ্যে সকলেই এইগোষ্ঠীর সদস্য হবে অথবা অর্ধেক অথবা মুষ্টিমেয় কয়েকজন—এর সবই নির্ভর করবে তোমাদের প্রচেষ্টার উপর।

পূর্ববর্তী: ঈশ্বরের কার্য এবং মানুষের অনুশীলন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

পরিশিষ্ট ১: ঈশ্বরের আবির্ভাব এক নতুন যুগের সূচনা করেছে

ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা শেষ হতে চলেছে, এবং যারা তাঁর আবির্ভাবের পথ চেয়ে আছে তাদের সকলের জন্য স্বর্গের দ্বার ইতিমধ্যেই...

ঈশ্বরের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

যে পথে মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, সেই পথটি হল নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম শক্তিকে স্থান দিয়ে তাঁর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন