অধ্যায় ১৪

এখন সময় সত্যিই খুব কম। আমাদের ঈশ্বরের বাক্য অভিমুখী করে তোলার জন্য পবিত্র আত্মা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। সম্পূর্ণ সত্যই তোমাদের সহায় হওয়া উচিত। শুদ্ধ হয়ে ওঠো, আত্মিকভাবে আমার ঘনিষ্ঠ হও, আমার সংসর্গে থাকো, বাছাই করার, পছন্দ করে নেওয়ার অনুমোদন পাবেনা তোমরা। পবিত্র আত্মার কাজে আবেগের স্থান নেই। তোমরা কে কেমন মানুষ তা পবিত্র আত্মার চিন্তার বিষয় নয়। যতক্ষণ তোমরা কোনও অজুহাত না দিয়ে, নিজস্ব লাভ ক্ষতি নিয়ে তর্ক না করে, অনুসন্ধান ও অনুসরণে আগ্রহী—যতক্ষণ তোমরা ন্যায়ের জন্যে তৃষিত থাকবে, অনুসন্ধানে ব্রতী থাকবে, আমি তোমাদের আলোকিত করবো। তোমরা কতখানি মূঢ়, কতখানি অজ্ঞ তা আমার বিবেচনার বিষয় নয়। আমি কেবল দেখি তোমরা সদর্থকভাবে কতটা কঠিন শ্রম করছো। যদি তবুও তোমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে নিজের ক্ষুদ্র জগতের গণ্ডিতে আটকে থাকো, জেনো তোমাদের বিপদ উপস্থিত। সেই পরম মিলন কি? পরিত্যক্ত হওয়ার অর্থ কি? কীভাবে তোমরা বর্তমানে ঈশ্বরের সামনে জীবন কাটাবে? তোমরা আমার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবে কীভাবে? তোমাদের ব্যক্তিসত্তার ধারণা ত্যাগ করো। নিজেকে বিশ্লেষণ করে দেখো, নিজের মুখোশ খুলে ফেলো, নিজের প্রকৃত রূপ দেখো পরিষ্কারভাবে, নিজেকে ঘৃণা করো, পরম ন্যায়ের অনুসন্ধানের জন্য ক্ষুধার্ত, তৃষিত হও, বিশ্বাস করো তুমি নিতান্তই নগণ্য, আত্মসমর্পণে প্রস্তুত হও, তুমি যেভাবে কাজ করো তা বন্ধ করতে সমর্থ হও, আমার সম্মুখে শান্ত সমাহিত হয়ে এসো, আরো প্রার্থনায় রত হও। আন্তরিকভাবে আমাতে আত্মসমর্পণ করো, আমার আরো কাছে আসার, আমার সঙ্গে আরো নিবিড় যোগাযোগের চেষ্টা থেকে বিরত হয়োনা কখনো—এইসব বিষয়েই নিহিত আছে সেই চাবিকাঠি। মানুষ প্রায়শই নিজের মধ্যেই আটকে থাকে, সেই কারণেই ঈশ্বরের কাছে আসতে পারেনা।

মানুষের পক্ষে পবিত্র আত্মার সাম্প্রতিক কাজকর্ম কল্পনা করা সত্যিই কঠিন, সবকিছুরই প্রবেশ ঘটে বাস্তবে; এ সম্পর্কে হঠকারী হলে চলবে না। যদি তোমার হৃদয় ও মন সঠিক জায়গায় না থাকে, তুমি এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা পাবেনা। শুরু থেকে শেষ অবধি তোমাকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে, অবহেলার বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থেকো। ধন্য তারাই যারা সতর্ক, যারা অপেক্ষায় থাকে এবং আমার সামনে যারা নীরবে থাকে। তারাই ধন্য যারা হৃদয় থেকে সর্বদা আমার ওপর ভরসা করে, সযত্ন মনোযোগে আমার কথা শোনে, আমার কর্মের দিকে খেয়াল রাখে ও আমার কথাকে চর্চায় রূপান্তরিত করে। সময় বস্তুত আর দেরি সহ্য করতে পারছেনা; মহামারী ছড়িয়ে পড়বে সমস্ত রূপে, হিংস্র, রক্তাক্ত মুখ হাঁ করে বন্যার জলের মত গ্রাস করবে তোমাদের সবাইকে। হে আমার সন্তানেরা, সময় উপস্থিত! চিন্তার সময় নেই আর। তোমাদের জন্য আমার সুরক্ষার আশ্রয়লাভের একমাত্র উপায় আমার কাছে ফিরে আসা। তোমাদের অবশ্যই অর্জন করতে হবে পুরুষসন্তানের চারিত্রিক দৃঢ়তা, দুর্বল হোয়োনা, নিরাশ হোয়োনা। তোমাদের অবশ্যই আমার পদক্ষেপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, নতুন আলোকে প্রত্যাখ্যান করলে চলবে না এবং, যেমন আমি বলেছি, সেভাবেই আমার বাক্য যথাযথ ভাবে ভোজন ও পান করতে হবে। এখনো কি সময় আছে একে অন্যের সঙ্গে লড়াই করার, প্রতিযোগিতা করার? যদি তুমি তোমার প্রয়োজনীয় খাদ্য না গ্রহণ করো, সত্যে সুসজ্জিত না হও, তুমি কি যুদ্ধে নামতে পারবে? যদি ধর্ম থেকে উত্তরণ চাও, তোমাকে অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে সত্যের অস্ত্রে সুসজ্জিত হতে হবে। আমার বাক্য আরো বেশি করে ভোজন ও পান করো, সেবিষয়ে চিন্তা করো। তোমাকে অবশ্যই স্বাধীনভাবে আমার বাক্য ভোজন ও পান করতে হবে, ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়া শুরু করতে হবে। মনে করো এটা তোমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা! তোমাকে একথা শুনতেই হবে! যারা যথেষ্ট বুদ্ধিমান তারা সত্যের প্রতি জাগ্রত হবে শীঘ্রই! যা কিছু তুমি ছাড়তে চাওনা, তা পরিত্যাগ করো। আমি আবারও তোমাকে বলছি যে এসব বিষয় তোমার জীবনের পক্ষে ক্ষতিকারক ও এসবের কোনও মূল্য নেই! আমি আশা রাখি তোমার কাজের ক্ষেত্রে তুমি আমার ওপরে ভরসা করতে পারবে; নয়তো সামনে যে একমাত্র পথ খোলা থাকবে তা হলো মৃত্যুর পথ—তখন কোথায় খুঁজবে তুমি জীবনের পথ? তোমার যে হৃদয় ভালোবাসে বাহ্যিকবস্তু নিয়ে ব্যস্ত থাকতে, সেই হৃদয়কে ফিরিয়ে নাও! ফিরিয়ে নাও সেই হৃদয় যা অন্য মানুষকে অমান্য করে! যদি তোমার জীবন পরিপূর্ণতা না পায়, যদি তুমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ো, তাহলে তোমার ভুলের জন্য কি তুমিই দায়ী নও? তুমি যেমনটা কল্পনা করছো, পবিত্র আত্মার বর্তমান কাজের রূপ তেমন নয়। যদি তুমি নিজের ধারণা না ছাড়তে পারো, তুমি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সেই কাজ যদি মানুষের ধারণার ওপর নির্ভর করে হতো, তাহলে তোমার পুরোনো স্বভাব ও বিশ্বাসের পক্ষে কি আলোকপ্রাপ্ত হয়ে ওঠা সম্ভব? তুমি কি নিজেকে জানতে সক্ষম হবে? সম্ভবত তুমি এখনো মনে করো তুমি পুরোনো ধারণা থেকে মুক্ত, কিন্তু এবার তোমার সমস্ত কুৎসিত দিকগুলি আলোয় স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সতর্কভাবে নিজেকে প্রশ্ন করে দেখো:

তুমি কি আমার কাছে নিজেকে সমর্পণ করছো?

তুমি কি নিজের সত্তা বিসর্জন দিয়ে আমাকে অনুসরণ করতে প্রস্তুত এবং আগ্রহী?

তুমি কি পবিত্র হৃদয়ে আমার স্বরূপ প্রার্থনা করো?

তুমি কি জানো কী উপায়ে আমার সান্নিধ্যে আসতে হয় এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়?

তুমি কি আমার সম্মুখে নিজেকে শান্ত রেখে আমার ইচ্ছাকে অনুসন্ধান করতে পারো?

তোমাকে আমি যেসব কথা বলি, তুমি কি তা চর্চা করতে পারো?

তুমি কি আমার সামনে স্বাভাবিক থাকতে পারো?

শয়তানের প্রতারণার পরিকল্পনা কি তুমি দেখতে পাও? তোমার কি সাহস আছে সেই পরিকল্পনা প্রকাশ করে দেওয়ার?

ঈশ্বরের ভার সম্পর্কে তুমি কতখানি বিবেচনা করো?

তুমি কি তেমন একজন যে ঈশ্বরের ভার সম্পর্কে বিবেচনা করে?

পবিত্র আত্মার কাজ সম্পর্কে তুমি কতখানি বোঝো?

ঈশ্বরের পরিবারে সমন্বয় বজায় রেখে কীভাবে সেবা করো তুমি?

আমার পক্ষে শক্তিশালী সাক্ষ্য কীভাবে দেবে তুমি?

সত্যের পক্ষ নিয়ে সদর্থক যুদ্ধে কীভাবে অংশ নাও তুমি?

তোমাকে অবশ্যই এই সমস্ত সত্য সম্যকভাবে অনুধাবন করার জন্য সময় দিতে হবে। সেই দিনটি যে একান্তই নিকটবর্তী এইসব তথ্যই তার যথেষ্ট প্রমাণ। দুর্যোগ আসার আগে অবশ্যই তোমাকে সম্পূর্ণ হতে হবে—এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এটি একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয় যার সমাধান আবশ্যিক! আমার ইচ্ছা তোমাদের সম্পূর্ণ করে তোলা, কিন্তু আমি দেখছি যে তোমরা বাস্তবিকই অসংযত। তোমাদের ক্ষমতা আছে, কিন্তু তোমরা তা প্রকৃষ্ট উপায়ে কাজে লাগাওনা, সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বিবেচনা না করে তোমরা কেবল তুচ্ছ বিষয় আঁকড়ে ধরো। এই সব বিষয় নিয়ে চিন্তা করে কী লাভ? এসব কি কেবল সময়ের অপচয় নয়? আমি এমনভাবে করুণা করি তোমাদের, কিন্তু তোমরা তার মর্ম উপলব্ধি করতে পারোনা; তোমরা কেবল নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত থাকো—এর ফলে কি আমার সমস্ত শ্রমসাধ্য প্রচেষ্টা বিফলে যাচ্ছে না? যদি তোমরা এভাবেই চলো, আমি তোমাদের তুষ্ট করার জন্য আর সময় দেবোনা! আমি তোমাদের বলছি যদি তোমরা সত্য উপলব্ধি না করো, পবিত্র আত্মার কর্ম তোমাদের থেকে প্রত্যাহৃত হবে! তোমাদের ভোজনের জন্য আর কিছুই দেওয়া হবেনা এবং তোমরা যা সঠিক মনে করো তাই বিশ্বাস করতে পারো। আমার সম্পূর্ণ বক্তব্য আমি পেশ করলাম, তোমরা মান্য করবে কিংবা করবেনা তা তোমাদের ওপরেই নির্ভর করছে। যখন তোমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে, এগোনোর রাস্তা দেখতে পাবেনা, এবং প্রকৃত আলো দেখতে পাবেনা, তোমরা কি আমাকে দোষারোপ করবে? এত অজ্ঞতা! যদি তোমরা ব্যক্তিসত্তাকে আঁকড়ে ধরে রাখো, যদি তোমরা ত্যাগে বিমুখ হও, তার পরিণতি কী হওয়া উচিত? তোমার সমস্ত কর্ম বৃথা শ্রম হয়ে যাবেনা কি? বিপর্যয় ঘটলে একপাশে পরিত্যক্ত হয়ে পড়া কি নিদারুণ!

ঈশ্বর অনুগামীদের সম্প্রদায় তৈরির বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন। যদি তোমরা সক্রিয়ভাবে আমার সহযোগিতা করতে অক্ষম হও, সর্বান্তকরণে নিজেকে আমাতে অর্পণ করতে না পারো এবং যদি সমস্ত কিছু ত্যাগ করতে না পারো, তাহলে তোমরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এখনো কি তোমরা অন্যান্য অভিপ্রায় পোষণ করতে পারো? তোমাদের প্রতি আমি সহনশীলতা দেখিয়েছি, তোমাদের অনুশোচনার এবং নতুনভাবে শুরু করার জন্য অপেক্ষা করেছি। যাইহোক, সময় আর এই বিষয়ে অপেক্ষার অনুমতি দেবেনা, আমাকে অবশ্যই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের কথা ভাবতে হবে। ঈশ্বরের পরিচালনা মূলক পরিকল্পনা ব্যবস্থার উদ্দেশ্যে, সবাই এগিয়ে চলেছে সম্মুখে এবং আমার পদক্ষেপ এগিয়ে চলেছে দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা, মুহূর্তের পর মুহূর্ত—যারা পিছিয়ে পড়ছে তারা পরিত্যক্ত হবে। প্রতিটি দিন এক নতুন আলো দেখায়; প্রতিদিন নতুন নতুন কর্ম সম্পূর্ণ হয়। প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভাস ঘটে, এবং যারা সেই আলো দেখতে পায়না, তারা অন্ধ! যারা অনুসরণ করেনা তারা নির্মূল হবে…।

পূর্ববর্তী: অধ্যায় ১৩

পরবর্তী: অধ্যায় ১৫

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রীষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন