যে সব মানুষ ঈশ্বরকে তার ধারণার মধ্যেই সীমায়িত করে রাখে, তারা কীভাবে ঈশ্বরের প্রকাশ লাভ করবে?

ঈশ্বরের কাজ সর্বদা এগিয়ে চলেছে, আর তাঁর কাজের উদ্দেশ্য পরিবর্তিত না হলেও, কাজের পদ্ধতি নিয়মিত পরিবর্তিত হয়, অর্থাৎ, ঈশ্বরকে যারা অনুসরণ করে, তারাও নিয়মিত পরিবর্তিত হয়ে চলেছে। ঈশ্বর যত কাজ করেন, ততই মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের জ্ঞান সুগভীর হয়। ঈশ্বরের কাজের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের স্বভাবের মধ্যেও অনুরূপ পরিবর্তন ঘটে। তথাপি, ঈশ্বরের কাজ সদা পরিবর্তনশীল হওয়ায়, যারা পবিত্র আত্মার কাজ সম্পর্কে জানে না, এবং যেসব অবিবেচক ব্যক্তি সত্যকে জানে না, তারাই ঈশ্বরের বিরোধী হয়ে ওঠে। ঈশ্বরের কাজ কখনোই মানুষের ধারণার অনুবর্তী হয় না, কারণ তাঁর কাজ চিরনতুন, কখনোই পুরনো হয় না, এবং তিনি তাঁর কাজের পুনরাবৃত্তি করেন না, বরং যে কাজ আগে কখনো হয়নি, সেই কাজ করতে এগিয়ে যান। যেহেতু ঈশ্বর তাঁর কাজের পুনরাবৃত্তি করেন না, আর মানুষও স্থিররূপে তাঁর পূর্বে করা কাজের নিরিখেই তাঁর বর্তমান কাজের বিচার করে, তাই প্রতিটি নতুন যুগে ঈশ্বরের পক্ষে সেই পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষের অনেক সমস্যা রয়েছে! তার চিন্তাভাবনা খুবই গোঁড়া! ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে কেউ না জানলেও, সকলেই তাকে সীমাবদ্ধ করে। মানুষ যখন ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করে, তখন সে তার জীবন, সত্য এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ হারায়, তবুও সে জীবন বা সত্য, কোনোটাই স্বীকার করে না, মানবজাতির প্রতি ঈশ্বরের অর্পিত মহত্তর আশীর্বাদকে তো আরোই কম স্বীকার করে। সব মানুষই ঈশ্বরকে অর্জন করতে চায়, তবু তাঁর কাজের কোনো পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না। যারা ঈশ্বরের নতুন কাজ অস্বীকার করে, তারা ভাবে যে তাঁর কাজ অপরিবর্তনীয়, এটা সবসময় এক জায়গাতেই স্থির থাকে। তাদের বিশ্বাস, ঈশ্বরের থেকে অনন্ত পরিত্রাণ লাভের জন্য কেবলমাত্র আইনের অনুবর্তী হতে হবে, আর যতক্ষণ তারা নিজেদের পাপের অনুতাপ করছে ও পাপ স্বীকার করছে, ততক্ষণ ঈশ্বরের ইচ্ছা সর্বদা চরিতার্থ হবে। তাদের মতে, যে ঈশ্বর আইনের অনুবর্তী, যিনি মানুষের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, তিনিই কেবল ঈশ্বর হতে পারেন; তাদের আরও মতামত এই যে, ঈশ্বর বাইবেলকে অতিক্রম করতে পারেন না এবং তা করা তাঁর উচিতও না। ঠিক এই মতামতগুলিই তাদের পুরনো দিনের আইনের নিগড়ে দৃঢ়ভাবে শৃঙ্খলিত করে রেখেছে এবং অচল নিয়মাবলীতে আবদ্ধ করেছে। এমনও অনেকে আছে, যারা বিশ্বাস করে যে, ঈশ্বরের নতুন কাজটি যেমনই হোক না কেন, তা ভবিষ্যদ্বাণীর দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে, এবং এই ধরনের কাজের প্রতিটি পর্যায়ে যারা “শুদ্ধ” হৃদয়ে তাঁর অনুসরণ করে তাদেরকেও অবশ্যই তাঁর প্রকাশ দেখাতে হবে; তা না হলে, এই ধরনের কাজ ঈশ্বরের কাজ হতে পারে না। মানুষের পক্ষে ঈশ্বরকে জানা এমনিতেই সহজ কাজ নয়। উপরন্তু মানুষের অবিবেচক হৃদয় আর নিজেকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার বিদ্রোহী প্রকৃতি এবং এবং দম্ভের কারণে, ঈশ্বরের নতুন কাজ গ্রহণ করা তার পক্ষে আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। মানুষ ঈশ্বরের নতুন কাজটি মনোযোগ সহকারে খুঁটিয়ে দেখে না, আবার বিনয় সহকারে তা গ্রহণও করে না; পরিবর্তে, সে ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রকাশ ও নির্দেশনা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকাকালীন অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করে। এটা কি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী ও তাঁর প্রতিরোধকারীদের মতো আচরণ নয়? এই ধরনের মানুষ কীভাবে ঈশ্বরের অনুমোদন অর্জন করতে পারে?

যীশু বলেছেন যে যিহোবার কাজ অনুগ্রহের যুগেই অচল হয়ে গিয়েছিল, ঠিক যেমন আমি বর্তমানে বলি যে, যীশুর কাজও অচল হয়ে গেছে। যদি অনুগ্রহের যুগের পরিবর্তে, কেবলমাত্র বিধানের যুগই থাকত, তাহলে যীশু ক্রুশবিদ্ধ হতেন না, মানবজাতিকে উদ্ধার করতে পারতেন না। শুধুই বিধানের যুগ থাকলে, মানুষ কি আজকের মতো এতদূর এগিয়ে যেতে পারত? ইতিহাস এগিয়ে চলে, আর ইতিহাসই কি ঈশ্বরের কাজের স্বাভাবিক নিয়ম নয়? এটা কি সম্পূর্ণ তাঁর মহাবিশ্ব জুড়ে মনুষ্যজাতিকে পরিচালনার চিত্রটাকে তুলে ধরছে না? ইতিহাস যেমন এগিয়ে চলে, তেমনই ঈশ্বরের কাজও এগিয়ে চলে। ঈশ্বরের ইচ্ছা সদা পরিবর্তনশীল। তিনি ছয় হাজার বছর ধরে শুধু একটা পর্যায়েই থেমে থাকতে পারেন না, কারণ সকলেই জানে যে, ঈশ্বর চিরনূতন, তিনি কখনো পুরনো হন না, আর ক্রুশবিদ্ধকরণের মতো কাজ, অর্থাৎ একবার, দুবার, তিনবার করে ক্রুশে পেরেকবিদ্ধ হওয়ার কাজ তিনি চালিয়ে যেতে পারবেন না…। এইরকম ভাবাটাই হাস্যকর হবে। ঈশ্বর একই কাজ চালিয়ে যান না; যেমন আমি প্রতিদিন তোমাদের নতুন বাক্য বলি, প্রতিদিন নতুন কাজ করি, তেমনই তাঁর কাজও সদা পরিবর্তনশীল, সর্বদাই নতুন। এই কাজটিই আমি করি এবং “নতুন” এবং “বিস্ময়কর” – এই শব্দগুলিই এখানে প্রধানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। “ঈশ্বর অপরিবর্তনীয় এবং ঈশ্বর সর্বদা ঈশ্বরই থাকবেন”: এই কথাটি আসলেই সত্যি; ঈশ্বরের সারসত্য পরিবর্তিত হয় না, তিনি সর্বদাই ঈশ্বর, তিনি কখনোই শয়তান হতে পারবেন না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাঁর কাজ তাঁর সারসত্যের মতোই স্থির ও অপরিবর্তনীয়। তুমি ঈশ্বরকে অপরিবর্তনীয় বলে ঘোষণা করো, কিন্তু তাহলে তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে যে ঈশ্বর চিরনূতন, কখনও পুরনো হন না? ঈশ্বরের কাজ ক্রমাগত বিস্তার লাভ করে এবং পরিবর্তিত হয়, এবং তাঁর ইচ্ছা ক্রমাগত উদ্ভাসিত হয়ে মানুষের কাছে পরিচিত হয়। মানুষ যখন ঈশ্বরের কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করে, তার জ্ঞানের সাথে সাথে স্বভাবও বিরামহীনভাবে পরিবর্তিত হয়। তাহলে কখন এই পরিবর্তন ঘটে? এটা কি ঈশ্বরের সদা পরিবর্তনশীল কাজের থেকেই ঘটে না? মানুষের স্বভাব যদি পরিবর্তিত হতে পারে, তাহলে আমার বাক্য ও কাজের ক্রমাগত পরিবর্তনকেও মানুষ মেনে নিতে পারে না কেন? আমাকে কি মানুষের নিষেধাজ্ঞা অনুসারে চলতেই হবে? এটা বলে তুমি কি বলপূর্বক তর্ক এবং বিকৃত যুক্তির ব্যবহার করছ না?

পুনরুত্থানের পরে, যীশু শিষ্যদের সামনে অবতীর্ণ হয়ে বলেছিলেন, “আমি আমার পিতার প্রতিশ্রুত দান তোমাদের কাছে পাঠাব, তাই ঊর্ধ্বলোক থেকে শক্তিলাভ না করা পর্যন্ত তোমরা এই নগরেই থাকবে।” তুমি কি জানো এই বাক্যগুলি কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? তুমি কি এখন তাঁর শক্তিলাভ করেছ? “শক্তি” বলতে এখানে কী বলা হচ্ছে তা কি তুমি বোঝো? যীশু ঘোষণা করেছিলেন যে অন্তিম সময়ে সত্যের আত্মা মানুষের ওপর অর্পিত হবে। সেই অন্তিম সময় এখন এসে গেছে; সত্যের আত্মা কীভাবে বাক্য প্রকাশ করে, তা কি তুমি বোঝো? সত্যের আত্মা কোথায় আবির্ভূত হয় এবং কাজ করে? ভাববাদী যিশাইয়-র ভবিষ্যদ্বাণীর বইতে কিন্তু কোথাও উল্লেখ করা ছিল না যে, নতুন নিয়মের যুগে যীশু বলে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করবে; শুধু লেখা ছিল যে ইম্মানূয়েল নামক একটি শিশু জন্ম নেবে। তাহলে “যীশু” নামটির উল্লেখ করা ছিল না কেন? পুরাতন নিয়মের কোথাও কিন্তু এই নামের উল্লেখ ছিল না, তাহলে তুমি এখনও যীশুর ওপর বিশ্বাস করো কেন? তুমি নিজের চোখে যীশুকে দেখার পর তাঁকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছ-এমনটা তো নিশ্চয়ই নয়, তাই না? নাকি তুমি উদ্ঘাটন লাভ করার পরেই তাঁকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছ? ঈশ্বরকে কি তোমায় সত্যিই এমন অনুগ্রহ দেখাবেন? তিনি কি এমন আশীর্বাদ তোমার উপর অর্পণ করবেন? যীশুর উপর তোমার বিশ্বাসের ভিত্তিটা কী? ঈশ্বর বর্তমানে দেহধারণ করেছেন বলে তোমার বিশ্বাস হয় না কেন? তুমি কেন বল যে, তোমার কাছে ঈশ্বরের উদ্ঘাটন না আসায় প্রমাণিত হয় যে তিনি অবতাররূপে দেহধারণ করেননি? ঈশ্বরকে কি তাঁর কাজ শুরু করার আগে মানুষকে জানাতেই হবে? প্রথমে কি তাদের অনুমোদন পেতেই হবে? যিশাইয় শুধুমাত্র ঘোষণা করেছিলেন যে একটি পুত্র সন্তান যাবপাত্রের মধ্যে জন্মগ্রহণ করবে; তিনি কখনও ভবিষ্যদ্বাণী করেননি যে মরিয়ম যীশুর জন্ম দেবে। তাহলে ঠিক কীসের ভিত্তিতে তুমি বিশ্বাস করো যে, যীশু মরিয়মের থেকেই জন্ম নিয়েছেন? তোমার বিশ্বাসে কি নিশ্চিত করেই কোনো গোলমাল নেই? কেউ কেউ বলে ঈশ্বরের নাম পরিবর্তিত হয় না। তাহলে, যিহোবার নাম যীশু হয়ে গেল কেন? ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে মশীহ আসবেন, তাহলে যীশু নামক একজন লোক এলেন কেন? ঈশ্বরের নাম পাল্টে গেল কেন? এই ধরনের কাজ কি অনেক আগেই সম্পন্ন হয়নি? ঈশ্বর কি আজ নতুন কাজ করতে পারেন না? পূর্বকালের কাজ পরিবর্তিত হতে পারে, এবং যীশুর কাজ যিহোবার কাজের অনুসরণ করে চলতে পারে। তাহলে যীশুর কাজটি কি অন্য কাজের দ্বারা অনুসৃত পারে না? যিহোবার নাম যদি যীশুতে পরিবর্তিত হতে পারে, তবে যীশুর নামও কি বদলাতে পারে না? এগুলির কোনোটাই অস্বাভাবিক নয়; মানুষ আসলে অত্যন্ত সরলমনষ্ক। ঈশ্বর সর্বদাই ঈশ্বর থাকবেন। তাঁর কাজ যতই পরিবর্তিত হোক না কেন এবং তাঁরনামের যেভাবেই পরিবর্তন ঘটুক না কেন, তা নির্বিশেষে তাঁর স্বভাব ও প্রজ্ঞা সদা অপরিবর্তনীয় থাকবে। যদি তুমি মনে করো যে, ঈশ্বরকে শুধু যীশু নামেই ডাকা যায়, তাহলে তোমার জ্ঞান খুবই সীমিত। তুমি কি সাহস করে বলতে পারো যে, যীশুই ঈশ্বরের পরিচয় হয়ে সদা সর্বদা থেকে যাবেন, ঈশ্বর সর্বদা যীশুর নামেই পরিচিত হবেন, এবং তা কোনোদিনই পরিবর্তিত হবে না? তুমি কি জোর দিয়ে বলতে পারো যে, যীশুর নামই বিধানের যুগ সমাপ্ত করেছিল, আর সেটাই অন্তিম যুগেরও সমাপ্তি সাধন করবে? কে বলতে পারে যীশুর অনুগ্রহই যুগের সমাপ্তি সাধন করবে? তোমার যদি এই সব সত্যের বিষয়ে স্পষ্ট উপলব্ধি না থাকে, তাহলে তুমি যেমন সুসমাচার প্রচারের ক্ষেত্রে অযোগ্য হবে, তেমনই নিজেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারবে না। যেদিন তুমি ধর্মীয় মানুষদের সব সমস্যা ও তাদের সমস্ত ভুলভ্রান্তি সমাধান করে ফেলবে, সেদিন প্রমাণিত হবে যে তুমি এই পর্যায়ের কাজের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত এবং তোমার মনে আর লেশমাত্র সন্দেহ নেই। এই ভ্রান্তি দূর করতে না পারলে, তারা তোমাকে অভিযুক্ত করবে, তোমায় অপবাদ দেবে। সেটা কি অসম্মানজনক হবে না?

ইহুদিরা সকলেই পুরাতন নিয়ম পড়েছিল, এবং তারা যিশাইয়র এই ভবিষ্যদ্বাণী জানত যে, একটি পুত্র সন্তান যাবপাত্রে জন্মগ্রহণ করবে। তাহলে এই ভবিষ্যদ্বাণীর বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত থেকেও তারা যীশুকে নির্যাতন করেছিল কেন? এটা কি তাদের বিদ্রোহী প্রকৃতি এবং পবিত্র আত্মার কাজের বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে হয়নি? সেই সময়ে, ফরিশীরা যীশুর কাজটিকে ভবিষ্যদ্বাণীতে উল্লেখ করা পুত্র সন্তানের থেকে আলাদা হিসাবে গণ্য করেছিল। আর বর্তমানের মানুষও ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করে, কারণ ঈশ্বরের অবতারের কাজ বাইবেলের অনুবর্তী নয়। ঈশ্বরের প্রতি তাদের বিদ্রোহী মনোভাবের সারসত্য কি একইরকম নয়? তুমি কি বিনা প্রশ্নে পবিত্র আত্মার সমস্ত কাজ গ্রহণ করতে পারো? এটা যদি পবিত্র আত্মার কাজ হয়, তাহলে এটাই সঠিক স্রোত, আর তোমার তা সন্দেহাতীত ভাবে গ্রহণ করা উচিত; কোনটা গ্রহণ করা উচিত, কোনটা উচিত নয়, তা তোমার বেছে নেওয়া উচিত হবে না। যদি তুমি ঈশ্বরের বিষয়ে আরও অন্তর্দৃষ্টি লাভ করো এবং তাঁর প্রতি আরও সাবধানতা অবলম্বন করো, তাহলে সেটা কি অনুচিত হবে না? এটা যদি পবিত্র আত্মার কাজ হয়, তাহলে তোমার আর বাইবেল থেকে প্রমাণ না খুঁজে অবশ্যই তা গ্রহণ করতে হবে, কারণ তুমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করো তাঁকে অনুসরণ করার জন্যই, তাঁকে নিয়ে তদন্ত করা তোমার পক্ষে অনুচিত। আমিই যে তোমার ঈশ্বর, এই বিষয়ে তোমার আরও প্রমাণ খোঁজা উচিত নয়, বরং আমি তোমার জন্য উপকারী কিনা-সেটা নির্ধারণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি তুমি বাইবেলের মধ্যে অনেক অকাট্য প্রমাণ খুঁজে পেলেও, তা তোমাকে সম্পূর্ণরূপে আমার সামনে আনতে পারে না। তুমি আমার সামনে নয়, বরং শুধুমাত্র বাইবেলের গণ্ডির মধ্যেই বাস করো; বাইবেল আমাকে জানার পক্ষে সহায়ক নয়, আর তা আমার প্রতি তোমার ভালোবাসাকে আরও গভীর করতে পারে না। বাইবেলে একটি পুত্র সন্তানের জন্মগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী থাকলেও, কেউই অনুধাবন করতে পারনি যে কার উপর সেই ভবিষ্যদ্বাণী ফলবে, কারণ মানুষ ঈশ্বরের কাজ জানত না, আর এই কারণেই ফরিশীরা যীশুর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। কেউ কেউ জানে যে আমার কাজটি মানুষের স্বার্থেই করা, তবুও তারা বিশ্বাস করে চলে যে, যীশু এবং আমি দু’জন সম্পূর্ণ আলাদা, পরস্পর অসঙ্গত সত্তা। যীশুর সময়কালে, তিনি শুধুমাত্র তাঁর শিষ্যদের অনুগ্রহের যুগে কিছু বিষয়ে ধারাবাহিক উপদেশ দিয়েছিলেন, যেমন কীভাবে অনুশীলন করতে হবে, কীভাবে একত্রিত হতে হবে, কীভাবে প্রার্থনায় নতজানু হতে হবে, কীভাবে অন্যদের সাথে আচরণ করতে হবে এবং এমনই আরও অনেক কিছু। তাঁর করা কাজটি ছিল অনুগ্রহের যুগের কাজ এবং তিনি কেবলমাত্র তাঁর শিষ্য এবং অনুসরণকারীদের কীভাবে অনুশীলন করা উচিত, তা ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি শুধুই অনুগ্রহের যুগের কাজ করেছিলেন, অন্তিম সময়ের কোনো কাজ তিনি করেননি। যিহোবা যখন বিধানের যুগে পুরাতন নিয়মের আইন প্রণয়ন করেছিলেন, তখন তিনি অনুগ্রহের যুগের কাজ করেননি কেন? তিনি অনুগ্রহের যুগের কাজের বিষয়ে আগাম স্পষ্ট করেননি কেন? তাহলে কি এটা মানুষের গ্রহণ করার পক্ষে সহায়ক হত না? তিনি কেবল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে ক্ষমতাসীন হবে, তিনি কিন্তু অনুগ্রহের যুগের কাজ আগাম নির্বাহ করেননি। প্রতিটি যুগেই ঈশ্বরের কাজের স্পষ্ট সীমানা থাকে; তিনি কেবল বর্তমান যুগের কাজই করেন, পরবর্তী যুগের কাজ আগাম নির্বাহ করেন না। শুধু এইভাবেই প্রতিটি যুগে তাঁর প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ সবার সামনে আনা সম্ভব। যীশু শুধুমাত্র অন্তিম সময়ের ইঙ্গিতের উল্লেখ করেছিলেন, বলেছিলেন কীভাবে ধৈর্য ধরতে হবে, কীভাবে উদ্ধার পাওয়া যাবে, কীভাবে অনুতাপ ও পাপ স্বীকার করতে হবে, কীভাবে ক্রুশ বহন ও যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে; অন্তিম সময়ে মানুষকে কীভাবে প্রবেশ করতে হবে, ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণের জন্য কীভাবে সন্ধান করতে হবে, সেসব বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি। সেই জন্যই, অন্তিম সময়ের ঈশ্বরের কাজ অনুসন্ধানের জন্য বাইবেল অন্বেষণ কি হাস্যকর নয়? বাইবেল আঁকড়ে রেখে তুমি কী দেখতে পাবে? বাইবেলের ব্যাখ্যাকারী অথবা প্রচারকারী নির্বিশেষে, বর্তমানের কাজ কে-ই বা আগাম প্রত্যক্ষ করতে পেরেছে?

“শোনার মত কান যচার আছে সে শুনুক, পবিত্র আত্মা সকল মণ্ডলীকে কি বলছেন”। তোমরা কি এখন পবিত্র আত্মার বাক্য শুনতে পেয়েছ? ঈশ্বরের বাক্য তোমাদের কাছে এসেছে। তোমরা কি সেসব শুনতে পাও? অন্তিম সময়ে ঈশ্বরবাক্য রচনার কাজ সম্পাদিত করেন এবং সেগুলি সবই পবিত্র আত্মার বাক্য। কারণ, ঈশ্বরই হলেন পবিত্র আত্মা এবং তিনি রক্ত-মাংসের দেহও ধারন করেন। সুতরাং, পবিত্র আত্মার বাক্য, যা আগেও বলা হয়েছে, সেগুলিই বর্তমানের ঈশ্বরের অবতারের বাক্য। অনেক উদ্ভট মানুষই বিশ্বাস করে যে, যেহেতু পবিত্র আত্মা কথা বলছে, তাই মানুষকে তার স্বর শোনানোর জন্য তার স্বর্গ থেকে কথা বলা উচিত। এরকম যারা ভাবে, তারা ঈশ্বরের কাজ জানে না। সত্যি বলতে, পবিত্র আত্মার কথনই হল ঈশ্বরের দেহরূপের কথিত বাক্য। পবিত্র আত্মা সরাসরি মানুষের সাথে কথা বলতে পারে না; এমনকি বিধানের যুগেও যিহোবা সরাসরি মানুষের সাথে কথা বলেননি। তাহলে বর্তমান যুগে যে তিনি সেটা করবেন, এমন সম্ভাবনা কি আরোই কম নয়? ঈশ্বরকে তাঁর বাক্য উচ্চারণ এবং কার্য সম্পাদনের জন্য অবশ্যই মানবদেহ ধারণ করতে হয়। অন্যথায়, তাঁর কাজ কখনোই উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে পারত না। যারা ঈশ্বরের অবতারকে প্রত্যাখ্যান করে, তারা আত্মা এবং ঈশ্বরের কাজের নীতি সম্পর্কে অজ্ঞ। যারা এই বর্তমান যুগকে পবিত্র আত্মার যুগ বলে বিশ্বাস করলেও তার নতুন কাজ গ্রহণ করে না, তারাই অনিশ্চিত ও বিমূর্ত বিশ্বাসের মধ্যে বাঁচে। এই ধরনের মানুষ কখনোই পবিত্র আত্মার কাজ লাভ করবে না। যারা কেবল চায় পবিত্র আত্মা সরাসরি তাঁর কথা বলুক বা তাঁর কাজ নির্বাহ করুক, কিন্তু ঈশ্বরের অবতারের কাজ অথবা বাক্যকে গ্রহণ করে না, তারা নতুন যুগে কখনোই প্রবেশ করতে পারবে না, অথবা ঈশ্বরের দ্বারা কখনোই সম্পূর্ণ পরিত্রাণ লাভ করবে না।

পূর্ববর্তী: তোমার উচিত মর্যাদার আশীর্বাদকে সরিয়ে রেখে ঈশ্বরের মানুষকে পরিত্রাণ করার ইচ্ছাকে উপলব্ধি করা

পরবর্তী: ঈশ্বর এবং তাঁর কাজকে যারা জানে শুধুমাত্র তারাই ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

সর্বশক্তিমানের দীর্ঘশ্বাস

তোমার হৃদয়ে এক বিশাল গোপন বিষয় আছে যার ব্যাপারে তুমি কখনও সচেতন ছিলে না, কারণ তুমি বেঁচে আছ আলোকহীন এক জগতে। তোমার হৃদয় আর তোমার আত্মাকে...

ঈশ্বরের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

যে পথে মানুষ ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে, সেই পথটি হল নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম শক্তিকে স্থান দিয়ে তাঁর...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন