ধর্মীয় সেবার বিশুদ্ধিকরণ আবশ্যক

সমগ্র মহাবিশ্ব জুড়ে তাঁর কাজ শুরু করার সময় থেকে, ঈশ্বর বহু মানুষকে তাঁর সেবা করার জন্যে পূর্বনির্দিষ্ট করেছেন। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের মানুষই রয়েছে এর মধ্যে। তাঁর উদ্দেশ্য হল, তাঁর ইচ্ছাপূরণ করা এবং পৃথিবীতে তাঁর কাজকে সুচারুরূপে সম্পন্ন করা; মানুষকে নির্বাচন করার এটাই হল ঈশ্বরের উদ্দেশ্য যাতে তারা তাঁর সেবা করতে পারে। ঈশ্বরের সেবায় নিবেদিত প্রতিটি ব্যক্তির অবশ্যই তাঁর ইচ্ছার মর্ম বোঝা প্রয়োজন। ঈশ্বরের এই ধরণের কাজে তাঁর প্রজ্ঞা, তাঁর সর্বশক্তিমানতা এবং এই জগতে তাঁর কাজের নীতিগুলি মানুষের কাছে আরও স্পষ্ট করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বর এই জগতে এসেছেন তাঁর কাজ করতে, মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে, যাতে তারা সুস্পষ্টভাবে তাঁর কাজ সম্বন্ধে অবহিত হতে পারে। আজকের দিনে তোমরা, এই দলভুক্ত ব্যক্তিরা, বাস্তববাদী ঈশ্বরের সেবা করতে পেরে ভাগ্যবান হয়েছো। যথার্থই এটা তোমাদের জন্য অপরিমেয় আশীর্বাদস্বরূপ—যে তোমরা ঈশ্বরের দ্বারা উন্নীত। কোনও ব্যক্তিকে তাঁর কাজের জন্য নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ঈশ্বর সর্বদাই তাঁর নিজস্ব নীতি প্রয়োগ করেন। মানুষ সাধারণত মনে করে যে, ঈশ্বরের সেবা করা কেবলই একটি উদ্যমের বিষয়, কিন্তু আদপেই তা নয়। আজকের দিনে তোমরা দেখবে যে যারা ঈশ্বরের সেবা করে তাদের তা করার কারণ, তাদের রয়েছে ঈশ্বরের পথনির্দেশ এবং পবিত্র আত্মার কাজ, এবং কারণ তারা সত্যকে অনুসরণ করে। ঈশ্বরের সেবার জন্য সবার এগুলিই ন্যূনতম শর্ত।

ঈশ্বরের সেবা করা কোনও সহজ কাজ নয়। যাদের ভ্রষ্ট স্বভাব অপরিবর্তিত থেকে যায় তারা কখনোই ঈশ্বরের সেবা করতে পারে না। যদি ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা তোমার স্বভাবকে বিচার এবং শাস্তি না দেওয়া হয়, তাহলে তোমার স্বভাব তখনও শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করবে, যা প্রমাণ করে যে তুমি নিজের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যেই ঈশ্বরের সেবা করছো, আর তোমার সেবা শয়তানোচিত প্রকৃতির উপর ভিত্তি করেই। সহজাতভাবে এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী তুমি ঈশ্বরের সেবা করো। এছাড়াও তুমি সর্বদা মনে করো, যে কাজগুলি তুমি করতে ইচ্ছুক, তা-ই ঈশ্বরের কাছে আনন্দদায়ক, এবং তুমি যেগুলি করতে চাও না তা ঈশ্বরের কাছে ঘৃণ্য; সম্পূর্ণভাবে নিজের পছন্দ অনুযায়ী তুমি কাজ করো। একে কি ঈশ্বরের সেবা বলা চলে? শেষ পর্যন্ত, তোমার স্বভাবে সারা জীবনেও সামান্যতম পরিবর্তন হবে না; বরং তোমার সেবা তোমাকে আরও অনমনীয় করে তুলবে, আর এইভাবে তোমার স্বভাবে ভ্রষ্টাচার আরও দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হবে। যেমন, ঈশ্বরের সেবার ব্যাপারে তুমি নিজেই তৈরি করবে এমন সব নিয়ম-বিধি, যা মূলত: তোমার নিজের চরিত্র এবং নিজের স্বভাবসিদ্ধ সেবার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী। এগুলিই মানুষের অভিজ্ঞতা আর শিক্ষার পরিচয়, পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার দর্শন। এই ধরনের লোকদের ফরীশী এবং ধর্মীয় কর্মকর্তা হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। যদি তারা কখনো সচেতন ও অনুতপ্ত না হয় তাহলে তারা নিশ্চিতভাবেই ভণ্ড খ্রিষ্ট ও খ্রিষ্টবিরোধীতে পরিণত হবে, যারা অন্তিম সময়ে মানুষদের প্রতারিত করবে। বলা হয়েছিল, এই সব ভণ্ড খ্রিষ্ট আর খ্রিষ্টবিরোধীরা এই ধরণের ব্যক্তিদের মধ্যে থেকেই উঠে আসবে। যারা ঈশ্বরের সেবা করে তারা যদি নিজেদের চরিত্র অনুযায়ী চলে আর নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে, তাহলে তারা যে কোনো সময়েই পরিত্যক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। যারা শুধুমাত্র অন্যদের মুগ্ধ করার জন্য, বাণী শুনিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এবং নিজেদের উচ্চাসন বজায় রাখার জন্য নিজেদের ঈশ্বর-সেবার বহু বছরের অর্জিত অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে, এবং কোনদিনই অনুতপ্ত হয়না, নিজেদের পাপ স্বীকার করে না এবং নিজেদের অবস্থানগত সুযোগ-সুবিধাগুলি কখনোই ত্যাগ করে না—সেই সব ব্যক্তি ঈশ্বরের সামনে পতিত হবে। তারা পৌলের মত একই ধরণের মানুষ, নিজেদের প্রবীণত্ব ও গুণাবলী দম্ভ সহকারে শুধুই প্রদর্শন করতে চায়। এই ধরনের মানুষদের ঈশ্বর কখনও নিখুঁত করবেন না। এদের সেবা ঈশ্বরের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। মানুষ স্বভাবতই পুরাতন বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে থাকে। বিগত দিনের সব কিছু এবং প্রাচীন ধ্যান-ধারণাই তাদের একমাত্র অবলম্বন। এই মানসিকতাই ঈশ্বর-সেবার পথে একটি বড় বাধা। তুমি যদি এগুলি পরিত্যাগ করতে না পারো, তাহলে তোমার সমস্ত জীবনের সব পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। ঈশ্বরের সামান্যতম প্রশংসাও তোমার উপর বর্ষিত হবে না। জীবনের পথে চলতে গিয়ে তোমার পা যদি ভেঙ্গে পড়ে অথবা পরিশ্রমে তোমার পিঠ ভেঙ্গে যায় এমনকি ঈশ্বরের সেবা করতে গিয়ে তুমি যদি শহীদও হও, তবুও নয়। বরং পরিবর্তে, তিনি বলবেন যে তুমি একজন অন্যায়কারী, পাপী।

যাদের কোনো ধর্মীয় ভণ্ডামি নেই, নিজেদের পুরানো সত্তাকে যারা পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক এবং যারা সরল চিত্তে ঈশ্বরের আজ্ঞাপালন করে, ঈশ্বর আজ থেকেই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিখুঁত করতে শুরু করবেন। তিনি তাদেরই নিখুঁত করবেন যারা ঈশ্বরের বাক্যের প্রত্যাশী। এইসব ব্যক্তিদেরকেই ঈশ্বরের সেবার জন্য উদ্যোগী হতে হবে। ঈশ্বরের প্রাচুর্য অফুরন্ত এবং প্রজ্ঞা সীমাহীন। তাঁর বিস্ময়কর কাজ এবং মূল্যবান বাক্য অপেক্ষা করে আছে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের উপভোগের জন্য। বর্তমানে, যারা ধর্মাধিকারী, নিজেদের প্রবীণত্বেই অহংকারী এবং প্রাচীন ধারণাকে পরিত্যাগ করতে পারে নি, তাদের পক্ষে এই নতুন ধারণাগুলি গ্রহণ করা কঠিন। পবিত্র আত্মার এই সব ব্যক্তিদের নিখুঁত করার কোনো সম্ভাবনাই নেই। যদি কোনো ব্যক্তি আজ্ঞা পালন না করে এবং ঈশ্বরের বাক্য হৃদয়ঙ্গম করার জন্যে তৃষ্ণার্ত না হয়, তাহলে তাদের পক্ষে এই নতুন ধারণা গ্রহণ করার কোনো উপায় নেই; তারা ঘোরতর বিদ্রোহী ও ধূর্ত হয়ে উঠবে এবং শেষ পর্যন্ত ভুল পথে চালিত হবে। নিজের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঈশ্বর আরও সেইসব মানুষদের উন্নীত করবেন যারা তাঁকে সত্যিই ভালোবাসে আর যারা সেই নতুন চিন্তার আলোকে স্বীকার করতে নিতে প্রস্তুত। প্রবীণত্বের অহংকারে মত্ত সেই সব ধর্মাধিকারিকদের তিনি সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করবেন। যারা পরিবর্তনকে প্রতিরোধ করে ঈশ্বর তাদের একজনকেও চান না। তুমি কি এই সব মানুষের একজন হতে চাও? তুমি কি নিজের পছন্দ অনুযায়ী ঈশ্বর-সেবা করো, না কি ঈশ্বরের অভিপ্রায় অনুযায়ী চলো? এই বিষয়টি তোমার নিজের জন্যই অবশ্যই জানা উচিত। তুমি কি একজন তথাকথিত ধর্মীয় অধিকর্তা, নাকি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হয়ে ওঠা এক নবজাতক? তোমার কত পরিমাণ সেবা পবিত্র আত্মার দ্বারা প্রশংসিত? এর কতটা ঈশ্বর মনে রাখারও প্রয়োজন বোধ করবেন না? তোমার এত বছর ঈশ্বরসেবা তোমার জীবনে কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছে? এই সবকিছুর ব্যাপারে কি তোমার ধারণা স্বচ্ছ? সত্যকারের বিশ্বাসী হলে পুরনো ধর্মীয় ধ্যান-ধারণাগুলি তুমি পরিত্যাগ করবে, আর নতুনভাবে ঈশ্বরের সেবা শুরু করবে। জেগে ওঠার সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। পুরানো ধর্মীয়-বিশ্বাস কোন মানুষের সমস্ত জীবন নষ্ট করে দিতে পারে। দীর্ঘকাল ধরে চর্চিত তথাকথিত ঈশ্বর-সেবার অভিজ্ঞতা তাকে ঈশ্বরের কাছ থেকে বিচ্যুত করে দিতে পারে, এবং সে নিজের মতো করে সব কাজ করতে পারে। এই সব পরিত্যাগ না করলে, এগুলিই তোমার জীবনে উন্নতির অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে। ঈশ্বর সর্বদাই তাদের নিখুঁত করেন যারা তাঁর সেবা করে, তিনি তাদের পরিত্যাগ করেন না। তুমি যদি সত্যই ঈশ্বরের বিচার ও তাঁর শাস্তি স্বীকার করে নাও, যদি পুরানো ধর্মীয় বিধান এবং নিয়মগুলিকে বর্জন করতে পারো এবং প্রাচীন ধর্ম-বিশ্বাসের তুলনায় ঈশ্বরের আজকের বাক্যের পরিমাপ করা বন্ধ করো একমাত্র তাহলেই তোমার জন্য এক ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করবে। কিন্তু তুমি যদি এখনও প্রাচীন ধ্যান-ধারণাগুলিকে মূল্যবান বলে আঁকড়ে ধরে থাকো, তাহলে তুমি কোনোভাবেই উদ্ধার লাভ করতে পারবে না। ঈশ্বর এমন ব্যক্তিদের কোনো খেয়াল রাখেন না। তুমি যদি সত্যিই নিখুঁত হতে চাও, তাহলে তোমাকে অবশ্যই প্রাচীন সব ধ্যান-ধারণা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে হবে। আগের কাজগুলি যদি সঠিক হয়েও থাকে, এমনকি সেগুলি যদি ঈশ্বরের কাজও হয়, তবুও তোমাকে তা পরিত্যাগ করতে হবে, তাকে আঁকড়ে ধরে থাকা বন্ধ করতে হবে। এমনকি যদি এটা সুস্পষ্টভাবে পবিত্র আত্মারই কাজ হয়ে থাকে এবং তা সরাসরি তিনিই সম্পন্ন করে থাকেন, তারপরও তোমাকে তা বর্জন করতে হবে। তাকে আর কোনোভাবেই অবলম্বন করে থাকলে চলবে না। এটাই ঈশ্বরের প্রয়োজন । সবকিছুরই পুনর্নবীকরণ আবশ্যক। ঈশ্বর তাঁর কাজে এবং বাক্যে এমন কোনো বিষয়ের উল্লেখ করেন না যা বিগত হয়েছে, দেখেন না পুরাতন পঞ্জিকা। ঈশ্বর সর্বদাই নতুন, কখনোই পুরানো হন না। এমনকি তিনি পূর্বকার নিজ বাক্যগুলিকেও আঁকড়ে ধরে থাকেন না—যা প্রমাণ করে যে ঈশ্বর কোনো নিয়ম অনুসরণ করেন না। অতএব, যেখানে ঈশ্বর নিজেই আগে যে উপায় ব্যবহার করতেন এখন আর তা ব্যবহার করেন না, সেখানে তুমি যদি একজন মানুষ হিসাবে সর্বদাই অতীতের জিনিস আঁকড়ে ধরে থাকো, যদি তুমি তাদের পরিত্যাগ করতে অস্বীকার করো, আর কঠোরভাবে একটি সূত্রবদ্ধ পদ্ধতিতে তাদের প্রয়োগ করো, তাহলে তোমার কথা আর কাজ কি ঈশ্বরের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে না? এটা কি ঈশ্বরের শত্রুতা নয়? তুমি কি এইসব পুরানো ধ্যান-ধারণার জন্য তোমার পুরো জীবনটাই নষ্ট এবং ধ্বংস করে দিতে চাও? এই পুরানো ধারণাগুলি তোমাকে এমন একজন মানুষে পরিণত করবে যে ঈশ্বরের কাজে বাধা দেয়—তুমি কি এই প্রকার মানুষ হতে চাও? তুমি সত্যিই যদি তা না চাও তাহলে তুমি যা করছো তা দ্রুত বন্ধ করো এবং ঘুরে দাঁড়াও; আবার সব নতুন করে শুরু করো। ঈশ্বর অতীতের সেবা মনে রাখবেন না।

পূর্ববর্তী: ভ্রষ্ট মানুষ ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব করতে অক্ষম

পরবর্তী: তোমার ঈশ্বর বিশ্বাসের ক্ষেত্রে, ঈশ্বরকে মান্যতা দেওয়া উচিত

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

সম্পর্কিত তথ্য

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের খ্রিষ্ট মানুষকে অনন্ত জীবনের পথ দেখাতে পারেন

জীবনের গতিপথ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বা এটি সহজে অর্জন করতে পারার মতো বিষয়ও নয়। কারণ জীবন কেবল ঈশ্বর প্রদত্ত, অর্থাৎ, শুধুমাত্র ঈশ্বর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন