বাস্তবতার উপর আরো মনোনিবেশ করো

প্রত্যেক ব্যক্তির ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই প্রত্যেকেরই বোঝা উচিত ঈশ্বরের প্রতি কোন ধরনের সেবা তাঁর অভিপ্রায়ের সঙ্গে সর্বাপেক্ষা সঙ্গতিপূর্ণ। অধিকাংশ মানুষ ঈশ্বরে বিশ্বাস করার অর্থ কী তা জানে না, উপরন্তু তাদের কেন তাঁকে বিশ্বাস করা উচিত তাও তারা বোঝে না—অর্থাৎ, অধিকাংশেরই ঈশ্বরের কার্য বা তাঁর পরিচালনামূলক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো উপলব্ধি নেই। আজ, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনও মনে করে যে ঈশ্বর-বিশ্বাস হল স্বর্গে গমন এবং তাদের আত্মার উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়। তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করার সঠিক তাৎপর্য সম্পর্কে অনবহিত, অধিকন্তু, ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পর্কে তাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। তাদের নিজস্ব বিভিন্ন কারণবশত, মানুষের ঈশ্বরের কাজে একেবারেই কোন আগ্রহ নেই, এবং তারা তাঁর অভিপ্রায় বা তাঁর পরিচালনামূলক পরিকল্পনা সম্পর্কেও কোন চিন্তা করে না। এই ধারার একজন ব্যক্তি হিসাবে, প্রতিটি ব্যক্তির ঈশ্বরের সমগ্র পরিচালনামূলক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য কী, কোন কাজগুলি তিনি দীর্ঘকাল আগে সম্পন্ন করেছেন, কেন তিনি এই মানুষের এই গোষ্ঠীটিকে বেছে নিয়েছেন, এদেরকে তাঁর বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য এবং অর্থ কী, এবং তিনি এই গোষ্ঠীটির মধ্যে কি অর্জন করতে চান তা জানা উচিত। ঈশ্বরের পক্ষে অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশে বিশেষত্বহীন মানুষদের নিয়ে এইরকম একটি গোষ্ঠী গড়ে তোলা, এবং এখনও পর্যন্ত কাজ অব্যাহত রাখা, সকল রকমের উপায়ে তাদের বিচার ও নিখুঁত করে তোলা, অগণিত বাক্য উচ্চারণ করা, এতো কাজ করা, এবং এতগুলি সেবা প্রদানকারী বস্তু প্রেরণ করতে সক্ষম হওয়াটা—ঈশ্বরের একার পক্ষে এত বৃহৎ কাজ সম্পন্ন করাটাই এটা দর্শায় যে তাঁর কাজ ঠিক কতটা তাৎপর্যপূর্ণ। এই মুহুর্তে, তোমরা এটি সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে অক্ষম। বস্তুত, ঈশ্বর তোমাদের মধ্যে যে কাজ সম্পাদন করেছেন তাকে তুচ্ছ মনে করবে না; এটা কোন ক্ষুদ্র বিষয় নয়। এমনকি ঈশ্বর আজ তোমাদের কাছে যেটুকু প্রকাশ করেছেন তাও তোমাদের বোঝার এবং জানার চেষ্টা করার পক্ষে যথেষ্ট। তুমি যদি তা সত্যিই এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝতে পার তাহলেই একমাত্র তোমার অভিজ্ঞতাগুলি আরও গভীর এবং তোমার জীবন বিকশিত হতে পারে। আজ, মানুষ খুব কম বোঝে এবং কাজ করে; তারা ঈশ্বরের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে পূরণ করতে অক্ষম। এটি মানুষের ঘাটতি এবং নিজেদের দায়িত্ব পালনে তাদের ব্যর্থতা, এবং তাই তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনেও অক্ষম। অনেক মানুষের ক্ষেত্রে পবিত্র আত্মার কাজ করার কোন উপায় নেই কারণ ঈশ্বরের কার্য সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি খুবই অগভীর এবং তারা যখন ঈশ্বরের গৃহের কাজ করে তখন সেই কাজকে মূল্যবান কিছু হিসাবে বিবেচনা করতে নারাজ। তারা সর্বদাই জোড়াতাপ্পি দিয়ে দায়সারা গোছের কাজ করে যায়, নতুবা সংখ্যাগরিষ্ঠকে অনুসরণ করে, অথবা শুধু লোক-দেখানো কাজ করে। আজ, এই ধারার প্রতিটি ব্যক্তির স্মরণ করে দেখা উচিত, তারা তাদের কাজে-কর্মে, যা যা করতে পারে তা করেছে কিনা এবং তারা সর্বতোভাবে প্রচেষ্টা করেছে কিনা। মানুষ তাদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে, পবিত্র আত্মা তাঁর কাজ করেন না সেই কারণে নয়, বরং এর কারণ হল যে মানুষ তাদের কাজ করে না, ফলে পবিত্র আত্মার পক্ষে তাঁর কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঈশ্বরের বলার মতো আর কোন বাক্য নেই, কিন্তু মানুষ মোটেই তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোয়নি, তারা অনেক পিছনে থেকে গেছে, তারা কাজের প্রতিটি ধাপে নিকটে থাকতে অক্ষম, এবং মেষের পদচিহ্নগুলিকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করতে অক্ষম। তাদের যা মেনে চলা উচিত, তারা মেনে চলেনি; তাদের যা অনুশীলন করা উচিত ছিল, তারা অনুশীলন করেনি; তাদের যার জন্য প্রার্থনা করা উচিত ছিল, তার জন্য প্রার্থনা করেনি; যা তাদের আলাদা করে রাখা উচিত ছিল, তা তারা রাখেনি। তারা এসবের কিছুই করেনি। অতএব, ভোজসভায় যোগদান করার এই আলোচনা অসার; এর কোনো বাস্তব অর্থ নেই, এবং শুধুই তাদের কল্পনায় রয়েছে। আজকের দিন থেকে তাকিয়ে দেখলে এটা বলা যায়, মানুষ তাদের দায়িত্ব একেবারেই পালন করেনি। সবকিছুই ঈশ্বরের কর্ম এবং তাঁর নিজের কথা বলার উপর নির্ভর করেছে। মানুষের কৃত কাজ খুবই নগন্য; মানুষ হল সেই নিষ্ফল আবর্জনা যারা ঈশ্বরের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অক্ষম। ঈশ্বর শত সহস্র বাক্য উচ্চারণ করেছেন, তবুও মানুষ সেগুলির কোনওটিই বাস্তবে প্রয়োগ করেনি—তা সে শরীরকে ত্যাগ করা কথাই হোক বা পূর্বধারণা বর্জন, বিচক্ষণতার বিকাশ ও অন্তর্দৃষ্টি অর্জনের সময় সমস্ত কিছুতে ঈশ্বরের আনুগত্যের অনুশীলন, মানুষকে তাদের হৃদয়ে স্থান না দেওয়া, তাদের অন্তরের মূর্তিগুলিকে দূর করা, তাদের ভুল অভিপ্রায়গুলির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা, আবেগের বশবর্তী হয়ে কাজ না করা, ন্যায্য এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করা, কথা বলার সময় ঈশ্বরের স্বার্থ এবং অন্যদের উপর সেগুলির প্রভাবের বিষয়ে আরও বেশি চিন্তা করা, ঈশ্বরের কার্যের পক্ষে উপযোগী কাজ বেশি করে করা, তাদের সমস্ত কাজে-কর্মে ঈশ্বরের গৃহের উপকার সাধনের কথা মাথায় রাখা, আবেগ দ্বারা নিজেদের আচরণকে পরিচালিত হতে না দেওয়া, তাদের দৈহিক কামনাকে যা তুষ্ট করে তা বর্জন করা, স্বার্থপর পুরানো ধারণাগুলি দূর করা, ইত্যাদি। তারা প্রকৃতপক্ষে মানুষের কাছে ঈশ্বরের এই সকল চাহিদার কিছুটা উপলব্ধি করে, কিন্তু তারা কেবল সেগুলির অনুশীলন করতে অনিচ্ছুক। ঈশ্বর আর কীই বা করতে পারেন, এবং কীভাবেই বা তিনি তাদের জাগাতে পারেন? ঈশ্বরের চোখে বিদ্রোহের সন্তানদের তাঁর বাক্যসমূহ গ্রহণ করার এবং সেগুলির প্রশংসা করার স্পর্ধা এখনও কীভাবে থাকতে পারে? তাদের ঈশ্বরের খাদ্য গ্রহণ করার মতো স্পর্ধাই বা কীভাবে থাকে? মানুষের বিবেকবোধ কোথায়? এমনকি তাদের যে ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করা উচিত ছিল তাও তারা পালন করেনি, তাদের যথাসাধ্য কাজ করা তো দূরের কথা। তারা একটা অলীক স্বপ্নের জগতে বাস করছে, তাই নয় কি? অনুশীলন ছাড়া বাস্তবতার বিষয়ে কোনো কথাই হতে পারে না। এটা দিনের মতই পরিষ্কার সত্য!

তোমাদের আরও বাস্তবসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। মানুষ প্রশংসা করে এমন বড়-বড়, শূন্যগর্ভ কথা বলার দরকার নেই। যখন জ্ঞানের কথা বলা হয়, তখন দেখা যায় প্রত্যেকের জ্ঞানই আগের জনের চেয়ে অনেক বেশি, কিন্তু তাদের এখনও অনুশীলন করার মতো কোনো পথ নেই। চর্চার নীতি কয়জন বুঝতে পেরেছে? কতজন প্রকৃত পাঠ শিখতে পেরেছে? কে বাস্তবতা সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করতে পারে? ঈশ্বরের বাক্যসমূহের মধ্যে অন্তর্নিহিত জ্ঞানের বিষয়ে কথা বলতে পারার অর্থ এই নয় যে তুমি প্রকৃত উচ্চতার অধিকারী; এটি শুধুমাত্র এটাই প্রমাণ করে যে তুমি চালাকচতুর হয়ে জন্মেছিলে, তুমি প্রতিভাধর। তুমি যদি পথ নির্দেশ করতে না পার তাহলে তার ফল কিছুই হবে না, এবং তুমি হয়ে উঠবে নিষ্ফল আবর্জনা! তুমি যদি অনুশীলনের প্রকৃত পথ সম্পর্কে কিছু বলতে না পার তাহলে তুমি কি ভান করছ না? তুমি যদি তোমার নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্যদের প্রদান করতে না পার, আর এইভাবে তাদের শিক্ষনীয় কোনো পাঠ বা অনুসরণযোগ্য একটি পথ প্রদান করতে না পার, তাহলে কি তুমি প্রবঞ্চনা করছো না? তুমি কি ভন্ড নও? তোমার কী মূল্য আছে? এই ধরনের কোনো ব্যক্তি শুধুমাত্র “সমাজতন্ত্রের তত্ত্বের উদ্ভাবকের” ভূমিকা পালন করতে পারে, “সমাজতন্ত্র আনয়নে অবদানকারীর” ভূমিকা নয়। বাস্তবতা না থাকার অর্থ হল কোনো সত্য না থাকা। বাস্তবতা না থাকার অর্থ হল একজন অপদার্থ হওয়া। বাস্তবতা না থাকার অর্থ হল এক চলমান শবদেহে পরিণত হওয়া। বাস্তবতা না থাকার মানে হল একজন “মার্কসবাদী-লেনিনবাদী চিন্তাবিদ” হওয়া, যার কোনো প্রসঙ্গগত মূল্য নেই। তোমাদের প্রত্যেককে আমি জোর দিয়ে বলছি তত্ত্ব সম্পর্কে চুপ থাকতে এবং বাস্তব, অকৃত্রিম এবং সারগর্ভ কিছু সম্পর্কে কথা বলতে; কিছু “আধুনিক শিল্প” অধ্যয়ন করতে, বাস্তবসম্মত কিছু বলতে, বাস্তব কিছু অবদান রাখতে এবং কিছুটা উত্সর্গের মনোভাব রাখতে। কথা বলার সময় বাস্তবতার মুখোমুখি হও; এমন কোনো অবাস্তব এবং অতিরঞ্জিত কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ো না যাতে মানুষ খুশি হয় বা উঠে বসে তোমার প্রতি মনোযোগ দেয়। তাতে উপযোগিতা কোথায়? মানুষকে তোমার প্রতি সাদর আচরণ করানোর মধ্যে লাভ কী আছে? তোমার বাচনে একটু “শৈল্পিক” হয়ে ওঠো, নিজের আচার-আচরণে একটু বেশি ন্যায্য হও, বিষয়াদি সামলানোর ক্ষেত্রে আরো কিছুটা যুক্তিসংগত হও, যা বল তাতে কিছুটা বেশি ব্যবহারিক হও, নিজের প্রতিটি কাজে ঈশ্বরের গৃহের উপকারসাধনের কথা ভাব, আবেগপ্রবণ বোধ করলে নিজের বিবেকের কথা শোনো, দয়ার প্রতিদান ঘৃণা মাধ্যমে দিও না বা সদাশয়তার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না, এবং ভণ্ড হয়ো না, তা না হলে তুমি একটা খারাপ প্রভাবে পরিণত হবে। তুমি যখন ঈশ্বরের বাক্যগুলি ভোজন ও পান কর, তখন সেগুলিকে বাস্তবতার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত কর এবং তুমি যখন আলাপ-আলোচনা কর, তখন বাস্তবসম্মত জিনিসগুলি সম্পর্কে আরও বেশি কথা বল। নিজেকে উচ্চস্তরীয় জ্ঞান করে অন্যদের প্রতি সদয় আচরণ কোরো না; ঈশ্বর তাতে সন্তুষ্ট হবেন না। অন্যদের সঙ্গে তোমার আচারব্যবহারে, একটু বেশি সহনশীল হও, একটু বেশি নমনীয়, একটু বেশি মহানুভব হও এবং “প্রধান মন্ত্রীর আত্মা”[ক] থেকে শেখো। যখন তোমার মনে কুচিন্তা আসে, তখন আরো বেশি করে দৈহিক কামনাকে পরিহার করার অনুশীলন কর। যখন তুমি কাজ করছ, তখন বাস্তবসম্মত পথের কথা বেশি করে বল, এবং অতি উচ্চমার্গের হয়ো না, অন্যথায় তোমার বলা কথা মানুষের বোধগম্যতারবাইরে চলে যাবে। কম উপভোগ করো, অধিক অবদান রাখো—তোমার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের মনোভাব দেখাও। ঈশ্বরের অভিপ্রায় বিষয়ে আরও বিবেচনাবান হও, নিজের বিবেকের কথা আরও বেশি করে শোনো, আরও মনোযোগী হও এবং ভুলে যেও না যে ঈশ্বর কীভাবে প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে ধৈর্য সহকারে এবং আন্তরিকভাবে কথা বলেন। প্রায়শই “পুরাতন পঞ্জিকা” পড়। আরও প্রার্থনা করো এবং আরও ঘন ঘন আলাপ-আলোচনা কর। এত বিভ্রান্ত হয়ে থেকো না; একটু বোধশক্তির প্রদর্শন কর এবং একটু অন্তর্দৃষ্টি অর্জন কর। যখনই তোমার পাপী হাত প্রসারিত হবে, তখনই তা আবার টেনে নাও; তাকে বেশিদূর পৌঁছাতে দিও না। কোন লাভ নেই, বরং ঈশ্বরের কাছ থেকে তুমি অভিশাপ ছাড়া আর কিছুই পাবে না, তাই সাবধান হও। তোমার হৃদয়কে অন্যের প্রতি করুণার্দ্র হতে দাও, আর হাতে অস্ত্র নিয়ে সর্বদা আঘাত কোরো না। সত্যের জ্ঞান সম্পর্কে আরও বেশি আলাপ-আলোচনা কর এবং জীবন সম্পর্কে আরও কথা বলো, অন্যদের সাহায্য করার মনোভাব বজায় রেখে। কথা কম বলে কাজ বেশি করো। বেশি করে অনুশীলন করো এবং গবেষণা এবং বিশ্লেষণে মনোনিবেশ কম করো। পবিত্র আত্মার দ্বারা নিজেদেরকে আরও অনুপ্রাণিত কর এবং ঈশ্বরকে তোমাকে নিখুঁত করার আরও সুযোগ দাও। আরো মানব উপাদান নির্মূল করো; তুমি এখনও কাজকর্মের নানাবিধ মানবিক পদ্ধতির অধিকারী, এবং তোমার কাজকর্ম সম্পাদনের ও আচরণের ভাসা-ভাসা পদ্ধতি এখনও অন্যদের কাছে অরুচিকর: এগুলি আরও বেশি করে বর্জন কর। তোমার মানসিক অবস্থা এখনও খুব ঘৃণ্য; এটি সংশোধন করতে আরো সময় ব্যয় কর। তুমি এখনও মানুষকে খুব বেশি মর্যাদা দাও; ঈশ্বরকে আরও মর্যাদা দাওকে এবং এতটা অযৌক্তিক হয়ো না। “উপাসনালয়” সর্বদাই ঈশ্বরের অধিকৃত, এবং মানুষের তা দখল করা উচিত নয়। সংক্ষেপে, ন্যায়পরায়ণতার উপর বেশি ও আবেগের উপর কম মনোযোগ দাও। দৈহিক কামনাকে সম্পূর্ণ বর্জন করাই শ্রেয়। বাস্তবতা সম্পর্কে বেশি এবং জ্ঞান সম্পর্কে কম কথা বল; সবচেয়ে ভালো হল কিছু না বলে চুপ করে থাকা। অনুশীলনের পথের বিষয়ে অধিক কথা বল, এবং মূল্যহীন গর্ব কম কর। এখনই অনুশীলন শুরু করা ভাল।

মানুষের কাছে ঈশ্বরের চাহিদা এত কিছু বেশি নয়। যতদিন মানুষ অধ্যবসায় এবং আন্তরিকতা সহ অনুশীলন করবে, তারা “উত্তীর্ণ” হতে পারবে। সত্য বলা বলতে গেলে, সত্যকে বোঝা, সত্যের জ্ঞান এবং সত্যের উপলব্ধি অর্জন করা সত্য অনুশীলনের চেয়ে আরও বেশি জটিল। প্রথমে তুমি যতটা বোঝ ততটা অনুশীলন কর এবং তুমি যা বুঝেছ তা অনুশীলন কর। এইভাবে, তুমি ধীরে ধীরে সত্যের প্রকৃত জ্ঞান এবং উপলব্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে। এইগুলিই হল সেই পদক্ষেপ এবং উপায় যার দ্বারা পবিত্র আত্মা কাজ করেন। এভাবে আনুগত্যের অনুশীলন না করলে কিছুই অর্জন হবে না। তুমি যদি সর্বদা তোমার নিজের ইচ্ছা মতো কাজ কর, এবং আনুগত্য অনুশীলন না কর, তাহলে কি পবিত্র আত্মা তোমার মধ্যে কাজ করবেন? পবিত্র আত্মা কি তোমার ইচ্ছা মত কাজ করেন? নাকি তিনি তোমার ঘাটতি অনুযায়ী এবং ঈশ্বরের কথার ভিত্তিতে কার্য করেন? এটি তোমার কাছে পরিষ্কার না হলে, তুমি সত্যের বাস্তবতায় প্রবেশ করতে পারবে না। এরকম কেন হয় যে অধিকাংশ মানুষ ঈশ্বরের বাক্যগুলি পাঠ করে অনেক প্রচেষ্টা ব্যয় করলেও, তাদের শুধু জ্ঞানই থাকে এবং পরবর্তীতে তারা একটি বাস্তব পথ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারে না? তুমি কি মনে কর যে জ্ঞানের অধিকারী হওয়া মানেই সত্যের অধিকারী হওয়া? এটা কি বিভ্রান্ত দৃষ্টিকোণ নয়? তুমি একটি সৈকতে যত বালির দানা আছে তত জ্ঞানের কথা বলতে সক্ষম, তবুও সেগুলির কোনটিতেই কোন বাস্তব পথ নেই। তুমি কি এটা করে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছ না? তুমি কি একটি ফাঁকা প্রদর্শনই করছ না, যাকে সমর্থন করার মতো কোন উপাদানই নেই? এমন সব আচরণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর! তত্ত্ব যত উচ্চমার্গের হয় তা তত বেশি বাস্তবতা বিবর্জিত হয়, আর মানুষকে বাস্তবের পথে নিয়ে যেতে তা তত বেশি অক্ষম হয়। তত্ত্ব যত বেশি উচ্চমার্গের হবে, তোমাকে তত বেশি তা ঈশ্বরকে অস্বীকার ও তাঁর বিরোধিতা করাবে। আধ্যাত্মিক তত্ত্বকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দিও না—এর কোন উপযোগিতা নেই! কিছু কিছু মানুষ কয়েক দশক ধরে আধ্যাত্মিক তত্ত্ব নিয়ে কথা বলে আসছে, এবং তারা আধ্যাত্মবাদের অতিমানব হয়ে উঠেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত, তারা এখনও সত্যের বাস্তবতায় প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তারা ঈশ্বরের বাক্যসমূহের অনুশীলন বা অভিজ্ঞতা লাভ করেনি, তাদের অনুশীলনের কোন নীতি বা পথ নেই। এই ধরনের মানুষ নিজেরাই সত্যের বাস্তবতা বিহীন, তাহলে তারা কীভাবে অন্য মানুষদের ঈশ্বরে বিশ্বাসের সঠিক পথে আনতে পারে? তারা শুধু পারে মানুষকে বিপথে নিয়ে যেতে। এতে কি অন্যের এবং নিজেদের ক্ষতি হচ্ছে না? অন্ততপক্ষে, তুমি অবশ্যই তোমার ঠিক সামনে থাকা বাস্তব সমস্যাগুলির সমাধান করতে সক্ষম হবে। অর্থাৎ, তুমি অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্যগুলির অনুশীলন ও অনুভব করতে সমর্থ হবে এবং সত্যকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারবে। একমাত্র এটাই হল ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য। তুমি যখন জীবনে প্রবেশ করেছো একমাত্র তখনই তুমি ঈশ্বরের হয়ে কাজ করার যোগ্য এবং শুধুমাত্র যখন তুমি আন্তরিকভাবে ঈশ্বরের জন্য নিজেকে ব্যয় কর তখনই তুমি ঈশ্বরের দ্বারা অনুমোদিত হতে পার। সবসময়ে বড় বড় বিবৃতি দেবে না এবং জমকালো সব তত্ত্বের কথা বলবে না; এগুলি বাস্তব নয়। মানুষ যাতে তোমার প্রশংসা করে তার জন্য আধ্যাত্মিক তত্ত্বের বিষয়ে সাড়ম্বরে নিজের মত প্রকাশ করাটা কিন্তু ঈশ্বরের সাক্ষ্য দেওয়া নয়, বরং নিজেকে জাহির করা। এটি মানুষের পক্ষে একেবারেই উপকারী নয় এবং এতে তাদের নৈতিক উন্নতি হয় না, এবং তা সহজেই তাদের সত্যের অনুশীলনে মনোযোগ না দিয়ে আধ্যাত্মিক তত্ত্বের উপাসনা করার দিকে চালিত করতে পারে—এবং এটি কি মানুষকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে না? এভাবে চলতে থাকলে অনেক শূন্যগর্ভ তত্ত্ব এবং নিয়মের জন্ম হবে যা মানুষকে আটকে রাখবে এবং ফাঁদে ফেলবে; এটা সত্যিই মর্মান্তিক। তাই যা বাস্তব তা আরও বেশি করে বল, যে সমস্যাগুলির বাস্তব অস্তিত্ব আছে তাদের সম্পর্কে আরও কথা বল, বাস্তব সমস্যা সমাধানের জন্য সত্যের অনুসন্ধানে আরও সময় ব্যয় কর; এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্য অনুশীলন রপ্ত করতে দেরি কোরো না: এটি বাস্তবে প্রবেশের পথ। অন্যদের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসাবে গ্রহণ কোরো না এবং অন্যদের প্রশংসা পাওয়ার জন্য সেগুলি ঊর্ধ্বে তুলে ধোরো না। জীবনে তোমার নিজস্ব প্রবেশ থাকতেই হবে। শুধুমাত্র সত্যের অনুশীলন এবং ঈশ্বরের আনুগত্য স্বীকারের মাধ্যমেই তুমি জীবনে প্রবেশ করতে পারবে। প্রত্যেক ব্যক্তির এর অনুশীলন করা এবং এর প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

তুমি যা আলাপ-আলোচনা কর তা যদি মানুষকে গ্রহণ করার মতো একটা পথ দিতে পারে, তাহলে তা তোমার বাস্তবতার অধিকারী হওয়ার সমার্থক। তুমি যাই বল না কেন, তোমাকে অবশ্যই মানুষকে অনুশীলনের পথে নিয়ে আসতে হবে এবং তাদের সকলকে এমন একটি পথ দিতে হবে যা তারা অনুসরণ করতে পারে। তাদের শুধুমাত্র জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকতে দিও না; আরো গুরুত্বপূর্ণ হল গ্রহণ করার মত একটি পথ থাকা। মানুষকে যদি ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে তারা অবশ্যই ঈশ্বরের কাজে তাঁর দ্বারা নির্দেশিত পথে চলবে। অর্থাৎ, ঈশ্বরে বিশ্বাস করার প্রক্রিয়া হল পবিত্র আত্মার নির্দেশিত পথে চলার প্রক্রিয়া। তদনুসারে, তোমার অবশ্যই চলার মতো একটি পথ থাকতে হবে, তা সে যাই হোক না কেন, এবং তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়ার পথে পা বাড়াতে হবে। খুব বেশি পিছিয়ে পড়ো না এবং অনেক বিষয় নিয়ে নিজেকে উদ্বিগ্ন কোরো না। যদি তুমি বাধা সৃষ্টি না করে ঈশ্বরের প্রদর্শিত পথে চলো তবেই তুমি পবিত্র আত্মার কার্য লাভ করতে এবং প্রবেশের পথের অধিকারী হতে পারবে। শুধুমাত্র এটিই ঈশ্বরের অভিপ্রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া এবং মানবতার দায়িত্ব পালন করা হিসাবে গণ্য হয়। এই ধারার একজন হিসাবে, প্রত্যেক মানুষের তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা উচিৎ, মানুষের যা করণীয় তা বেশি করে করা উচিত এবং স্বেচ্ছাচারীর মতো কাজ করা উচিৎ নয়। যেসব মানুষ কাজ করে চলেছে তাদের অবশ্যই নিজেদের বাক্যগুলি স্পষ্ট করতে হবে, যারা অনুসরণ করছে তাদের অবশ্যই কষ্ট সহ্য করার এবং অনুগত থাকার উপর আরও বেশি করে মনোযোগ দিতে হবে এবং সবাইকেই তাদের নিজ নিজ ভূমিকায় অবিচল থাকতে হবে এবং নিয়ম লঙ্ঘন করলে চলবে না। তাদের কীভাবে অনুশীলন করতে হবে এবং তাদের কী কার্য সম্পাদন করতে হবে প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে তার স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিৎ। পবিত্র আত্মার দ্বারা প্রদর্শিত পথ গ্রহণ করো; বিপথগামী হয়ো না বা ভুল কোরো না। আজকের কাজটি তোমাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করতে হবে। আজকের কার্যপদ্ধতির মধ্যে প্রবেশ করাই তোমাদের অনুশীলন করা উচিত। তোমাকে প্রথমে এই মধ্যেই প্রবেশ করতে হবে। অন্য কোনো বিষয়ে আর বাক্যব্যয় কোরো না। আজ ঈশ্বরের গৃহের কাজ করা তোমাদের দায়িত্ব, আজকের কাজের পদ্ধতিতে প্রবেশ করা তোমাদের কর্তব্য, এবং আজকের সত্য অনুশীলন করা তোমাদের দায়ভার।

পাদটীকা:

ক. প্রধান মন্ত্রীর আত্মা: একটি ধ্রুপদী চীনা প্রবাদ যা উদারমনা ও সহৃদয় ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হত।

পূর্ববর্তী: ঈশ্বরের সাথে তোমার সম্পর্ক কেমন?

পরবর্তী: তোমার জানা উচিত যে বাস্তববাদী ঈশ্বরই স্বয়ং ঈশ্বর

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

পরিশিষ্ট ২ ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারক

মানব প্রজাতির সদস্য এবং ধর্মপ্রাণ খ্রীষ্টান হিসাবে আমাদের সকলের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হলো নিজেদের দেহ ও মনকে ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বে নিযুক্ত...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন