চিনদেশের মনোনীত মানুষরা ইসরায়েলের কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম নয়

দাউদের বংশ ছিল একটি পরিবার যা আদিতে যিহোবার অঙ্গীকার ও উত্তরাধিকার লাভ করেছিল। আদতে তা ছিল মনোনীত মানুষদের অন্তর্ভুক্ত ইসরায়েলের একটি জনগোষ্ঠী। এই সময় যিহোবা ইসরায়েলবাসীদের উদ্দেশ্যে একটি আইন জারি করেন যাতে বলা হয় দাউদের বংশের অন্তর্ভুক্ত সকল ইহুদি মানুষ – ওই বংশে যারা জাত – তারা তাঁর উত্তরাধিকার লাভ করবে। পরবর্তীকালে তারাই শতগুণ প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিল এবং প্রথমজাত পুত্রদের মর্যাদা লাভ করেছিল; সে সময় তারা সমস্ত ইসরায়েলবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে সমুন্নত মানুষ ও সকল ইসরায়েলী বংশের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানাধিকারী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছিল, এবং তারা যাজকীয় পোশাক ও মুকুটে ভূষিত হয়ে মন্দিরে সরাসরি যিহোবার সেবা করত। যিহোবা তখন তাদের বিশ্বস্ত ও সন্তসুলভ সেবক বলে আখ্যাত করেছিলেন, এবং তারা ইসরায়েলের অন্য সকল গোষ্ঠীর শ্রদ্ধা অর্জন করেছিল। এইভাবে, সেই সময় তাদের সকলকে সম্ভ্রমসহকারে প্রভু বলে উল্লেখ করা হতো – এসবই ছিল বিধানের যুগে যিহোবার কার্য। বর্তমানেও, তারা মন্দিরে যিহোবার উদ্দেশ্যে একই রকম সেবা প্রদান করে চলেছে, তাই তারা হল যিহোবার দ্বারা সিংহাসনে অভিষিক্ত চিরকালীন রাজা। তাদের মুকুট কেউ কেড়ে নিতে পারে না এবং তাদের সেবার কেউ কোনো পরিবর্তন করতে পারে না, কারণ উৎসসূত্রে তারা দাউদের বংশের অন্তর্গত; যিহোবা তাদের উপর এমনই অর্পণ করেছেন। তোমরা যে উৎসসূত্রে দাউদের বংশের সদস্যভুক্ত নও তার কারণ তোমরা ইসরায়েলের মানুষ নও, পরিবর্তে তোমরা ইসরায়েলের বাইরের অ-ইহুদি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। উপরন্তু, তোমাদের প্রকৃতি যিহোবার উপাসনা করা নয়, বরং তাঁর বিরোধিতা করা, তাই তোমাদের মর্যাদা, সহজাত ভাবেই, দাউদের বংশের মানুষদের থেকে আলাদা, এবং যারা আমার উত্তরাধিকার লাভ করবে তোমরা সেই ব্যক্তি নও, যারা শতগুণ লাভ করবে তোমরা সে-ই সব মানুষ তো একেবারেই নও।

সেই সময় ইসরায়েল অনেক ভিন্ন-ভিন্ন বংশ ও অনেক ভিন্ন-ভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত ছিল, কিন্তু তারা সবাই ছিল মনোনীত মানুষ। তবে, ইসরায়েল অন্য রাষ্ট্রদের থেকে এই অর্থে পৃথক যে এর নাগরিকবৃন্দ গোষ্ঠী অনুসারে শ্রেণীবিভক্ত, যিহোবার সম্মুখে তাদের স্থিতি ও যে ভূমিতে প্রত্যেক মানুষ অবস্থান করে তা-ও একইভাবে শ্রেণীবিন্যস্ত। ইসরায়েল ভিন্ন অন্য দেশে কেউ একজন আকস্মিকভাবে দাউদ, যাকোব বা মোশির বংশের সদস্যপদের দাবি করতে পারে না। সেটা তথ্যবিরুদ্ধ দাবি হবে – ইসরায়েলের জনগোষ্ঠীদের খেয়ালখুশি মতো ভুলভাবে অন্য দেশের বলে চিহ্নিত করা যায় না। মানুষ প্রায়শই দাউদ, অব্রাম, এষৌ প্রভৃতি নামের অপব্যবহার করে, কিম্বা তারা বলে: “আমরা এখন ঈশ্বরকে স্বীকার করেছি, তাই আমরা যাকোবের বংশের অন্তর্ভুক্ত।” এই ধরণের কথা বলা ভিত্তিহীন মনুষ্য-সুলভ যুক্তপ্রদর্শন ছাড়া আর কিছু নয়; এটা প্রত্যক্ষভাবে যিহোবার কাছ থেকে আসে না, কিম্বা আমার নিজস্ব ধারণা থেকেও আসে না। এটা বিশুদ্ধভাবে মনুষ্যোচিত নির্বোধ কথাবার্তা! ঠিক গালগল্প-ফাঁদা বক্তাদের মতো মানুষ ভিত্তিহীনভাবে নিজেদের দাউদের বংশধর বা যাকোবের পরিবারের অংশ বলে মনে করে, এবং নিজেদেরকে তারা তেমন হওয়ার যোগ্য বলেও বিশ্বাস করে। মানুষ কি জানে না যে দাউদের বংশের মানুষজনরা বহুদিন আগেই যিহোবার দ্বারা অভিষিক্ত হয়েছিল, যে দাউদ স্বয়ং নিজেকে রাজপদে বসান নি? তারপরেও অনেক মানুষ আছে যারা নির্লজ্জের মতো নিজেদের দাউদের বংশের উত্তরসূরী বলে দাবি করে – মানুষ এতটাই মূর্খ! সত্যটা হল ইসরায়েলের ব্যাপার-স্যাপারের সঙ্গে অ – ইহুদিদের কোনো সম্পর্ক নেই – এই দুটি সম্পূর্ণভাবে অসম্পর্কিত, দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ইসরায়েলের বিষয়সমূহ, যা অ-ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্করহিত, তা শুধুমাত্র ইসরায়েলের মানুষজনের প্রসঙ্গেই প্রযোজ্য, এবং, একইভাবে, অ-ইহুদিদের মধ্যে যে কার্য বর্তমানে সম্পাদিত হচ্ছে তার সঙ্গে ইসরায়েলের মানুষজনের কোনো সম্পর্ক নেই। অ-ইহুদিদের সম্বন্ধে যা-কিছু বলা হয় তা নির্ধারিত হয় আমি এখন যা বলছি তার দ্বারা, এবং ইসরায়েলে সম্পাদিত কার্যকে অ-ইহুদিদের মধ্যের কার্যের “পুর্বসূচনা” বলে গ্রহণ করা যায় না। তা যদি হতো তাহলে কি ঈশ্বরকে খুবগতানুগতিক দেখাতো না? কেবলমাত্র কার্য যখন অ-ইহুদিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তখনই তাদের বিষয়ে যা-কিছু বলা হয় বা তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তাই অতীতের মতো আবার মানুষের এ-জাতীয় উক্তি যে “আমরা দাউদের বংশধর” বা “যীশু দাউদের পুত্র” আরো বেশি করে উদ্ভট। আমার কার্য খণ্ড-খণ্ড অংশে শ্রেণীবদ্ধ। আমি কখনো “হরিণকে ঘোড়া বলবো” না; বরং এই কার্য তার আনুক্রমিক শৃঙ্খলা অনুসারে বিভক্ত।

পূর্ববর্তী: মানুষের সহজাত পরিচয় এবং তার মূল্য: সেগুলি প্রকৃতপক্ষে কীরকম?

পরবর্তী: আশীর্বাদ সম্বন্ধে তোমাদের উপলব্ধি কী?

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন