ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের স্বভাব এবং তিনি কে ও তাঁর কী আছে | উদ্ধৃতি 259

ঈশ্বর এই জগত সৃষ্টি করেছেন, সেখানে এনেছেন মানুষ নামক এক জীব, যাদের মধ্যে তিনি প্রাণ সঞ্চার করেছেন। তারপর, মানুষ পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজন লাভ করল, যার ফলে সে আর একা রইল না। যখন থেকে মানুষ এই বস্তুজগতের দিকে চোখ মেলেছে, তার নিয়তি ছিল ঈশ্বরের আদেশের অধীনে অস্তিত্ব বজায় রাখা। ঈশ্বর প্রত্যেক জীবিত সত্তার মধ্যে যে প্রাণ সঞ্চার করেন সেটা তাদের ছোট থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সহযোগিতা করে। এই প্রক্রিয়ায়, কেউ বুঝতে পারেনা যে মানুষ ঈশ্বরের পরিচর্যায় বেড়ে উঠছে; বরং তারা বিশ্বাস করে যে তারা পিতামাতার পরিচর্যাতেই বড় হচ্ছে, আর তাদের বড় হওয়াটা তাদের বেঁচে থাকার সহজাত প্রবৃত্তির কারণে সম্ভব হচ্ছে। এর কারণ হল, মানুষ জানে না যে কার আশীর্বাদে সে জীবন পেয়েছে, তার প্রাণ কোথা থেকে এসেছে, আর এটাতো সে আরোই কম বোঝে যে কীভাবে জীবনের প্রবৃত্তি বিভিন্ন অলৌকিক সৃজন ঘটাতে পারে। সে কেবল এটুকুই জানে যে খাদ্যই তার জীবনধারণের ভিত্তি, তার অস্তিত্বের উৎস তার অধ্যবসায়, আর তার মনে যে সমস্ত বিশ্বাস সঞ্চিত আছে সেই পুঁজির উপরেই তার বেঁচে থাকা নির্ভরশীল। ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও সংস্থানের বিষয়ে মানুষ চূড়ান্তভাবে অচেতন, এবং এভাবেই ঈশ্বর আশীর্বাদস্বরূপ তাকে যে জীবন দিয়েছেন, সেটাকে সে নষ্ট করে ফেলছে…। এই যে মানবজাতিকে ঈশ্বর দিবারাত্র পরিচর্যা করে চলেছেন তার একজন সদস্যও নিজের অন্তর থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা করে না। ঈশ্বর নিজের পরিকল্পনা অনুসারে কেবল মানুষের জন্য কাজই করে চলেন; তাদের থেকে তাঁর কোনো রকমের প্রত্যাশা নেই। তিনি এটা এই আশায় করেন যে, একদিন মানুষ নিজের ঘুমের ঘোর থেকে জেগে উঠবে আর হঠাৎই অনুভব করবে জীবনের মূল্য ও তার অর্থ, ঈশ্বর তাকে যা কিছু দিয়েছেন তার জন্য তাঁকে কী মূল্য দিতে হয়েছে, আর এটাও বুঝতে পারবে যে ঈশ্বর কী ব্যাকুল আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কখন মানুষ তাঁর দিকে মনোযোগ দেওয়া শুরু করবে। মানুষের জীবনের উৎস ও তার বেঁচে থাকার নিয়মের গোপন রহস্য কেউ কখনো বুঝতে চায়নি। কেবলমাত্র ঈশ্বর, যিনি এই সব রহস্য জানেন, সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে সমস্তকিছু পাওয়ার পরেও যে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সেই মানুষের দেওয়া চোট ও আঘাত তিনি নীরবে সহ্য করে চলেছেন। জীবনচক্রের অংশ হিসাবে অনিবার্যভাবে যা কিছু মানুষের সামনে এসে উপস্থিত হয়, সেগুলি তারা উপভোগ করে, আর ঠিক একইভাবে, “অনিবার্যভাবে” মানুষ ঈশ্বরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাঁকে ভুলে যায়, আর নিজের অন্যায্য দাবি আদায় করে চলে। এমন কি হতে পারে যে ঈশ্বরের পরিকল্পনা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ? এমন কি হতে পারে যে, মানুষ নামক ঈশ্বরের নিজের হাতে সৃষ্ট প্রাণীটি সত্যিই এতটা গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য? ঈশ্বরের পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ; তথাপি ঈশ্বরের সৃষ্ট এই প্রাণীর অস্তিত্বই তাঁর পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে। তাই, ঈশ্বর এই মানবজাতির প্রতি ঘৃণাবশত তাঁর পরিকল্পনা নষ্ট হতে দিতে পারেন না। তাঁর পরিকল্পনা, আর তিনি যে প্রাণবায়ু সঞ্চার করেছিলেন, তার কথা ভেবেই ঈশ্বর সমস্ত রকমের উৎপীড়ন সহ্য করছেন, মানুষের দেহের জন্য নয়—মানুষের জীবনের স্বার্থে। মানুষের শরীরকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং তিনি যে প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন তার জন্যই এটা করেন। এটাই তাঁর পরিকল্পনা।

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: অবতার জন্ম | উদ্ধৃতি 129

ঈশ্বরের সম্পাদিত কাজের প্রতিটি পর্যায়েরই নিজস্ব ব্যবহারিক তাৎপর্য রয়েছে। অনেককাল আগে, যীশু যখন এসেছিলেন, তখন তিনি পুরুষ রূপে এসেছিলেন, আর...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: মানবজাতির দুর্নীতি উদ্ঘাটিত করা | উদ্ধৃতি 362

শয়তান দ্বারা কলুষিত সমস্ত আত্মাই শয়তানের অধিকার ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শুধুমাত্র যাদের খ্রীষ্টের উপরে বিশ্বাস রয়েছে তাদের শয়তানের...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের কাজ সম্বন্ধে জানা | উদ্ধৃতি 188

অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের কার্যের দ্বারা, এবং আজ তাঁর পরিকল্পিত যে কার্য তিনি তোমাদের মাঝে করে চলেছেন, তার দ্বারা তোমরা যে সর্বোচ্চ উন্নতি এবং...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কাজ | উদ্ধৃতি 57

খ্রিষ্ট অন্তিম সময়ে প্রাণ সৃষ্টি করেন এবং সত্যের চিরস্থায়ী ও শাশ্বত পথ নিয়ে আসেন। এই সত্যের পথেই মানুষ জীবন লাভ করে এবং এটিই একমাত্র পথ...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন