ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 16

আজকের কাজ অনুগ্রহের যুগের কাজকে এগিয়ে দিয়েছে; অর্থাৎ সমগ্র ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার অধীনের কাজই সামনের দিকে এগিয়ে গেছে। যদিও অনুগ্রহের যুগ শেষ হয়েছে, কিন্তু ঈশ্বরের কাজে উন্নতি ঘটেছে। কেন আমি বারবার বলি যে কাজের এই পর্যায় অনুগ্রহের যুগ এবং বিধানের যুগের উপর ভিত্তি করে তৈরি? কারণ, আজকের দিনের কাজ অনুগ্রহের যুগে যুগে সম্পন্ন কাজেরই ধারাবাহিকতা, এবং বিধানের যুগে সম্পন্ন কাজের চাইতে অগ্রগতিপ্রাপ্ত। এই তিনটি পর্যায় দৃঢ়ভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত, শৃঙ্খলের প্রতিটি অংশ পরবর্তি অংশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ। কেন আমি একথাও বলি যে, কাজের এই পর্যায়টি যীশুর দ্বারা সম্পন্ন কাজের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে? ধরে নেওয়া যাক, এই পর্যায়টি যীশুর দ্বারা সম্পন্ন কাজের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে নি, তাহলে এই পর্যায়ে অন্য একটি ক্রুশবিদ্ধকরণ ঘটত, এবং পূর্বতন ধাপের পরিত্রাণমূলক কাজগুলি আবার নতুন করে করতে হত। তা হতো অর্থহীন। এবং তাই, কাজটি সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে এমন নয়, বরং যুগ সামনের দিকে এগিয়েছে, এবং কাজের মাত্রা আগের চাইতে উচ্চতর করা হয়েছে। এটা বলা যেতে পারে যে কাজের এই পর্যায়টি বিধানের যুগের ভিত্তির উপরে তৈরী, এবং যীশুর কাজের প্রস্তরের উপর নির্মিত। ঈশ্বরের কাজ ধাপে ধাপে নির্মিত, এবং এই ধাপটি কোনো নতুন সূচনা নয়। শুধুমাত্র কাজের এই তিনটি পর্যায়ের সমন্বয়কেই ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনা বলে গণ্য করা যেতে পারে। এই পর্যায়ের কাজ অনুগ্রহের যুগের কাজের ভিত্তির উপরে সম্পন্ন করা হয়েছে। যদি এই দুই পর্যায়ের কাজের মধ্যে সম্পর্ক না থাকত, তাহলে ক্রুশবিদ্ধকরণ আবার এই পর্যায়ে পুনরাবৃত্ত হয় না কেন? কেন আমি মানুষের পাপ বহন করি না, বরং পরিবর্তে প্রত্যক্ষভাবে মানুষের বিচার করতে ও তাকে শাস্তি দিতে আসি? মানুষের বিচার ও শাস্তির কাজ, এবং বর্তমানে পবিত্র আত্মার মাধ্যমবাহিত না-হয়েই আমার আসা, ক্রুশবিদ্ধকরণের পর এগুলো যদি না ঘটতো, তাহলে মানুষের বিচার ও শাস্তির যোগ্যতা আমার থাকতো না। নির্দিষ্টভাবে, যেহেতু আমি ও যীশু এক, তাই আমি মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে বিচার করতে ও শাস্তি দিতে এসেছি। এই পর্যায়ের কাজ সম্পূর্ণভাবে পূর্ববর্তী পর্যায়ের কাজের উপরে ভিত্তি করে নির্মিত। এই কারণে একমাত্র এই ধরণের কাজই মানুষকে ধাপে ধাপে পরিত্রাণের মধ্যে আনতে পারে। যীশু এবং আমি এক আত্মার থেকে এসেছি। যদিও আমরা দেহে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন, কিন্তু আমাদের আত্মা এক; যদিও আমরা যা করি তার বিষয় এবং যে কাজ আমরা হাতে নিই সেগুলি এক নয়, তবু সারসত্যে আমরা একই; আমাদের দেহ ভিন্ন রূপ ধারণ করে, কিন্তু তা যুগের পরিবর্তনের জন্য ও আমাদের কাজের প্রয়োজনের ভিন্নতার জন্য; আমাদের সেবাব্রত ভিন্ন, তাই আমরা যে কাজ সামনে আনি এবং যে স্বভাব আমরা মানুষের কাছে প্রকাশ করি, সেগুলোও আলাদা। সেই কারণেই, মানুষ আজ যা দেখে এবং বোঝে, তা অতীতের থেকে আলাদা, যার কারণ হচ্ছে যুগের পরিবর্তন। যদিও তারা লিঙ্গ ও দেহরূপে ভিন্ন, এবং তারা একই পরিবারে জন্মায় নি, একই সময়ের মধ্যে তো নয়ই, কিন্তু তাদের আত্মা তবুও এক। তাদের দেহের মধ্যে রক্তসম্পর্ক বা কোনো দৈহিক আত্মীয়তা না থাকলেও, এটা অস্বীকার করা যায় না যে, তারা দুটি ভিন্ন সময়কালে ঈশ্বরের অবতাররূপ। তারা যে ঈশ্বরের অবতার তা অকাট্য সত্য। যদিও, তারা একই রক্তসম্পর্কের নন এবং একই মানবীয় ভাষায় কথা বলেন না (একজন ছিলেন এক পুরুষ যিনি ইহুদিদের ভাষায় কথা বলতেন, এবং অপরজন এক নারী যিনি শুধুমাত্র চৈনিক ভাষা বলেন)। এই সব কারণের জন্যই তাঁরা তাঁদের যথোচিত কাজ করতে ভিন্ন দেশে এবং ভিন্ন সময়কালে জীবনযাপন করেছেন। যদিও এটা সত্য যে তাঁরা একই আত্মা, তাঁদের একই সারসত্য, কিন্তু তাঁদের দেহের বাহ্যিক আবরণের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত মিল নেই। তাঁরা একই মানবতার অংশীদার, কিন্তু যতদূর তাঁদের দেহের বাহ্যিক চেহারা এবং তাঁদের জন্মের পরিস্থিতি বিবেচ্য, তাঁরা একইরকম নন। এই বিষয়গুলির কোনো প্রভাব তাঁদের সংশ্লিষ্ট কাজে বা মানুষের তাঁদের সম্পর্কিত জ্ঞানের উপরে পড়ে না, কারণ চূড়ান্ত বিশ্লেষণে, তাঁরা একই আত্মা এবং কেউ তাঁদের বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। এমনকি যদিও তাঁরা রক্তের দ্বারা সম্পর্কিত নন, এবং তাঁদের দেহ ভিন্ন বংশজাত, কিন্তু তাঁদের সমগ্র সত্তাই তাঁদের আত্মার চালিকাশক্তি, যা তাঁদের জন্য বিভিন্ন সময়কালে বিভিন্ন কাজ বরাদ্দ করে। যিহোবার আত্মা যীশুর আত্মার পিতা নন, এবং যীশুর আত্মাও যিহোবার আত্মার পুত্র নন: তাঁরা এক এবং একই আত্মা। একইভাবে, আজকের ঈশ্বরের অবতার এবং যীশু রক্তের দ্বারা সম্পর্কিত নন, কিন্তু তাঁরা এক, কারণ তাঁদের আত্মা একই। ঈশ্বর করুণা এবং প্রেমময় উদারতার কাজ করতে পারেন, পাশাপাশি ধার্মিক বিচার ও মানুষের শাস্তিবিধানের কাজও করতে পারেন, এবং মানুষকে অভিশাপ দেওয়ার কাজও করতে পারেন; এবং শেষে, তিনি এই পৃথিবী ধ্বংস করার ও দুষ্টের দণ্ডদানের কাজ করতে পারেন। তিনি কি এইসবই নিজে করেন না? এটাই কি ঈশ্বরের সর্বশক্তিমত্তা নয়? তিনি মানুষের জন্য আইন ঘোষণা এবং আদেশ জারি উভয়ই করতে সক্ষম ছিলেন, এবং তিনি প্রথমযুগের ইস্রায়েলীদের পৃথিবীতে তাদের জীবন যাপনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়েছিলেন, এবং সমস্ত ইস্রায়েলীদেরকে তাঁর আধিপত্যের অধীনে রেখে মন্দির ও বেদী নির্মাণে তাদের পথনির্দেশ দিতেও সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর কর্তৃত্বের কারণে তিনি পৃথিবীতে দুই হাজার বছর ইস্রায়েলের মানুষদের সঙ্গে বাস করেছিলেন। ইস্রায়েলীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সাহস পায় নি; সকলেই যিহোবাকে শ্রদ্ধা করতো এবং তাঁর আদেশ পালন করতো। এমনই ছিল সেই কাজ যা তাঁর কর্তৃত্বের গুণের দ্বারা এবং তাঁর সর্বশক্তিমত্তার দ্বারা সম্পন্ন হয়েছিল। তখন, অনুগ্রহের যুগ চলাকালীন, যীশু সমস্ত পতিত মানবজাতিকে (শুধুমাত্র ইস্রায়েলীদের নয়) মুক্তি দিতে এসেছিলেন। তিনি মানুষের প্রতি করুণা এবং প্রেমময় উদারতা প্রদর্শন করেছিলেন। যে যীশুকে মানুষ অনুগ্রহের যুগে দেখেছিল, তিনি ছিলেন প্রেমময় উদারতায় পূর্ণ, এবং সবসময় তিনি মানুষের প্রতি ভালোবাসাপূর্ণ ছিলেন, কারণ তিনি মানবজাতিকে পাপ থেকে উদ্ধার করতে এসেছিলেন। ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি মানবজাতিকে তাদের পাপের জন্য ক্ষমা করতে সক্ষম ছিলেন যতক্ষণ না তাঁর ক্রুশবিদ্ধকরণ মানবজাতিকে সম্পূর্ণরূপে পাপ থেকে মুক্ত করতে পেরেছিল। এই সময়ে ঈশ্বর মানুষের সামনে করুণা এবং প্রেমময় উদারতা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন; অর্থাৎ তিনি মানুষের জন্য পাপস্খালনের বলি হয়েছিলেন এবং মানুষের পাপের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, যাতে তারা চিরতরে ক্ষমা পায়। তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল, সহানুভূতিশীল, ধৈর্যশীল এবং প্রেমময়। এবং সেই সকলে যারা যীশুকে অনুগ্রহের যুগে অনুসরণ করত, একইভাবে তারাও সব বিষয়ে ধৈর্যশীল এবং প্রেমময় হতে চেয়েছিল। তারা দীর্ঘ কষ্ট ভোগ করেছিল, এবং প্রহৃত, অভিসম্পাতপ্রাপ্ত বা প্রস্তরাহত হয়েও কখনো পাল্টা আঘাত করে নি। কিন্তু অন্তিম পর্যায়ে এটি আর হতে পারে না। যীশু এবং যিহোবা একই আত্মার হলেও তাঁদের কাজ সমগ্রভাবে এক ছিল না। যিহোবার কাজ একটি যুগকে শেষ করে নি, বরং যুগকে পথনির্দেশ দিয়েছিল, পৃথিবীতে মানবজাতির জীবনের সূচনা করেছিল, এবং আজকের কাজ হল অইহুদি দেশগুলির মধ্যে যারা গভীরভাবে ভ্রষ্ট হয়েছে তাদের জয় করা, এবং শুধুমাত্র চীনে ঈশ্বরের নির্বাচিত মানুষদের নয়, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ও মানবজাতিকে নেতৃত্ব দেওয়া। তোমার মনে হতে পারে যে, এই কাজ কেবল চীনেই সম্পাদিত হচ্ছে, কিন্তু আসলে এটি ইতিমধ্যেই বিদেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। কেন চীনের বাইরের মানুষ বারবার প্রকৃত পথ খুঁজছে? এর কারণ হল, আত্মা ইতিমধ্যেই কাজ করতে শুরু করে দিয়েছেন, এবং আজকের কথিত বাক্যগুলি সারা বিশ্বের মানুষের দিকে নির্দেশিত। এর দ্বারা ইতিমধ্যেই অর্ধেক কাজ চলমান অবস্থায় আছে। পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত, ঈশ্বরের আত্মা এই বিশাল কাজ গতিময় রেখেছেন, এবং অধিকন্তু, বিভিন্ন যুগে এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে তিনি বিভিন্ন কাজ করেছেন। বিভিন্ন যুগের মানুষ তাঁর ভিন্ন ভিন্ন স্বভাব দেখতে পায়, যা তাঁর নানান কাজের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত হয়। তিনি করুণা এবং প্রেমময় উদারতায় পূর্ণ ঈশ্বর; তিনি মানুষের জন্য পাপস্খালনের বলি এবং মানুষের মেষপালক; কিন্তু আবার তিনিই মানুষের বিচার, শাস্তি এবং অভিশাপ। তিনি পৃথিবীতে দুই হাজার বছর ধরে মানুষকে জীবনযাপন করার নেতৃত্ব দিতে পারেন, এবং তিনি ভ্রষ্ট মানবজাতিকে পাপ থেকে মুক্তিও দিতে পারেন। আজ তিনি সেই মানবজাতিকে জয় করতেও সক্ষম যারা তাঁকে চেনেনা, এবং তাদের নিজের রাজত্বের অধীনে প্রণত করতেও সক্ষম, যাতে সবাই তাঁর কাছে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করে। শেষে, তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে মানুষের মধ্যে যা কিছু অশুদ্ধ এবং অধর্ম রয়েছে, তাকে ভস্মীভূত করবেন, তাদের দেখানোর জন্য যে তিনি শুধুমাত্র করুণাময় এবং প্রেমময় ঈশ্বর নন, শুধুমাত্র প্রজ্ঞা এবং বিস্ময়ের ঈশ্বর নন, শুধুমাত্র পবিত্র ঈশ্বর নন, তিনি সেই ঈশ্বরও, যিনি মানুষকে বিচার করেন। মানবজাতির মধ্যে মন্দ লোকের জন্য তিনি দহনশীল, বিচার ও শাস্তিস্বরূপ; যাদের নিখুঁত করা হবে, তাদের জন্য তিনি ক্লেশ, পরিমার্জনা ও পরীক্ষা, আবার সেইসাথে স্বাচ্ছন্দ্য, ভরণপোষণ, বাক্যের সংস্থান, মোকাবিলা এবং অপ্রয়োজনীয় অংশের কর্তন। এবং যারা বহিষ্কৃত হয়েছে, তাদের কাছে তিনি শাস্তি এবং প্রতিশোধ।

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, দু’টি অবতার অবতাররূপের তাৎপর্য সম্পূর্ণ করে

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের কাজ সম্বন্ধে জানা | উদ্ধৃতি 217

সমস্ত মানুষদের এই পৃথিবীতে আমার কাজের লক্ষ্যগুলি বুঝতে হবে, অর্থাৎ, আমি পরিশেষে কী অর্জন করতে চাই এবং আমার কাজ সম্পূর্ণ করার আগে আমাকে...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: জীবনে প্রবেশ | উদ্ধৃতি 537

তুমি যখন তোমার ভ্রষ্ট স্বভাব ত্যাগ করবে এবং স্বাভাবিক মানবতার জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, কেবলমাত্র তখনই তুমি নিখুঁত হয়ে উঠবে। যদিও তুমি...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: কর্মের তিনটি পর্যায় | উদ্ধৃতি 1

আমার সমগ্র পরিচালনামূলক পরিকল্পনা, ছয় হাজার বছর ব্যাপী পরিচালনামূলক পরিকল্পনায় রয়েছে তিনটি পর্যায় বা তিনটি যুগ: সূচনাকালের বিধানের যুগ;...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের স্বভাব এবং তিনি কে ও তাঁর কী আছে | উদ্ধৃতি 246

আমার বলা প্রতিটা বাক্যের মধ্যে আছে ঈশ্বরের স্বভাবের কথা। আমার বাক্য তোমরা মনোযোগ দিয়ে বিবেচনা করলে ভালো করবে, এবং নিশ্চিতভাবেই তা থেকে...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন