অন্ধকারের প্রভাব থেকে সরে এসো, ঈশ্বর তোমাদের অর্জন করবেন

অন্ধকারের প্রভাব কী? এই তথাকথিত “অন্ধকারের প্রভাব” হলো শয়তানের প্রতারণা, ভ্রষ্টাচার, মানুষকে বদ্ধ এবং নিয়ন্ত্রিত করার প্রভাব; শয়তানের এই প্রভাবের মধ্যে নিহিত রয়েছে মৃত্যুর আভা। যারা এই শয়তানের রাজত্বে বসবাস করে তাদের সকলের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। তাহলে ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস অর্জনের পর এই অন্ধকারের প্রভাব থেকে মুক্তির উপায় কি? যখন তুমি আন্তরিক ভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবে, নিজের হৃদয়কে তাঁর দিকে সম্পুর্ণরূপে নিয়ে যাবে, তখন তোমার হৃদয় ঈশ্বরের আত্মার দ্বারা চালিত হবে। তুমি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের জন্য উৎসর্গ করে দিতে ইচ্ছুক হয়ে ওঠো, এবং, ঠিক তখনই, অন্ধকারের প্রভাব থেকে তোমার মুক্তি লাভ হয়। কোন মানুষের সকল কাজ যদি একাধারে ঈশ্বরকে তুষ্ট করে এবং নিজের চাহিদা মেটাতেও সক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে মনে করতে হবে সে এমন একজন, যে ঈশ্বরের বাক্য অনুসারে এবং তাঁর যত্ন ও সুরক্ষার অধীনে জীবনযাপন করছে। যদি মানুষ ঈশ্বরের বাক্যের পালন না করতে পারে, সব সময় তাঁকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে, ঈশ্বরের প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ণ ব্যবহার করে, এবং তাঁর অস্তিত্বে অবিশ্বাস করে – তাহলে বুঝতে হবে যে তারাই হল সেইসব মানুষ যারা অন্ধকারের প্রভাবে জীবনযাপন করছে। যে সকল মানুষের এখনো ঈশ্বরের দ্বারা পরিত্রাণ হয়নি, তারা শয়তানের রাজত্বে বসবাস করছে; অর্থাৎ তারা সকলে অন্ধকারের প্রভাবে জীবনযাপন করছে। যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না তারা শয়তানের রাজত্বের অধীনে বসবাস করছে। এমনকি যারা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, তারাও যে ঈশ্বরের আলোকেই বসবাস করছে, এমন না-ও হতে পারে, কারণ তারা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করলেও, আদতে তাঁর বাক্য অনুসারে জীবনযাপন করছে না, এমনকি ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ কেবল ঈশ্বরকে বিশ্বাস করা অবধিই সীমিত থাকে, এবং, যেহেতু ঈশ্বর সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই, সেহেতু সে এখনো পুরাতন নিয়মাবলী অনুসারে, অন্তঃসারশূন্য শব্দের মাঝে একটা অন্ধকারপূর্ণ অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে, যেখানে তাকে সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের দ্বারা শুদ্ধ করাও হয় নি, আবার ঈশ্বরের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে অর্জিতও হয় নি সে। অতএব, যদিও একথা বলাই বাহুল্য যে যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না তারা তো অন্ধকারের প্রভাবে জীবনযাপন করছেই, এমনকি যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এমন হতেই পারে তারাও এর প্রভাবেই রয়েছে, কারণ তাদের মধ্যে পবিত্র আত্মার কাজের অভাব দেখা যায়। যারা ঈশ্বরের অনুগ্রহ এবং করুণা লাভ করেনি এবং যারা পবিত্র আত্মার কাজ দেখতে পায় না, তারা সকলেই অন্ধকারের প্রভাবে জীবনযাপন করছে, যেমন, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই করছে তারা, যারা ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেও তাঁকে চিনতে পারে না। যদি কোনো মানুষ ঈশ্বরে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও জীবনের বেশিরভাগ সময়টা অন্ধকারের প্রভাবে জীবনযাপন করে, তাহলে তার অস্তিত্ব স্বীয় অর্থ হারিয়েছে – আর যে মানুষেরা ঈশ্বরের অস্তিত্বেই বিশ্বাস করে না, তাদের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তাই বা কী?

যারা ঈশ্বরের কাজকে গ্রহণ করতে পারে না, কিংবা যারা ঈশ্বরের কাজকে গ্রহণ করলেও তার দাবিগুলি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তারা হলো অন্ধকারের প্রভাবে বসবাসকারী মানুষ। যারা সত্যের পথে চলে এবং ঈশ্বরের দাবিগুলি পূরণে সক্ষম হয়, কেবলমাত্র তারাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করবে এবং অন্ধকারের প্রভাব থেকে অব্যাহতি পাবে। যারা এখনো মুক্তিলাভ করেনি, যারা সর্বদাই কিছু-না-কিছু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, এবং যারা নিজেদের হৃদয়কে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করতে ব্যর্থ হয়, তারা হলো শয়তানের দাসত্বের অধীন এবং মৃত্যুর আভার মধ্যে বসবাসকারী মানুষ। যারা নিজেদের কর্তব্যের প্রতি আনুগত্যহীন, যারা ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্বের প্রতি আনুগত্যহীন, এবং যারা গির্জাতে নিজেদের কার্য সম্পাদনে ব্যর্থ, তারা হল অন্ধকারের প্রভাবে বসবাসকারী মানুষ। যারা জেনেবুঝে গির্জার জীবনকে বিব্রত করে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের ভাইবোনদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে, কিংবা যারা কুচক্র গঠন করে, তারা হলো সেই ধরনের মানুষ যারা এখনো গভীর অন্ধকারের প্রভাবে, শয়তানের দাসত্বে বসবাস করছে। যারা ঈশ্বরের সাথে অস্বাভাবিক সম্পর্ক রাখে, যারা সর্বদা নানা অসংযত আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, যারা সব সময় কোন না কোন সুবিধা লাভ করতে চায়, আর যারা কখনো নিজেদের স্বভাব পরিবর্তনের চেষ্টাটুকু করে না, তারা হলো অন্ধকারের প্রভাবে বসবাসকারী মানুষ। যারা সত্যের অনুশীলন সম্বন্ধে সব সময় উদাসীন থাকে এবং কখনো তাকে গুরুত্ব দেয়না, আর যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা করে না, বরং শুধুমাত্র নিজেদের দৈহিক চাহিদাটুকু পূরণ করতে চায়, তারাও হলো অন্ধকারের প্রভাবে বসবাসকারী সেইসব মানুষ, যাদের মৃত্যুর আচ্ছাদন আবৃত করে রাখে। যারা ঈশ্বরের কাজ করার সময় কুটিলতা এবং প্রবঞ্চনার আশ্রয় নেয়, যারা ঈশ্বরের সাথে তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করে, যারা ঈশ্বরকে প্রতারণা করে, এবং যারা সবসময় নিজেদের জন্য পরিকল্পনাতেই ব্যস্ত থাকে, তারা হলো অন্ধকারের প্রভাবে বসবাসকারী মানুষ। যেসব মানুষ ঈশ্বরকে আন্তরিক ভাবে ভালোবাসতে পারে না, সত্যকে অনুসরণ করে না, এবং যারা নিজেদের আচরণ পরিবর্তনের দিকে নজর দেয় না, তারা হলো অন্ধকারের প্রভাবে বসবাসকারী মানুষ।

তুমি যদি ঈশ্বরের দ্বারা প্রশংসিত হতে চাও, তাহলে প্রথমে তোমাকে শয়তানের অন্ধকার প্রভাব থেকে সরে আসতে হবে, তোমার হৃদয়কে উন্মুক্ত করে ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণরূপে নিবেদন করতে হবে। তুমি এখন যা করছ ঈশ্বর কি সেসবের প্রশংসা করবেন? তুমি কি তোমার হৃদয়কে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করেছো? যেসব কাজ তুমি করেছ সেগুলি কি ঈশ্বর তোমার থেকে চান? সেগুলি কি সত্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? সব সময় নিজেকে পরীক্ষা করো এবং ঈশ্বরের বাক্যগুলি ভোজন এবং পানে মনোনিবেশ করো; তোমার হৃদয়কে তার কাছে নিবেদন করো, তাকে অন্তর থেকে ভালোবাসো, এবং ঈশ্বরের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেকে ব্যয় করো। যারা এমন আচরণ করে তারা অবশ্যই ঈশ্বরের প্রশংসা লাভ করবে। যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, অথচ সত্যকে অনুসরণ করে না, শয়তানের প্রভাব থেকে তাদের মুক্তির কোন উপায় নেই। যারা সততার সঙ্গে জীবনযাপন করে না, যারা অপরের সামনে একরকম কিন্তু পিছনে আরেক রকম আচরণ করে, যারা নম্রতা, ধৈর্য, এবং ভালোবাসার আড়ালে আদতে কপট, ধূর্ত, এবং এবং ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্যহীন হয় – তারা হলো অন্ধকারের প্রভাবে বসবাসকারী মানুষের আদর্শ প্রতিনিধি; তারা হলো সাপের মতন। যারা শুধুমাত্র নিজেদের সুবিধার জন্য ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, যারা নিজেকে সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং উদ্ধত প্রকৃতির হয়, যারা নিজেদের জাহির করে বেড়ায়, এবং নিজেদের ঠাটবাট রক্ষা করে চলে, তারা শয়তানকে ভালোবাসে এবং সত্যের বিরোধিতা করে। এইসব মানুষ ঈশ্বরের বিরোধিতা করে এবং সম্পূর্ণরূপে শয়তানের অধীন হয়। যারা ঈশ্বরের দায়িত্বগুলির প্রতি অমনোযোগী, যারা সর্বান্তঃকরণে ঈশ্বরের সেবা করে না, যারা সব সময় তাদের নিজেদের এবং পরিবারের স্বার্থ নিয়ে চিন্তিত থাকে, যারা ঈশ্বরের জন্য নিজেকে ব্যয় করার উদ্দেশ্যে সর্বস্ব ত্যাগ করতে অক্ষম, এবং যারা কখনও তাঁর বাক্য অনুসারে জীবনযাপন করে না, তারা হলো ঈশ্বরের বাক্য বহির্ভূত মানুষ। এই ধরনের ব্যক্তিগণ ঈশ্বরের প্রশংসা লাভ করতে পারে না।

ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন, যাতে তারা তাঁর প্রাচুর্য উপভোগ করতে পারে, এবং যথার্থভাবে তাঁকে ভালোবাসে; এইভাবে মানুষ তাঁর আলোকে বসবাস করবে। আজ, যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারে না, তাঁর দায়িত্বগুলির প্রতি মনোযোগী নয়, নিজেদের হৃদয় ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করতে অক্ষম, এবং তাঁর দায়িত্বগুলিকে আপন-জ্ঞানে স্বস্কন্দে তুলে নিতে অক্ষম – ঈশ্বরের দীপ্তি এই ধরনের মানুষকে কখনো আলোকিত করে না, এবং সেই কারণে তারা সকলে অন্ধকারের প্রভাবে বসবাস করছে। তারা এমন এক পথে রয়েছে যা ঈশ্বরের ইচ্ছার সম্পূর্ণ বিরোধী, এবং তারা যা কিছু করে তার মধ্যে সত্যের অংশমাত্র নেই। তারা শয়তানের পাঁকের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে; তারা অন্ধকারের প্রভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিগণ। তুমি যদি নিয়তই ঈশ্বরের বাক্য ভোজন এবং পান করতে পারো, তাঁর ইচ্ছার প্রতি মনোযোগী হও এবং তাঁর বাক্যকে নিজের অভ্যাসের মধ্যে আনতে পারো, তাহলে তুমি ঈশ্বরের অংশ, এবং তুমি এমন একজন মানুষ যে তাঁর বাক্যের গণ্ডির মধ্যে বাস করে। তুমি কি শয়তানের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে ঈশ্বরের আলোকে বসবাস করতে চাও? যদি তুমি ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে বসবাস করো, তাহলে পবিত্র আত্মা তাঁর কার্যসিদ্ধির সুযোগ পাবেন; কিন্তু যদি তুমি শয়তানের প্রভাবে বসবাস করো, তাহলে তুমি পবিত্র আত্মাকে এমন কোনো সুযোগ করে দিতে পারবে না। পবিত্র আত্মা মানুষের উপর যে কার্য করেন, যে দীপ্তিতে তিনি মানুষকে আলোকিত করেন, এবং যে আস্থা তিনি তাদেরকে দেন, তা কেবল এক মুহূর্তের জন্যই স্থায়ী হয়; যদি মানুষ সতর্ক না হয় এবং মনোযোগ না দেয়, তাহলে পবিত্র আত্মার কার্যগুলি তাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাবে। যদি মানুষ ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে বসবাস করে, তাহলে পবিত্র আত্মা তাদের সঙ্গে থাকবেন এবং তাদের উপর কার্য করবেন। যদি মানুষ ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে বসবাস না-করে, তাহলে তারা শয়তানের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। যদি মানুষ ভ্রষ্টাচারী স্বভাবের হয়, তাহলে তাদের কাছে পবিত্র আত্মার উপস্থিতি অথবা কার্য থাকে না। যদি তুমি ঈশ্বরের বাক্যের সীমানার মধ্যে বাস করো, এবং যদি তুমি তেমন অবস্থায় থাকো যেমন ঈশ্বর চান, তাহলে তুমি তাঁরই একজন, এবং তাঁর কার্য তোমার উপর সঞ্চালিত হবে; যদি তুমি ঈশ্বরের প্রয়োজন অনুসারী গণ্ডির মধ্যে বাস না করো, বরং শয়তানের দাসত্বে বসবাস করো, তাহলে তুমি অবশ্যই শয়তানের ভ্রষ্টাচারের মধ্যে বাস করছো। কেবলমাত্র ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে বসবাস করে এবং তোমার হৃদয়কে তাঁর কাছে সমর্পণ করেই তুমি তাঁর চাহিদাগুলি পূরণ করতে পারবে; তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের কথা অনুযায়ী কাজ করতে হবে, তাঁর কথনগুলিকে তোমার অস্তিত্ব এবং জীবনের বাস্তবতার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, কেবল তখনই তুমি ঈশ্বরের আপন ব্যক্তি হয়ে উঠবে। তুমি যদি প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী অনুশীলন করো, তিনি তোমার উপর তাঁর কার্য সম্পাদন করবেন, এবং তখন তুমি তাঁর আশীর্বাদের অধীনে, তাঁর স্থৈর্যের আলোকে বসবাস করবে; পবিত্র আত্মা যে কার্য করেন তুমি তা উপলব্ধি করবে এবং ঈশ্বরের উপস্থিতির আনন্দ অনুভব করবে।

অন্ধকারের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য তোমাকে অবশ্যই প্রথমে ঈশ্বরের অনুগত হতে হবে এবং সত্যের অনুসরণের জন্য অন্তর থেকে আগ্রহী হতে হবে; একমাত্র তখনই তুমি সঠিক অবস্থায় পৌঁছতে পারবে। সঠিক অবস্থায় বসবাস করাই হলো অন্ধকারের প্রভাব থেকে মুক্তির প্রাথমিক পূর্বশর্ত। সঠিক অবস্থায় না থাকার অর্থ হলো ঈশ্বরের প্রতি অনুগত না হওয়া, এবং সত্যের অনুসন্ধানের জন্য অন্তর থেকে আগ্রহী না হওয়া; এবং সেক্ষেত্রে অন্ধকারের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমার বাক্যই হলো অন্ধকার প্রভাব থেকে মানুষের মুক্তির ভিত্তি, এবং যে ব্যক্তিগণ আমার বাক্য অনুসারে অনুশীলন করতে পারে না, তারা অন্ধকারের প্রভাবের বন্ধন থেকে মুক্তি পাবে না। সঠিক অবস্থায় বাস করা হলো, ঈশ্বরের বাক্যের পথনির্দেশনার অধীনে বসবাস করা, ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য নিয়ে বেঁচে থাকা, সত্যের অনুসন্ধানে জীবনযাপন করা, ঈশ্বরের জন্য নিজেকে আন্তরিক ভাবে ব্যয় করার বাস্তবতায় বেঁচে থাকা, এবং ঈশ্বরকে প্রকৃতভাবে ভালোবেসে জীবনধারণ করা। যারা এই অবস্থা এবং এই বাস্তবতার মধ্যে বাস করে, তারা সত্যের গভীরে প্রবেশ করার সাথে সাথে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হবে, এবং কার্য যত গভীরে যাবে ততই তাদের রূপান্তর ঘটবে; এবং শেষ পর্যন্ত, তারা এমন মানুষে পরিণত হয়ে উঠবেই যারা ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হয় এবং যারা ঈশ্বরকে যথার্থভাবে ভালোবাসে। যারা অন্ধকারের প্রভাব থেকে মুক্তি পেয়েছে তারা ধীরে ধীরে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে অবধারণ করতে পারে, ধীরে ধীরে তা বুঝতে পারে, এবং সবশেষে ঈশ্বরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে। তারা যে শুধুমাত্র ঈশ্বর সম্পর্কে কোনো অপধারণা পোষণ করে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে না এমনটাই নয়, বরং তারা সেইসব ধারণা এবং বিদ্রোহকে ঘৃণা করে যেগুলি তারা পূর্বে পোষণ করতো, এবং তাদের হৃদয়ে ঈশ্বরের জন্য আন্তরিক ভালোবাসা উত্থিত হয়। যেসব মানুষ অন্ধকারের প্রভাব থেকে সরে আসতে অক্ষম থাকে, তারা সকলেই সম্পূর্ণরূপে দৈহিক প্রবৃত্তিতে এবং বিদ্রোহে পরিপূর্ণ; তাদের হৃদয় মনুষ্যসুলভ অপধারণা, জীবনদর্শন, এবং, সেই সাথে, তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্য এবং চিন্তাভাবনায় পরিপূর্ণ। ঈশ্বর যা চান তা হলো মানুষের কাছ থেকে একক ভালোবাসা; তিনি যা চান তা হলো, মানুষ যেন তাঁর বাক্য এবং তাঁর প্রতি প্রেমপূর্ণ হৃদয় দ্বারা আবিষ্ট হয়। ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে বসবাস করা, যে বিষয়ে তাদের খোঁজা উচিত সেগুলি তাঁর বাক্যের মধ্যে অনুসন্ধান করা, ঈশ্বরকে তাঁর বাক্যের জন্য ভালোবাসা, ঈশ্বরের বাক্যের উদ্দেশ্যে ধাবমান হওয়া, তাঁর বাক্যের উদ্দেশ্যে বাঁচা – এই লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য মানুষের চেষ্টা করা উচিত। সকল কিছু ঈশ্বরের বাক্যের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হতে হবে; একমাত্র তখনই মানুষ ঈশ্বরের দাবিগুলি পূরণ করতে সক্ষম হবে। মানুষ যদি ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা সমৃদ্ধ না হয়, তবে সে শয়তানের অধিকারে থাকা একটি কীট ছাড়া আর কিছুই নয়। যাচাই করে দেখো: ঈশ্বরের বাক্যের ঠিক কতোখানি তোমার অন্তরে মূল প্রোথিত করেছে? কোন কোন বিষয়ে তুমি তার বাক্য অনুযায়ী জীবন যাপন করছো? কোন কোন বিষয়ে তুমি তাঁর বাক্য অনুসারে জীবন যাপন করো নি? যদি ঈশ্বরের বাক্যগুলি সম্পূর্ণরূপে তোমায় অধিকার করে না থাকে, তাহলে ঠিক কী তোমার হৃদয়কে দখল করে রয়েছে? তোমার দৈনন্দিন জীবনে তুমি কি শয়তানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছো, নাকি ঈশ্বরের বাক্যগুলি তোমায় আপন করে নিচ্ছে? তার বাক্যগুলিই কি তোমার প্রার্থনাবলীর ভিত্তি? তুমি কি ঈশ্বরের বাক্যগুলির দ্বারা আলোকপ্রাপ্তির সাহায্যে তোমার নেতিবাচক অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছো? ঈশ্বরের বাক্যগুলিকে নিজের অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার জন্য – এইখানেই সকলের প্রবেশ করা উচিত। যদি তাঁর বাক্যগুলি তোমার জীবনে উপস্থিত না থাকে, তাহলে তুমি অন্ধকারের প্রভাবে বসবাস করছো; তুমি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছো, তুমি তাকে প্রতিরোধ করছো, এবং তাঁর নামের অসম্মান করছো। এই ধরনের মানুষের ঈশ্বর-বিশ্বাস হলো নিখাদ দুষ্টপ্রবৃত্তির এবং বিশৃঙ্খলাময়। তোমার জীবনের কতো অংশ তাঁর বাক্য অনুসারে অতিবাহিত হয়েছে? তোমার জীবনের কতো অংশ তাঁর বাক্য অনুসারে অতিবাহিত হয় নি? তোমার সম্পূর্ণতার জন্য ঈশ্বরের বাক্য ঠিক কতো মাত্রায় পালিত হয়েছে এবং তোমার প্রয়োজন কি কি? তুমি কি এই সকল বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্ক ভাবে দৃষ্টিপাত করেছো?

অন্ধকারের প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য পবিত্র আত্মার কার্য এবং মানুষের আত্মনিবেদিত সহযোগিতা উভয়ই প্রয়োজন। আমি কেন বলি যে মানুষ সঠিক পথে নেই? যে সকল মানুষ সঠিক পথে থাকে তারা প্রথমেই ঈশ্বরকে নিজেদের হৃদয় নিবেদন করতে পারে। এই কার্যের মধ্যে প্রবেশ করতে খুব বেশি সময় লাগে, কারণ মানবজাতি সর্বদা অন্ধকারের প্রভাবে বাস করে এসেছে, এবং হাজার হাজার বছর ধরে শয়তানের দাসত্বের অধীন থেকেছে। সেই কারণেই, নিছক এক কিংবা দুই দিনে এই প্রবেশাধিকার অর্জন করা যাবে না। আমি আজ এই বিষয়টি উত্থাপন করেছি যাতে মানুষ নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে একটি উপলব্ধি অর্জন করতে পারে; মানুষ যদি একবার উপলব্ধি করতে পারে যে অন্ধকারের প্রভাব কি এবং আলোকে বসবাস করার অর্থই বা কি; তাহলেই এই প্রবেশ সহজতর হয়ে যায়। এর কারণ হলো এই, যে শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার পূর্বে তোমার এই প্রভাব সম্পর্কে জানা আবশ্যিক; কেবলমাত্র তারপরেই তুমি তা পরিত্যাগ করার পথ খুঁজে পাবে। তারপর মানুষ কী করবে সেটা সেটা তাদের নিজেদের ব্যাপার। সবকিছুর মধ্যে সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রবেশ করো, এবং কখনোই নিষ্ক্রিয়ভাবে অপেক্ষা করো না। একমাত্র এই উপায়েই তুমি ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত হতে পারবে।

পূর্ববর্তী: ঈশ্বরের অবতার এবং ঈশ্বর কর্তৃক ব্যবহৃত ব্যক্তিদের মধ্যে মূল পার্থক্য

পরবর্তী: বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাস্তবিকতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে—ধর্মীয় আচার বা অনুষ্ঠানে জড়িত থাকাকে বিশ্বাস বলে না

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

একটি সাধারণ আধ্যাত্মিক জীবন মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যায়

তোমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের পথে খুব সামান্য অংশই হেঁটেছো, এবং তোমরা এখনও সঠিক পথে প্রবেশ করতে পারোনি, তাই তোমরা এখনও ঈশ্বরের নির্ধারিত...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন