ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 19

যিহোবা যে দুহাজার বছর ধরে কাজ করেছিলেন, তার আগে মানুষ কিছুই জানতো না, এবং প্রায় সমগ্র মানবজাতি ভ্রষ্টাচারে পতিত ছিল, যতক্ষণ না, বিধ্বংসী বন্যায় পৃথিবী ধ্বংসের আগে, তারা অশ্লীলতা ও ভ্রষ্টাচারণের এতটা গভীরে পৌঁছে গেছিল যে তাদের হৃদয়ে যিহোবার কোনো স্থান ছিল না, এবং তাঁর পথের প্রতি আকাঙ্খারও কোনো স্থান ছিল না। যিহোবা কোন কাজ করতে চলেছেন তা তারা কখনোই বোঝেনি; তাদের মধ্যে যুক্তিবোধের অভাব ছিল, জ্ঞানের অভাব আরও বেশি ছিল, এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া যন্ত্রের মতো তারা সম্পূর্ণভাবে মানুষ, ঈশ্বর, পৃথিবী, জীবন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল। পৃথিবীতে তারা নানা প্রলোভনে লিপ্ত ছিল, যেমন সেই সর্প, এবং এমন কথা বলত, যা যিহোবার প্রতি অপরাধের সমান, কিন্তু যেহেতু তারা অজ্ঞ ছিল, তাই যিহোবা তাদের শাস্তি প্রদান করেননি বা অনুশাসিত করেননি। কেবল বন্যার শেষে, নোহর বয়স যখন ৬০১ বছর, তখন যিহোবা নোহর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে আবির্ভূত হন, এবং বিধানের যুগ শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ২,৫০০ বছর ধরে, নোহ ও তার পরিবারকে পথনির্দেশ দেন এবং যেসব পশুপাখি নোহ ও তার বংশধরদের সাথে বন্যার পরেও জীবিত ছিল তাদের নেতৃত্ব দেন। ইস্রায়েলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের মধ্যে ছিলেন মোট ২,০০০ বছর, আর একইসাথে ইস্রায়েলে ও তার বাইরে কাজ করেছিলেন ৫০০ বছর ধরে, অর্থাৎ সবমিলিয়ে হয় ২,৫০০ বছর। এই সময়কালে, তিনি ইস্রায়েলীদের নির্দেশ দেন যে যিহোবার সেবা করতে হলে তাদের মন্দির নির্মাণ করতে হবে, ধর্মযাজকের পোশাক পরিধান করতে হবে, এবং ভোরবেলা খালি পায়ে হেঁটে মন্দিরে আসতে হবে, পাছে তাদের জুতোর দ্বারা মন্দির অপবিত্র হয় এবং মন্দিরের চূড়া থেকে তাদের উপর আগুন নিক্ষেপিত হয় ও অগ্নিদগ্ধ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়। তারা তাদের কর্তব্য পালন করেছিল এবং যিহোবার পরিকল্পনার কাছে সমর্পণ করেছিল। তারা মন্দিরে যিহোবার উপাসনা করত, এবং যিহোবার প্রকাশ গ্রহণ করার পর, অর্থাৎ, যিহোবা কথা বলার পর, তারা অসংখ্য মানুষকে নেতৃত্ব দেয় এবং তাদের শেখায় যে তাদের উচিত যিহোবাকে—তাদের ঈশ্বরকে, সম্মান প্রদর্শন করা। এবং যিহোবা তাদের বলেছিলেন যে তাদের একটি মন্দির ও একটি বেদী নির্মাণ করতে হবে, এবং যিহোবার দ্বারা নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ নিস্তারপর্বের সময়, তাদের সদ্যোজাত বাছুর এবং ভেড়াকে প্রস্তুত করে উৎসর্গ হিসাবে বেদীতে রাখতে হবে যিহোবার সেবা করার জন্য, যাতে তারা নিজেদের সংযত রাখতে পারে এবং তাদের হৃদয়ে যিহোবার প্রতি সম্মান থাকে। এই বিধান তারা মান্য করছে কি না, তাই হয়ে উঠেছিল যিহোবার প্রতি তাদের আনুগত্যের মাপকাঠি। যিহোবা তাদের জন্য বিশ্রামবারের নির্দেশ দেন, তাঁর সৃষ্টির সপ্তম দিন। বিশ্রামবারের পরবর্তী দিনটি তিনি প্রথম দিন হিসাবে চিহ্নিত করেন, সেইদিনটি হল যিহোবাকে বন্দনার দিন, তাঁকে উৎসর্গ অর্পণ করার দিন এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সঙ্গীত পরিবেশনের দিন। এই দিন যিহোবা সকল ধর্মযাজকদের ডেকে বেদীতে অর্পিত সকল উৎসর্গ জনগণকে খাওয়ার জন্য বিতরণ করার নির্দেশ দেন, যাতে তারা যিহোবার বেদীতে নিবেদন করা উৎসর্গকে উপভোগ করতে পারে। এবং যিহোবা বলেছিলেন, তারা আশীর্বাদধন্য যে তারা যিহোবার সঙ্গে খাদ্য ভাগ করার সৌভাগ্য লাভ করেছে, এবং তারাই তাঁর নির্বাচিত জনগণ (যা ছিল ইস্রায়েলীদের সঙ্গে যিহোবার চুক্তি)। এই কারণেই, আজ পর্যন্ত, ইস্রায়েলের মানুষ এখনও বলে যে যিহোবা হলেন কেবলমাত্র তাদের ঈশ্বর, অইহুদি জাতির ঈশ্বর নন।

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, বিধানের যুগের কার্য

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 1

আমার সমগ্র পরিচালনামূলক পরিকল্পনা, ছয় হাজার বছর ব্যাপী পরিচালনামূলক পরিকল্পনায় রয়েছে তিনটি পর্যায় বা তিনটি যুগ: সূচনাকালের বিধানের যুগ;...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 32

অন্তিম সময়ে, ঈশ্বর তাঁর বাক্য প্রকাশ করতে এসেছেন। তিনি আত্মার দৃষ্টিকোণ থেকে, মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এবং তৃতীয় ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের স্বভাব এবং তিনি কে ও তাঁর কী আছে | উদ্ধৃতি 255

তুমি প্রকৃতপক্ষেই অনন্ত জীবন লাভের পথ জানতে চাইলে এবং এর সন্ধানে উদগ্রীব হয়ে থাকলে, প্রথমে এই প্রশ্নের উত্তর দাও: ঈশ্বর আজ কোথায়? সম্ভবত...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 44

ইস্রায়েলে আমার কার্য নির্বাহ করার সময় আমি “যিহোবা” নাম গ্রহণ করেছিলাম, এবং এই নামের অর্থ ইস্রায়েলীদের ঈশ্বর (ঈশ্বরের নির্বাচিত ব্যক্তিগণ)...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন