একজন প্রকৃত মানুষ হওয়া বলতে কী বোঝায়

মানুষকে পরিচালনা করা সবসময়ই আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এ ছাড়াও, যখন আমি পৃথিবী সৃষ্টি করি তখন মানুষকে জয় করাও নির্ধারণ করি। মানুষ না-ও জানতে পারে যে অন্তিম সময়ে আমি তাদের সম্পূর্ণভাবে জয় করব, অথবা যে মানবজাতির মধ্যে যারা বিদ্রোহী তাদের জয় করাটা আমার শয়তানকে পরাভূত করার প্রমাণ। কিন্তু আমার শত্রুরা যখন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল, তখন ইতিমধ্যেই আমি বলেছিলাম, শয়তান যাদের কব্জা করে নিজের সন্তান বানিয়ে ফেলেছে, অনুগত ভৃত্য বানিয়ে ফেলেছে যারা তার ঘর পাহারা দেয় তাদের আমি জয় করব। জয় করার আদি অর্থ পরাভূত করা, অপদস্থ করা; ইসরায়েলবাসীদের ভাষায় এর মানে সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত করা, ধ্বংস করা এবং আমার বিরুদ্ধে আবার কোনো প্রতিরোধ গড়ার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া। কিন্তু আজ, তোমাদের মধ্যে যখন ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হল জয় করা। তোমাদের জানা উচিৎ, যারা দুষ্ট মানুষ আমার চিরকালের অভিপ্রায় তাদের সম্পূর্ণ নির্মূল ও বিপর্যস্ত করা, যাতে আর কখনো তারা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করতে পারে, আমার কার্যে হস্তক্ষেপ বা উপদ্রব করার দুঃসাহস দেখানো তো দূর অস্ত। তাই, শুধু মানুষের কথা ধরলে, শব্দটির মানে দাঁড়ায় জয় করা। পরিভাষাগত অর্থ যা-ই হোক না কেন, আমার কার্য হল মানবজাতিকে পরাজিত করা। কারণ, এটা যদিও ঠিক যে মানবজাতি আমার ব্যবস্থাপনার একটি সংযোজন, কিন্তু আরো সঠিক ভাবে বললে মানবজাতি আমার শত্রু ছাড়া আর কিছু নয়। মানবজাতিই সেই দুষ্ট যে আমার বিরোধিতা করে ও আমায় অমান্য করে। মানবজাতি আমার দ্বারা অভিশপ্ত দুষ্টের বংশধর ভিন্ন অন্য কিছু নয়। যে শ্রেষ্ঠ দেবদূত আমার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, মানবজাতি তার সন্তানসন্ততি ছাড়া আর কিছু নয়। মানবজাতি সেই শয়তানের উত্তরাধিকার ছাড়া আর কিছু নয়, যে বহুদিন আগে আমার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হবার পর থেকে আমার আপোসহীন শত্রুতে পরিণত হয়েছে। যেহেতু সমগ্র মানবজাতির ঊর্ধ্বে যে আকাশ তা ঘোলাটে ও অন্ধকারময়, স্বচ্ছতার লেশ মাত্র নেই, এবং মানব-জগত এমন ঘোর আঁধারে নিমজ্জিত যে সেখানে বসবাসকারী কেউ তার মুখের সামনে প্রসারিত তার হাতটুকুও দেখতে পায় না, চোখ তুলে তাকালে সূর্যকেও দেখে না। তার পায়ের তলার রাস্তা কর্দমাক্ত ও খানাখন্দে ভরা, পেঁচালো ও আঁকাবাঁকা; পুরো জায়গা শবদেহে ছেয়ে গেছে। অন্ধকার কোণগুলো সব দেহাবশেষে ঠাসা, আর শীতল ও ছায়াচ্ছন্ন কোণগুলিতে আস্থানা গেড়েছে দানবদের দল। মানুষের এই পৃথিবীর সর্বত্র দানবেরা কাতারে কাতারে যাওয়া-আসা করে। নোংরায় আবিল যত সব জন্তুর বংশধররা তুমুল যুদ্ধে বাঁধা পড়ে আছে, আর তাদের হুঙ্কারে আতঙ্কে কেঁপে উঠছে অন্তরাত্মা। এই রকম একটা সময়ে, এই ধরণের একটা বিশ্বে, এই “জাগতিক স্বর্গরাজ্যে”, জীবনের পরম সুখ খুঁজতে কোথায় যাবে? জীবনের গন্তব্যকে খুঁজে নিতে কোথায় যেতে পারে? যে মানবজাতি বহু পূর্বেই শয়তানের পায়ের তলায় পিষ্ট হয়েছে, প্রথম থেকেই তা শয়তানের চরিত্রধারী এক অভিনেতা–তার চেয়েও বড় কথা, মানবজাতি শয়তানের মূর্ত রূপ, এবং তা সুস্পষ্টভাবে শয়তানের সাক্ষ্য বহনকারী প্রমাণের ভূমিকা পালন করে। এই যে মানব জাতি, এই রকম এক গুচ্ছ অধঃপতিত জঞ্জাল, এই ভ্রষ্ট মানব পরিবারের এমন বংশধর, কী করে সে ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহন করতে পারে? কোথা থেকে আসে আমার মহিমা? কোথায় শুরু করবে আমার সাক্ষ্যের কথা বলা? কারণ যে মানুষকে বহু দিন আগে আমি সৃজন করেছিলাম, আমার মহিমা ও জীবন-যাপন দিয়ে যাদের পূর্ণ করেছিলাম, আমার প্রতিপক্ষ ইতিমধ্যেই তার দখল নিয়েছে, তাকে নষ্ট করে দিয়েছে; মানুষের পচন ধরিয়ে সে শত্রু এখন আমার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আমার গৌরব সে কেড়ে নিয়েছে, আর যা দিয়ে সে মানবজাতিকে সম্পৃক্ত করেছে তা হল শয়তানের কদর্যতা-মিশ্রিত গরল ও হিতাহিত নির্ধারক জ্ঞানবৃক্ষের ফলের রস। শুরুতে আমি মানব সৃজন করি, অর্থাৎ মানবের আদিপুরুষ আদমকে সৃষ্ট করি। তাকে আকার ও প্রতিমূর্তি দিয়ে ভূষিত করা হয়েছিল, সে ছিল শৌর্য ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর, এবং, তদুপরি, আমার মহিমা সমন্বিত। যখন আমি মানুষ সৃষ্টি করেছিলাম সে ছিল এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। এরপর, আদমের শরীর থেকে ইভ-কে তৈরি করা হল, সে-ও মানুষের পূর্বসূরী, আর তাই আমার সৃজিত মানুষ পরিপূর্ণ ছিল আমার প্রাণবায়ুতে, ভরপুর ছিল আমার মহিমায়। আদম বস্তুত জন্ম নিয়েছিল আমার হস্ত থেকে এবং সে ছিল আমার আমার প্রতিরূপ। তাই “আদম” কথাটির আদি অর্থ ছিল আমার দ্বারা সৃজিত মানবসত্তা, যে আমার প্রাণশক্তিতে সম্পৃক্ত, আমার মহিমায় অভিসিঞ্চিত, আকার ও প্রতিমূর্তি বিশিষ্ট, আত্মা ও নিঃশ্বাস সমন্বিত। সে-ই একমাত্র সৃজিত সত্তা, যে একটি আত্মার অধিকারী, যে আমার প্রতিনিধিত্ব করতে, আমার প্রতিরূপ বহন করতে এবং আমার নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে সমর্থ। শুরুতে, ইভ ছিল প্রাণবায়ুর অধিকারী দ্বিতীয় মানুষ যার সৃজন হয়েছিল আমার নির্দেশে, তাই “ইভ” শব্দের আদি অর্থ এক সৃজিত সত্তা যে আমার মহিমা অব্যাহত রাখবে, যে আমার প্রাণশক্তি দ্বারা পূর্ণ এবং আমার গৌরবের দ্বারা ভূষিত। ইভ তৈরি হয় আদমের থেকে, তাই সেও আমার প্রতিরূপ বহন করে, কারণ সে আমার অবয়বে নির্মিত দ্বিতীয় মানুষ। “ইভ” শব্দটির আদি অর্থ আত্মা, অস্থি, মাংস বিশিষ্ট এক জীবন্ত মানুষ, মানবজাতির মাঝে আমার দ্বিতীয় সাক্ষ্য তথা আমার দ্বিতীয় প্রতিরূপ। তারা মানবের পূর্বসূরী, মানুষের শুদ্ধ ও মূল্যবান গুপ্তধন, এবং শুরু থেকেই আত্মা-বিভূষিত জীবন্ত সত্তা। কিন্তু শয়তান মানবজাতির পূর্বসূরীর অপত্যদের পদদলিত ও বন্দী করেছে, মনুষ্য জগতকে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে, এবং এমন ভাবে করেছে যে এই অপত্যরা আর আমার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। এর চেয়েও ঘৃণ্য ব্যাপার হল, শয়তান একদিকে যেমন মানুষকে ভ্রষ্ট ও পদদলিত করছে, অন্যদিকে নিষ্ঠুরের মতো ছিনিয়ে নিচ্ছে আমার মহিমা, আমার সাক্ষ্য, যে জীবনীশক্তি তাদের আমি অর্পণ করেছিলাম, যে প্রাণবায়ু ও জীবন তাদের মধ্যে বাহিত করেছিলাম, মনুষ্য-জগতে আমার সব গৌরব, আর হৃদয়ের সব রক্ত মানুষের জন্য যা আমি ব্যয় করেছি। মনুষ্যজাতি আর আলোতে নেই, আমি যা-কিছু তাদের অর্পণ করেছিলাম মানুষ তার সব হারিয়েছে, যে মহিমা আমি দান করেছিলাম মানুষ তা ছুঁড়ে ফেলেছে। তারা কেমন করে স্বীকার করতে পারে যে আমি সকল সৃজিত সত্তার প্রভু? এখনও কীভাবে তারা স্বর্গে আমার অস্তিত্বে বিশ্বাস রেখে যেতে পারে? কেমন করে তারা এই বিশ্বে আমার মহিমার উদ্ভাস আবিষ্কার করতে পারে? এই দৌহিত্র-দৌহিত্রীরা ঈশ্বরকে কেমন করে গ্রহণ করতে পারে, তাদের নিজেদের পূর্বপুরুষরা যে ঈশ্বরকে সৃজনকর্তা প্রভু জ্ঞানে পূজা করত? করুণার যোগ্য এইসব দৌহিত্র-দৌহিত্রী উদার হস্তে শয়তানকে “উপহার দিয়েছে” মহিমা, প্রতিকৃতি ও সাক্ষ্য যা আদম ও ইভকে আমি প্রদান করেছিলাম; উপহার দিয়েছে সেই জীবন যা মনবজাতিকে আমি প্রদান করেছিলাম এবং যার উপর তাদের অস্তিত্ব নির্ভর করে; শয়তানের উপস্থিতি বিষয়ে এদের ন্যূনতম মাথাব্যথা নেই, অথচ আমার সকল মহিমা ওর হাতে তুলে দেয়। এটাই কি “অপদার্থ” বিশেষণটির উৎস নয়? এরকম একটা মানবজাতি, এমন দুষ্ট দানবকুল, এইসব চলমান শবদেহ, এসকল শয়তানের প্রতিমূর্তি, আমার এমন শত্রু কীভাবে আমারই মহিমার দ্বারা আবিষ্ট হতে পারে? আমার মহিমা আমি পুনরুদ্ধার করব, মানুষের মধ্যে যে সাক্ষ্য বিদ্যমান তা-ও আমি পুনরধিকার করব, পুনরধিকার করব সেই সবকিছু যা একসময় আমার দখলে ছিল এবং অনেক দিন আগে যা আমি মানুষকে অর্পণ করেছিলাম–মানবজাতিকে সর্বতোভাবে আমি জয় করব। তবে, তোমার জানা উচিৎ, যে মানুষকে আমি সৃষ্টি করেছিলাম তারা ছিল পুণ্যাত্মা, যারা আমার প্রতিরূপ ও আমার মহিমা বহন করেছিল। তারা শয়তানের বশীভূত ছিল না, শয়তানের দ্বারা পদদলিতও তাদের হতে হয়নি, বরং বিশুদ্ধভাবে তারা আমারই প্রতিভাস ছিল, শয়তানের হলাহলের লেশমাত্র প্রভাব থেকে তারা মুক্ত ছিল। আর তাই, সকল মানবকে অবগত করি, আমি শুধু তাদেরই চাই যারা আমার নিজের হাতে সৃজিত, সেই পুণ্যাত্মা ব্যক্তিদের চাই যাদের আমি ভালোবাসি এবং যারা অন্য কোনো সত্তার অধিকৃত নয়। উপরন্তু, তাদের নিয়ে আমি গর্ব বোধ করি, তাদেরই আমি আমার মহিমা মনে করি। কিন্তু সেই মানবজাতিকে আমি চাই না যা শয়তানের দ্বারা ভ্রষ্ট হয়েছে, যা আজ শয়তানের কুক্ষিগত, যা আজ আর আমার আদি সৃষ্টি নয়। যেহেতু আমার অভিপ্রায় আমার সেই মহিমাকে পুনরুদ্ধার করা যা মনুষ্য-জগতে বিদ্যমান, তাই আমার শয়তানকে পরাভূত করার গৌরবের প্রমাণ হিসেবে মনুষ্যলোকের জীবিত বাসিন্দাদের আমি সম্পূর্ণভাবে জয় করব। আমার নিজের সারবস্তু হিসেবে, আমার উপভোগের সামগ্রী হিসেবে আমি শুধু আমার সাক্ষ্যই গ্রহণ করি। এটাই আমার অভিলাষ।

মানবজাতি আজ যেখানে আছে সেখানে পৌঁছাতে ইতিহাসের হাজার হাজার বছর লেগে গেছে, তবু যে মানবজাতিকে শুরুতে আমি সৃজন করেছিলাম অনেকদিন আগেই তা অধঃপতনের অতলে তলিয়ে গেছে। মানবতা আর সেই মানবতা নেই যা আমি কামনা করেছিলাম, আর আমার মতে তাই মানুষ আর মানবজাতি নামের যোগ্য নয়। তারা আসলে শয়তানের কুক্ষিগত মানবজাতির গাদ, তারা চলমান গলিত শবদেহ যাদের অন্তরে শয়তান বসবাস করে, যা দিয়ে শয়তান নিজেকে আবৃত করে। আমার অস্তিত্বের উপর মানুষের কোনো ভরসা নেই, তারা আমার অভ্যাগমন কামনাও করে না। মানবসম্প্রদায় শুধু নিমরাজি হয়ে আমার অনুরোধে সাড়া দেয়, সাময়িকভাবে তাতে সম্মত হয়, জীবনের সুখদুঃখ আন্তরিকভাবে আমার সাথে ভাগ করে নেয় না। যেহেতু আমায় তারা দুর্জ্ঞেয় মনে করে তাই আমার দিকে তাকিয়ে অনিচ্ছুক হাসি হাসে, তাদের মনোভাব ক্ষমতাসীন ব্যক্তির পরিতোষ বিধানের মতো আন্তরিকতাশূণ্য, কারণ আমার কার্য সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণা নেই, আমার বর্তমান অভিপ্রায়ের বিষয়ে ধারণা তো তাদের আরোই কম। আমি তোমাদের অকপট ভাবে বলছি: যখন সময় হবে, আমায় যে শ্রদ্ধা করে তার যন্ত্রণাভোগ তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি সহনীয় হবে। আমার প্রতি তোমাদের বিশ্বাসের মাত্রা প্রকৃতপক্ষে যোবের থেকে বেশি নয়–এমনকি ইহুদি ফরীশীদের বিশ্বাসও তোমাদের অপেক্ষা বেশি–আর তাই, যদি অগ্নির দিন নেমে আসে, তোমাদের কষ্টভোগ ফরীশীরা যখন যীশুর দ্বারা তিরস্কৃত হয়েছিল তাদের চেয়ে আরো তীব্র হবে, যে ২৫০ জন নেতা মোজেসের বিরোধিতা করেছিল এবং যে সোডম নগরী জ্বলন্ত আগুনের নিদাঘী শিখায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল তাদের চেয়েও তোমাদের যন্ত্রণা হবে আরো দঃসহ। মোজেস যখন প্রস্তরে আঘাত করেছিল এবং যিহোবা-প্রদত্ত ধারাস্রোত বিনির্গত হয়েছিল, তা তার বিশ্বাসের কারণে। ডেভিড যখন যিহোবা অর্থাৎ আমার প্রশস্তিতে মনের আনন্দে বীনা বাজিয়েছিল, তা-ও ছিল তার বিশ্বাসের কারণে। যোব যখন তার অপরিমিত ধনসম্পদ ও গবাদি পশুদের–যে পশুরা সমগ্র পার্বত্যপ্রদেশ ছেয়ে ফেলত–হারিয়ে ফেলেছিল, এবং তার সারা শরীর যন্ত্রণাদায়ক ফোঁড়ায় ভরে গিয়েছিল, এটাও ছিল তার বিশ্বাসের কারণে। সে যখন আমার অর্থাৎ যিহোবার কন্ঠস্বর শুনতে পেয়েছিল এবং আমার অর্থাৎ যিহোবার মহিমা দেখতে পেয়েছিল, তা-ও ছিল তার বিশ্বাসের কারণে। পিতর যে যীশু খ্রীষ্টকে অনুসরণ করতে পেরেছিল, তারও কারণ নিহিত আছে তার বিশ্বাসে। আমার নিমিত্ত সে যে ক্রুশে পেরেকবিদ্ধ হতে পেরেছিল ও গৌরবময় সাক্ষ্য দিয়েছিল, তার মূলেও ছিল তার বিশ্বাস। যোহন যখন মানব-পুত্রের মহিমান্বিত প্রতিরূপ দর্শন করে, এর-ও হেতু ছিল তার বিশ্বাস। সে যখন অন্তিম সময়ের দৃশ্য অবলোকন করে–সে তো তার বিশ্বাসের কারণে বটেই। যে কারণে অসংখ্য অইহুদি রাষ্ট্র আমার উদ্ঘাটন লাভ করেছে এবং জানতে পেরেছে যে মানুষের মধ্যে কার্য সম্পাদনের জন্য আমি স্থূলদেহে ফিরে এসেছি, সেও তাদের বিশ্বাসের মধ্যেই নিহিত। যে সকল ব্যক্তি আমার রূঢ বাক্যের দ্বারা আহত হয়, অথচ তা থেকেই সান্ত্বনা ও পরিত্রাণ পায়–এও কি তাদের বিশ্বাসের কারণেই ঘটে না? যারা আমায় বিশ্বাস করে অথচ দুঃখকষ্ট ভোগ এড়াতে চায়, তারা কি পৃথিবীর দ্বারাও প্রত্যাখ্যাত হয়নি? বিচারের যন্ত্রণা থেকে পালিয়ে বাঁচতে যারা আমার বাক্যের পরিধির বাইরে থাকে, তারা সবাই কি এই পৃথিবীতে দিশাহারা হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে না? এরা সবাই হেমন্তের খসে-পড়া পাতার মতো এখানে-ওখানে উড়ে বেড়াচ্ছে, বিশ্রামের কোনো স্থান নেই, আমার সান্ত্বনা বাক্য শ্রবণের অবকাশ তো আরোই নেই। যদিও আমার শাস্তিপ্রদান ও পরিমার্জনা এদের ক্ষেত্রে খাটে না, এরা কি স্থান থেকে স্থানান্তরে ভ্রাম্যমান ভিখারি নয়, স্বর্গরাজ্যের বাইরের পথে-পথে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছে? পৃথিবী কি সত্যিই তোমার বিশ্রামের জায়গা? আমার দণ্ড এড়িয়ে পৃথিবীর কাছ থেকে তুমি কি সত্যিই এক-চিলতে পরিতৃপ্তির হাসিও অর্জন করতে পার? তোমার ক্ষণিকের উপভোগ দিয়ে সত্যিই কি তুমি তোমার হৃদয়ের শূণ্যস্থান পূরণ করতে পার, যে শূণ্যস্থান গোপন করা যায় না? তোমার পরিবারের প্রত্যেককে তুমি বোকা বানাতে পার, কিন্তু আমায় কখনো বোকা বানাতে পারবে না। তোমার বিশ্বাস যৎসামান্য বলে তুমি আজ, এখনও, জীবনের কোনো আনন্দ খুঁজে পেতে অক্ষম। তোমায় আমি পরামর্শ দিই: মানুষের পক্ষে প্রায় অসহনীয় সকল কষ্ট ভোগ ক’রে, লৌকিক মামুলি কাজে ব্যস্ত থেকে সারাটা জীবন ব্যয় করার চেয়ে, তোমার অর্ধেক জীবন আন্তরিকভাবে আমার নিমিত্ত অতিবাহিত করা ঢের ভালো। নিজেকে এত মহার্ঘ মনে করে আর আমার দণ্ড এড়িয়ে কোন উদ্দেশ্য সাধিত হয়? আমার ক্ষণিক শাস্তিদান এড়াতে নিজেকে গোপন করার মাধ্যমে সারা জীবনের জন্য বিব্রতবোধ ও সারা জীবনের শাস্তিভোগ ডেকে এনে কোন উদ্দেশ্য সাধিত হয়? বস্তুত, আমি আমার অভিপ্রায় কারও উপর চাপিয়ে দিই না। কেউ যদি আমার সকল পরিকল্পনায় নিজেকে সঁপে দিতে সত্যিই ইচ্ছুক হয়, তাদের প্রতি আমি খারাপ আচরণ করব না। কিন্তু আমি চাই সকল মানুষ আমাকে বিশ্বাস করুক, ঠিক যেমন যোব আমাতে অর্থাৎ যিহোবায় বিশ্বাস করেছিল। তোমাদের বিশ্বাস যদি টমাসের বিশ্বাসকে ছাড়িয়ে যায়, তখন তোমাদের বিশ্বাস আমার প্রশংসা অর্জন করবে, তোমাদের আনুগত্যের মধ্যে তোমরা আমার পরমানন্দ খুঁজে পাবে, এবং তোমাদের দিনগুলিতে তোমরা নিশ্চয় আমার মহিমার সন্ধান পাবে। কিন্তু যে মানুষ স্থূললোকে বিশ্বাস করে ও শয়তানে আস্থা রাখে, চোখে বায়ুতাড়িত ধূলির কণা দিয়ে ও মুখে শয়তানের প্রসাদ দিয়ে তারা তাদের হৃদয় কঠিন করে ফেলেছে, ঠিক সোডম নগরীর অধিবাসীদের মতো, অনেক আগেই তাদের মেঘাচ্ছন্ন মনের দখল নিয়েছে সেই দুষ্ট, যে পৃথিবীর উপর জবরদখল কায়েম করেছে। তাদের চিন্তাভাবনার প্রায় পুরোটাই প্রাচীন কালের শয়তানের কাছে কয়েদ হয়ে গেছে। মানবজাতির বিশ্বাস তাই বাতাসে মিলিয়ে গেছে, আর এমনকি আমার কার্য তাদের নজরেও পড়ে না। তারা বড়োজোর আমার কার্যকে তাচ্ছিল্য ভরে দেখার বা সেটি দায়সারা ভাবে বিশ্লেষণ করার একটি দুর্বল প্রচেষ্টা করতে পারে, কারণ তারা দীর্ঘকাল ধরে শয়তানের গরল দ্বারা আবিষ্ট হয়েছে।

আমি মানবজাতিকে জয় করব কারণ মানুষ আমার দ্বারা সৃষ্ট, উপরন্তু, আমার সৃষ্টির সমস্ত অকৃপণ উপকরণকে উপভোগ করেছে। কিন্তু মানুষ আমায় প্রত্যাখ্যানও করেছে; তাদের হৃদয়ে আমি অনুপস্থিত, আর আমায় তারা তাদের অস্তিত্বের উপর একটা বোঝা বলে মনে করে, এতটাই যে, আমায় প্রকৃত অর্থে দেখার পরেও তারা আমায় প্রত্যাখ্যান করে, এবং আমাকে পরাজিত করার যাবতীয় উপায় ভেবে বের করতে গিয়ে নিজেদের মাথা খারাপ করে ফেলে। তাদের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার বা তাদের কাছে কঠোর দাবি রাখার অনুমতি মানুষ আমায় দেয় না, এমনকি তাদের বিচার করা বা ন্যায়পরায়ণহীনতার জন্য শাস্তিপ্রদানও অনুমোদন করে না। চিত্তাকর্ষক মনে করা তো দূরের কথা, তাদের কাছে এসব বিরক্তিকর বলে মনে হয়। আর তাই আমার কার্য হল যে মানবজাতি আমার থেকে ভক্ষণ করে, পান করে, হুল্লোড় করে অথচ আমায় জানে না, তাদের পরাজিত করা। মানবজাতিকে আমি নিরস্ত্র করব, তারপর আমার দেবদূতদের নিয়ে, আমার মহিমা নিয়ে আমি আমার আবাসস্থলে ফিরে যাব। কারণ মানুষের কার্যকলাপ অনেক দিন আগেই আমার হৃদয় দলিত করেছে আর আমার কার্যকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। খুশি মনে চলে যাওয়ার আগে আমি সেই মহিমা পুনরুদ্ধার করতে চাই শয়তান যা কেড়ে নিয়েছে, তারপর মানুষ তাদের জীবনযাপন অব্যাহত রাখুক, তাদের “শান্তি ও সন্তোষ সহকারে জীবনযাত্রা ও কার্যকলাপ” চালিয়ে যাক, “তাদের নিজেদের ভূমি কর্ষণ” বজায় রাখুক; আমি তাদের জীবনে আর হস্তক্ষেপ করব না। কিন্তু এখন আমি শয়তানের হাত থেকে আমার মহিমা পুনরুদ্ধার করতে সম্পূর্ণভাবে মনস্থ করেছি, পৃথিবীর সৃজন মুহূর্তে যে মহিমা আমি মানুষের মধ্যে চালিত করেছিলাম সেই মহিমার সমগ্রটুকু আমি ফিরিয়ে নিতে চাই। পৃথিবীর মনুষ্য জাতির উপর আর কখনো আমি এই মহিমা আরোপ করব না। কারণ মানুষ শুধু যে আমার এই মহিমা সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে তা নয়, শয়তানের প্রতিমূর্তির সাথে তারা এর বিনিময় করেছে। আমার আগমনকে মানুষ মূল্যবান মনে করে না, আমার গৌরবের দিনকেও মহার্ঘ জ্ঞান করে না। আনন্দিতচিত্তে এরা আমার দণ্ড গ্রহণ করে না, আমার মহিমা আমায় ফিরিয়ে দিতে তো তারা আরোই অনিচ্ছুক, অশুভের গরল ছুঁড়ে ফেলে দিতেও তারা ইচ্ছুক নয়। মনুষ্যজাতি সেই একই পুরাতন পদ্ধতিতে আমায় প্রতারণা করে চলেছে, আজো মানুষ সেই আগের মতোই উজ্জ্বল হাসি ও সুখী অভিব্যক্তির মুখোশ পরে আছে। আমার মহিমা তাদের ত্যাগ করার পর যে কী গভীর বিষাদ মানবজাতির উপর নেমে আসবে সে বিষয়ে তারা অনবহিত। তারা বিশেষ করে অনবহিত যে, সমগ্র মানবজাতির সকাশে আমার দিন যখন আসবে, তাদের কাছে তা হয়ে উঠবে নোয়ার সময়ের মানুষদের চেয়েও বেশি দুর্বিষহ, কারণ তারা জানে না আমার মহিমা যখন বিদায় নিয়েছিল ইসরায়েল তখন কত তিমিরাচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল, কারণ প্রত্যুষের আগমনে মানুষ ভুলে যায় ওই নিকশ অন্ধকার রাত্রি অতিক্রম করা কত কঠিন ছিল। সূর্য যখন আবার আড়ালে চলে যায় এবং মানুষের উপর তমশা নেমে আসে, আবার সে অন্ধকারে বিলাপ করে আর দাঁতে দাঁত ঘষে। তোমরা কি ভুলে গেছ, ইসরায়েল থেকে যখন আমার মহিমা বিদায় নিয়েছিল, ওই যন্ত্রণার দিনগুলিতে টিকে থাকা ইসরায়েলবাসীর কাছে কতটা কষ্টকর হয়েছিল? এখন সেই সময় এসেছে যখন তোমরা আমার মহিমা দর্শন করবে, এখন সেই সময়ও এসেছে যখন তোমরা আমার মহিমার দিন ভাগ করে নেবে। আমার মহিমা যখন এই কলুষিত স্থান ত্যাগ করবে, মানুষ অন্ধকারে বিলাপ করবে। এখন সেই মহিমার দিন যখন আমি আমার কার্য সম্পাদন করব, আর এটা সেই দিন যখন মানুষকে আমি তার দুঃখকষ্ট থেকে অব্যাহতি দেব, কারণ সেই উৎপীড়ন ও তীব্র যাতনার কাল তাদের সাথে আমি ভাগ করে নেব না। আমি শুধু মানুষকে সম্পূর্ণভাবে জয় করতে চাই, এবং মানবজাতির দুষ্টকে সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত চাই।

পূর্ববর্তী: ঈশ্বরের বিষয়ে তোমার উপলব্ধি কী?

পরবর্তী: তুমি বিশ্বাস সম্পর্কে কী জানো?

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

যে পথে মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, সেই পথটি হল নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম শক্তিকে স্থান দিয়ে তাঁর...

ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

ক্রন্দনরত অবস্থায় এই জগতে ভূমিষ্ঠ হবার সময় থেকেই তুমি তোমার কর্তব্য পালন করা শুরু করো। ঈশ্বরের পরিকল্পনা ও তাঁর নির্ধারিত নিয়তি অনুসারে...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন