ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের স্বভাব এবং তিনি কে ও তাঁর কী আছে | উদ্ধৃতি 243

যে কর্তব্যগুলি মানুষের সম্পাদন করা উচিৎ তা তারা অবশ্যই পালন করবে। এটাই মানুষের মেনে চলা উচিৎ, আর এটাই মানুষের সম্পাদন করা উচিৎ। পবিত্র আত্মার যা করণীয় তা পবিত্র আত্মাকে করতে দাও, মানুষ এতে কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে না। মানুষের যা করণীয়, যার সাথে পবিত্র আত্মার কোনো সম্বন্ধ নেই, মানুষের তাতেই নিয়োজিত থাকা উচিৎ। মানুষের যা করা উচিত এটি তা ছাড়া আর কিছুই নয়, এবং আদেশ মনে করে এর পালন করা উচিৎ, পুরাতন নিয়মে বিধানের প্রতি যে আনুগত্যের কথা বলা হয়েছে ঠিক সে রকম। যদিও এখন বিধানের যুগ নয়, তবু এখনও এমন অনেক বাক্য আছে যা মেনে চলা উচিৎ, বিধানের যুগে যে বাক্যগুলি বলা হতো এগুলো সেই ধরনেরই। এই বাক্যগুলির সম্পাদন কেবল পবিত্র আত্মার স্পর্শের উপর ভরসা করে হয় না, বরং এগুলো এমন কিছু যা মানুষেরই পালন করা উচিৎ। যেমন:

বাস্তববাদী ঈশ্বরের কার্যের বিচার তোমরা করবে না।

যে মানুষ ঈশ্বরের দ্বারা প্রত্যয়িত তোমরা তার বিরোধিতা করবে না।

ঈশ্বরের সামনে তোমরা তোমাদের স্থান বজায় রাখবে আর অসচ্চরিত্র হবে না।

তোমরা কথাবার্তায় পরিমিত হবে, এবং ঈশ্বর যাঁর সাক্ষ্য প্রদান করেছেন, তোমরা কথায় ও কাজে তাঁর ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে চলবে।

ঈশ্বরের সাক্ষ্যকে তোমরা সম্মান করবে। ঈশ্বরের কার্য ও তাঁর মুখনিঃসৃত বাক্যকে তোমরা উপেক্ষা করবে না।

ঈশ্বরের উচ্চারণের স্বরভঙ্গি ও লক্ষ্যের তোমরা অনুকরণ করবে না।

বাহ্যিকভাবে, তোমরা এমন কিছুই করবে না যা স্পষ্টত ঈশ্বরের দ্বারা প্রত্যয়িত মানুষটির বিরোধিতা করে।

এই নিয়মগুলো প্রত্যেক মানুষেরই পালন করা উচিৎ। প্রত্যেক যুগে ঈশ্বর কিছু নিয়মবিধি নির্দিষ্ট করে দেন যেগুলো বিধানের সমগোত্রীয় এবং মানুষকে এগুলো মেনে চলতে হয়। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের স্বভাবকে সীমিত রাখেন আর তাঁর আন্তরিকতা নিরূপন করেন। উদাহরণস্বরূপ, পুরাতন নিয়মের যুগের এই বাক্যটি বিবেচনা করো: “পিতা ও মাতাকে তুমি সম্মান করবে”। এই বাক্যটি আজ আর প্রযোজ্য নয়; সেই সময় বাক্যটি নিছক কিছু মানুষের বাহ্যিক স্বভাবে লাগাম পরিয়ে রাখতো, ঈশ্বরের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের আন্তরিকতা প্রতিপাদন করতে বাক্যটি ব্যবহৃত হতো, আর যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতো বাক্যটি তাদের বৈশিষ্ট্যসূচক চিহ্ন ছিল। যদিও এখন রাজ্যের যুগ, কিন্তু এখনও অনেক নিয়ম আছে যা মানুষের অবশ্যই মেনে চলা উচিত। অতীতের নিয়মগুলি আর প্রযোজ্য নয়, আর আজ মানুষের সম্পাদনের জন্য আরো অনেক সঙ্গত অনুশীলন আছে, যেগুলো প্রয়োজনীয়। পবিত্র আত্মার কাজের সঙ্গে এরা সংশ্লিষ্ট নয়, মানুষকেই এগুলো করতে হবে।

অনুগ্রহের যুগে, বিধানের যুগের অনেক রীতি বাতিল হয়ে গিয়েছিল কারণ ওই বিধানগুলি ওই সময়ের কাজের প্রেক্ষিতে বিশেষ ফলপ্রসূ ছিল না। ওগুলো বাতিল হয়ে যাওয়ার পর সেই যুগের সঙ্গে মানানসই নতুন অনেক প্রথা চালু হয়েছিল, যা পরিণত হয়েছে আজকের নানান আইনে। আজকের ঈশ্বর যখন এলেন, এই আইনগুলি পরিহার করা হল, এগুলোকে মেনে চলা এখন আর আবশ্যক নয়, এবং অনেক নতুন প্রথা চালু হল যেগুলো আজকের কাজের পক্ষে উপযোগী। এই প্রথাগুলি আজ আইন নয়, বরং এদের অভীষ্ট হল ফলাফল অর্জন করা; এরা আজকের জন্যে উপযুক্ত—কালকে এরা হয়তো আইনে পরিণত হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তোমার তাতেই নিষ্ঠাবান হওয়া উচিৎ যা আজকের কাজের জন্য ফলপ্রসূ। আগামীকাল নিয়ে মাথা ঘামিও না: আজ যা করা হচ্ছে তা আজকের খাতিরেই। আগামীকাল যখন আসবে তখন হয়তো আরো ভালো প্রথার প্রচলন হবে যা তোমাকে পালন করতে হবে—কিন্তু এখন ওতে খুব বেশি মনোযোগ দিও না। বরং আজ যা মেনে চলা উচিৎ তাতেই নিয়োজিত থাকো, যাতে ঈশ্বরের বিরোধিতা পরিহার করে চলা যায়। আজ দৃঢ়সংলগ্ন থাকার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলির থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই:

তোমার চোখের সামনে দণ্ডায়মান ঈশ্বরকে তোষামোদের দ্বারা প্রবঞ্চনার চেষ্টা তুমি অবশ্যই করবে না, বা তাঁর থেকে কিছু গোপন করবে না।

তোমার সম্মুখের ঈশ্বরের সামনে তুমি অশ্লীল বা উদ্ধত বাক্য উচ্চারণ করবে না।

তাঁর বিশ্বস্ততা অর্জন করার জন্য তোমার চক্ষুগোচর ঈশ্বরকে তুমি মিষ্ট কথা ও মনোরম ভাষণের দ্বারা প্রতারিত করবে না।

ঈশ্বরের সামনে তুমি অশ্রদ্ধ আচরণ করবে না। ঈশ্বরের মুখে উক্ত সবকিছু তুমি মান্য করবে, আর তাঁর বাক্যের প্রতিরোধ, প্রতিবাদ বা অন্যথা করবে না।

ঈশ্বরের মুখনিঃসৃত বাক্যকে তুমি তোমার সুবিধা মতো ব্যাখ্যা করবে না। দুষ্টলোকের কপট ফন্দির শিকার হতে যাতে না হয় তার জন্য তোমাদের জিহ্বাকে সংযত রাখবে।

ঈশ্বরের দ্বারা তোমার জন্য নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা এড়ানোর জন্যে তোমার পদক্ষেপকে সংযত করবে। যদি তুমি সীমা লঙ্ঘন করো, তবে তা তোমায় ঈশ্বরের স্থিতিতে দাঁড় করাবে আর গর্বিত ও গালভরা বাক্য বলাবে, এবং এইভাবে তুমি ঈশ্বরের বিতৃষ্ণার পাত্র হয়ে পড়বে।

তুমি অসতর্কভাবে ঈশ্বরের মুখনিঃসৃত বাক্যের প্রচার করবে না, নইলে অন্যেরা তোমাকে উপহাস করবে আর শয়তান তোমায় বোকা বানাবে।

আজকের ঈশ্বরের সকল কার্য তুমি মান্য করবে। যদি তুমি তা নাও বোঝো, তুমি এর বিচার করবে না; তুমি কেবল যা করতে পারো তা হলো অন্বেষণ ও আলাপ-আলোচনা।

ঈশ্বরের আদি অবস্থান কেউ লঙ্ঘন করবে না। মানুষের অবস্থান থেকে আজকের ঈশ্বরের সেবা করার অতিরিক্ত কিছুই তুমি করতে পারো না। মানুষের অবস্থান থেকে তুমি আজকের ঈশ্বরকে শিক্ষা দিতে পারো না, করলে তা বিপথগমন হবে।

ঈশ্বরের দ্বারা প্রত্যয়িত মানুষটির অবস্থানে কেউই দাঁড়াতে পারে না; তোমার বাক্যে, কাজে ও নিগূঢ় চিন্তায় তুমি মানুষের স্থিতিতেই অবস্থান করো। এটা মেনে চলতে হবে, এটা মানুষের দায়িত্ব, কেউই এর পরিবর্তন করতে পারে না; করার চেষ্টা করলে পরিচালনামূলক আজ্ঞাসমূহ উল্লঙ্ঘন করা হবে। একথা সবার মনে রাখা উচিত।

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, নতুন যুগের আদেশসমূহ

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 1

আমার সমগ্র পরিচালনামূলক পরিকল্পনা, ছয় হাজার বছর ব্যাপী পরিচালনামূলক পরিকল্পনায় রয়েছে তিনটি পর্যায় বা তিনটি যুগ: সূচনাকালের বিধানের যুগ;...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের কাজ সম্বন্ধে জানা | উদ্ধৃতি 219

এটাই সেই সময় যখন আমার আত্মা অসামান্য কাজ সম্পাদিত করে, এবং আমি অইহুদি দেশে আমার কাজ শুরু করি। তদুপরি, এটাই সেই সময় যখন আমি সমস্ত সৃষ্ট...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ধর্মীয় ধারণা প্রকাশ করা | উদ্ধৃতি 294

যারা ঈশ্বরের কাজের উদ্দেশ্য বোঝে না তারা প্রত্যেকে ঈশ্বরবিরোধী, আর যে ঈশ্বরের কাজের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে কিন্তু এখনও তাঁকে সন্তুষ্ট করার...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: মানবজাতির দুর্নীতি উদ্ঘাটিত করা | উদ্ধৃতি 335

গন্তব্য এবং ভাগ্য তোমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—তা নিয়ে তোমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তোমরা বিশ্বাস করো যে, যদি বিশেষ যত্ন সহকারে কাজগুলি না...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন