ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক কেমন?

ঈশ্বরে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে, অন্ততপক্ষে ঈশ্বরের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকার সমস্যাটির তোমাকে সমাধান করতেই হবে। ঈশ্বরের সাথে যদি তোমার স্বাভাবিক সম্পর্ক না থাকে, তাহলে তোমার ঈশ্বর-বিশ্বাসের কোনো অর্থ থাকে না। ঈশ্বরের উপস্থিতিতে শান্ত থাকে, এমন একটি হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরের সাথে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক-স্থাপন সম্পূর্ণরূপে অর্জনযোগ্য। ঈশ্বরের সাথে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকার অর্থ হল, তাঁর কোনো কাজকে সন্দেহ এবং অস্বীকার না করা, এবং তাঁর কাজের প্রতি সমর্পণ করতে সক্ষম হওয়া। এর অর্থ হল ঈশ্বরের উপস্থিতিতে সঠিক উদ্দেশ্য থাকা, নিজের জন্য পরিকল্পনা না করা, এবং ঈশ্বরের পরিবারের স্বার্থকে সর্বপ্রথম বিবেচনা করা; অর্থাৎ, ঈশ্বরের নেওয়া পরীক্ষা স্বীকার করা এবং ঈশ্বরের ব্যবস্থা মেনে চলা। তোমার সব কাজের মধ্যেই ঈশ্বরের উপস্থিতি স্বীকার করে হৃদয়কে শান্ত রাখতে তোমাকে সক্ষম হতে হবে। এমনকি ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে না পারলেও, তোমাকে অবশ্যই তোমার কর্তব্য এবং দায়িত্ব তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী পালন করতে হবে। ঈশ্বরের ইচ্ছা তোমার কাছে প্রকাশিত হলে অবিলম্বে সেই অনুযায়ী কাজ শুরু কর, সেই কাজের জন্য তখনো বেশি দেরি হয়ে যাবে না। ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেলে মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও স্বাভাবিক হবে। ঈশ্বরের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে তার ভিত্তি হতে হবে ঈশ্বর-বাক্য। ঈশ্বরের বাক্য, এবং তিনি যা চান, তোমাকে সেই অনুযায়ী নিজের কর্তব্য পালনে সক্ষম হতে হবে। তুমি অবশ্যই দৃষ্টিভঙ্গি সরল রাখবে এবং প্রতিটি বিষয়ে সত্যের সন্ধান করবে। সত্যের উপলব্ধি হলেই তোমাকে তা অনুশীলন করতে হবে, এবং যাই ঘটুক না কেন, অবশ্যই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে এবং অনুগত হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরের অনুসন্ধান করতে হবে। এই ভাবে অনুশীলন করলে তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক নির্বাহ করতে সক্ষম হবে। নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার সাথে সাথে, তোমাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তুমি এমন কিছু করবে না যা ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিদের জীবনে প্রবেশে সহায়তা করে না, এবং এমন কিছু বলবে না যা ভাই ও বোনদের জন্য সহায় নয়। অন্ততপক্ষে, এমন কিছু অবশ্যই করবে না যা তোমার বিবেকের বিরুদ্ধে এবং লজ্জাজনক। বিশেষ করে ঈশ্বর-বিদ্রোহী বা প্রতিরোধকারী এমন কিছু একেবারেই করবে না, এবং অবশ্যই এমন কিছু করবে না যা গির্জার কাজ বা জীবনকে বিব্রত করে। তোমার করা প্রতিটি কাজই যেন ন্যায়সঙ্গত এবং সম্মানজনক হয়, এবং নিশ্চিত করবে যে তোমার প্রতিটি কাজই যেন ঈশ্বরের সামনে উপস্থাপনযোগ্য হয়। শরীর যদি কখনো দুর্বলও হয়, নির্লোভ ও ব্যক্তিগত স্বার্থরহিত হয়ে, নিঃস্বার্থ হয়ে ও ঘৃণ্য কোনো কাজ না করে এবং আত্মচিন্তা না করে ঈশ্বরের পরিবারকেই তোমাকে প্রথম প্রাধান্য দিতে হবে। এইভাবে তুমি ঈশ্বরের সম্মুখে জীবন যাপন করতে সক্ষম হবে, এবং ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।

তুমি যাই কর, অবশ্যই পরীক্ষা করে নিও যে তোমার উদ্দেশ্য সঠিক কি না। তুমি যদি ঈশ্বরের অভিপ্রায় অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হও, তার অর্থই হল তোমার সাথে ঈশ্বরের সম্পর্ক স্বাভাবিক। এটি হল ন্যূনতম মান। নিজের উদ্দেশ্যগুলি খতিয়ে দেখো, যদি মনে কর সেগুলির উদ্ভব সঠিক নয়, তা হলে সেগুলি পরিত্যাগ করতে সচেষ্ট হও এবং ঈশ্বরের বাক্য অনুযায়ী কাজ কর; এভাবে তুমি ঈশ্বরের সামনে একজন সঠিক ব্যক্তি হয়ে উঠবে, যা প্রদর্শন করে ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক, এবং তোমার প্রতিটি কাজই ঈশ্বরের জন্য, নিজের প্রয়োজনে নয়। তোমার সমস্ত কথায় ও কাজে, নিজের হৃদয়কে সঠিক রাখতে সক্ষম হও, সমস্ত কর্মে ন্যায়পরায়ণ হও, আবেগে পরিচালিত হয়ো না, নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ কোরো না। ঈশ্বর বিশ্বাসীদের অবশ্যই এই সব নীতি অনুযায়ী আচরণ করতে হবে। ছোট ছোট বিষয়গুলি কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্য এবং তার মর্যাদাকে প্রকাশ করে, এবং তাই, কেউ যদি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়ার পথে প্রবেশ করতে চায়, প্রথমেই তাদের উদ্দেশ্য এবং ঈশ্বরের সাথে তাদের সম্পর্ক সংশোধন করতে হবে। শুধুমাত্র ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেই তুমি তাঁর দ্বারা নিখুঁত হতে পারবে; শুধুমাত্র তখনই ঈশ্বরের আচরণ, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা এবং পরিমার্জন তোমার মধ্যে অভিপ্রেত প্রভাব অর্জন করতে পারবে। অর্থাৎ, মানুষ যদি ঈশ্বরকে তাদের হৃদয়ে স্থান দিতে সক্ষম হয় এবং ব্যক্তিগত লাভের প্রতি ধাবমান না হয়ে বা নিজস্ব উন্নতির (পার্থিব অর্থে) চিন্তা না কোরে, বরং জীবনে প্রবেশের ভার বহন করে, সত্যানুসরণে যথাসাধ্য সচেষ্ট হয় এবং ঈশ্বরের কাজে সমর্পিত হয় – তুমি যদি এই সব করতে পারো, তাহলে তুমি যে সব লক্ষ্য অনুসরণ করছ তা সঠিক হবে এবং ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে। ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক সঠিক করাকে বলা যেতে পারে আধ্যাত্মিক যাত্রায় প্রবেশের প্রথম ধাপ। যদিও মানুষের ভাগ্য ঈশ্বরের হাতে এবং ঈশ্বরের দ্বারা পূর্বনির্ধারিত, এবং মানুষের দ্বারা পরিবর্তিত হতে পারে না, তথাপি ঈশ্বর-কর্তৃক তুমি নিখুঁত হতে বা তাঁর দ্বারা অর্জিত হতে পারো কিনা তা নির্ভর করে ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক কিনা তার উপর। তোমার কিছু অংশ দুর্বল বা অবাধ্য হতে পারে—কিন্তু তোমার দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্দেশ্য সঠিক হলে, এবং ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক সঠিক এবং স্বাভাবিক হলে তবেই তুমি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়ার যোগ্য। যদি ঈশ্বরের সাথে তোমার সঠিক সম্পর্ক না থাকে, এবং ব্যক্তিগত বা নিজ পরিবারের জন্য কাজ করো, তাহলে তুমি যতই পরিশ্রম করো না কেন, তা নিষ্ফল হবে। যদি ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়, তাহলে আর সবকিছুই সঠিক হবে। ঈশ্বর অন্য কোনো কিছুই বিবেচনা করেন না, শুধুমাত্র দেখেন ঈশ্বরের প্রতি তোমার বিশ্বাসের বিষয়টিতে তোমার দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক কিনা: তুমি কাকে বিশ্বাস করো, কার সুবিধার জন্য বিশ্বাস করো এবং কেন বিশ্বাস করো। যদি এই বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে দেখতে পাও এবং তোমার দৃষ্টিভঙ্গির সঠিক মীমাংসা করে অনুশীলন করতে সক্ষম হও, তবে তোমার জীবনে অগ্রগতি হবে এবং তুমি সঠিক পথে প্রবেশের নিশ্চয়তা পাবে। যদি ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক না হয়, এবং ঈশ্বরের প্রতি তোমার বিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গি বিচ্যুত হয়, তাহলে অন্য সব কিছুই বৃথা, এবং তুমি যতই বিশ্বাস করো না কেন, তুমি কিছুই লাভ করবে না। ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পরেই তুমি তাঁর প্রশংসা অর্জন করতে পারবে যখন তুমি দেহের বাসনা ত্যাগ করবে, প্রার্থনা করবে, কষ্ট ভোগ করবে, সহ্য করবে, আত্মসমর্পণ করবে, তোমার ভাই ও বোনদের সাহায্য করবে, ঈশ্বরের জন্য নিজেকে আরও বেশি ব্যয় করবে ইত্যাদি। তুমি যা করো তার মূল্য এবং তাৎপর্য রয়েছে কিনা তা নির্ভর করে তোমার উদ্দেশ্য যথাযথ এবং দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক কিনা তার উপর। আজকাল, অনেক মানুষের ঈশ্বর-বিশ্বাস এমন, যেন তারা কোনো ঘড়ির দিকে তাকানোর জন্য তাদের মাথা কাত করছে—তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তির্যক, এবং তাদের অবশ্যই একটি আমূল পরিবর্তনের সাথে সঠিক হতে হবে। এই সমস্যার সমাধান হলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে; যদি না হয়, সবকিছু নিষ্ফল হবে। কিছু মানুষ আমার উপস্থিতিতে ভাল আচরণ করে, কিন্তু আমার পশ্চাতে, তারা যা করে তা হল আমার প্রতিরোধ। এটি হল কুটিলতা এবং প্রতারণার বহিঃপ্রকাশ এবং এই ধরণের ব্যক্তি শয়তানের দাস; তারা শয়তানের মূর্ত প্রতীক, যারা ঈশ্বরের পরীক্ষা নিতে এসেছে। আমার কাজ এবং আমার বাক্যে যদি তুমি সমর্পিত হতে সক্ষম হও তবেই তুমি একজন সঠিক মানুষ। যদি তুমি ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পানে সক্ষম হও; যদি তুমি যা কিছু করো তা ঈশ্বরের সামনে উপস্থাপনযোগ্য হয় এবং তুমি যা কিছু করো তা ন্যায়পরায়ণ ও সম্মানজনক হয়; যদি তুমি লজ্জাজনক আচরণ না করো, বা এমন কাজ না করো যা অন্যদের জীবনের ক্ষতি করে; এবং যদি তুমি আলোতে জীবন যাপন করো এবং নিজেকে শয়তানের দ্বারা শোষিত হওয়ার অনুমতি না দাও, তবেই ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্কের বিন্যাস সঠিক।

ঈশ্বর-বিশ্বাসের জন্য তোমার উদ্দেশ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি যথাযথভাবে বিন্যস্ত হতে হবে; ঈশ্বরের বাক্য এবং ঈশ্বরের কাজ, ঈশ্বর-কৃত সব রকম পরিবেশের ব্যবস্থাপনা, ঈশ্বর যে মানুষের জন্য সাক্ষ্য দেন, এবং বাস্তবিক ঈশ্বর—এই সব সম্পর্কে তোমার অবশ্যই সঠিক উপলব্ধি এবং আচরণের একটি সঠিক উপায় থাকতে হবে। নিজের ধারণা অনুযায়ী অনুশীলন করবে না বা এ ব্যাপারে নিজের তুচ্ছ পরিকল্পনা তৈরি করবে না। যাই করো না কেন, অবশ্যই সত্যানুসন্ধানে সক্ষম হতে হবে এবং সৃষ্ট সত্তা হিসাবে তোমার অবস্থান অনুযায়ী ঈশ্বরের কাজে সমর্পণ করতে হবে। ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়ার পথ যদি অনুসরণ করতে চাও এবং জীবনের সঠিক পথে প্রবেশ করতে চাও, তবে তোমার হৃদয়ে সর্বদাই ঈশ্বরের উপস্থিতি বিরাজমান থাকতে হবে। উচ্ছৃঙ্খল হয়ো না, শয়তানকে অনুসরণ কোরো না, শয়তানকে তার কাজ সম্পাদন করার কোনো সুযোগ দিও না এবং নিজেকে শয়তানের দ্বারা ব্যবহৃত হতে দিও না। তোমাকে অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের কাছে সমর্পিত হতে হবে এবং ঈশ্বরকে তোমার উপর প্রভুত্ব করতে দিতে হবে।

তুমি কি শয়তানের দাস হতে চাও? তুমি কি শয়তান দ্বারা ব্যবহৃত হতে ইচ্ছুক? তুমি কি ঈশ্বরে বিশ্বাস এবং তাঁকে অনুসরণ করো যাতে তুমি তাঁর দ্বারা নিখুঁত হতে পারো, নাকি তুমি ঈশ্বরের কাজ ব্যর্থ হতে দিতে চাও? তুমি কি একটি অর্থবহ জীবন চাও যেখানে তুমি ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত, নাকি একটি মূল্যহীন এবং অন্তঃসারশূন্য জীবন চাও? তুমি কি ঈশ্বর-দ্বারা ব্যবহৃত হতে পছন্দ করবে, নাকি শয়তানের দ্বারা শোষিত? তুমি কি ঈশ্বরের বাক্য ও সত্যের দ্বারা পূর্ণ হতে চাইবে, নাকি পাপ এবং শয়তানের দ্বারা নিজেকে পূর্ণ হতে দেবে? সযত্নে এই বিষয়গুলি বিবেচনা করো। দৈনন্দিন জীবনে, তোমাকে অবশ্যই বুঝতে হবে, যেসব কথা তুমি বল এবং যে ধরণের কাজ করো তা ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্কের অস্বাভাবিকতার কারণ হতে পারে, এবং তারপরে সঠিক পদ্ধতিতে প্রবেশ করতে নিজেকে সংশোধন করো। সর্বদা, নিজের কথা, কাজ, প্রতিটি পদক্ষেপ ও সমস্ত চিন্তাভাবনা এবং ধারণা পরীক্ষা করো। নিজের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা অর্জন করো এবং পবিত্র আত্মার কাজের পদ্ধতিতে প্রবেশ করো। ঈশ্বরের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখার এটিই একমাত্র উপায়। ঈশ্বরের সাথে নিজের সম্পর্ক স্বাভাবিক কিনা তা মূল্যায়ন করলে তুমি নিজের উদ্দেশ্যগুলিকে সংশোধন করতে সক্ষম হবে, মানুষের প্রকৃতি এবং সারমর্ম বুঝতে পারবে এবং নিজেকে প্রকৃতভাবে বুঝতে পারবে, এবং এটি করার মাধ্যমে তুমি বাস্তব অভিজ্ঞতায় প্রবেশ করতে সক্ষম হবে, প্রকৃত অর্থে নিজেকে পরিত্যাগ করতে পারবে, এবং উদ্দেশ্যের সাথে নিজেকে সমর্পণ করতে পারবে। ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক কিনা, সেই বিষয়গুলিতে তোমার অভিজ্ঞতা হওয়ার সাথে সাথে তুমি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়ার সুযোগ খুঁজে পাবে এবং পবিত্র আত্মার কাজের অনেকগুলি পর্যায় উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও তুমি শয়তানের বহু কৌশলের স্বরূপ বুঝতে পারবে এবং তার ষড়যন্ত্র বিনষ্ট করতে সক্ষম হবে। শুধুমাত্র এই পথই ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়ার দিকে পরিচালিত করে। ঈশ্বরের সাথে নিজের সম্পর্ক সঠিক রাখো, যাতে তাঁর সামগ্রিক ব্যবস্থার কাছে সমর্পিত হতে পারো, এবং বাস্তব অভিজ্ঞতায় আরও গভীরভাবে প্রবেশ করতে পারো এবং পবিত্র আত্মার আরও বেশি কাজ গ্রহণ করতে পারো। যখন ঈশ্বরের সাথে একটি স্বাভাবিক সম্পর্কের অনুশীলন করো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, দেহজ কামনা ত্যাগ করে এবং ঈশ্বরের প্রকৃত সহযোগিতার মাধ্যমে সাফল্য অর্জিত হবে। তোমাকে বুঝতে হবে যে “সহযোগী হৃদয় ছাড়া, ঈশ্বরের কাজ গ্রহণ করা কঠিন; শরীর যদি ত্যাগের কষ্ট না পায়, ঈশ্বরের কাছ থেকে কোন আশীর্বাদ প্রাপ্তি হয় না; আত্মা যদি সংগ্রাম না করে, তবে শয়তানকে লজ্জায় ফেলা যাবে না।” এই নীতিগুলি যদি অনুশীলন করো এবং সেগুলিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝতে পারো, তাহলে ঈশ্বরের প্রতি তোমার বিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক হবে। তোমার বর্তমান অনুশীলনে, তোমাকে অবশ্যই “ক্ষুধা মেটানোর জন্য রুটি চাওয়ার” মানসিকতা পরিত্যাগ করতে হবে; নিজেকে অবশ্যই এই মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে যে “সবকিছুই পবিত্র আত্মার দ্বারা কৃত, এবং মানুষ হস্তক্ষেপ করতে অক্ষম”। যারা এই কথা বলে তারা মনে করে, “মানুষ যা খুশি তাই করতে পারে, এবং যখন সময় আসবে, তখন পবিত্র আত্মা তাঁর কাজ করবেন। মানুষের দেহকে সংযত করার বা সহযোগিতা করার দরকার নেই; এক মাত্র বিচার্য হল তারা যেন পবিত্র আত্মা দ্বারা চালিত হয়”। এইসব মতামত অযৌক্তিক, এই ধরনের পরিস্থিতিতে, পবিত্র আত্মা কাজ করতে অক্ষম। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিই পবিত্র আত্মার কাজকে ব্যাপকভাবে বাধা দেয়। প্রায়শই, পবিত্র আত্মার কাজ মানুষের সহযোগিতার মাধ্যমে অর্জিত হয়। যারা সহযোগিতা করে না এবং সমাধানও করে না, কিন্তু তাদের স্বভাব পরিবর্তন করতে চায় এবং পবিত্র আত্মার কাজ এবং ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রজ্ঞা ও প্রদীপ্তি চায়, প্রকৃতপক্ষে তাদের চিন্তাভাবনা অসংযত। একে বলা হয় “নিজের ভোগপরায়নতাকে উৎসাহ দেওয়া এবং শয়তানকে ক্ষমা করা।” ঈশ্বরের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকে না এই ধরনের মানুষের। নিজের মধ্যেই তোমার খুঁজে পাওয়া উচিত শয়তানের স্বভাবের অনেক উদ্ঘাটন ও প্রকাশ এবং ঈশ্বরের বর্তমান প্রয়োজ্নের বিরোধী যে কোনো অভ্যাস। এখন কি তুমি শয়তানকে পরিত্যাগ করতে পারো? তোমার উচিত ঈশ্বরের সাথে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করা, ঈশ্বরের অভিপ্রায় অনুযায়ী কাজ করা, এবং নতুন এক জীবন নিয়ে নতুন এক ব্যক্তি হয়ে ওঠা। অতীতের অধর্ম নিয়ে চিন্তা করো না; অযথা অনুতপ্ত হয়ো না; সুদৃঢ়ভাবে দন্ডায়মান হয়ে ঈশ্বরের সাথে সহযোগিতা করতে সক্ষম হও, এবং যে কর্তব্য পূরণ করতে হবে তা পূরণ করো। এইভাবে, ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

এটি পড়ার পরেও যদি তুমি শুধুই দাবি করো যে কথাগুলি তুমি স্বীকার করেছ, কিন্তু তোমার হৃদয় যদি অবিচল থাকে, এবং ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ককে যদি স্বাভাবিক করার চেষ্টা না করো, তাহলে প্রমাণ হয় যে ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ককে তুমি গুরুত্ব দাও না। এটি প্রমাণ করে যে তোমার দৃষ্টিভঙ্গি এখনও সঠিক নয়, তোমার অভিপ্রায় এখনও ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হওয়ার এবং তাঁকে মহিমা এনে দেওয়ার উপর স্থিত নয়, বরং শয়তানের ষড়যন্ত্রকে জয়ী হতে দেওয়ার এবং তোমার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সিদ্ধির প্রয়োজনে স্থির হয়েছে। এই ধরনের লোকেরা ভুল উদ্দেশ্য এবং ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। ঈশ্বর কী বলেন বা কীভাবে বলেন তার কোনো গুরুত্বই নেই এই ধরনের মানুষের কাছে, এরা সম্পূর্ণ উদাসীন এবং সামান্যতমও রূপান্তরিত হয় না। তাদের অন্তরে কোন ঈশ্বর-ভয় নেই এবং তারা নির্লজ্জ। এই ধরনের ব্যক্তি একটি আত্মাহীন জড়পদার্থ। ঈশ্বরের প্রতিটি বাণী পাঠ করো এবং অনুধাবন করা মাত্রই সেগুলি অনুশীলন করো। হয়তো কোনো এক সময়ে তোমার দেহে আসক্তি ছিলো, বা তুমি বিদ্রোহী ছিলে বা প্রতিরোধ করেছিলে; অতীতে তুমি যে আচরণই করে থাকো না কেন, তার তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না যা তোমার আজকের জীবনকে পরিণত হতে বাধা দেবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি ঈশ্বরের সাথে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখতে পারবে, তত দিন আশা আছে। প্রতিবার ঈশ্বর-বাক্য পাঠের পর যদি তোমার মধ্যে পরিবর্তন আসে এবং অন্যরা বলতে পারে যে তোমার জীবন উন্নতির জন্য পরিবর্তিত হয়েছে, তাতে বোঝায় যে ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক এখন স্বাভাবিক, এটি সঠিকভাবে স্থাপিত। মানুষ কতটা অধর্ম করেছে সেই অনুযায়ী ঈশ্বর তার সাথে আচরণ করেন না। যখন তুমি বুঝতে পেরেছো এবং সচেতন হয়ে উঠেছো, এবং যতক্ষণ তুমি বিদ্রোহ বা প্রতিরোধ করা বন্ধ রাখবে, ততক্ষণ তুমি ঈশ্বরের করুণা পাবে। যখন তোমার বোধশক্তি আসবে এবং তুমি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হতে চেষ্টা করার সংকল্প করবে, তখন ঈশ্বরের উপস্থিতিতে তোমার অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তুমি যা-ই করো না কেন, যখন তা করছো তখন নিম্নলিখিতগুলি বিবেচনা কোরো: আমি যদি এটি করি তবে ঈশ্বর কী ভাববেন? এটি কি আমার ভাই ও বোনদের উপকার করবে? ঈশ্বরের ঘরের কাজে কী লাভ হবে? প্রার্থনা, সহভাগিতা, বক্তৃতা, কাজ বা অন্যদের সাথে যোগাযোগ, যাই করো না কেন, নিজের উদ্দেশ্য পরীক্ষা কোরো এবং ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক কিনা তা যাচাই কোরো। যদি নিজের উদ্দেশ্য এবং চিন্তাভাবনাগুলি বুঝতে না পারো, তাহলে তার অর্থ হল, তোমার মধ্যে ভেদাভেদের অভাব রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে তুমি সত্যের খুব কমই বোঝো। ঈশ্বর যা কিছু করেন তা যদি স্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম হও এবং তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর বাক্যের অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ভিতর দিয়ে সব কিছু উপলব্ধি করতে পারো, তাহলেই তোমার দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক হবে। অতএব, প্রত্যেক ঈশ্বর-বিশ্বাসীর জন্য ঈশ্বরের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ এবং তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসাবে প্রত্যেকেরই বিবেচনা করা উচিত। তুমি যা কিছু করো তার প্রতিটির পরিমাপ হয় ঈশ্বরের সাথে তোমার স্বাভাবিক সম্পর্কের নিরিখে। ঈশ্বরের সাথে যদি তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয় এবং তোমার উদ্দেশ্য সঠিক হয়, তাহলে কাজ চালিয়ে যাও। ঈশ্বরের সাথে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনে, ব্যক্তিগত স্বার্থহানির ভয়ে ভীত হয়ো না; তুমি শয়তানকে বিজয়ী হতে দিতে পারো না, তোমাকে ক্রয়ের অনুমতি শয়তানকে দিতে পারো না এবং নিজেকে শয়তানের উপহাসের পাত্রে পরিণত করতে পারো না। এই ধরনের উদ্দেশ্য থাকা একটি চিহ্ন যে ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক স্বাভাবিক—শারীরিক সুখের জন্য নয়, বরং আত্মার শান্তির জন্য, পবিত্র আত্মার কাজে অর্জিত হওয়ার জন্য এবং ঈশ্বরের ইচ্ছাকে সন্তুষ্ট করার জন্য। সঠিক অবস্থায় প্রবেশের জন্য, ঈশ্বরের সাথে অবশ্যই একটি সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে এবং ঈশ্বরের প্রতি তোমার বিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক রাখতে হবে। এটির প্রয়োজন যাতে তুমি ঈশ্বর দ্বারা অর্জিত হও, এবং যাতে তিনি তোমার মধ্যে তাঁর বাক্যর ফল প্রকাশ করতে পারেন এবং তোমাকে আরও প্রজ্ঞা ও প্রদীপ্তি দিতে পারেন। এইভাবে, তুমি সঠিক পদ্ধতিতে প্রবেশ করবে। বর্তমানের ঈশ্বর-বাক্যগুলি ভোজন ও পান করা বজায় রাখো, পবিত্র আত্মার বর্তমান কাজের পদ্ধতিতে প্রবেশ করো, ঈশ্বরের আজকের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করো, পুরানো দিনের অনুশীলনের পদ্ধতিগুলি আর পালন কোরো না, কাজ করার পুরানো উপায়গুলিকে আঁকড়ে ধরে রেখো না এবং যত শীঘ্র সম্ভব, আজকের কর্মপদ্ধতিতে প্রবেশ করো। এইভাবে, ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং তুমি ঈশ্বর বিশ্বাসের সঠিক পথে যাত্রা শুরু করবে।

পূর্ববর্তী: সহস্রবর্ষীয় রাজত্বের যুগ উপস্থিত

পরবর্তী: শুধুমাত্র সত্যের অনুশীলনই হল বাস্তবিকতার অধিকারী হওয়া

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

সম্পর্কিত তথ্য

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রিষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন