ঈশ্বরের প্রতিদিনের বাক্য: জীবনে প্রবেশ | উদ্ধৃতি 454

ঈশ্বরের অর্পিত সমগ্র মানবজাতির মুক্তির কার্যের দায়িত্ব সম্পাদন করতে যীশু সমর্থ ছিলেন, কারণ তিনি নিজের জন্য কোনো পরিকল্পনা বা ব্যবস্থা না করে ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্পূর্ণরূপে যত্নবান ছিলেন। সুতরাং তিনিও ছিলেন ঈশ্বরের—স্বয়ং ঈশ্বরের—অন্তরঙ্গ, যা তোমরা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছ। (আসলে, তিনিই ছিলেন স্বয়ং ঈশ্বর, যাঁর সাক্ষ্য ঈশ্বর নিজে বহন করেছিলেন। যীশুর ঘটনাকে ব্যবহার করে বিষয়টা উপস্থাপিত করার জন্য আমি এই কথার উল্লেখ করেছি।) তিনি সর্বদা ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনাকে কেন্দ্রে রাখতে সক্ষম ছিলেন, এবং সবসময় স্বর্গীয় পিতার কাছে প্রার্থনা করতেন ও তাঁর ইচ্ছা কামনা করতেন। তিনি প্রার্থনা করে বলতেন: “পিতা ঈশ্বর! সেটাই সম্পাদন করো যা তোমার ইচ্ছা; তোমার পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্য করো, আমার আকাঙ্খা অনুসারে নয়। মানুষ দুর্বল হতে পারে, কিন্তু তুমি কেন তার প্রতি মনোযোগী হবে? যে মানুষ তোমার হাতে পিপীলিকার মত, সে কীভাবে তোমার বিবেচনার যোগ্য হতে পারে? আমার হৃদয়ে, আমি কেবল তোমার ইচ্ছা পূরণ করতে চাই, আর চাই যে তুমি তোমার নিজের ইচ্ছায় যা উচিত মনে করবে আমার মধ্যে তাই যেন করতে পারো”। জেরুশালেম যাওয়ার পথে যীশু নিদারুণ যন্ত্রণায় ছিলেন, যেন তাঁর হৃদয় ছুরিকাঘাতে বিদীর্ণ হচ্ছিল, তবুও নিজের বাক্য থেকে পশ্চাদপসরণ করার ন্যুনতম অভিপ্রায়ও তাঁর ছিল না; এক বলশালী শক্তি সর্বক্ষণ তাঁকে সেইদিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য করছিল যেখানে তিনি ক্রুশবিদ্ধ হবেন। পরিশেষে, তাঁকে পেরেক দিয়ে ক্রুশে বিদ্ধ করা হলো, এবং মানবজাতির মুক্তির কাজ সম্পূর্ণ করে তিনি পাপী দেহের অনুরূপ হলেন। তিনি মৃত্যু ও মৃতস্থানের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্ত হয়েছিলেন। নশ্বরতা, নরক ও মৃতস্থান তাঁর সম্মুখে তাদের ক্ষমতা হারিয়েছিল, এবং তাঁর কাছে পরাজিত হয়েছিল। তিনি তেত্রিশ বছর বেঁচে ছিলেন, যার সমস্তটাতেই তিনি সর্বক্ষণ ঈশ্বরের সমসাময়িক কর্ম অনুযায়ী ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, নিজের ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির কথা কখনো ভাবেন নি, এবং সবসময় পিতা ঈশ্বরের ইচ্ছার কথা চিন্তা করেছেন। তাই, তাঁর বাপ্তিষ্ম নেওয়ার পর ঈশ্বর বললেন: “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, আমার পরম প্রীতির পাত্র”। ঈশ্বরের সম্মুখে ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সেবা করার কারণে ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতিকে মুক্তি দেওয়ার বিশাল কর্মভার তাঁর কাঁধে অর্পণ করেন এবং তাঁকে দিয়ে সেই কাজ সম্পূর্ণ করান। আর তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কর্ম সম্পাদনের যোগ্য ও উপযুক্ত ছিলেন। তাঁর সমগ্র জীবৎকালে তিনি ঈশ্বরের জন্য অপরিসীম কষ্ট সহ্য করেছেন, এবং অসংখ্যবার শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত হয়েছেন, কিন্তু কখনও নিরুৎসাহ হননি। ঈশ্বর তাঁকে এরকম এক বিশাল কাজ অর্পণ করেছিলেন কারণ তিনি তাঁকে বিশ্বাস করতেন ও ভালবাসতেন, তাই ঈশ্বর স্বয়ং বলেছিলেন: “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, আমার পরম প্রীতির পাত্র”। সেই সময়, একমাত্র যীশুই পারতেন এই দায়িত্ব পালন করতে। এবং ঈশ্বর যে অনুগ্রহের যুগে মানবজাতির মুক্তির কাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন, এটা ছিল তার একটা ব্যবহারিক দিক।

যীশুর মতো তোমরাও যদি ঈশ্বরের অর্পিত কর্মভারের প্রতি পরিপূর্ণরূপে যত্নশীল হতে সক্ষম হও, যদি নিজের দৈহিক ইচ্ছা উপেক্ষা করতে পারো, তবে ঈশ্বর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিশ্বাস করে তোমাদের অর্পণ করবেন, যাতে তোমরা ঈশ্বরের সেবা করার শর্তগুলি পূরণ করতে পারো। একমাত্র এই পরিস্থিতিতেই তোমরা সাহস করে বলতে পারবে যে তোমরা ঈশ্বরের কাজ করছো এবং তাঁর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছো, আর একমাত্র তাহলেই তোমরা একথা বলার সাহস করবে যে তোমরা প্রকৃত অর্থে ঈশ্বরের সেবা করছো। যীশুর উদাহরণের সাথে তুলনা করে একথা বলার সাহস কি তোমার আছে যে তুমি ঈশ্বরের অন্তরঙ্গ? একথা বলার সাহস কি তুমি করতে পারো যে তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করছো? তুমি কি সাহস করে একথা বলতে পারবে যে তুমি প্রকৃত অর্থে ঈশ্বরের সেবা করছো? আজ, তুমি বোঝো না কেমন করে ঈশ্বরের সেবা করতে হয়, তোমার কি একথা বলার সাহস আছে যে তুমি ঈশ্বরের অন্তরঙ্গ? তুমি যদি বলো যে তুমি ঈশ্বরের সেবা করো, তবে তা কি তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মবিদ্রোহী কথা নয়? ভেবে দেখো: তুমি কি ঈশ্বরের সেবা করছো, না নিজের? তুমি শয়তানের সেবা করো, অথচ জেদের সাথে বলো যে তুমি ঈশ্বরের সেবা করছো—এভাবে কি তুমি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহী কথা বলছো না? আমার আড়ালে অনেকেই ব্যাকুলভাবে পদমর্যাদা কামনা করে, অপরিমিত আহারে নিমজ্জিত থাকে, নিদ্রামগ্ন থাকতে ভালোবাসে এবং দেহকে পূর্ণ মনোযোগ দেয়, সবসময় ভীত থাকে যে দেহের মুক্তির কোনো রাস্তা নেই। তারা গির্জায় তাদের প্রকৃত দায়িত্ব পালন করে না, বরং বিনা প্রতিদানে গির্জার সুবিধা ভোগ করে, নাহলে তারা তাদের ভাই-বোনেদের আমার বাক্য দিয়ে তিরস্কার করে, কর্তৃত্বের অবস্থান থেকে অন্যের উপর প্রভুত্ব করে। এরা বলতে থাকে যে এরা ঈশ্বরের ইচ্ছায় কাজ করছে, আর সবসময়েই বলে যে তারা ঈশ্বরের অন্তরঙ্গ—এমনটা কি হাস্যকর নয়? যদি তোমার উদ্দেশ্য সঠিক হয়, কিন্তু তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সেবা করতে অক্ষম হও, তবে সে তোমার মূর্খতা; কিন্তু তোমার উদ্দেশ্যই যদি সঠিক না হয়, অথচ তুমি বলো যে তুমি ঈশ্বরের সেবা করো, তাহলে তুমি আসলে এমন একজন যে ঈশ্বরের বিরোধিতা করছে, আর ঈশ্বরের দ্বারা তোমার শাস্তি পাওয়া উচিত। এরকম মানুষের প্রতি আমার কোনো সমবেদনা নেই। ঈশ্বরের আবাসস্থলে তারা কোনো প্রতিদান ছাড়াই সুযোগসুবিধা ভোগ করে, সবসময় দেহের স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি লালায়িত থাকে, আর ঈশ্বরের স্বার্থ বিষয়ে বিবেচনা করে না। নিজেদের জন্য যা ভালো তারা সর্বক্ষণ তারই সন্ধানে থাকে, ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি মনোযোগ দেয় না। তাদের কোনো কৃতকার্যের উপর ঈশ্বরের আত্মার খুঁটিয়ে দেখা তারা মানতে চায় না। তারা তাদের ভাই-বোনেদের সাথে সর্বক্ষণ কৌশল ও প্রতারণা করছে, তারা আঙুর ক্ষেতের শিয়ালের মতো দুমুখো, সবসময় আঙুর চুরি করছে এবং আঙুরক্ষেতকে পদদলিত করছে। এরকম মানুষ কি কখনও ঈশ্বরের অন্তরঙ্গ হতে পারে? তুমি কি ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়ার যোগ্য? তোমার জীবন অথবা গির্জার জন্য তুমি কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করো না, তুমি কি ঈশ্বরের অর্পিত কর্মভার নেওয়ার যোগ্য? কে সাহস করবে তোমার মতো মানুষকে বিশ্বাস করতে? তুমি যদি এভাবে সেবা করো, তাহলে ঈশ্বর কি তোমায় বৃহত্তর কার্য অর্পণ করবেন? তাতে কি কার্য বিলম্বিত হবে না?

আমি এ কথা বলছি যাতে তোমরা জানতে পারো ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সেবা করতে গেলে কোন কোন শর্ত পুরণ আবশ্যিক। যদি তোমরা তোমাদের হৃদয় ঈশ্বরকে দিতে না পারো, যদি ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি যীশুর মতো পূর্ণ যত্ন না নাও, তাহলে ঈশ্বর তোমাদের বিশ্বাস করতে পারবেন না, এবং পরিশেষে তোমাদের বিচার করবেন। আজ সম্ভবত ঈশ্বরের প্রতি সেবায় তুমি সবসময়েই ঈশ্বরকে প্রতারণার মনোবৃত্তি পোষণ করো এবং তাঁর সাথে তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করো। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তুমি যদি ঈশ্বরকে প্রতারণা করো, অন্য সব কিছু নির্বিশেষে তোমার উপর নির্মম বিচার নেমে আসবে। তোমাদের উচিত ঈশ্বর সেবার সঠিক পথে সদ্য-প্রবেশের সুবিধা গ্রহণ করা, যাতে তোমাদের আনুগত্যকে বিভাজিত হতে না দিয়ে সর্বপ্রথমে তোমাদের হৃদয় ঈশ্বরকে অর্পণ করতে পারো। তুমি ঈশ্বরের সম্মুখীন বা অন্য মানুষের, তা নির্বিশেষে, তোমার হৃদয় যেন সর্বদা ঈশ্বরে নিয়োজিত থাকে, তুমি যেন যীশুর মতো করে ঈশ্বরকে ভালবাসতে স্থিরসংকল্প হও। এইভাবে, ঈশ্বর তোমাকে নিখুঁত করে তুলবেন, যাতে তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একজন সেবক হয়ে ওঠো। তুমি যদি সত্যিই ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হয়ে উঠতে চাও, তোমার সেবাকে তাঁর ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে তুলতে চাও, তবে তোমাকে ঈশ্বর-বিশ্বাস সম্পর্কে পূর্বের সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে, বদলে ফেলতে হবে সমস্ত পুরোনো পথ যা তুমি ব্যবহার করতে ঈশ্বরের সেবা করার জন্য, যাতে তুমি আরও বেশি করে ঈশ্বরের দ্বারা নিখুঁত হয়ে উঠতে পারো। এর ফলে, ঈশ্বর তোমাকে পরিত্যাগ করবেন না, এবং পিতরের মতো তুমি হয়ে উঠবে ঈশ্বর-প্রেমী মানুষের অগ্রদূত। যদি তুমি অনুতপ্ত না হও, তবে তোমার অন্তিম পরিণতিও যিহুদার মতোই হবে। যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তাদের সকলেরই এই জ্ঞান থাকা উচিত।

—বাক্য, খণ্ড ১, ঈশ্বরের আবির্ভাব ও তাঁর কার্য, কী করে ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সেবা করা যায়

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন