ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: বাইবেল সম্পর্কিত রহস্য | উদ্ধৃতি 280

আমি মানুষের মধ্যে অনেক কাজ করেছি, সেই সময়কালে আমি অনেক বাক্যও প্রকাশ করেছি। এই বাক্যগুলির সমস্তই মানুষের পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে এবং এগুলি প্রকাশ করা হয়েছিল যাতে মানুষ আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তথাপি, আমি পৃথিবীতে কেবলমাত্র অল্প সংখ্যক মানুষকেই অর্জন করেছি যারা আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, এবং তাই আমি বলি মানুষ আমার বাক্য মূল্যবান হিসাবে বিবেচনা করে না—কারণ মানুষ আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এইভাবে, আমি যে কাজ করি তা শুধু এই জন্য নয় যাতে মানুষ আমার উপাসনা করতে পারে; বরং আরো গুরুত্বপূর্ণ হল যাতে মানুষ আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে। মানুষ ভ্রষ্ট হয়েছে এবং শয়তানের পাতা ফাঁদে বাস করে। সব মানুষই দৈহিক বাসনায়, স্বার্থপর কামনায় বাস করে, এবং তাদের মধ্যে এমন একজনও নেই যে আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এমন অনেকে আছে যারা বলে যে তারা আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, কিন্তু সেই সব মানুষ কেবল অনিশ্চিত মূর্তির উপাসনা করে। তারা আমার নামকে পবিত্র বলে স্বীকার করলেও এমন একটি পথ অনুসরণ করে যা আমার বিপরীতগামী, এবং তাদের সমস্ত কথা অহংকার ও আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ। এর কারণ, মূলগত ভাবে তারা প্রত্যেকেই আমার বিপক্ষে এবং আমার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। প্রতিদিন তারা বাইবেলে আমার চিহ্ন অনুসন্ধান করে এবং হঠাৎ খুঁজে পাওয়া “উপযুক্ত” অনুচ্ছেদ অবিরাম পড়ে চলে এবং শাস্ত্র হিসাবে আবৃত্তি করে। তারা জানে না কীভাবে আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে ওঠা যায় আর না তারা আমার বিপক্ষে যাওয়ার অর্থ অনুধাবন করতে পারে। তারা কেবল অন্ধের মতো শাস্ত্র পাঠ করে যেতে পারে। বাইবেলের মধ্যে তারা এমন এক অনিশ্চিত ঈশ্বরকে রুদ্ধ করে, যাঁকে তারা কোনোদিন দেখে নি, এবং দেখতে অক্ষম, কেবল নিজেদের অবসর সময়ে তাঁকে দেখার জন্য বের করে। তারা আমার অস্তিত্বকে কেবল বাইবেলের ব্যাপ্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে বিশ্বাস করে, এবং তারা আমাকে বাইবেলের সমতুল্য বলে মনে করে; বাইবেল ব্যতিরেকে আমার কোনো অস্তিত্ব নেই, এবং আমি ব্যতিরেকে বাইবেলেরও কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা আমার অস্তিত্ব বা কর্মের প্রতি ভ্রুক্ষেপও করে না, পরিবর্তে তারা শাস্ত্রের প্রতিটি বাক্যের প্রতি চরম ও বিশেষ মনোযোগ দেয়। অনেকে এমনও বিশ্বাস করে যে শাস্ত্রে ভবিষ্যদ্বাণী না করা থাকলে আমার নিজের ইচ্ছেমত কোনো কাজ করা উচিত নয়। তারা শাস্ত্রের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব প্রদর্শন করে। এটা বলা যেতে পারে যে তারা বাক্য এবং অভিব্যক্তিকে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখে যে আমার মুখ নিঃসৃত বাক্যের মূল্যায়ন করতে এবং আমাকে নিন্দা করতে তারা বাইবেলের শ্লোক ব্যবহার করে থাকে। তারা আমার সাথে বা সত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে ওঠার উপায় অনুসন্ধান করে না, বরং তারা বাইবেলের বাক্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার উপায় খোঁজে, এবং তারা বিশ্বাস করে যে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া, বাইবেলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কোনো কিছুই আমার কাজ হতে পারে না। এই ধরণের মানুষেরা কি ফরীশীদের কর্তব্যনিষ্ঠ বংশধর নয়? ইহুদি ফরীশীরা যীশুকে নিন্দা করার জন্য মোশির আইন ব্যবহার করেছিল। তারা সেই সময়কালে যীশুর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে চায় নি, বরং অধ্যবসায় সহকারে এমনভাবে অক্ষরে অক্ষরে আইন অনুসরণ করেছিল যে পুরাতন নিয়মের আইন অনুসরণ না করার জন্য এবং মসীহ না হওয়ার জন্য তাঁকে অভিযুক্ত করার পর—তারা পরিশেষে নিরপরাধ যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করেছিল। তাদের উপাদান কী ছিল? এ কি বলা যায় না যে তারা সত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার উপায় অনুসন্ধান করছিল না? তারা শাস্ত্রে বর্ণিত প্রতিটি বাক্যের প্রতি এমন মোহাবিষ্ট হয়ে পড়েছিল যে তারা না আমার ইচ্ছা, না আমার কাজের পদক্ষেপ ও পদ্ধতির উপর মনোযোগ দিয়েছিল। তারা সত্যের অনুসন্ধানী মানুষ ছিল না বরং অনমনীয় ভাবে বাক্যকে আঁকড়ে ছিল; তারা ঈশ্বর বিশ্বাসী ছিল না, বরং ছিল বাইবেলে বিশ্বাসী। তারা মূলত বাইবেলের অতন্দ্র প্রহরী ছিল। বাইবেলের স্বার্থ রক্ষা করতে, বাইবেলের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং বাইবেলের সুনাম রক্ষা করতে তারা এতটাই তৎপর হয়ে গিয়েছিল যে করুণাময় যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করতেও পিছপা হয় নি। এটা তারা নিছক বাইবেলকে রক্ষা করার জন্য এবং মানুষের হৃদয়ে বাইবেলের প্রতিটি বাক্যের মর্যাদা বজায় রাখার জন্যই করেছিল। তাই তারা যীশুকে, যিনি আমৃত্যু শাস্ত্রের মতবাদ মেনে চলেন নি, তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং পাপস্খালনের বলিকে পরিত্যাগ করাই শ্রেয় বলে মনে করেছিল। তারা কি শাস্ত্রের প্রতিটি বাক্যের হীন অনুচর ছিল না?

এবং আজকের মানুষরাই বা কেমন? খ্রীষ্ট সত্যের প্রকাশ ঘটাতে এসেছেন, তবুও তারা তাঁকে এই পৃথিবী থেকে বিতাড়িত করতে আগ্রহী যাতে তারা স্বর্গে প্রবেশ করতে এবং অনুগ্রহ লাভ করতে পারে। তারা বরং বাইবেলের স্বার্থ রক্ষার খাতিরে সত্যের আগমনকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করবে এবং বাইবেলের চিরস্থায়ী অস্তিত্বকে নিশ্চিত করতে দেহরূপে প্রত্যাবর্তিত খ্রীষ্টকে পুনরায় ক্রুশবিদ্ধ করবে। মানুষ কীভাবে আমার পরিত্রাণ গ্রহণ করবে যখন তার হৃদয় এত বিদ্বেষী, এবং তার প্রকৃতি আমার প্রতি এতটাই বৈরিতামূলক? আমি মানুষের মাঝে বাস করি, তবুও মানুষ আমার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে না। যখন আমি মানুষকে আমার জ্যোতিতে উদ্ভাসিত করি, তখনও সে আমার অস্তিত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকে। আমি যখন মানুষের প্রতি আমার ক্রোধ বর্ষণ করি তখন মানুষ আরও বলিষ্ঠভাবে আমার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। মানুষ শুধুমাত্র বাক্যের সাথে এবং বাইবেলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে চায়, তবুও সত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার পথ খোঁজার অভিপ্রায়ে কোনও একজনও আমার কাছে আসে না। মানুষ স্বর্গে আমার সন্ধান করে এবং স্বর্গে আমার অস্তিত্বের বিষয়ে নির্দিষ্ট চিন্তায় রত হয়, অথচ দেহরূপী আমার প্রতি কেউ খেয়ালই করে না, কারণ মানুষের মধ্যে বসবাসকারী আমি আসলেই খুবই নগণ্য। যারা শুধুমাত্র বাইবেলে বর্ণিত বাক্যের সাথে এবং কেবলমাত্র এক অনিশ্চিত ঈশ্বরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে চায় তারা আমার কাছে ঘৃণ্য। এর কারণ, তারা প্রাণহীন বাক্যের উপাসনা করে; এবং এমন এক ঈশ্বরের উপাসনা করে যিনি তাদের অব্যক্ত সম্পদ দিতে পারবেন; তারা যাঁর উপাসনা করে তিনি এমন এক ঈশ্বর যিনি মানুষের করুণা নির্ভর—এমন ঈশ্বর যাঁর কোনো অস্তিত্ব নেই। এই ধরণের মানুষেরা তাহলে আমার কাছ থেকে কী অর্জন করতে পারে? মানুষ, বাক্যের সাথে খুবই তুচ্ছ। যারা আমার বিরুদ্ধাচরণ করে, যারা আমার কাছে সীমাহীন দাবী করে, যাদের সত্যের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই, যারা আমার প্রতি বিদ্রোহী মনোভাবাপন্ন—তারা কীভাবে আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে?

যারা আমার বিরুদ্ধাচরণ করে তারা কখনই আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটা তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যারা সত্যকে ভালোবাসে না। যারা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তারা আরও বেশি করে আমার বিরোধী এবং আমার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। যারা আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় আমি তাদের সবাইকে অশুভের হাতে তুলে দিই এবং আমি তাদের অশুভের ভ্রষ্টাচারের কাছে পরিত্যাগ করি, আমি তাদের নিজেদের অপরাধ প্রবণতা প্রকাশের ক্ষেত্রে লাগামহীন স্বাধীনতা দিই এবং শেষ পর্যন্ত তাদের গ্রাস করে নেওয়ার জন্য অশুভের হস্তগত করি। কতজন আমার উপাসনা করে তা নিয়ে আমি চিন্তা করি না, অর্থাৎ কতজন মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে তা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। আমার একমাত্র চিন্তার বিষয় হলো কতজন আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, তা দেখা। কারণ যারা আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় তারা সকলেই অশুভ; যারা আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে; তারা আমার শত্রু, এবং আমি কখনোই আমার গৃহে আমার শত্রুদের “সযন্তে রক্ষা” করব না। যারা আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ তারা চিরকাল আমার গৃহে আমার সেবায় নিয়োজিত থাকবে এবং যারা আমার বিরুদ্ধাচরণ করবে তারা চিরকাল আমার দণ্ড ভোগ করবে। যারা কেবল বাইবেলে বর্ণিত বাক্যের প্রতি মনযোগী, যারা না সত্যের প্রতি আর না আমার পদচিহ্ন সন্ধানের বিষয়ে উদ্বিগ্ন—তারা আমার বিরোধী, কারণ তারা আমাকে বাইবেল অনুসারে সীমিত করে, বাইবেলের মধ্যেই আমাকে রুদ্ধ করে, এবং তারা ধর্মনিন্দায় আমার প্রতি চরমভাবাপন্ন। এই ধরনের মানুষেরা কীভাবে আমার সামনে আসতে পারে? আমার কর্ম, বা আমার ইচ্ছা, অথবা সত্য কোনোকিছুর প্রতিই তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই, বরং তারা এর পরিবর্তে বাক্যের প্রতি মোহাবিষ্ট—সেই বাক্য যা হত্যা করে। এই ধরনের মানুষ কীভাবে আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে?

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, তোমার খ্রীষ্টের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার পথ খোঁজা উচিত

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: মানবজাতির দুর্নীতি উদ্ঘাটিত করা | উদ্ধৃতি 320

যারা অন্যদের প্রতি সন্দেহপ্রবণ নয় আমি তাদের নিয়ে তৃপ্ত হই, এবং যারা সহজে সত্যকে গ্রহণ করতে পারে আমি তাদের পছন্দ করি; এই দুই ধরণের মানুষের...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 44

ইস্রায়েলে আমার কার্য নির্বাহ করার সময় আমি “যিহোবা” নাম গ্রহণ করেছিলাম, এবং এই নামের অর্থ ইস্রায়েলীদের ঈশ্বর (ঈশ্বরের নির্বাচিত ব্যক্তিগণ)...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: জীবনে প্রবেশ | উদ্ধৃতি 554

ঈশ্বর কোন পথে মানুষকে নিখুঁত করে তোলেন? এতে কোন দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত? তুমি কি ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হতে চাও? তুমি কি তাঁর বিচার ও শাস্তিকে...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: মানবজাতির দুর্নীতি উদ্ঘাটিত করা | উদ্ধৃতি 328

তোমরা তোমাদের সমস্ত কাজে ন্যায়পরায়ণতার অনুশীলন করো কিনা এবং তোমাদের সমস্ত কাজ ঈশ্বর পর্যবেক্ষণ করেন কিনা তা জানার জন্য নিজেদের অন্তরে খুঁজে...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন