রাজ্যের বন্দনাগীতি

জনতা আমাকে উদ্দীপিত করে, জনতা আমার মহিমাকীর্তন করে; সকল জিহ্বা একমাত্র সত্য ঈশ্বরের নামোচ্চারণ করে, সকল মানুষ আমার কীর্তিসমূহ নিরীক্ষণের জন্য চক্ষু উত্তোলিত করে। রাজ্য মানবজগতে অবতরণ করে, আমার রূপ বিত্তশালী ও প্রাচুর্যপূর্ণ। কে এতে আনন্দ করবে না? আহ্লাদে কে-ই বা নৃত্য করবে না? হে সিয়োন! আমাকে উদযাপন করতে তোমার বিজয়দৃপ্ত পতাকা তুলে ধরো! আমার পবিত্র নাম প্রচার করতে তোমার বিজয়গাথা গাও! পৃথিবীর প্রান্ত অবধি বিস্তৃত সকল সৃষ্টি, তোমরা শোনো! সত্ত্বর নিজেদের পরিশুদ্ধ করো, তোমাদের যাতে আমার প্রতি নিবেদিত অর্ঘ্যে পরিণত করা যায়! আকাশের নক্ষত্রপুঞ্জ, তোমরা শোনো! নভোমণ্ডলে আমার পরাক্রমশালী ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে শীঘ্র তোমাদের অবস্থানে ফিরে যাও। পৃথিবীর মানুষের কণ্ঠস্বর আমি কান পেতে শুনি, আমার প্রতি ওদের সীমাহীন ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ ওরা সঙ্গীতের মধ্যে ঢেলে দেয়! আজকের দিনে, সমুদয় সৃষ্টি যখন জীবনে প্রত্যাবর্তন করে, আমি মনুষ্যজগতে অবতরণ করি। এই মুহূর্তে, এই নির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণে, সমস্ত কুসুম বিচিত্র বর্ণে-গন্ধে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে, সকল পাখি এক সুরে গান গায়, বস্তুসমুদয় আনন্দে প্রকম্পিত হয়! রাজ্যের অভিবাদন-ধ্বনিতে শয়তানের সাম্রাজ্য ভূপতিত হয়, রাজ্যের বন্দনাগীতির বজ্রনির্ঘোষে তা ধূলিসাৎ হয়ে যায়, কদাপি পুনরুত্থিত হয় না!

উত্থিত হয়ে প্রতিরোধ করার দুঃসাহস পৃথিবীতে কারো আছে কি? আমি যখন পৃথিবীতে অবতরণ করি, আমি দহন নিয়ে আসি, নিয়ে আসি ক্রোধ, আনি সকল প্রকার বিপর্যয়। এই পার্থিব রাজ্যসমূহ এখন আমার রাজ্য! ঊর্ধ্বগগনে মেঘরাশি ছত্রভঙ্গ হয়ে ছোটে ও তরঙ্গায়িত হয়; আকাশের নিচে হ্রদ ও নদী উদ্বেল হয়ে ওঠে এবং পরম উল্লাসে এক রোমাঞ্চকর সুর মন্থন করে তোলে। বিশ্রামরত পশুরা তাদের গুহা থেকে বিনির্গত হয়, সকল মানুষকে আমি তাদের নিদ্রা থেকে জাগরিত করি। অগণন মানুষ যে দিনটির অপেক্ষায় ছিল, সেই দিন অবশেষে সমাগত! তারা আমায় সুন্দরতম সঙ্গীতগুলি নিবেদন করে!

এই সুন্দর মুহূর্তে, এই উৎফুল্ল ক্ষণে

স্তবগান উচ্চকিত সর্বস্থানে, ঊর্ধ্বে অন্তরীক্ষে ও নিম্নে ধরাধামে। আবেগকম্পিত এতে হবে না কোন জন?

কার হৃদি-ভার হবে না লাঘব? এমন দৃশ্য দেখে কেই-বা রবে ক্রন্দন রহিত?

এ আকাশ নয় আর অতীত গগন, এখন এ হল রাজ্যের অম্বর।

এই ধরিত্রী নয় আগের মেদিনী, এক্ষণে এই হল পবিত্র ভূমি।

প্রবল বাদলধারা অতিক্রান্ত যখন, অতীত আবিল বিশ্ব নবরূপে সম্পূর্ণ হয় পুনর্গঠন।

বদলে যায় পর্বতরাজি … বদলায় জল …

মানুষও পাল্টে যায় … পাল্টায় সকল…।

ওগো, তুমি নিরুত্তর নগ-শৈলমালা, জেগে ওঠো, আমা তরে হও নৃত্যরত!

আর তুমি, ওহে স্থির স্তব্ধ সলিল, বয়ে যাও নিজ মনে মুক্ত সাবলীল!

আর তুমি নরকূল স্বপ্নে মগন! জেগে ওঠো, শুরু করো পশ্চাদ্ধাবন!

সমাগত আমি আজ … আমি রাজাধিরাজ…।

সকল মনুষ্যকুল করবে চাক্ষুষ মম আনন, আমার স্বর করবে স্বকর্ণে শ্রবণ,

রাজ্যের জীবন তারা করবে যাপন…।

কতো না মধুময় আহা … কতো চমৎকার…।

অবিস্মরণীয় … ভুলে যাওয়া নহে সম্ভবপর…।

আমার ক্রোধের তীব্র দহনজ্বালায়, অতিকায় লাল ড্রাগন করে ছটফট;

আমার মহিমান্বিত বিচারের ফলে, শয়তানেরা করে ধারণ প্রকৃত স্বরূপ;

আমার কঠোর বাক্যে, সকল মানুষ পায় গভীর লজ্জা, না-থাকে তাদের লুকানোর কোনো স্থান।

তারা স্মরণ করে, অতীতকালে, কেমনে হেনেছে আমায় ব্যঙ্গ উপহাসে।

এমন কোনো সময় ছিলো না যখন তারা সদম্ভে করেনি বড়াই, এমন সময়ও ছিলো না কোনো যখন তারা করে নি আমায় অমান্য।

কে না করে ক্রন্দন আজ? কে-ই বা না করে অনুতাপ অনুভব?

বিলাপ রবে ভরে গেছে বিশ্ব চরাচর …

সকলই পূর্ণ আনন্দরোলে … চারিদিক ভরে ওঠে সহাস্য কণ্ঠস্বর…।

অতুলনীয় আনন্দ … এই আনন্দ অনুপম…।

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর … তুষার ঝড়ে ঘন…।

মানুষের ভিতরেতে, দুঃখ-সুখ মিলেমিশে যায় … হাস্যরত কেউ বা কোথায় …

কেউ বা ওঠে ডুকরে … এবং কেউ কেউ যারা উল্লাসে উদ্বেল…।

সকলেই যেন ভুলে গেছে … এখন কি বরষা-বাদলে ভরপুর বসন্তকাল?

নাকি এক গ্রীষ্ম যা প্রস্ফুটিত কুসুম-সম্ভারে, হয়তো সুফলা শরৎ সমাগত,

কিংবা এ-ই বুঝি তুষার-হিম শীত? কেউ জানে না…।

ঊর্ধ্ব আকাশে ভাসে মেঘরাশি, পৃথিবীতে সমুদ্রসব ঘূর্ণি-উদ্বেল।

পুত্রসকল করে বাহু আন্দোলিত … মানুষ নাচে, করে সঞ্চালিত পদযুগল…।

দেবদূতেরা কর্মরত … তারা করে চলে পরিচালনা…।

ধরাধামের সকল মানুষ কর্মব্যস্ত, ভুবনব্যাপী সকলকিছুর ঘটে চলে বৃদ্ধি।

পূর্ববর্তী: সমগ্র বিশ্বের প্রতি ঈশ্বরের বাক্য—অধ্যায় ১০

পরবর্তী: সমগ্র বিশ্বের প্রতি ঈশ্বরের বাক্য—অধ্যায় ১২

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন