ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের কাজ সম্বন্ধে জানা | উদ্ধৃতি 144

বর্তমানে তোমাদের সকলের কাছে স্পষ্ট থাকা উচিত যে, অন্তিম সময়ে প্রধানত “বাক্য দেহে পরিণত হল”-এর বিষয়টি ঈশ্বরের দ্বারা সাধিত হয়। পৃথিবীতে আসল কাজের মাধ্যমে তিনি মানুষকে তাঁর জানান দেন ও তাঁর সাথে তাদের যুক্ত করেন এবং তাঁর প্রকৃত কাজ প্রত্যক্ষ করতে দেন। তিনি মানুষের কাছে স্পষ্ট করেন যে, তিনি যেমন সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা প্রদর্শনে সক্ষম, তেমনই অনেক সময়েই তা করতে পারেন না; এটা যুগের ওপরেই নির্ভর করে। এর থেকে তুমি দেখতে পারো ঈশ্বর যে সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা প্রদর্শনে অক্ষম, এমনটা নয়, বরং কাজের ধরন এবং যুগের দাবি অনুযায়ী তিনি তাঁর কাজের পদ্ধতি পরিবর্তন করেন। কাজের বর্তমান পর্যায়ে, তিনি সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা দেখান না; যীশুর যুগে তিনি কিছু সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা দেখিয়েছিলেন, কারণ সেই যুগে তাঁর কাজ ছিল ভিন্ন। ঈশ্বর বর্তমানে সেই কাজটি করেন না, আর কিছু মানুষ ভাবে যে তিনি সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা প্রদর্শনে অক্ষম, অথবা তারা মনে করে যদি তিনি সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা প্রদর্শন না করেন, তবে তিনি ঈশ্বর নন। এটা কি ভ্রান্তি নয়? ঈশ্বর সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা প্রদর্শনে সক্ষম, কিন্তু ভিন্ন যুগে কাজ করার কারণে তিনি এই ধরনের কাজ করেন না। যেহেতু এটি একটি ভিন্ন যুগ, এবং যেহেতু এটি ঈশ্বরের কাজের এক ভিন্ন পর্যায়, তাই ঈশ্বরের দ্বারা স্পষ্ট ভাবে সাধিত কাজগুলিও ভিন্ন। মানুষের ঈশ্বর-বিশ্বাস কিন্তু সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনার ওপর বিশ্বাস নয়, অলৌকিক ঘটনার ওপর বিশ্বাসও নয়, বরং এই বিশ্বাস হল নতুন যুগে তাঁর করা প্রকৃত কাজের ওপর বিশ্বাস। ঈশ্বর যেভাবে কাজ করেন তার মাধ্যমেই মানুষ তাঁকে জানতে পারে, আর মানুষের এই জ্ঞানই ঈশ্বর বিশ্বাসের জন্ম দেয়, অর্থাৎ বলা হচ্ছে যে, এই বিশ্বাস হল ঈশ্বরের কাজ ও কর্মের ওপর করা বিশ্বাস। কাজের এই পর্যায়ে, ঈশ্বর প্রধানত কথা বলেন। সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা দেখার জন্য অপেক্ষা কোরো না; কারণ সেসব কিছুই দেখতে পাবে না! এর কারণ তুমি অনুগ্রহের যুগে জন্মগ্রহণ করোনি। তেমনটা হলে, তুমি সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা দেখতে পেতে, কিন্তু অন্তিম সময়ে জন্মগ্রহণ করেছ বলে, তুমি কেবলমাত্র ঈশ্বরের বাস্তবিকতা এবং স্বাভাবিকত্বই প্রত্যক্ষ করতে পারো। অন্তিম সময়ে অতিপ্রাকৃতিক যীশুকে দেখার প্রত্যাশা কোরো না। তুমি কেবল বাস্তববাদী ঈশ্বরের অবতারকেই দর্শন করতে সক্ষম, যিনি অন্য যেকোনো সাধারণ মানুষের থেকে স্বতন্ত্র কিছু নন। প্রতিটি যুগে, ঈশ্বর স্পষ্টভাবে বিভিন্ন কার্য সাধন করেন। প্রতিটি যুগে, ঈশ্বর তাঁর কাজের একটা অংশের স্পষ্ট ব্যাখ্যা করেন এবং প্রতিটি যুগের কাজ ঈশ্বরের স্বভাব এবং তাঁর কাজের একটি অংশকে দেখায়। তিনি যে কাজটিকে স্পষ্ট করেন সেটি তিনি যে যুগে কাজ করেন তার সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, কিন্তু সেগুলি সবই মানুষকে প্রদান করে গভীরতর ঈশ্বর-জ্ঞান, আরও সত্য ও মাটির কাছাকাছি ঈশ্বর বিশ্বাস। ঈশ্বরের সমস্ত কাজের জন্যই মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করে, কারণ তিনি কতই না বিস্ময়কর, কতই না মহান, তিনি সর্বশক্তিমান এবং অতলস্পর্শী। যদি তুমি ঈশ্বরের দ্বারা সাধিত সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা প্রদর্শনের পারদর্শিতার জন্য, পীড়িতদের নিরাময় ও অপদেবতা বিতাড়নের ক্ষমতার জন্যই তাঁকে বিশ্বাস করো, তাহলে তোমার দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক নয়, অনেকেই তোমায় বলবে, “মন্দ আত্মাও কি এগুলি করতে পারে না?” এটা কি ঈশ্বরের প্রতিমূর্তির সাথে শয়তানের প্রতিমূর্তিকে গুলিয়ে দেয় না? বর্তমানে, ঈশ্বরের বহুবিধ কর্ম, তাঁর করা প্রভূত কর্ম এবং কথনের নানা পন্থার কারণেই মানুষ তাঁর ওপর বিশ্বাস করে। ঈশ্বর তাঁর কথন ব্যবহার করে মানুষকে জয় করে নিখুঁত করেন। ঈশ্বরের সংকেত ও বিস্ময়কর ঘটনা প্রদর্শনের ক্ষমতার কারণে নয়, বরং তাঁর অনেক কাজের কারণেই মানুষ তাঁর ওপরে বিশ্বাস করে; মানুষ কেবল তাঁর কাজ প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমেই ঈশ্বরকে জানতে পারে। শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রকৃত কাজগুলি জেনে, তিনি কীভাবে কাজ করেন, কোন বিচক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন, কীভাবে বাক্য বলেন এবং মানুষকে নিখুঁত করে তোলেন—শুধুমাত্র এই দিকগুলি জানার মাধ্যমেই—তিনি কী পছন্দ করেন, কী ঘৃণা করেন এবং কীভাবে মানুষের উপর কাজ করেন তা জেনে তুমি তাঁর বাস্তবিকতা ও স্বভাব অনুধাবন করতে পারবে। ঈশ্বরের পছন্দ এবং অপছন্দ উপলব্ধি করে তুমি ইতিবাচক এবং নেতিবাচকের মধ্যে পার্থক্য করতে পারো এবং ঈশ্বর সম্পর্কিত জ্ঞানের মাধ্যমেই তোমার জীবনে উন্নতি হয়। সংক্ষেপে, তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের কাজ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস করার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি সোজা রাখতে হবে।

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, ঈশ্বরের বর্তমানের কার্যকে জানা

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ধর্মীয় ধারণা প্রকাশ করা | উদ্ধৃতি 281

ঈশ্বরের সাথে মানুষের কখনোই তুলনা করা যায় না। তাঁর সারসত্য এবং তাঁর কাজ মানুষের কাছে ধারণাতীত এবং অজ্ঞেয়। ঈশ্বর যদি নিজে মানুষের জগতে তাঁর...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: জীবনে প্রবেশ | উদ্ধৃতি 555

ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হওয়া শুধু ঈশ্বরের বাক্য ভোজন ও পান করায় সীমিত থাকতে পারে না। তাহলে সেই অভিজ্ঞতা হবে খুবই একপাক্ষিক, তাতে খুব সামান্যই...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কাজ | উদ্ধৃতি 74

ঈশ্বরের সাথে মানুষের কখনোই তুলনা করা যায় না। তাঁর সারসত্য এবং তাঁর কাজ মানুষের কাছে ধারণাতীত এবং অজ্ঞেয়। ঈশ্বর যদি নিজে মানুষের জগতে তাঁর...

ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: ঈশ্বরের স্বভাব এবং তিনি কে ও তাঁর কী আছে | উদ্ধৃতি 244

আমি চাই তোমরা অনেক কিছুই অর্জন করো, কিন্তু তোমাদের সমস্ত কর্ম, তোমাদের জীবনের সবকিছু মিলেও আমার সে আশা পূর্ণ করতে অক্ষম। তাই আমার ইচ্ছের...

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন