একমাত্র পরিমার্জনার অভিজ্ঞতা লাভ করেই মানুষ প্রকৃত ভালোবাসার অধিকারী হতে পারে

তোমরা সকলেই পরীক্ষা এবং পরিমার্জনার মধ্যে রয়েছ। পরিমার্জনা চলাকালীন তোমার কীভাবে ঈশ্বরকে ভালোবাসা উচিত? পরিমার্জনার অভিজ্ঞতা লাভ করে, মানুষ ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত প্রশংসা অর্পণ করতে সক্ষম হয়, এবং পরিমার্জনার মধ্যেই, তারা দেখতে পায় যে তারা অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। তোমার পরিমার্জনা যত বেশি হবে, তুমি তত বেশি করে জৈবিক চাহিদা পরিত্যাগ করতে সক্ষম হবে; মানুষের পরিমার্জনা যত বেশি হবে, তত ঈশ্বরের প্রতি তাদের ভালোবাসা বাড়বে। তোমাদের এটা বোঝা উচিত। কেন মানুষদের অবশ্যই পরিমার্জিত হতে হবে? তাতে কী ফললাভ হবে? মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের পরিমার্জনার কাজের তাৎপর্য কী? তুমি যদি সত্যিই ঈশ্বরের সন্ধান করো, তাহলে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় অবধি পরিমার্জনার অভিজ্ঞতা লাভ করার পর তুমি অনুভব করবে যে এটা অত্যন্ত ভালো, এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পরিমার্জনা চলাকালীন মানুষের কীভাবে ঈশ্বরকে ভালোবাসা উচিত? ঈশ্বরের পরিমার্জনা গ্রহণ করার জন্য তাঁকে ভালোবাসার সংকল্প করেই তা করা উচিত: পরিমার্জনা চলাকালীন তুমি অন্তরে এমন পীড়িত হও, যেন তোমার হৃদয়ে একটা ছুরি মোচড় দেওয়া হচ্ছে, তবু তুমি ঈশ্বরপ্রেমী হৃদয় ব্যবহার করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে ইচ্ছুক, এবং দেহের যত্ন নিতে অনিচ্ছুক বোধ করো। ঈশ্বর-প্রীতির অনুশীলন বলতে একেই বোঝায়। তুমি অন্তরে কষ্টভোগ করো, এবং তোমার যন্ত্রণা এক নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও এখনও তুমি ঈশ্বরের সম্মুখে এসে প্রার্থনা করতে ইচ্ছুক: “হে ঈশ্বর! আমি আপনাকে ত্যাগ করতে পারব না। যদিও আমার মধ্যে অন্ধকার রয়েছে, তাও আমি আপনাকে সন্তুষ্ট করতে চাই; আপনি আমার হৃদয়কে জানেন, এবং আমি চাইব যে আপনি আমার মধ্যে আপনার ভালোবাসা আরও নিয়োগ করুন।” এই হল পরিমার্জনাকালীন অনুশীলন। তুমি যদি ঈশ্বর-প্রীতিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারো, পরিমার্জনা তোমাকে ঈশ্বরের আরও নিকটে নিয়ে আসবে এবং তোমাকে ঈশ্বরের সঙ্গে আরও অন্তরঙ্গ করে তুলবে। যেহেতু তুমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করো, তোমার অবশ্যই ঈশ্বরের সম্মুখে নিজের হৃদয়কে অর্পণ করা উচিত। তুমি যদি ঈশ্বরের সম্মুখে নিজের হৃদয়কে উৎসর্গ করো এবং মেলে ধরো, তাহলে পরিমার্জনার সময় ঈশ্বরকে অস্বীকার করা, বা তাঁকে পরিত্যাগ করা তোমার পক্ষে অসম্ভব হবে। এইভাবে ঈশ্বরের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ এবং স্বাভাবিক হয়ে উঠবে, এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তোমার আরও পৌনঃপুনিক হয়ে উঠবে। তুমি যদি সর্বদা এইভাবেই অনুশীলন করো, তাহলে তুমি ঈশ্বরের আলোকে এবং তাঁর বাক্যের নির্দেশনায় আরও বেশি সময় অতিবাহিত করবে। তোমার স্বভাবেও আরও অনেক পরিবর্তন আসবে, এবং তোমার জ্ঞান দিন দিন বাড়বে। যেদিন অকস্মাৎ ঈশ্বরের পরীক্ষায় তোমাকে অংশগ্রহণ করতে হবে, তুমি যে শুধু ঈশ্বরের পাশে দাঁড়াতে পারবে তা-ই নয়, বরং ঈশ্বরের সাক্ষ্যও বহন করতে সক্ষম হবে। সেই সময়ে, তুমি হবে ইয়োবের মতো, পিতরের মতো। ঈশ্বরের সাক্ষ্য বহন করে তুমি তাঁকে প্রকৃতই ভালোবাসবে, এবং সানন্দে তাঁর জন্য নিজের জীবন ত্যাগ করবে; তুমি হবে ঈশ্বরের সাক্ষী, এবং ঈশ্বরের প্রিয় পাত্র। যে ভালোবাসা পরিমার্জনার অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তা দুর্বল নয়, শক্তিশালী। যখন, যেভাবেই ঈশ্বর তোমাকে তাঁর পরীক্ষার সম্মুখে আনুন না কেন, তুমি জীবন বা মৃত্যু নিয়ে তোমার উদ্বেগ পরিত্যাগ করতে, ঈশ্বরের জন্য সবকিছু সানন্দে দূরে সরিয়ে দিতে, এবং ঈশ্বরের জন্য যেকোনো কিছু সহ্য করতে সক্ষম হবে—এভাবেই তোমার ভালোবাসা বিশুদ্ধ এবং আস্থা বাস্তব হবে। একমাত্র তখনই তুমি এমন একজন হবে, যে ঈশ্বরের প্রকৃতই ভালোবাসার পাত্র, এবং যাকে ঈশ্বর প্রকৃতই নিখুঁত করে তুলেছেন।

মানুষজন যদি শয়তানের দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাহলে তাদের অন্তরে ঈশ্বরের জন্য কোনো ভালোবাসা নেই এবং তাদের পূর্বকার দর্শনশক্তি, ভালোবাসা, এবং সংকল্প সবই বিলুপ্ত হয়েছে। মানুষ একসময় মনে করত যে তাদের ঈশ্বরের জন্য কষ্টভোগ করতে হবে, কিন্তু আজ তারা ভাবে এমনটা করা লজ্জাজনক এবং তাদের অভিযোগের কোনো সীমা নেই। এটা শয়তানের কাজ, মানুষ যে শয়তানের কার্যক্ষেত্রে পতিত হয়েছে তার চিহ্ন। তুমি যদি এই অবস্থার সম্মুখীন হও, তাহলে তোমাকে অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে, এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে—এটা তোমাকে শয়তানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। তিক্ত পরিমার্জনার সময়েই মানুষ সবচেয়ে সহজে শয়তানের প্রভাবে পড়ে যেতে পারে, তাহলে এহেন পরিমার্জনার কালে তোমার কীভাবে ঈশ্বরকে ভালোবাসা উচিত? তোমাকে ঈশ্বরের সামনে নিজের হৃদয়কে মেলে ধরে এবং নিজের সর্বশেষ সময়টুকুও তাঁর প্রতি নিয়োজিত রেখে নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আহ্বান করতে হবে। ঈশ্বর তোমাকে কীভাবে পরিমার্জন করবেন, তা নির্বিশেষে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমাকে সত্যের অনুশীলন করতে সক্ষম হতে হবে এবং তোমাকে ঈশ্বরেরসন্ধান এবং তাঁর সাথে একাত্মতার সন্ধান করার দায়িত্ব নিতে হবে। এই রকম সময়ে, তুমি যত বেশি নিষ্ক্রিয় থাকবে, তত বেশি নেতিবাচক হয়ে পড়বে এবং তোমার পক্ষে পশ্চাদপসরণ করা তত বেশি সহজ হয়ে উঠবে। যখন তোমার কাজ নির্বাহ করা তোমার জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে, তখন তুমি তা ভালোভাবে না পারলেও তোমার সাধ্যমতো তা করবে, এবং তা করার জন্য ঈশ্বরের প্রতি তোমার ভালোবাসার চেয়ে বেশি কিছুই ব্যবহার করবে না; বাকিরা যাই বলুক—তুমি ভালোভাবে করেছ, বা করো নি-অন্যেরা এমন যাই বলুক না কেন—তোমার অভিপ্রায়টি সঠিক এবং তুমি স্বঘোষিত-ধার্মিক নও, কারণ তুমি ঈশ্বরের হয়ে কাজ করছ। যখন বাকিরা তোমার ভুল ব্যাখ্যা করে, তখন তুমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে এবং তাঁকে এ কথা বলতে সক্ষম যে: “হে ঈশ্বর! আমি চাই না যে বাকিরা আমায় সহ্য করুক বা আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুক, এ-ও চাই না যে তারা আমায় বুঝুক বা আমায় অনুমোদন করুক। আমি শুধু চাই যেন আমি আমার হৃদয়ে আপনাকে ভালোবাসতে সক্ষম হই, যাতে আমি নিজের হৃদয়ে স্বচ্ছন্দে থাকি এবং যাতে আমার বিবেক পরিষ্কার থাকে। আমি চাই না যে বাকিরা আমার প্রশংসা করুক, বা আমায় নিয়ে উচ্চ ধারণা পোষণ করুক; আমি একমাত্র আপনাকে নিজের অন্তর থেকে সন্তুষ্ট করতে চাই; আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করে আমার ভূমিকা পালন করতে চাই, এবং যদিও আমি মূর্খ, নির্বুদ্ধি, সামান্য ক্ষমতাবান এবং অন্ধ, তাও আমি জানি যে আপনি মনোরম এবং আমি আমার সর্বস্ব আপনার কাছে অর্পণ করতে ইচ্ছুক।” যখনই তুমি এইভাবে প্রার্থনা করবে, তখনই তোমার ঈশ্বর-প্রীতির আবির্ভাব ঘটবে, এবং তুমি নিজের অন্তরে অনেক বেশি ভারমুক্ত অনুভব করবে। ঈশ্বর-প্রীতির অনুশীলন বলতে একেই বোঝানো হয়। তোমার যেমন অভিজ্ঞতা হবে, তুমি দু’বার ব্যর্থ হবে এবং একবার সফল হবে, অথবা পাঁচবার ব্যর্থ হয়ে দু’বার সফল হবে, এবং এইভাবে তোমার যত অভিজ্ঞতা হবে, একমাত্র ব্যর্থতার মধ্যেই তুমি ঈশ্বরের মাধুর্য দেখতে পাবে এবং আবিষ্কার করতে পারবে তোমার মধ্যে কীসের অভাব রয়েছে। যখন তুমি এহেন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে, তোমার উচিত নিজেকে সাবধান করা, নিজের পদক্ষেপ পরিমিত করা এবং আরও ঘন ঘন প্রার্থনা করা। তুমি ধীরে ধীরে এহেন পরিস্থিতিতে বিজয়লাভ করার ক্ষমতা অর্জন করবে। যখন তা হবে, তখন বুঝতে হবে তোমার প্রার্থনা কার্যকর হয়েছে। যখন তুমি দেখবে যে এইবার তুমি সফল হয়েছো, তুমি অন্তরে তৃপ্ত হবে, এবং যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন তুমি ঈশ্বরকে অনুভব করতে সক্ষম হবে এবং বুঝবে যে পবিত্র আত্মার উপস্থিতি তোমাকে ত্যাগ করে নি – একমাত্র তখনই তুমি বুঝবে, ঈশ্বর তোমার ভিতরে কীভাবে কাজ করেন। এইরূপ অনুশীলন তোমাকে অভিজ্ঞতা লাভের একটি পথ প্রদান করবে। তুমি যদি অনুশীলনে সত্য স্থাপন না করো, তাহলে তোমার অন্তরে পবিত্র আত্মার উপস্থিতি থাকবে না। কিন্তু তুমি যখন যে বিষয়ের সম্মুখীন হবে, তখন যদি অনুশীলনে সত্য স্থাপন করো, তাহলে অন্তরে কষ্টভোগ করলেও পবিত্র আত্মা পরে তোমার সঙ্গে থাকবে, তুমি যখন প্রার্থনা করবে তখন ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতে পারবে, তোমার মধ্যে ঈশ্বরের বাক্য অনুশীলন করার শক্তি থাকবে, এবং তোমার ভাই-বোনেদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় তোমার বিবেকের উপর কোনো কিছুর ভার থাকবে না এবং তুমি শান্তি অনুভব করবে, আর এইভাবেই, তুমি যা করেছো, তা প্রকাশ করতে পারবে। বাকিরা কী বলল, তা নির্বিশেষে ঈশ্বরের সঙ্গে তোমার এক স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখতে পারবে, তুমি বাকিদের দ্বারা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে না, তুমি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে উঠবে—আর এর মাধ্যমে তুমি দেখাবে যে তোমার ঈশ্বরের বাক্যের অনুশীলন কার্যকর হয়েছে।

ঈশ্বরের পরিমার্জনা যত অধিক হবে, ততই মানুষের হৃদয় ঈশ্বরকে ভালবাসতে সক্ষম হবে। তাদের হৃদয়ের যন্ত্রণা জীবনের পক্ষে উপকারী হবে, তারা ঈশ্বরের সম্মুখে আরও শান্ত হতে সক্ষম হবে, ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে এবং তারা ঈশ্বরের চূড়ান্ত ভালোবাসা এবং পরিত্রাণ প্রত্যক্ষ করতে আরও বেশি সক্ষম হবে। পিতর শত-শতবার পরিমার্জনার অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল এবং ইয়োব বহু পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। তোমরা যদি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হতে চাও, তাহলে তোমাদেরও অবশ্যই শত-শতবার পরিমার্জনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে; তুমি যদি একমাত্র এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাও এবং এই ধাপের উপর ভরসা রাখো তাহলেই তুমি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে এবং ঈশ্বরের দ্বারা ত্রুটিমুক্ত হতে পারবে। পরিমার্জনা হল শ্রেষ্ঠ উপায় যার দ্বারা ঈশ্বর মানুষকে নিখুঁত করেন; একমাত্র পরিমার্জনা এবং তিক্ত পরীক্ষাই মানুষের হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার উন্মোচন ঘটাতে পারে। কষ্ট ছাড়া, মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার অভাব ঘটে; তারা যদি অন্তর থেকে পরীক্ষিত না হয়, যদি তারা পরিমার্জনার সম্মুখীন না হয়, তাহলে তাদের হৃদয় চিরকাল বাইরে ভেসে বেড়াবে। একটি নির্দিষ্ট পর্যায় অবধি পরিমার্জিত হওয়ার পরে, তুমি নিজের দুর্বলতা এবং সমস্যাগুলো দেখতে পাবে, তুমি দেখতে পাবে তোমার কত কিছুর অভাব, এবং তুমি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হও সেগুলোকে অতিক্রম করতে পারো না, এবং তুমি দেখতে পাবে তোমার অবাধ্যতা কত বেশি। একমাত্র পরীক্ষার সময়েই মানুষ তার প্রকৃত অবস্থার কথা জানতে পারে; পরীক্ষা মানুষকে নিখুঁত হতে আরও সক্ষম করে তোলে।

পিতর তার জীবনকালে শত-শতবার পরিমার্জনার অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল এবং অনেক যন্ত্রণাময় কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। এই পরিমার্জনা হয়ে উঠেছিল তার সর্বোচ্চ ঈশ্বর-প্রীতির ভিত্তি এবং সমগ্র জীবনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা। সে যে সর্বোচ্চ ঈশ্বর-প্রীতির অধিকারী হতে পেরেছিল, তার কারণ একপ্রকারে ছিল তার ঈশ্বরকে ভালোবাসার সংকল্প; কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল তার সেই পরিমার্জনা এবং কষ্টভোগের অভিজ্ঞতা। এই কষ্টভোগ হয়ে উঠেছিল তার ঈশ্বর-প্রীতির পথে তার পথপ্রদর্শক, এবং সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয়। মানুষ যদি ঈশ্বরকে ভালোবাসার সময় পরিমার্জনার কষ্টের মধ্য দিয়ে না যায়, তাহলে তাদের ভালোবাসা অশুদ্ধতা এবং নিজেদের পছন্দে পরিপূর্ণ থাকে; এহেন ভালোবাসা শয়তানের ধারণায় পূর্ণ, এবং ঈশ্বরের ইচ্ছাপূরণ করতে মৌলিকভাবে অক্ষম। ঈশ্বরকে ভালোবাসার সংকল্প করা আর তাঁকে প্রকৃত ভালোবাসা এক নয়। যদিও তারা নিজেদের হৃদয়ে যা যা ভাবে তা সবই ঈশ্বরকে ভালোবাসার এবং সন্তুষ্ট করার জন্য এবং তাদের ভাবনা যতই ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ নিয়োজিত এবং মানবিক ধারণা বিবর্জিত বলে মনে হোক না কেন, তাদের ভাবনা ঈশ্বরের সম্মুখে আনা হলে, তিনি এহেন ভাবনাকে প্রশংসা বা আশীর্বাদ করেন না। এমনকি যখন মানুষ সকল সত্য পুরোপুরি বুঝে যায়—যখন সবটা জেনে যায়—তখনও একে ঈশ্বর-প্রীতির সংকেত বলা যায় না, এ কথা বলা যায় না যে এই মানুষেরা ঈশ্বরকে প্রকৃতই ভালোবাসে। পরিমার্জনের মধ্যে দিয়ে না গিয়ে অনেক সত্য বোঝার পরেও এই মানুষেরা এই সত্যকে অনুশীলন করতে অক্ষম; একমাত্র পরিমার্জনার সময়েই মানুষ এই সত্যগুলির প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে, একমাত্র তখনই মানুষ সেগুলির অন্তর্নিহিত অর্থকে উপলব্ধি করতে পারে। সেই সময়ে, যখন তারা পুনরায় চেষ্টা করে, তখন তারা যথার্থভাবে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সত্যের চর্চা করতে পারে; সেই সময়ে তাদের মানবিক ধারণা হ্রাস পায়, মানবিক ভ্রষ্টাচার কমে যায়, এবং মানবিক আবেগ খর্ব হয়; একমাত্র সেই সময়েই তাদের অনুশীলন প্রকৃত ঈশ্বর-প্রীতি প্রকাশ করে। ঈশ্বর-প্রীতির সত্যের প্রভাব মৌখিক জ্ঞান বা মানসিক ইচ্ছার দ্বারা লব্ধ হয় না, এবং এটি নিতান্ত সত্যের উপলব্ধির দ্বারাও লব্ধ হয় না। এখানে মানুষকে মূল্য দিতে হয়, তারা পরিমার্জনার কালে অনেক তিক্ততার মধ্য দিয়েযেতে হয় এবং একমাত্র তখনই তাদের ভালোবাসা বিশুদ্ধ এবং ঈশ্বরের নিজ হৃদয়ের সাথে সঙ্গত হবে। মানুষ তাঁকে ভালোবাসবে, এই দাবি ঈশ্বর এই চাহিদা থেকে করেন না যে, মানুষ তাঁকে নিজের উচ্ছ্বাস বা ইচ্ছার দ্বারা ভালোবাসুক; শুধুমাত্র আনুগত্য এবং তাঁর সেবার জন্য সত্যের ব্যবহারের মাধ্যমেই মানুষ তাঁকে প্রকৃত ভালোবাসতে পারে। কিন্তু মানুষ ভ্রষ্টাচারের মাঝে বাস করে, এবং তাই সে ঈশ্বরের সেবা করার জন্য সত্য এবং আনুগত্যের ব্যবহার করতে অক্ষম। সে হয় ঈশ্বরের বিষয়ে অত্যুচ্ছ্বাসী, নয়তো অতি নিরুত্তাপ এবং অযত্নশীল; সে হয় ঈশ্বরকে চূড়ান্ত ভালোবাসে, নয়তো তাঁকে চূড়ান্ত ঘৃণা করে। যারা ভ্রষ্টাচরণের মাঝে বাস করে, তারা সর্বদা এই দুই মেরুতে অবস্থান করে, সর্বদা নিজের ইচ্ছায় জীবনযাপন করে অথচ বিশ্বাস করে যে তারাই সঠিক। আমি এটা বারংবার উল্লেখ করা সত্ত্বেও মানুষ এটাকে ঐকান্তিক ভাবে দেখতে অক্ষম, তারা এর গুরুত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝতে অক্ষম, আর তাই তারা নিজেদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে ঈশ্বর-প্রীতির বিভ্রমে আত্ম-প্রতারণার ভরসায় জীবনযাপন করে। ইতিহাস জুড়ে সময় যত এগিয়েছে এবং মানুষ যত উন্নত হয়েছে, ঈশ্বরের কাছে মানুষের প্রয়োজনীয়তা ততই বেড়েছে, এবং তিনি উত্তরোত্তর দাবী করেছেন যাতে মানুষ তাঁর প্রতি নিবেদিত হয়। তবু ঈশ্বরের বিষয়ে মানুষের জ্ঞান যেন ক্রমেই আরও অস্পষ্ট এবং বিমূর্ত হয়ে উঠেছে, এবং তার ঈশ্বর-প্রীতি একইসঙ্গে আরও অশুদ্ধ হয়ে উঠেছে। মানুষের অবস্থা এবং সে যা করে, তা ঈশ্বরের ইচ্ছার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভাবে অসঙ্গত হয়ে উঠছে, কারণ মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি গভীরভাবে শয়তানের দ্বারা ভ্রষ্ট হয়েছে। এই কারণে ঈশ্বরের আরও বেশি এবং মহত্তর পরিত্রাণের কাজ করা প্রয়োজন। মানুষ ক্রমাগত ঈশ্বরের প্রতি অধিকতর চাহিদ পেশ করছে এবং তার ঈশ্বর-প্রীতি ক্রমহ্রাসমান। মানুষজন সত্য বর্জিত হয়ে অবাধ্যতায় জীবনযাপন করে, মানবতা ব্যতীত হয়ে জীবনযাপন করে। শুধুমাত্র যে তাদের ন্যূনতম ঈশ্বর-প্রীতি নেই, তা-ই নয়, বরং তারা অবাধ্যতা এবং বিরোধিতায় পরিপূর্ণ। যদিও তারা ভাবে যে তাদের সর্বোচ্চ ঈশ্বর-প্রীতি রয়েছে, যে তারা তাঁর প্রতি এর চেয়ে বেশি অমায়িক হতে পারবে না, ঈশ্বর এমনটা বিশ্বাস করেন না। তাঁর কাছে এটা পুরোপুরি পরিষ্কার যে মানুষের ঈশ্বর-প্রীতি কতখানি কলঙ্কিত, এবং তিনি মানুষের কূটনীতির কারণে মানুষের প্রতি তাঁর অভিমত কখনো পরিবর্তন করেন নি, মানুষের ভক্তির ফলস্বরূপ তাঁর মঙ্গলভাবনার প্রতিদানও দেন নি। মানুষ না পারলেও, ঈশ্বর পার্থক্য করতে সক্ষম: তিনি জানেন কে তাঁকে প্রকৃতই ভালোবাসে আর কে বাসে না, এবং উৎসাহের দ্বারা বশীভূত হওয়া আর মানুষের তাৎক্ষণিক আবেগের বশে নিজেকে হারিয়ে ফেলার পরিবর্তে, তিনি মানুষের সঙ্গে তার সারবত্তা ও ব্যবহার অনুযায়ীআচরণ করেন। ঈশ্বর, সবকিছুর পরেও ঈশ্বরই, আর তাঁর আছে মর্যাদা এবং অন্তর্দৃষ্টি। মানুষ, সবকিছুর পরেও মানুষই, এবং মানুষের ভালোবাসা সত্যের সঙ্গে অসঙ্গত হলে ঈশ্বর তার দিকে ফিরেও তাকাবেন না। অপরদিকে, মানুষ যথাযথভাবে যা করে তাতে তিনি সুআচরণ করেন।

ঈশ্বরের প্রতি মানুষের অবস্থা এবং মনোভাবের সম্মুখীন হয়ে, ঈশ্বর নতুন কাজ করেছেন, মানুষকে তাঁর বিষয়ে জ্ঞান ও তাঁর প্রতি আনুগত্য এবং ভালোবাসা ও সাক্ষ্য, উভয়েরই অধিকারী হওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। ফলত, মানুষকে অবশ্যই ঈশ্বরের দ্বারা তার পরিমার্জনা, এমনকি তাঁর বিচার, মোকাবিলা ও অপসারণের অভিজ্ঞতা লাভ করতে হবে, যা ব্যতীত মানুষ কখনোই ঈশ্বরকে জানতে পারবে না, এবং কখনোই তাঁকে প্রকৃত ভালোবাসতে বা তাঁর সাক্ষ্য বহন করতে সক্ষম হবে না। ঈশ্বরের দ্বারা মানুষের পরিমার্জনা নিতান্ত কোনো একপাক্ষিক প্রভাবের স্বার্থে না হয়ে বরং এক বহুমুখী প্রভাবের স্বার্থে হয়। একমাত্র এভাবেই ঈশ্বর তাদের মধ্যে পরিমার্জনার কাজ করেন, যারা সত্যের অনুসন্ধান করতে ইচ্ছুক, যাতে তাদের সংকল্প ও ভালোবাসা ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হতে পারে। যারা সত্যের অনুসন্ধান করতে ইচ্ছুক এবং ঈশ্বরের জন্য আকুল, তাদের কাছে এরূপ পরিমার্জনার চেয়ে বেশি অর্থবহ, অথবা বেশি সহায়ক আর কিছুই নয়। ঈশ্বরের স্বভাব মানুষের পক্ষে এত সহজে জ্ঞাত বা বোধগম্য হয় না, কারণ ঈশ্বর, সবশেষে ঈশ্বরই। শেষাবধি ঈশ্বরের পক্ষে মানুষের মতো একই স্বভাব থাকা অসম্ভব, আর তাই মানুষের পক্ষে তাঁর স্বভাব জানা এত সহজ নয়। মানুষ সহজাতভাবে সত্যের অধিকারী নয়, এবং যারা শয়তানের দ্বারা ভ্রষ্ট হয়েছে তাদের পক্ষে তা সহজে বোধগম্যও নয়; মানুষ সত্য এবং সত্যের চর্চার সংকল্প বিবর্জিত, এবং যদি সে কষ্টভোগ না করে এবং পরিমার্জিত বা বিচার্য না হয়, তাহলে তার সংকল্প কখনোই নিখুঁত হবে না। সকল মানুষের জন্যই পরিমার্জনা যন্ত্রণাদায়ক এবং এটা গ্রহণ করা খুবই কঠিন—তবুও এই পরিমার্জনার সময়েই ঈশ্বর তাঁর ন্যায়পরায়ণ স্বভাব মানুষের কাছে সরল করে তুলে ধরেন, মানুষের প্রতি তাঁর প্রয়োজনীয়তাগুলি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন, এবং আরও আলোকিত করেন, বাস্তবিক অপসারণ এবং মোকাবিলা করেন; তথ্য ও সত্যের মধ্যে তুলনা করে তিনি মানুষকে নিজের বিষয়ে এবং সত্য সম্বন্ধে আরও বেশি জ্ঞান দান করেন, মানুষকে ঈশ্বরের ইচ্ছা বিষয়ে আরও বেশি উপলব্ধি দান করেন, এইভাবে মানুষকে আরও সত্য এবং বিশুদ্ধ ঈশ্বর-প্রীতির অধিকারী হওয়ার সুযোগ দেন। পরিমার্জনার কার্য নির্বাহের ক্ষেত্রে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যগুলি এমনই। ঈশ্বর মানুষের মধ্যে যত কাজ করেন, তার প্রত্যেকটির নিজস্ব উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য রয়েছে; ঈশ্বর অর্থহীন কাজ এবং মানুষের পক্ষে উপকারী নয় এমন কাজ করেন না। পরিমার্জনার অর্থ ঈশ্বরের সামনে থেকে মানুষজনকে সরিয়ে ফেলা নয়, এমনকি তাদের নরকে ধ্বংস করাও নয়। বরং, এর অর্থ পরিমার্জনার কালে মানুষের স্বভাব, তার অভিপ্রায়, পুরনো ধ্যানধারণা, ঈশ্বর-প্রীতি এবং সমগ্র জীবনের পরিবর্তন। পরিমার্জনা মানুষের একটি বাস্তব পরীক্ষা এবং এক প্রকারের বাস্তব প্রশিক্ষণ, এবং একমাত্র পরিমার্জনার সময়েই তার ভালোবাসা তার সহজাত ক্রিয়া সম্পাদন করতে পারে।

পূর্ববর্তী: পিতর যেভাবে যীশুকে জানতে পারলেন

পরবর্তী: যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে তারা চিরকাল তাঁর আলোর মধ্যে বাস করবে

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

পরিশিষ্ট ১: ঈশ্বরের আবির্ভাব এক নতুন যুগের সূচনা করেছে

ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা শেষ হতে চলেছে, এবং যারা তাঁর আবির্ভাবের পথ চেয়ে আছে তাদের সকলের জন্য স্বর্গের দ্বার ইতিমধ্যেই...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন