ঈশ্বরকে ভালোবাসাই প্রকৃত ঈশ্বর-বিশ্বাস

আজ, যখন তোমরা ঈশ্বরকে ভালোবাসতে এবং জানতে চাও, তখন এক দিকে তোমাদের কষ্ট এবং পরিমার্জন সহ্য করতে হবে, এবং অন্য দিকে, এর মূল্য দিতে হবে। ঈশ্বরকে ভালোবাসার শিক্ষার চেয়ে গভীর কোনো শিক্ষা নেই, এবং বলা যায় যে, মানুষ আজীবনের বিশ্বাস থেকে যে শিক্ষা পায় তা হল ঈশ্বরকে কী ভাবে ভালোবাসতে হয়। অর্থাৎ, যদি তুমি ঈশ্বরে যদি বিশ্বাস করো তবে অবশ্যই তোমায় ঈশ্বরকে ভালোবাসতে হবে। যদি তুমি শুধুমাত্র ঈশ্বরে বিশ্বাস করো কিন্তু তাকে ভালো না বাসো এবং ঈশ্বরের জ্ঞান অর্জন না করো এবং তোমার হৃদয় থেকে উৎসারিত প্রকৃত প্রেমে তাঁকে ভালো না বাসো, তাহলে তোমার ঈশ্বর-বিশ্বাস বৃথা। তোমার ঈশ্বরবিশ্বাসে যদি ঈশ্বরের প্রতি প্রেম না থাকে তাহলে তোমার জীবন বৃথা এবং তোমার সমস্ত জীবন নিকৃষ্টতম। যদি তুমি সারা জীবনে কখনো ঈশ্বরকে ভালো না বেসে থাকো এবং তাকে সন্তুষ্ট না করে থাকো তাহলে তোমার বাঁচার অর্থ কী? এবং তোমার বিশ্বাসেরই বা কী অর্থ? এটি কি শুধু শ্রমের অপচয় নয়? অর্থাৎ মানুষ যদি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে এবং ভালোবাসে তাহলে তাদেরকে অবশ্যই তার মূল্য দিতে হবে। বাহ্যিকভাবে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে কাজ করতে চেষ্টা করার পরিবর্তে, তাদের হৃদয়ের গভীরে প্রকৃত অন্তর্দৃষ্টি খোঁজা উচিত। তুমি যদি নাচগানে উৎসাহী থেকে যাও, কিন্তু সত্যকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে অক্ষম হও, তাহলে কি বলা যেতে পারে যে তুমি ঈশ্বরকে ভালোবাসো? ঈশ্বরকে ভালোবাসার জন্য প্রয়োজন সমস্ত কিছুতে ঈশ্বরের ইচ্ছার অন্বেষণ, এবং যখন তোমার সাথে কোনো ঘটনা ঘটে তখন নিজের গভীরে অনুসন্ধান করা, ঈশ্বরের ইচ্ছাকে উপলব্ধির চেষ্টা করা, এই বিষয়ে ঈশ্বরের অভিপ্রায় কী তোমাকে তিনি কী অর্জন করতে বলছেন, এবং তাঁর সেই অভিপ্রায়ের প্রতি তুমি কীভাবে সচেতন হবে, তা বোঝার চেষ্টা করা। উদাহরণস্বরূপ: যদি এমন কিছু ঘটে যার জন্য তোমাকে কষ্ট সহ্য করতে হয়, সেই সময়ে তোমাকে বুঝতে হবে ঈশ্বরের ইচ্ছা কী এবং কীভাবে তাঁর ইচ্ছার প্রতি তোমার সচেতন হওয়া উচিত। আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগো না: প্রথমে নিজেকে একপাশে সরিয়ে রাখো। দেহের থেকে খারাপ আর কিছু নেই। ঈশ্বরকে অবশ্যই সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতে হবে, এবং নিজের কর্তব্য পালন করে যেতে হবে। এই ধরনের চিন্তার মাধ্যমে ঈশ্বর তোমার মধ্যে এই বিষয়ে বিশেষ আলোকপ্রাপ্তি ঘটাবেন, এবং তোমার হৃদয় আরাম পাবে। ছোট-বড় যাই ঘটুক না কেন তুমি নিজেকে একদিকে সরিয়ে রাখবে এবং দেহকে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট মনে করবে। দেহকে যতই সন্তুষ্ট করবে ততই সে তোমায় পেয়ে বসবে; একবার যদি তুমি ভোগ সুখের পরিতৃপ্তি ঘটাও তাহলে পরের বার তার চাহিদা আরো বাড়বে। এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে মানুষ দেহের প্রতি আরো আসক্ত হয়ে পড়বে। দেহের সব সময় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয় এবং তা মেটানোর জন্য সে তোমাকে সব সময় উত্যক্ত করে এবং তুমি যাতে তাতে লিপ্ত হও সে চেষ্টাও করেবে; তা সে তোমার খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, মেজাজ হারানো, নিজের দুর্বলতার অথবা আলস্যকে প্রশ্রয় দেওয়া, যে বিষয়েই হোক না কেন…। এই দৈহিক ইচ্ছাকে যতই পরিতৃপ্ত করবে ততই তার চাহিদা বাড়বে এবং বৃদ্ধি পাবে অনাচার যতক্ষণ পর্যন্ত এটি এমন পর্যায়ে না পৌঁছায় যখন দেহ আরো গভীর অপধারণাবলীর শিকার হয়, এবং ঈশ্বরকে অমান্য করে, এবং নিজেকে অহংকারী করে তোলে এবং ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকে। দেহকে যতই পরিতৃপ্ত করবে সে ততই দুর্বল হয়ে পড়বে; তুমি সর্বদা অনুভব করবে যে কেউ তোমার দুর্বলতার সহমর্মী নয়, তুমি অনুভব করবে ঈশ্বর তোমার থেকে বহুদূরে চলে গেছেন এবং তুমি বলবে: “ঈশ্বর এত কঠোর হলেন কেন? কেন তিনি মানুষকে বিরাম দেন না?” মানুষ যখন দেহকে অতিমাত্রায় সন্তুষ্ট ও উপভোগ করে তখন তারা নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে। তুমি যদি প্রকৃতই ঈশ্বরকে ভালোবাসো এবং দৈহিক ইচ্ছা চরিতার্থ করায় প্রবৃত্ত না হও, তাহলে তুমি দেখবে ঈশ্বর যা কিছু করেন, তা সকলই সঠিক এবং সবই খুব ভালো এবং তোমার বিদ্রোহীসত্তার প্রতি তাঁর অভিশাপ এবং তোমার অন্যায়পরায়ণতায় তাঁর বিচার খুবই ন্যায়সঙ্গত। এমন কিছু সময় আসবে যখন ঈশ্বর তোমাকে শাসন করবেন শাস্তি দেবেন, এবং তোমাকে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য এমন এক পরিবেশ তৈরি করবেন, যাতে তুমি তার সামনে উপনীত হতে বাধ্য হও—এবং তুমি অনুভব করবে যে তিনি যা কিছুই করেন তা সবই বিস্ময়কর। এই ভাবেই তুমি অনুভব করবে কোন কিছুই খুব বেদনাদায়ক নয় এবং ঈশ্বর সত্যই মনোরম। তুমি যদি দেহের দুর্বলতাগুলির বশবর্তী হয়ে বল যে ঈশ্বর সীমা অতিক্রম করে যান, তাহলে তুমি সর্বদাই যন্ত্রণাবোধ করবে এবং বিষণ্ণ বোধ করবে, এবং ঈশ্বরের সব কাজ সম্পর্কেই তোমার ধারণা অস্পষ্ট হবে, এবং তোমার মনে হবে, মানুষের দুর্বলতা সম্পর্কে ঈশ্বর সহমর্মী নন এবং মানুষের কষ্ট সম্পর্কে উদাসীন। এবং এইভাবে তুমি সর্বদাই দুঃখিত এবং একা বোধ করবে, মনে হবে যেন অনেক অবিচার সহ্য করছো, এবং এই সময়ে তুমি অভিযোগ করতে শুরু করবে। এইভাবে, দেহের দুর্বলতাকে যত প্রাধান্য দেবে, ততই তোমার মনে হবে ঈশ্বর সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন, এবং শেষ পর্যন্ত এটি এমন খারাপ পর্যায়ে পৌঁছাবে যখন তুমি ঈশ্বরের সমস্ত কাজই অস্বীকার করবে, ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে শুরু করবে এবং অবাধ্যতায় পূর্ণ হবে। সুতরাং তোমার দৈহিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা উচিত এবং তাকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত না: “আমার স্বামী (স্ত্রী), সন্তান, ভবিষ্যৎ, বিবাহ, পরিবার—এসব কোন কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়! আমার হৃদয়ে একমাত্র ঈশ্বর আছেন, এবং আমি সর্বতোভাবে তাঁর সন্তুষ্টি বিধানের চেষ্টা করব, দেহের তৃপ্তি সাধন নয়।” তোমার মধ্যে অবশ্যই এই সংকল্প থাকতে হবে। এই সংকল্পে তুমি যদি অনুপ্রাণিত হও তাহলে তুমি যখন নিজেকে সরিয়ে রেখে সত্যের অনুশীলন করতে সচেষ্ট হবেই, তখন সামান্য প্রয়াসেই তা সম্ভব হবে। কথিত আছে, একবার এক কৃষক পথের ধারে ঠান্ডায় জমে থাকা এক সর্পকে দেখেছিল। সর্পটিকে সে তুলে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে, এবং সর্পটি সুস্থ হওয়ামাত্রই তার দংশনে কৃষক মারা পড়ে। মানুষের দৈহিক ইচ্ছা ঠিক এই সর্পের মতোই: এর সারমর্ম হল, মানুষের জীবনে ক্ষতি করা এবং যখন এগুলি নিজের মতো চলতে থাকে, তখন তোমার জীবন বরবাদ হয়ে যায়। দেহের অধীশ্বর হলো শয়তান। এর মধ্যে রয়েছে অপরিমিত কামনা-বাসনা, সে শুধুই নিজের কথা ভাবে, এটি স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করতে এব বিলাসিতায় থাকতে চায়, শিথিলতা এবং আলস্যে ডুবে থাকে, এবং একে সন্তুষ্ট করতে করতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে তুমি নিঃশেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ বলা যায়, তাকে এখন যদি তুমি সন্তুষ্ট করো তাহলে পরের বার সে আরও বেশি দাবি তুলবে। সর্বদাই এর বাসনা অপরিসীম এবং চাহিদা নিত্য নূতন, দৈহিক ইচ্ছাকে তুমি যত বেশি লালন করবে ততই তুমি তাতে আসক্ত হবে এবং আরামে অভ্যস্ত হয়ে যাবে এবং—যদি তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারো শেষ পর্যন্ত তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। তুমি ঈশ্বর-সম্মুখে জীবন অর্জন করবে কি না এবং তোমার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করে তুমি কী ভাবে দৈহিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমার বিদ্রোহকে চালনা করছ কর তার উপর। ঈশ্বর তোমাকে রক্ষা করেছেন এবং মনোনীত করেছেন এবং তুমি পূর্বনির্ধারিত, তবুও আজ যদি তুমি তাঁকে সন্তুষ্ট করতে স্বীকৃত না হও, সত্যকে যদি বাস্তবে প্রয়োগ করতে না চাও, তুমি যদি প্রকৃতপক্ষেই ঈশ্বরপ্রেমে পূর্ণ হৃদয় নিয়ে নিজের দৈহিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে ইচ্ছুক না হও, তাহলে তুমি শেষ অবধি নিজেকে নষ্ট করে ফেলবে, এবং এইভাবে, প্রবল যন্ত্রণা সহন করবে। তুমি যদি কেবলই দৈহিক ইচ্ছার সন্তুষ্টিতে মত্ত থাকো, ধীরে ধীরে শয়তান তোমাকে গ্রাস করবে, অন্তর্হিত হবে তোমার জীবন বা আত্মার স্পর্শ, যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমার হৃদয় পূর্ণ তমসায় আচ্ছন্ন হয়। এই তমিস্রাময় জীবনে, তুমি শয়তানের হাতে বন্দি হবে, তোমার হৃদয়ে আর ঈশ্বর থাকবেন না, এবং সেই সময়ে তুমি ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করবে এবং তাঁকে পরিত্যাগ করবে। সুতরাং মানুষ যদি ঈশ্বরকে ভালোবাসতে চায়, তাহলে তাকে বেদনা এবং ক্লেশ সহ্য করার মূল্য দিতে হবে। বাহ্যিক উদ্বেলতার এবং কষ্টের কোন প্রয়োজন নেই, অতিরিক্ত পাঠ এবং অধিক অন্বেষণ অপ্রয়োজনীয়; পরিবর্তে, তাদের অন্তরের বিষয়বস্তুগুলি দূরে সরিয়ে রাখা উচিত: অযৌক্তিক চিন্তাভাবনা, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং তাদের নিজস্ব বিবেচনা, ধারণা এবং অভিপ্রায়। এ-ই হল ঈশ্বরের অভিপ্রায়।

মানুষের বাহ্যিক স্বভাবের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করাও ঈশ্বরের কাজের একটি অংশ; মানুষের বাহ্যিক, অস্বাভাবিক মানবিকতা, যেমন, তাদের জীবনধারা এবং অভ্যাস, তাদের জীবনযাপনের পথ এবং রীতিনীতি, সেইসাথে তাদের বাহ্যিক অনুশীলন এবং তাদের উদ্দীপনা বিষয়ে বিবেচনা। কিন্তু যখন তিনি চান যে মানুষ সত্যকে বাস্তবে প্রয়োগ করুক এবং তাদের স্বভাব পরিবর্তন করুক, তখন প্রাথমিকভাবে যার মোকাবিলা করা হচ্ছে, তা হল মানুষের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য এবং ধারণা। শুধুমাত্র তোমার বাহ্যিক স্বভাব নিয়ে কাজ করা কঠিন নয়; অনেকটা নিজের পছন্দের জিনিস না খেতে বলার মত সরল। তবে যা তোমার অন্তরের ধারণাগুলিকে স্পর্শ করে, সেগুলি পরিত্যাগ করা সহজ নয়। এজন্য প্রয়োজন দৈহিক চাহিদাকে প্রতিহত করা এবং ঈশ্বরের সামনে কষ্ট ভোগ করার মূল্য দেওয়া। এ কথা বিশেষত মানুষের অভিপ্রায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মানুষ যখন থেকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে তাদের মধ্যে বহু ভ্রান্ত অভিপ্রায় রয়েছে। যখন তুমি সত্য অনুশীলনে প্রবৃত্ত না হও, তখন তোমার মনে হবে তোমার সব অভিপ্রায় ঠিক, কিন্তু, যখন কোন কিছু তোমার সঙ্গে ঘটবে, তুমি দেখবে তোমার মধ্যে বহু ভ্রান্ত ধারণা বিদ্যমান। তাই ঈশ্বর মানুষকে যখন নিখঁত করে তোলেন, তখন, তিনি তাদের অনুধাবন করান যে, তাদের মধ্যে যে অনেক বিষয়বস্তু রয়েছে যা তাদের ঈশ্বর-জ্ঞানের অন্তরায় হয়ে উঠছে। যখন তুমি বুঝতে পারো যে তোমার অভিপ্রায় ভুল, যদি তোমার ধারণা এবং অভিপ্রায় অনুযায়ী কাজ করা বন্ধ করতে পারো এবং ঈশ্বরের সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হও এবং যা কিছুই ঘটুক না কেন, নিজের অবস্থানে অটল থাকো, তাতেই প্রমাণ হয় যে তুমি দেহের বিরোধিতা করছো। দেহের বিরোধিতা করলেই তোমার ভিতরে অবশ্যম্ভাবী এক সংগ্রাম শুরু হবে। সচেষ্ট হয়ে উঠবে শয়তান এবং মানুষকে তা অনুসরণ করতে বাধ্য করবে, চেষ্টা করবে যাতে মানুষ দেহ সঞ্জাত ধারণাকে অনুসরণ করে এবং দেহের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়—কিন্তু ঈশ্বর-বাক্যের প্রদীপ্তি এবং বিভা মানুষের অন্তরে দীপ্ত হয়ে উঠবে এবং এ সময়ে তোমার উপরেই নির্ভর করবে যে ঈশ্বর অথবা শয়তান কাকে তুমি অনুসরণ করবে। ঈশ্বর মানুষকে সত্য অনুশীলনের কথা বলেন প্রাথমিকভাবে তাদের অন্তরের বিষয়গুলির মোকাবিলার জন্য, তাদের যে সব চিন্তাভাবনা এবং ধারণা ঈশ্বরের হৃদয়ের অনুসারী নয় সেগুলির মোকাবিলা করতে। পবিত্র আত্মা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে এবং তাকে প্রদীপ্তি ও উজ্জ্বলতা দেয়। সুতরাং সবকিছুর নেপথ্যেই একরকমের যুদ্ধ চলে: প্রতিমুহূর্তে মানুষ যখন সত্য অনুশীলন করতে চায় অথবা ঈশ্বরকে ভালোবাসা বাস্তবায়িত করতে চায়, তখনই শুরু হয় এক দারুণ লড়াই, এবং যদিও দেখে মনে হয় দেহের দিক থেকে সবই ঠিক আছে, মানুষের অন্তরে এক জীবন-মরণ লড়াই, চলতে থাকে—একমাত্র এই প্রবল লড়াই এবং এক গভীর চিন্তনের পর, নির্ধারিত হয় জয় কিংবা পরাজয়। কেউই জানে না সে হাসবে না কাঁদবে। কারণ মানুষের মধ্যে অনেক অভিপ্রায়ই ভুল হওয়ার কারণে, অথবা ঈশ্বরের অনেক কাজই তাদের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায়, মানুষ যখন সত্যকে বাস্তবে রূপ দেয়, তখন পর্দার আড়ালে একটা বিশাল যুদ্ধ হয়। এই সত্যকে বাস্তবায়িত করতে গিয়ে অন্তরালে মানুষকে দুঃখের অজস্র অশ্রু ঝরিয়ে ঈশ্বরের সন্তুষ্টিবিধানের জন্য শেষ পর্যন্ত মনঃস্থির করতে হয়। এই যুদ্ধের কারণেই মানুষ কষ্ট ও পরিমার্জন সহ্য করে; এই হল প্রকৃত কষ্ট। যুদ্ধ এলে, তুমি যদি সত্যই ঈশ্বরের পক্ষে দাঁড়াতে সক্ষম হও তবে তুমি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারবে। মানুষ সত্যের পালনের সময়ে কষ্ট পাওয়া অনিবার্য, যদি, সত্যের পালনকালে, তাদের মধ্যে সবকিছুই সঠিক থাকত, তাহলে তাদের ঈশ্বরের দ্বারা শুদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রইত না, এবং কোন যুদ্ধই হত না এবং তারা কষ্টও পেত না। যেহেতু, মানুষের মধ্যেই এমন অনেক কিছুই আছে যা ঈশ্বরের প্রয়োজনে লাগে না এবং দেহের কারণে মানুষের বিদ্রোহী স্বভাব প্রকট হয়ে ওঠে, সেই দৈহিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার শিক্ষা মানুষের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত হওয়া প্রয়োজন। এটিকেই ঈশ্বর সেই দুঃখকষ্ট বলে অভিহিত করেন যা তিনি মানুষকে তার সাথে সহ্য করতে বলেছিলেন। যখন তুমি অসুবিধার সম্মুখীন হও, সত্বর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা কর: “হে ঈশ্বর! আমি আপনাকে সন্তুষ্ট করতে চাই, আপনার হৃদয়ের সন্তুষ্টির জন্য চূড়ান্ত কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত, এবং যত বড় বাধারই সম্মুখীন হই না কেন, তবুও আমি অবশ্যই আপনাকে সন্তুষ্ট করবো। এমন কি যদি আমার সমস্ত জীবন বিসর্জন দিতে হয়, তবুও আমি অবশ্যই আপনাকে সন্তুষ্ট করবো!” এই সংকল্প নিয়ে যখন এইভাবে প্রার্থনা করবে, তখন তুমি নিজ সাক্ষ্যে অটল থাকতে সক্ষম হবে। যতবার তারা সত্যকে বাস্তবায়িত করতে চাইবে, যতবার তাদের পরিমার্জনা হবে, যতবার তাদের বিচার হবে এবং যতবার তাদের উপর ঈশ্বর কাজ করবেন, ততবারই মানুষকে দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। এই সবই মানুষের কাছেই এক একটি পরীক্ষা এবং সেই কারণেই এই সবের মধ্যেই একরকমের যুদ্ধ চলে। এটিই হল প্রকৃত মূল্য যা তাদের দিতে হবে। ঈশ্বরের বাক্য আরও পড়া এবং আরও অন্বেষণ করা সেই মূল্যেরই একটি অংশ। এটি হল মানুষের যা করা উচিত, এটি তাদের কর্তব্য এবং তাদের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব, কিন্তু মানুষের অন্তরের যা কিছু সরিয়ে রাখা প্রয়োজন তা তাদের অবশ্যই সরিয়ে রাখতে হবে। যদি তুমি তা না করো, তা হলে তোমার বাহ্যিক কষ্ট যতই বেশি হোক না কেন, যতই তুমি অন্বেষণ করো, সকলই বৃথা হবে। অর্থাৎ, তোমার অন্তরের পরিবর্তনই নির্ধারণ করবে তোমার বাহ্যিক কষ্টের আদৌ মূল্য আছে কি না। যখন তোমার অন্তরের স্বভাব বদলায় এবং তুমি সত্যের বাস্তব রূপায়ণ করো, তখন তোমার সব রকম বাহ্যিক কষ্ট ঈশ্বরের অনুমোদন লাভ করবে; যদি তোমার অভ্যন্তরীণ স্বভাবের কোন পরিবর্তন না হয়, তবে তুমি যতই কষ্ট সহ্য করো বা বাইরের যতই অন্বেষণ করো না কেন, ঈশ্বরের কাছ থেকে কোন অনুমোদন পাবে না–এবং ঈশ্বর অনুমোদিত নয় এমন কষ্ট বৃথা। সুতরাং, তোমরা যে মূল্য দিয়েছো তা ঈশ্বর অনুমোদিত কিনা তা নির্ধারিত হয় তোমার মধ্যে পরিবর্তন হয়েছে কিনা এবং তুমি সত্যকে বাস্তবে প্রয়োগ করেছো কিনা এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা, তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাঁর প্রতি বিশ্বস্ততা অর্জন করার জন্য নিজের অভিপ্রায় ও ধারণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছ কিনা। তুমি যতই ইতস্তত ছুটোছুটি করো, যদি তুমি কখনই না জেনে থাকো কীভাবে নিজের ধারণার বিরোধিতা করতে হবে, বরং শুধুমাত্র বাহ্যিক ক্রিয়াকলাপ এবং উত্তেজনা অন্বেষণ করো, এবং জীবনের প্রতি কোন মনোযোগ না দাও, তাহলে সকল কষ্টই বৃথা যাবে। যদি, কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে, তোমার কিছু বলার থাকে যা তুমি বলতে চাও, কিন্তু অন্তরে ব্যথা পেলেও মনে করো যে এটি বলা ঠিক নয়, এটি বললে তোমার ভাই ও বোনদের উপকার হবে না বরং তাদের ক্ষতি হতে পারে, তাহলে অন্তরে যন্ত্রণা সহ্য করেও তা না বলাই শ্রেয়, কারণ এই শব্দগুলি ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণে অক্ষম। এই সময়ে, তোমার ভিতরে একটি লড়াই চলবে, কিন্তু তুমি ব্যথা সহ্য করবে এবং তুমি যা ভালোবাসো তা ছেড়ে দিতে ইচ্ছুক হবে। তোমার অন্তরে ব্যথা থাকলেও তুমি দেহের তুষ্টির কাজ করবে না, এবং ঈশ্বরের হৃদয় এতে সন্তুষ্ট হবে, এবং তুমিও অন্তর থেকে তৃপ্ত থাকবে। প্রকৃতপক্ষে এটিই হলো মূল্য দেওয়া এবং এ হল ঈশ্বর-বাঞ্ছিত মূল্য। এইভাবেই তুমি যদি অনুশীলন করো, ঈশ্বর তোমাকে নিশ্চয় আশীর্বাদ করবেন এবং যদি তুমি তা লাভ করতে না পারো, তাহলে যে কতটুকু তুমি বুঝেছ অথবা কত ভালো বক্তা তুমি তাতে কিছুই যায় আসে না এবং এ সকলই বৃথা! ঈশ্বরকে ভালোবাসার পথে ঈশ্বর যখন শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন তখন যদি তুমি তাঁর পাশে দাঁড়াও, এবং তুমি যদি শয়তানের পক্ষ না নাও, তাহলেই একমাত্র তুমি ঈশ্বরের ভালোবাসার লাভ করবে এবং তোমার সাক্ষ্যে অবিচল থাকবে।

ঈশ্বর মানুষের মধ্যে যে কাজ করেন, তার প্রতিটি ধাপে, বাহ্যিকভাবে মনে হয় তা হল মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ যেন তা মানুষের ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের হস্তক্ষেপেই সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু অন্তরালে, কাজের প্রতিটি ধাপে, এবং যা কিছু ঘটছে সেই প্রতিটি ঘটনাই ঈশ্বরের প্রতি শয়তানের বাজি এবং এ জন্য প্রয়োজন ঈশ্বরের প্রতি নিজ সাক্ষ্যে মানুষের অটল থাকা। উদাহরণ হিসাবে ধরা যায়, ইয়োবের যখন বিচার চলছিলো: নেপথ্যে শয়তান বাজি ধরেছিলো ঈশ্বরের সঙ্গে এবং ইয়োবের যে পরিণতি তা হয়েছিলো মানুষের কাজে এবং হস্তক্ষেপে। ইশ্বর তোমাদের ভিতরে যে কাজ করেন তার নেপথ্যের প্রতিটি ধাপেই চলে শয়তানের সঙ্গে ঈশ্বরের লড়াই—সব কিছুর অন্তরালেই চলে এই যুদ্ধ। যেমন, তুমি যদি তোমার ভাই ও বোনেদের প্রতি সংস্কারগ্রস্ত হও, তোমার এমন কিছু কথা থাকতেই পারে যা তুমি বলতে চাও—যে সব কথা, তোমার মনে হবে, ঈশ্বরের অসন্তোষের কারণ হতে পারে—কিন্তু যদি তুমি সেগুলি না বল তা হলে অন্তরে তুমি অস্বস্তি অনুভব করবে এবং এই মুহূর্তেই তোমার ভিতরে এক লড়াই শুরু হয়ে যাবে: “কথাটি কি আমি বলব না কি বলব না?” এই হল লড়াই। এইভাবে, তুমি যা কিছুরই সম্মুখীন হও, প্রতিটিই লড়াই, এবং যখন তোমার মধ্যে কোনো যুদ্ধ চলে, তোমার প্রকৃত সহযোগিতা এবং প্রকৃত কষ্ট সহনের মাধ্যমেই ঈশ্বর তোমার মধ্যে কাজ করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত তোমার অন্তরের সেই সব অবাঞ্ছনীয় উপাদান তুমি সরিতে রাখতে সক্ষম হও এবং তোমার ক্রোধ স্বাভাবিকভাবেই প্রশমিত হয়। এই হল ঈশ্বরের সাথে সহযোগিতার ফল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে তার প্রয়াসের জন্য মূল্য দিতে হয়। প্রকৃত কষ্টভোগ ছাড়া মানুষ ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে না; এমন কি তারা ঈশ্বরের সন্তুষ্টির কাছাকাছিও আসে না, শুধুই ফাঁকা বুলি আওড়ায়! এইসব নিষ্ফলা বাক্যে কি ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন? আধ্যাত্মিক জগতে যখন শয়তান এবং ঈশ্বরের দ্বন্দ্ব চলে, তখন কী ভাবে তুমি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করবে এবং তাঁর প্রতি সাক্ষ্যে অবিচল থাকবে? তোমার জানা উচিত, যা কিছুই ঘটে তার প্রতিটিই এক মহান বিচার এবং প্রতিটি সময়েই ঈশ্বরের প্রয়োজন তোমার সাক্ষ্যের। যদিও বাহ্যিকভাবে মনে হয় এগুলি গুরুত্বহীন, কিন্তু যখন এগুলি ঘটে তখনই সেগুলি দেখায় যে ঈশ্বরকে তুমি ভালোবাসো কি না। যদি তুমি ঈশ্বরকে ভালোবাসো, তা হলে তাঁর প্রতি সাক্ষ্যে তুমি অবিচল থাকবে এবং তাঁর প্রতি তোমার ভালোবাসা যদি বাস্তবে প্রয়োগ না করো, তা হলে তা প্রমাণ করে যে তুমি সেই মানুষ নও যে সত্যকে বাস্তবায়িত করে, তোমার মধ্যে সত্য নেই, তোমার মধ্যে প্রাণ নেই, তুমি আবর্জনা মাত্র! মানুষের জীবনে তাই ঘটে যখন ঈশ্বর ইচ্ছা করেন যে সেই ঘটনায় মানুষ যেন তাঁর সাক্ষ্যে অবিচল থাকে। হয়তো সেই মুহূর্তে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটল না এবং তোমাকে সেই মহান সাক্ষ্য বহন করতে হলো না, কিন্তু তোমার জীবনে প্রতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনাই ঈশ্বরের প্রতি সাক্ষ্য। যদি তুমি তোমার ভাই-বোন, পরিবার এবং তোমার চারপাশের মানুষের প্রশংসা জিতে নিতে পারো এমনকি কোন এক দিন অবিশ্বাসীরাও যদি তোমার কাজের প্রশংসা করে এবং দেখ যে ঈশ্বরের সব কাজই অনুপম, তা হলে তুমি ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহন করছো। যদিও তোমার কোন অন্তর্দৃষ্টি নেই এবং তোমার ক্ষমতা সামান্য, তথাপি ঈশ্বরের শুদ্ধিকরণের প্রভাবে তুমি তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারবে এবং তাঁর অভিপ্রায় সম্পর্কে মনোযোগী হবে এবং অন্যদের দেখাতে পারবে যে তোমার মত ন্যূনতম ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের মধ্যেও তিনি কী অসামান্য কাজ করেছেন। মানুষ যখন ঈশ্বরকে জানতে পারবে এবং শয়তানকে পরাজিত করবে, বহুলাংশে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত হয়ে উঠবে, তখন এই গোষ্ঠীর মতো দৃঢ় মেরুদণ্ড অন্য কারোর হবে না, এবং এই হল মহত্তম সাক্ষ্য। যদিও মহান কাজ করতে তোমরা অপারগ, কিন্তু তোমরা ঈশ্বরের সন্তুষ্টি-বিধান করতে পারো। অন্যরা নিজেদের ধারণাকে সরিয়ে রাখতে পারে না, কিন্তু তুমি পারো; অন্যরা নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতায় ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহন করতে পারে না, কিন্তু তুমি নিজের ক্ষমতায় এবং কাজে ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারো, ঈশ্বরের প্রতি অসামান্য সাক্ষ্য দিতে পারো। একমাত্র এটিই প্রকৃত ঈশ্বর-প্রেম হিসাবে চিহ্নিত হয়। তুমি যদি এতে অসমর্থ হও, তা হলে তুমি তোমার পরিবার, ভাই-বোন অথবা বিশ্বের মানুষের কাছে ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহন করো না। শয়তানের সামনে যদি তুমি এই সাক্ষ্য বহন করে না নিয়ে যেতে পারো, তা হলে তুমি শয়তানের উপহাসের পাত্র হয়ে উঠবে, কৌতুকের কারণ হবে, আচরণ পাবে তার খেলনার মত, তোমাকে সে মাঝেমাঝে এতই বোকা বানাবে যে তুমি উন্মাদ হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে তোমার উপর নেমে আসতে পারে কঠিন বিচার—কিন্তু আজ যদি তুমি পবিত্র হৃদয়ে ইশ্বরকে ভালোবাসো, ভবিষ্যতের বিচার যতই কঠোর হোক না কেন এবং তোমার যাই হোক, যদি তুমি তোমার সাক্ষ্যে অবিচল থাকতে এবং ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট রাখতে পারো, তা হলে তুমি হৃদয়ে শান্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে বিচার যতই কঠোর হোক না কেন তুমি ভীত হবে না। ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা তোমরা জানো না; তোমরা শুধু আজকের পরিস্থিতিতে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট রাখতে পারো। তোমরা মহান কোন কাজ করতে অসমর্থ এবং তোমরা শুধু ঈশ্বর-বাক্যের বাস্তব প্রয়োগের অভিজ্ঞতায় এবং ঈশ্বর সাক্ষ্যের বলিষ্ঠ বহনের মাধ্যমে শয়তানকে লজ্জিত করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট রাখার দিকে মনোযোগী হবে। যদিও তোমার দেহ অতৃপ্ত থাকবে এবং তুমি কষ্ট ভোগ করবে, কিন্তু তুমি ইশ্বরকে সন্তুষ্ট করবে এবং লজ্জিত করবে শয়তানকে। তুমি যদি সর্বদাই এইভাবে অনুশীলন করো, ঈশ্বর তোমার সামনে একটি পথ খুলে দেবেন। যখন কোনো এক দিন সেই মহান বিচার শুরু হবে, অন্যরা পতিত হলেও তুমি দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেঃ কারণ, যে মূল্য তুমি দিয়েছো, তার দরুণ ঈশ্বর তোমাকে রক্ষা করবেন যাতে তুমি পতিত না হয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারো। যদি, খুব সাধারণভাবেই তুমি সত্যের বাস্তব প্রয়োগ করো এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রেমপূর্ণ হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করো, তা হলে ভবিষ্যৎ বিচারের সময় ঈশ্বর তোমাকে অবশ্যই রক্ষা করবেন। যদিও তুমি নির্বোধ, প্রতিপত্তি এবং ধীশক্তিতে দুর্বল, তথাপি ঈশ্বর তোমার প্রতি নিরপেক্ষ থাকবেন। এটি নির্ভর করে তোমার উদ্দেশ‍্য সঠিক কি না তার উপর। আজ তুমি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম যাতে তুমি প্রতিটি ছোট-খাটো বিষয়েও নজর দাও, প্রতিটি বিষয়েই তুমি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করো, হৃদয় দিয়েই ঈশ্বরকে প্রকৃত ভালোবাসো, তোমার হৃদয়ের পবিত্রতা তুমি ঈশ্বরকে সমর্পণ করো, যদিও কিছু বিষয় তুমি বোঝ না, তুমি ঈশ্বরের সম্মুখে এসে তোমার অভিপ্রায়ের শুদ্ধি ঘটাতে পারো এবং তাঁর ইচ্ছার সন্ধান করতে পারো এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য যা দরকার সব কিছুই করো। হয় তো তোমার ভাই ও বোনেরা তোমাকে পরিত্যাগ করতে পারে, কিন্তু তোমার হৃদয় ঈশ্বরের সন্তুষ্টি বিধান করবে এবং তুমি দৈহিক ভোগ-সুখের জন্য লালায়িত হবে না। তুমি যদি সর্বদাই এইভাবেই অনুশীলন করো, সেই কঠিন বিচারের সময় তুমি সুরক্ষিত থাকবে।

বিচারের সময় মানুষের কোন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নজর দেওয়া হয়? লক্ষ্য রাখা হয় সেই সব বিদ্রোহী স্বভাবের দিকে যা ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করে না। মানুষের মধ্যে অনেক অশুদ্ধি এবং ভন্ডামি আছে, ঈশ্বরের বিচারের লক্ষ্য সেগুলির শোধন করা। কিন্তু আজ যদি তুমি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট রাখো, তা হলে ভবিষ্যতের বিচারে তুমি ত্রুটিমুক্ত হবে। আর আজ যদি তুমি ঈশ্বরের সন্তুষ্টি বিধান না করো, তা হলে ভবিষ্যতের বিচারের সময় তুমি প্রলোভিত হবে এবং নিজের অজান্তেই পতিত হবে, এবং সে সময়ে তুমি নিজেকেও রক্ষা করতে পারবে না, কারণ তুমি ঈশ্বরের কাজের সাথে তাল মেলাতে পারোনি ও, প্রকৃত আত্মিক উচ্চতায় উন্নীত হওনি। তাই, তুমি যদি ভবিষ্যতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে চাও, ঈশ্বরকে আরও সন্তুষ্ট এবং তাঁকে শেষ পর্যন্ত অনুসরণ করতে চাও তা হলে আজ থেকেই তুমি তার জোরালো ভিত্তি গড়ে তোলো। সব বিষয়ে সত্যের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে এবং তাঁর প্রতিটি ইচ্ছার প্রতি মনোযোগী হলেই তুমি ঈশ্বরের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারবে। এইভাবেই তুমি যদি সর্বদা অনুশীলন করো, তোমার মধ্যে একটি ভিত্তি তৈরি হবে এবং ঈশ্বর তোমাকে সেই হৃদয় দেবেন যে হৃদয় ঈশ্বরকে ভালোবাসে, এবং তিনি তোমাকে বিশ্বাস প্রদান করবেন। একদিন যখন সত্যই তোমার উপর বিচার নেমে আসবে, তুমি কিছু কষ্ট অবশ্যই অনুভব করবে এবং একটি পর্যায় পর্যন্ত ক্ষুব্ধ হবে, দুঃসহ দুঃখ ভোগ করবে, মনে হবে তুমি মারা যাচ্ছ—কিন্তু ঈশ্বরের প্রতি তোমার ভালোবাসা অপরিবর্তিত থাকবে, বরঞ্চ তা আরও গভীর হবে। এগুলিই হলো ঈশ্বরের আশীর্বাদ। ঈশ্বরের প্রতিটি বাক্য ও কর্ম যদি তুমি আনগত্যপূর্ণ হৃদয়ে স্বীকার করো, তা হলে তুমি অবশ্যই ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাবে এবং তুমিই হবে তেমন একজন যে ঈশ্বরের আশীর্বাদ এবং প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। কিন্তু আজ যদি তুমি তা অনুশীলন না করো, তা হলে বিচারের দিনে তোমার অন্তরে বিশ্বাস অথবা প্রেমময় হৃদয় থাকবে না, এবং সেই সময়ে বিচার হয়ে উঠবে প্রলোভন; শয়তানের প্রলোভনে তুমি নিমজ্জিত হবে এবং মুক্তির কোনো উপায় থাকবে না। আজ ক্ষুদ্র বিচারের সময় হয় তো তুমি দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারছো, কিন্তু বৃহত্তর বিচারের দিনে তুমি হয়তো সেই দৃঢ়তা পাবে না। কিছু মানুষের হয় তো এই আত্মাভিমান আছে যে তারা মনে করে যে তারা প্রায় নিখুঁত। এই সময়ে তুমি যদি গভীরভাবে আত্মানুসন্ধান না করো এবং আত্মসন্তুষ্ট থাকো, তা হলে তুমি বিপদে পড়বে। আজ এখনও ঈশ্বর বৃহত্তর বিচারের কাজ শুরু করেন নি এবং মনে হচ্ছে সব কিছুই ঠিক আছে, কিন্তু ঈশ্বর যখন তোমার বিচার করবেন, তখন তুমি আবিষ্কার করবে যে তোমার মধ্যে বহু ত্রুটি বিদ্যমান, তুমি নেহাতই নগণ্য এবং সেই মহান বিচার সহ্য করতে তুমি অক্ষম। যেমন আছো, যদি তুমি তেমনই থাকো তা হলে তুমি এক জাড্যের মধ্যে রয়েছো এবং যখন বিচার নেমে আসবে তখন তুমি পতিত হবে। যদি তুমি প্রায়শই নিজের তুচ্ছতার দিকে লক্ষ্য রাখো একমাত্র তা হলেই তুমি এগিয়ে যেতে পারবে। শুধুমাত্র বিচারের সময়েই যদি তুমি ভাবো তুমি তুচ্ছ, তোমার ইচ্ছাশক্তি কত দুর্বল, তোমার মধ্যে সত্য খুব সামান্যই, ঈশ্বরের প্রয়োজনের তুলনায় নেহাতই অপ্রতুল—যদি শুধু তখনই তুমি এগুলি উপলব্ধি করো, তাহলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

ঈশ্বরের স্বভাব যদি তুমি না জানো, তা হলে বিচারের সময় নিশ্চিতভাবে পতিত হবে, কারণ কীভাবে ঈশ্বর মানুষকে ত্রুটিমুক্ত করেন তা তুমি জানো না এবং কোন প্রক্রিয়ায় তিনি তা করেন এবং যখন তোমার উপর বিচার নেমে আসবে এবং যদি তা তোমার ধারণা মতো না হয়, সে বিচারে তুমি দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারবে না। প্রকৃত ভালোবাসাই হল ঈশ্বরের সর্বাত্মক স্বভাব এবং এই সর্বাত্মক স্বভাব যখন মানুষকে দেখানো হয়, তখন তোমার রক্ত-মাংসের শরীরে কী হয়? ঈশ্বরের ন্যায়-পরায়ণ স্বভাব যখন মানুষ দেখে, তখন অনিবার্যভাবে মানুষের রক্ত-মাংসের শরীর কষ্ট ভোগ করতে শুরু করে। কষ্টভোগ না করলে, তুমি ঈশ্বরের দ্বারা ত্রুটিমুক্ত হবে না এবং তোমার প্রকৃত ভালোবাসা সমর্পণ করতে পারবে না। ঈশ্বর যদি তোমাকে ত্রুটিমুক্ত করেন, নিশ্চিত তিনি তোমাকে তাঁর সম্পূর্ণ স্বভাব প্রদর্শন করবেন। সৃষ্টির সময় থেকে আজ পর্যন্ত, ঈশ্বর কখনই তাঁর সম্পূর্ণ স্বভাব প্রদর্শন করেন নি—কিন্তু তাঁর অন্তিম দিনে তিনি তাঁর নির্বাচিত গোষ্ঠীর মানুষের কাছে আবির্ভূত হবেন যারা তাঁর দ্বারাই পূর্বনির্ধারিত এবং মনোনীত এবং তাদেরকে শুদ্ধ করে তিনি তাঁর স্বভাব উন্মুক্ত করবেন যার মাধ্যমে তিনি এই মানব-গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ করবেন। এই হল ঈশ্বরের প্রকৃত ভালোবাসা। ঈশ্বরের প্রকৃত ভালোবাসা উপলব্ধি করতে গেলে চূড়ান্ত কষ্ট সহ্য করা প্রয়োজন এবং দিতে হবে উচ্চ মূল্য। এর পরেই তারা ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হবে এবং ঈশ্বরকে তাদের সত্যিকারের ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে এবং তবেই ঈশ্বরের হৃদয় সন্তুষ্ট হবে। মানুষ যদি ইচ্ছা করে যে তারা ঈশ্বরের দ্বারা শুদ্ধ হবে এবং তারা ঈশ্বরের অভিপ্রায় অনুযায়ী কাজ করবে এবং তাদের প্রকৃত ভালোবাসা ঈশ্বরে সমর্পণ করবে, তাহলে তাদের পারিপার্শ্বিকের কাছ থেকে প্রভূত কষ্ট এবং বহু বেদনা ভোগ করতে হবে, মৃত্যুর থেকেও কঠিন সেই যন্ত্রণা। শেষ পর্যন্ত তারা বাধ্য হবে তাদের প্রকৃত হৃদয় ঈশ্বরকে ফিরিয়ে দিতে। কেউ ঈশ্বরকে প্রকৃত ভালোবাসে কিনা তা বোঝা যায় তার কষ্ট ভোগ করায় এবং শুদ্ধিতে। একমাত্র কষ্ট সহ্য করা এবং শোধনের মাধ্যমেই ঈশ্বর মানুষের ভালোবাসাকে শুদ্ধ করেন।

পূর্ববর্তী: শুধুমাত্র বেদনাদায়ক পরীক্ষার অভিজ্ঞতার দ্বারাই তুমি ঈশ্বরের মাধুর্য জানতে পারবে

পরবর্তী: “সহস্রবর্ষীয় রাজ্য আগত” – একটি সংক্ষিপ্ত কথন

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

রাজ্যের যুগই হল বাক্যের যুগ

রাজ্যের যুগে, যে পদ্ধতিতে তিনি কাজ করেন তা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে, এবং সমগ্র যুগের কাজ সম্পাদন করার জন্য, ঈশ্বর নতুন যুগের সূচনা করতে বাক্যের...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন