ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার মধ্যেই মানুষ একমাত্র রক্ষা পেতে পারে

সকলের দৃষ্টিতে, ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা একটি খুবই অপরিচিত বিষয় কারণ মানুষ মনে করে যে তাঁর ব্যবস্থাপনা তাদের উপর থেকে সম্পূর্ণরূপে অপসারিত হয়েছে। মানুষ মনে করে যে ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা একমাত্র তাঁরই কাজ এবং এটি কেবল তাঁরই চিন্তার বিষয়—এবং সে কারণেই মানবজাতি তাঁর ব্যবস্থাপনার প্রতি উদাসীন। এইভাবে, মানবজাতির পরিত্রাণ ক্রমে অনিশ্চিত এবং অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এবং এখন এটি অসার বাগ্মিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও মানুষ পরিত্রাণ পেতে এবং বিস্ময়কর গন্তব্যে প্রবেশ করার জন্য ঈশ্বরকে অনুসরণ করে, কিন্তু ঈশ্বর কীভাবে তাঁর কাজ পরিচালনা করেন সে সম্পর্কে তার কোনো চিন্তা নেই। ঈশ্বর কী পরিকল্পনা করেছেন তার জন্য মানুষ চিন্তা করে না, বা নিজেদের মুক্তি পাওয়ার জন্য তার যে ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন, সেই ব্যাপারেও সে চিন্তিত নয়। এটি খুবই দুঃখজনক। মানুষের পরিত্রাণ ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা থেকে পৃথক বা তাঁর পরিকল্পনা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। তবুও ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মানুষ কিছুই ভাবে না, এবং এইভাবেই ঈশ্বরের থেকে আরও দূরে সরে যায়। এইভাবেই আরও বেশি মানুষ সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে উঠেছে তাদের পরিত্রাণ-সংক্রান্ত প্রশ্নগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বিষয়ে যাতে তারা ঈশ্বর—অনুগামীদের মধ্যে স্থান পেতে পারে—যেমন সৃষ্টি কী, ঈশ্বর-বিশ্বাস কী, কীভাবে ঈশ্বরের উপাসনা করতে হয়, ইত্যাদি। তাই, এখন ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে যাতে তাঁর প্রত্যেক অনুগামী স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে যে তাঁকে অনুসরণ করা এবং বিশ্বাস করার অর্থ কী। এই আলোচনা প্রতিটি মানুষকে কেবল আশীর্বাদ পেতে বা দুর্যোগ এড়াতে বা অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হওয়ার জন্য ঈশ্বরকে অনুসরণ করার পরিবর্তে তাদের চলার পথ আরও সঠিকভাবে বেছে নিতে সাহায্য করবে।

ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা গভীর হলেও তা মানুষের বোধগম্যতার বাইরে নয়। এর কারণ হল ঈশ্বরের সমস্ত কাজ তাঁর ব্যবস্থাপনা এবং মানবজাতিকে পরিত্রাণের জন্য তাঁর কাজের সাথে যুক্ত, এবং মানুষের জীবন, জীবনযাপন ও তাদের গন্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষের মধ্যে এবং মানুষের উপর ঈশ্বর যে কাজ করেন, বলা যেতে পারে, তা খুবই বাস্তব ও অর্থবহ। মানুষ এগুলি দেখতে এবং উপলব্ধি করতে পারে, এবং এগুলি কোনভাবেই বিমূর্ত নয়। ঈশ্বরের করা সমস্ত কাজ মানুষ যদি গ্রহণ করতে অক্ষম হয় তবে তাঁর কাজের তাৎপর্য কী? এবং সেই ব্যবস্থাপনায় মানুষের পরিত্রাণ কীভাবে হবে? ঈশ্বরকে যারা অনুসরণ করে তাদের অনেকেই শুধুমাত্র কীভাবে আশীর্বাদ লাভ করা যায় বা বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তা নিয়েই চিন্তিত। যখনই ঈশ্বরের কাজ এবং ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়, তখনই তারা চুপ করে যায় বা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। তারা মনে করে যে এই ধরনের ক্লান্তিকর বিষয়গুলি হৃদয়ঙ্গম করা তাদের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বা কোন সুবিধা দিতে সাহায্য করবে না। ফলস্বরূপ, যদিও তারা ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার কথা শুনেছে, তবুও তারা এতে সামান্যই মনোযোগ দেয়। এটিকে তারা মূল্যবান কিছু হিসাবে দেখে না, এবং তাদের জীবনের অংশ হিসাবে এটিকে গ্রহণ করে না। এই ধরনের মানুষের ঈশ্বরকে অনুসরণ করার একটাই সহজ লক্ষ্য থাকে, আর সেই লক্ষ্য হল আশীর্বাদ লাভ করা। যা সরাসরি তাদের এই লক্ষ্যপূরণ করে না সেই রকম অন্য কিছুতে মনোযোগ দেওয়ার প্রতি এই ধরনের মানুষ ভ্রুক্ষেপও করে না। তাদের কাছে, আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য ঈশ্বরে বিশ্বাস করার চেয়ে বৈধ আর কোনো লক্ষ্য নেই—এটিই তাদের বিশ্বাসের একমাত্র মূল্য। এই লক্ষ্যপূরণের পথে যা কিছু অপ্রয়োজনীয়, সেগুলি সম্পর্কে তারা একেবারে উদাসীন থাকে। আজকের দিনে যারা ঈশ্বর-বিশ্বাসী তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এই কথা প্রযোজ্য। তাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বৈধ বলে মনে হয়, কারণ তারা যেমন ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তেমনি তারা ঈশ্বরের জন্য নিজেকে ব্যয়ও করে, ঈশ্বরের কাছে নিজেকে উৎসর্গ করে এবং তাদের কর্তব্য পালন করে। তারা তাদের যৌবন বিসর্জন দেয়, ত্যাগ করে পরিবার এবং কর্মজীবন, এমনকি বছরের পর বছর বাড়ি থেকে দূরে কাটায় নিজেদের ব্যস্ত রেখে। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য, তারা নিজের স্বার্থ, জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি এবং এমনকি তারা যে অভিমুখ সন্ধান করে তা পর্যন্ত পরিবর্তন করে; কিন্তু নিজেদের ঈশ্বরে বিশ্বাসের লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারে না। নিজস্ব আদর্শ পরিচালনার জন্য তারা নিয়তই ধাবমান হয়; পথ যতই দীর্ঘ হোক না কেন, যতই কষ্ট ও বাধা আসুক না কেন সে পথে, তারা অবিচল থাকে এবং মৃত্যুকে ভয় পায় না। কোন শক্তি তাদের এভাবে নিজেকে উৎসর্গ করতে বাধ্য করে? এই কি তাদের বিবেক? এই কি তাদের মহান ও মহৎ চরিত্র? এই কি মন্দ শক্তিকে শেষ পর্যন্ত পরাভূত করার সংকল্প? এই কি তাদের বিশ্বাস, যা কোনো পুরস্কারের প্রত্যাশা না করে শুধু ঈশ্বরের কার্যে সাক্ষ্য দেয়? এই কি তাদের আনুগত্য, যার জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছা অর্জন করার উদ্দেশ্যে তারা সর্বস্ব ত্যাগ করতে ইচ্ছুক হয়? নাকি এ তাদের সর্বদা অসংযত ব্যক্তিগত চাহিদা পরিহার করা ভক্তির মনোভাব? ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার কাজ কখনোই বুঝতে না পেরেও কোনো একজনের এতখানি ত্যাগ সত্যিই এক আশ্চর্য ঘটনা। এই মানুষরা কতখানি ত্যাগ করেছে আপাতত সে আলোচনা আমরা করব না। তবে তাদের আচরণ আমাদের বিশ্লেষণের খুবই যোগ্য। বিভিন্ন সুবিধা তাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকার প্রসঙ্গ বাদ রাখলে, এমনকি আর কোনো কারণ থাকতে পারে যে, যারা কখনই ঈশ্বরকে বুঝতে পারে নি তারাও তাঁর জন্য এত কিছু ত্যাগ করেছে? এখানে আমরা পূর্বের অচেনা একটি সমস্যা আবিষ্কার করি: ঈশ্বরের সাথে মানুষের সম্পর্ক নিছক এক নগ্ন স্বার্থের। এটি আশীর্বাদ গ্রহণকারী এবং দাতার মধ্যে একটি সম্পর্ক। স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এটি কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তার সম্পর্কের অনুরূপ। কর্মচারী শুধুমাত্র নিয়োগকর্তা প্রদত্ত পুরস্কার পাওয়ার জন্যই কাজ করে। এমন সম্পর্কের মধ্যে কোনো স্নেহ নেই, আছে শুধু লেনদেন। কোনো ভালবাসার আদানপ্রদান নেই, শুধুমাত্র দাক্ষিণ্য এবং করুণা। কোন বোঝাপড়া নেই, আছে শুধু চাপা অসন্তোষ এবং প্রতারণা। কোন অন্তরঙ্গতা নেই, আছে শুধুমাত্র অলঙ্ঘনীয় এক দূরত্ব। এখন যখন বিষয়গুলি এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, কে এই ধারাকে বিপরীতমুখী করতে পারে? আর, এই সম্পর্ক যে কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে সে কথা সত্যকার অর্থে বোঝার ক্ষমতা কতজনের আছে? আমি বিশ্বাস করি যে মানুষ যখন আশীর্বাদ পাওয়ার আনন্দে নিজেকে নিমজ্জিত করে, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারে না যে ঈশ্বরের সাথে এই ধরনের সম্পর্ক কতটা বিব্রতকর এবং কুৎসিত।

মানুষের ঈশ্বর-বিশ্বাসে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল যে ঈশ্বরের কাজের মধ্যেই মানুষ তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে, কিন্তু ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার প্রতি কোনো মনোযোগ দেয় না। মানুষের সর্বাধিক ব্যর্থতা হল এই যে, সে একই সাথে ঈশ্বরের উপাসনা করে এবং তাঁর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে আবার নিজের আদর্শ গন্তব্য গড়ে তুলে সেই উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য সর্বোত্তম আশীর্বাদ প্রার্থনা করে। এমন কি নিজের দুঃখজনক, ঘৃণ্য এবং করুণ অবস্থা বুঝেও কতজন নিজের আদর্শ ও আশা অবিলম্বে ছাড়তে পারে? এবং কতজনই বা নিজের পদক্ষেপ থামাতে বা শুধু নিজের কথা ভাবা বন্ধ করতে পারে? ঈশ্বর সেসব মানুষকেই চান যারা তাঁর ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ করতে তাঁকে নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করবে। তিনি তাদেরকেই চান যারা নিজের দেহ এবং মন সর্বতোভাবে তাঁর ব্যবস্থাপনার কাজে সমর্পণ করবে। তাঁর এমন মানুষের প্রয়োজন নেই যারা প্রতিদিন তাঁর কাছে ভিক্ষা করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়, যারা দেয় সামান্যই, এবং তারপর পুরস্কারের প্রত্যাশায় অপেক্ষা করে। ঈশ্বর তাদের ঘৃণা করেন যারা তুচ্ছ অবদান করে খ্যাতির জন্য অপেক্ষা করে। সেই সব শীতল-রক্তের মানুষদের তিনি ঘৃণা করেন যারা তাঁর ব্যবস্থাপনার কাজে বিরক্ত, এবং কেবলই স্বর্গে যাওয়ার এবং আশীর্বাদ অর্জনের বিষয়ে কথা বলতে চায়। মানবজাতিকে উদ্ধার করার জন্য তাঁর করা কাজের সুযোগ যারা নেয় তাদেরকে তিনি আরও গভীরভাবে ঘৃণা করেন। কারণ এই সব মানুষ কখনই ভেবে দেখে না যে তাঁর কাজের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈশ্বর কোন অভিপ্রায়ে কী অর্জন করতে চান। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল ঈশ্বরের কাজের ফলে যে সব সুবিধা তৈরি হয়েছে, কীভাবে সেগুলির সুযোগ নিয়ে তাঁর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। ঈশ্বরের হৃদয় নিয়ে তারা চিন্তিত নয়, নিজেদের সম্ভাবনা এবং ভাগ্য নিয়েই ব্যস্ত থাকে। যারা ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার কাজে অসন্তুষ্ট, এবং ঈশ্বর কীভাবে মানবজাতিকে উদ্ধার করেন এবং তাঁর কী ইচ্ছা, সেই বিষয়ে সামান্যতম আগ্রহও অনুভব করে না, তারা কেবলমাত্র সেই উপায়ে নিজেদেরকে খুশি রাখার কাজই করে যা ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের আচরণ ঈশ্বর মনে রাখেন না বা অনুমোদনও করেন না—এমন কি এগুলির প্রতি ঈশ্বর অনুগ্রহও দেখান না।

মহাজগতের এবং মহাকাশের বিশালতায়, অগণিত প্রাণী বাস করে এবং বংশবিস্তার করে, জীবনের চক্রাকার আইন অনুসরণ করে এবং একটি ধ্রুব নিয়ম মেনে চলে। মৃতরা সাথে নিয়ে যায় তাদের জীবনের গল্প, এবং যাদের বিনাশ হয়েছে তাদের মতো একই করুণ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে জীবিতরা। এবং তাই, মানবজাতি নিজেকে প্রশ্ন না করে পারে না: আমরা কেন বাঁচি? এবং আমরা আমাদের মারা যেতেই বা হয় কেন? এই বিশ্বকে নির্দেশ দেয় কে? মানবজাতি কে সৃষ্টি করেছে? মানবজাতি কি সত্যই প্রকৃতি-মাতার সৃষ্টি? মানবজাতি কি সত্যই তার নিজের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে? … হাজার হাজার বছর ধরে মানবজাতি ক্রমাগতই এইসব প্রশ্ন করে চলেছে। দুর্ভাগ্যবশত, এইসব প্রশ্নে মানুষ যতই আচ্ছন্ন হয়েছে ততই বেড়েছে তার বিজ্ঞান-তৃষ্ণা। তাৎক্ষণিক পরিতৃপ্তি এবং শারীরিক ভোগ-বিলাসের সাময়িক উপকরণ দিতে পারলেও বিজ্ঞান কিন্তু মানুষকে তার আত্মার গভীরে নিঃসঙ্গতা, একাকীত্ব এবং উন্মুক্ত সন্ত্রাস ও অসহায়তা থেকে মুক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। যে বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞান মানুষ চোখে দেখতে পারে এবং মস্তিষ্ক দিয়ে বুঝতে পারে, সে শুধুমাত্র নিজের হৃদয়কে অসাড় করে তোলার কাজেই তাকে ব্যবহার করে। তবুও এই ধরনের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান মানবজাতিকে রহস্যের অন্বেষণ থেকে বিরত রাখতে যথেষ্ট নয়। মানবজাতি একেবারেই জানে না যে মহাবিশ্বের এবং সমস্ত কিছুর সার্বভৌম অধিকারী কে, আরও কম জানে নিজেদের সূচন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে। এই আইনের মধ্যে নিছক বলপূর্বক বেঁচে থাকে মানবজাতি। কেউই এটি থেকে পলায়ন বা এটির পরিবর্তন করতে পারে না, কারণ সমস্ত কিছুর মাঝে এবং স্বর্গে এমন একজনই বিদ্যমান যিনি চিরন্তন থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত সমস্ত কিছুর উপর সার্বভৌমত্ব বজায় রাখেন। তিনিই একমাত্র, যিনি মানুষের চোখে কখনও দেখা দেন নি, যাকে মানুষ কখনো জানতে পারেনি এবং যার অস্তিত্বে মানুষ কখনো বিশ্বাস করে নি—তথাপি তিনিই মানবজাতির পূর্বপুরুষদের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়েছেন এবং জীবন দান করেছেন মানবজাতিকে। তিনিই মানবজাতিকে প্রয়োজনীয় সবকিছুর যোগান দেন এবং পুষ্ট করেন, তার অস্তিত্ব বজায় রাখার অনুমতি দেন; এবং তিনিই একমাত্র, যিনি আজ পর্যন্ত মানবজাতিকে পথপ্রদর্শন করেছেন। উপরন্তু তিনিই এক এবং একমাত্র, জীবনধারণের জন্য মানুষ যাঁর উপর নির্ভরশীল। তিনি সমস্ত কিছুর সার্বভৌম অধিকারী এবং মহাবিশ্বের সমস্ত জীবকে শাসন করেন। তিনিই চার ঋতুকে আদেশ দেন এবং তিনিই বাতাস, হিম, তুষারপাত ও বৃষ্টি আহ্বান করেন। মানুষের কাছে সূর্যালোক তিনিই নিয়ে আসেন এবং সূচনা করেন রাত্রির। স্বর্গ ও পৃথিবী তিনিই স্থাপন করেছেন, মানুষকে তিনিই প্রদান করেছেন পর্বত, হ্রদ, নদী এবং তাদের মধ্যকার সমস্ত প্রাণীকূল। তাঁর কর্ম সর্বব্যাপী, তাঁর শক্তি সর্বব্যাপী, তাঁর প্রজ্ঞা সর্বব্যাপী, এবং তাঁর কর্তৃত্ব সর্বব্যাপী। এই আইন ও বিধিগুলির প্রত্যেকটিই তাঁর কাজের মূর্ত প্রতীক, এবং প্রত্যেকটিই তাঁর প্রজ্ঞা ও কর্তৃত্ব প্রকাশ করে। তাঁর সার্বভৌমত্ব থেকে কে অব্যাহতি পায়? এবং কে নিজেকে তাঁর নকশার বাইরে রাখতে পারে? সকল অস্তিত্ব তাঁর দৃষ্টিগোচর, উপরন্তু সবই তাঁর সার্বভৌমত্বের অন্তর্গত। তাঁর কর্ম এবং ক্ষমতা মানবজাতির কাছে এটা স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো উপায় রাখে না যে, তিনি বিদ্যমান এবং সমস্ত কিছুর উপর তাঁর সার্বভৌমত্ব। তিনি ব্যতীত অন্য কিছুই মহাবিশ্বকে আদেশ করতে পারে না, আর কেউই এইরকম সীমাহীনভাবে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারে না। তুমি ঈশ্বরের কাজ চিনতে সক্ষম হও কিনা, বা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস কর কিনা তা নির্বিশেষে, এতে কোন সন্দেহ নেই যে তোমার ভাগ্য ঈশ্বর দ্বারা নির্ধারিত হয়, এবং নিঃসন্দেহে চিরকাল সমস্ত কিছুর উপর তাঁর সার্বভৌম অধিকার থাকবে। তাঁর অস্তিত্ব এবং কর্তৃত্বের পূর্বানুমান মানুষ তাঁকে স্বীকার এবং অনুধাবন করে কি না, তার উপর নির্ভর করে না। একমাত্র তিনিই মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জানেন এবং একমাত্র তিনিই মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন। এই সত্য তুমি স্বীকার কর বা না কর, অনতিবিলম্বেই মানুষ স্বচক্ষে এই সব কিছু প্রত্যক্ষ করবে এবং এই সত্য শীঘ্রই ঈশ্বর স্বয়ং বহন করবেন। ঈশ্বরের চোখের সামনে মানুষের জন্ম ও মৃত্যু। ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যেই মানুষ জীবন ধারণ করে এবং সেই ব্যবস্থাপনার কারণেই মানুষ শেষবারের জন্য চোখ বন্ধ করে। মানুষ বারবার ফিরে ফিরে আসে আর যায়। কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই এগুলি সবই ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব এবং পরিকল্পনার অংশ। ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা কখনোই থামে না, তা ক্রমাগতই অগ্রসর হয়ে চলে। মানবজাতিকে তিনি তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন করাবেন, বিশ্বাস করাবেন তাঁর সার্বভৌমত্ব, প্রত্যক্ষ করাবেন তাঁর কাজ এবং তিনি তাঁর রাজ্যে ফিরে আসবেন। এটি তাঁর পরিকল্পনা, এবং সেই কাজ, যা তিনি হাজার হাজার বছর ধরে পরিচালনা করছেন।

ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা শুরু হয়েছিল এই বিশ্ব সৃষ্টির মাধ্যমে, এবং এই কাজের মূলে আছে মানুষ। একথা বলাই যায় যে, ঈশ্বরের সকল সৃষ্টি মানুষেরই জন্য। যেহেতু তাঁর কাজের সময়কাল হাজার হাজার বছর ধরে বিস্তৃত, এবং তা মাত্র কয়েক মিনিট বা মুহূর্ত, এক পলক অথবা দুই-এক বছরের মধ্যে হয়ে যায় না, তাই তাঁকে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অনেক প্রয়োজনীয় বস্তু—যেমন সূর্য, চন্দ্র, সব ধরনের জীবন্ত প্রাণী, খাদ্য এবং এক অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি করতে হয়েছিল। এই ছিল ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার আরম্ভ।

এরপর ঈশ্বর মানবজাতিকে শয়তানের হস্তগত করেন, এবং মানুষ শয়তানের শাসনে বাস করতে থাকে, যা ক্রমে ঈশ্বরের প্রথম যুগের কাজকে পরিচালিত করে: আইনের যুগের কাহিনী…। আইনের যুগের কয়েক হাজার বছর ধরে মানবজাতি সেই যুগের নির্দেশিকায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তাকে নিশ্চিত হিসাবে ধরে নেয়। ক্রমে মানুষ ঈশ্বরের প্রতি মনোযোগ দেওয়া ছেড়ে দেয়। আর তাই, আইন পালন করার সময় তারা বিগ্রহের উপাসনাও করতে থাকে, সেইসঙ্গে পাপ কাজেও লিপ্ত হয়। তারা যিহোবার সুরক্ষা হারায়, এবং মন্দিরের পূজাবেদীর সামনে নিছক জীবনপাত করতে থাকে। বস্তুত, ঈশ্বরের কাজ অনেক আগেই তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিল, এবং যদিও ইস্রায়েলিরা তখনও আইন মেনে চলত, যিহোবার নামে শপথ নিত, এবং গর্বভরে বিশ্বাসও করত যে একমাত্র তারাই হল যিহোবার মানুষ এবং তাঁরই মনোনীত ব্যক্তিবর্গ, তা সত্ত্বেও ঈশ্বরের মহিমা নিঃশব্দে তাদের পরিত্যাগ করে …

ঈশ্বর যখন তাঁর কাজ করেন, তিনি সবসময় নিঃশব্দে একটি স্থান পরিত্যাগ করেন এবং অন্য একটি স্থানে তাঁর নতুন কাজ শুরু করেন মৃদুভাবে। যে মানুষেরা অসাড় হয়ে পড়েছে, তাদের কাছে এটি অসম্ভব মনে হয়। মানুষেরা সব সময়েই পুরনোকে মূল্যবান মনে করেছে এবং নতুন, অপরিচিত বিষয়কে বিরোধিতার চোখে দেখেছে অথবা সেগুলিকে উপদ্রব হিসাবে গণ্য করেছে। আর তাই, ঈশ্বর যে নতুন কাজই করুন না কেন, শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত, সবকিছুর মধ্যে মানুষই তা সব থেকে শেষে জানতে পারে।

সবসময়ই যা হয়ে এসেছে, ঠিক সেইভাবেই আইনের যুগে যিহোবার কাজের পর, ঈশ্বর দ্বিতীয় পর্যায়ে তাঁর নতুন কাজ শুরু করেন: দেহ ধারণ করে—অবতাররূপী মানুষ হিসাবে দশ, কুড়ি বছর ধরে বিশ্বাসীদের মধ্যে নিজের বাণী উচ্চারণ এবং কাজ করতে থাকেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই, কেউই তা জানতো না, এবং মাত্র কয়েকজন স্বীকার করত যে তিনি ছিলেন ঈশ্বর, প্রভু যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ এবং পুনরুত্থিত করার পর, তিনি দেহরূপে আবির্ভূত হন। সমস্যার সৃষ্টি হয় যখন পৌল নামে একজন উপস্থিত হয়, যে ঈশ্বরের সঙ্গে নশ্বর শত্রুতায় যুক্ত হয়। তাকে আঘাত করা এবং তার প্রচারক হয়ে যাওয়ার পরেও পৌল তার পুরনো স্বভাব পরিবর্তন করেনি, এবং সে ঈশ্বরের বিরোধিতার পথেই চলতে থাকে। যে সময়ে সে কাজ করেছে, সেই সময় পৌল অনেক পত্র লিখেছে; দুর্ভাগ্যবশত, পরবর্তী প্রজন্মের মানুষেরা তার পত্রগুলি ঈশ্বরের বাক্য হিসাবে গ্রহণ করেছে, এমন কি সেগুলি নতুন নিয়মের অন্তর্গতও করা হয়েছে এবং ঈশ্বরের বাক্য হিসাবে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। শাস্ত্র আবিষ্কারের পর থেকে আজ পর্যন্ত এই কাজ চরম অসম্মানজনক! আর এই ভুল কি মানুষের চূড়ান্ত নির্বুদ্ধিতার কারণেই হয় নি? এ ব্যাপারে তাদের জ্ঞান প্রায় ছিলই না যে, অনুগ্রহের যুগে ঈশ্বরের কাজের নথিতে, মানুষের চিঠিপত্র বা আধ্যাত্মিক লেখাগুলি ঈশ্বরের কাজ এবং বাক্যের ছদ্মবেশে থাকা উচিত নয়। তবে, এ আলোচনা মূল বিষয় থেকে সরে যাচ্ছে, তাই আমাদের মূল বিষয়ে ফিরে যাওয়া যাক। ঈশ্বরের কাজের দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হওয়ার সাথে সাথেই—ক্রুশবিদ্ধকরণের পরে—ঈশ্বরের, মানুষকে পাপমুক্ত করার (অর্থাৎ, শয়তানের হাত থেকে মুক্ত করা) কাজ সম্পন্ন হয়। এবং তাই, সেই মুহূর্ত থেকেই ত্রাতা হিসাবে মানবজাতিকে একমাত্র প্রভু যীশুকে গ্রহণ করতে হত, এবং সেইভাবেই তার পাপ ক্ষমা করা হত। সাধারণভাবে বলা যায়, মানুষের পরিত্রাণ লাভ এবং ঈশ্বরের সম্মুখে আসার পথে, তার পাপ আর বাধা ছিল না, এবং এবং পাপ নিয়ে শয়তানের অভিযোগেরও আর উপায় ছিল না। এর কারণ হল, ঈশ্বর স্বয়ং আসল কাজ করেছেন এবং পাপী মানুষের উপমা এবং পূর্বাভাস হয়ে নিজেই পাপ উৎসর্গ করেছেন। এইভাবে মানুষ ক্রুশের থেকে অবতীর্ণ হল এবং এবং তাদের মুক্তি ও উদ্ধার ঘটল, ঈশ্বরের দেহরূপ - যা পাপী দেহেরই অনুরূপ - তার মাধ্যমে। আর তাই, শয়তানের হাতে বন্দী হওয়ার পরে মানুষ তাঁর পরিত্রাণকে গ্রহণ করে ঈশ্বরের সম্মুখে যাওয়ার পথে এক পা অগ্রসর হয়েছে। এই পর্যায়ের কাজ অবশ্যই আইনের যুগে ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার থেকে আরো গভীর এবং উন্নত।

এমনই হল ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা: মানবজাতিকে শয়তানের হাতে তুলে দেওয়া এবং শয়তানকে তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত করার অনুমতি দেওয়া—সেই মানবজাতি যারা জানে না ঈশ্বর কী, স্রষ্টা কী, কীভাবে ঈশ্বরের উপাসনা করতে হয়, অথবা ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ কেন জরুরি। এরপর ধাপে ধাপে ঈশ্বর মানুষকে শয়তানের হাত থেকে মুক্ত করেন, যতক্ষণ না তারা সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের উপাসনা করে এবং শয়তানকে প্রত্যাখ্যান করে। এই হল ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা। এটি একটি অলীক কাহিনীর মতো শোনাতে পারে এবং বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। মানুষের মনে হয় যে এটি একটি অলীক কাহিনী, কারণ বিগত কয়েক হাজার বছর ধরে মানুষের সঙ্গে কতকিছু ঘটেছে সেই বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্রও ধারণা নেই, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ও মহাকাশ জুড়ে কত কাহিনী ঘটে গেছে সেই বিষয়েও তাদের ধারণা অতি সামান্য। এছাড়া এটাও কারণ যে, তারা তাদের পার্থিব জগতের ঊর্ধ্বে যে আরো আশ্চর্যজনক এবং ভীতি-উদ্রেককারী জগত আছে, যা তাদের পার্থিব চোখ তাদের দেখতে দেয় না, তার মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না। মানুষের কাছে এটি দুর্বোধ্য লাগে কারণ মানবজাতির পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের কাজের তাৎপর্য অথবা ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার তাৎপর্য মানুষ বুঝতে পারে না, এবং ঈশ্বর শেষ পর্যন্ত মানুষকে কেমনভাবে চান, তাও তাদের বোধগম্য হয় না। এই রূপ কি আদম ও ইভের মতো সম্পূর্ণরূপে শয়তানের ভ্রষ্টাচারমুক্ত? না! ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হল এমন এক গোষ্ঠীর মানুষকে অর্জন করা যারা ঈশ্বরের উপাসনা করে এবং তাঁর কাছে সমর্পণ করে। যদিও এই সব মানুষ শয়তানের দ্বারা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু তারা আর শয়তানকে পিতা হিসাবে গণ্য করে না; তারা শয়তানের ঘৃণ্য চেহারা চিনতে পারে এবং তাকে প্রত্যাখ্যান করে, এবং তারা ঈশ্বরের বিচার এবং তাঁর শাস্তিকে গ্রহণ করতে তাঁর সম্মুখে আসে। তারা জানতে পারে কোনটা কুৎসিত, এবং তা পবিত্র কিছুর থেকে কতটা বিপরীত, এবং চিনতে পারে ঈশ্বরের মহত্ব আর শয়তানের অশুভ দিককে। এইরকম এক মানবজাতি আর শয়তানের হয়ে কাজ করবে না, অথবা তার উপাসনা করবে না কিংবা তাকে দেবালয়ে আশ্রয় দেবে না। কারণ তারা হল সেই গোষ্ঠীর মানুষ যারা সদর্থেই ঈশ্বরের দ্বারা অর্জিত। ঈশ্বরের মানুষকে পরিচালনা করার এটিই হল তাৎপর্য। শয়তানের দুর্নীতি এবং ঈশ্বরের পরিত্রাণ, দুইয়েরই উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবজাতি, এবং যে বস্তুটির অধিকারের কারণে ঈশ্বর ও শয়তান যুদ্ধ করে চলেছে, সেটিও হচ্ছে মানুষ। ঈশ্বর যখন তাঁর কাজ করেন, তখন ক্রমে তিনি মানুষকে শয়তানের হাত থেকে মুক্ত করতে থাকেন, এবং তাই মানুষ ঈশ্বরের আরও কাছে চলে আসে …

এরপর আসে রাজ্যের যুগ, যা কাজের আরও বেশি ব্যবহারিক পর্যায়, কিন্তু তা সত্ত্বেও তা মানুষের পক্ষে গ্রহণ করা সর্বাধিক কঠিন। এর কারণ হল, মানুষ ঈশ্বরের যত কাছাকাছি আসে, তাঁর দণ্ড মানুষের তত কাছাকাছি অগ্রসর হয়, এবং ঈশ্বরের মুখ মানুষের কাছে আরও স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। মুক্তির পর মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঈশ্বরের পরিবারে ফিরে যায়। মানুষ ভেবেছিল যে এটিই হল উপভোগের সময়, কিন্তু ঈশ্বর তাকে সম্মুখভাগ থেকে লাঞ্ছিত করতে থাকেন, এমন লাঞ্ছনার পূর্বাভাস কেউ কখনও করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে যা হল, তা হচ্ছে এক ধরনের বাপ্তিস্ম, যা ঈশ্বরের মানুষদের “উপভোগ” করতেই হয়। এই ব্যবস্থার ফলে মানুষের নিজের মধ্যে এই ভাবনা আসা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকেনা যে, “আমি হলাম বহুদিন ধরে হারিয়ে যাওয়া সেই মেষশাবক যাকে ঈশ্বর অনেক ব্যয় করে আবার কিনে এনেছেন, তাহলে তিনি কেন আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করছেন? এ কি আমাকে নিয়ে পরিহাস করার এবং আমার সত্য প্রকাশ করার জন্য ঈশ্বরের পন্থা? …” বহু বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরে, পরিমার্জন এবং শাস্তির কষ্টের অভিজ্ঞতা লাভ করে মানুষ পোক্ত হয়ে উঠেছে। যদিও মানুষ তার বিগত সময়ের “মহিমা” এবং “প্রেম” হারিয়ে ফেলেছে, কিন্তু নিজের অজান্তেই সে মানুষের আচরণের নীতি বুঝতে পেরেছে, এবং মানবজাতিকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের দীর্ঘ সময়ের নিষ্ঠার মর্ম উপলব্ধি করতে পেরেছে। ধীরে ধীরে মানুষ তার নিজের বর্বরতাকে ঘৃণা করতে শুরু করে। সে তার বন্যতাকে, ঈশ্বর সম্পর্কে তার সব ভ্রান্ত ধারণা এবং তাঁর কাছে সে যেসব অযৌক্তিক দাবি করেছে, সবকিছুকেই ঘৃণা করতে শুরু করে। ঘড়ির কাঁটাকে কখনও পিছনে ঘোরানো যায় না। অতীতের ঘটনা মানুষের কাছে অনুতাপে ভরা স্মৃতি হয়ে যায়, এবং ঈশ্বরের বাক্য এবং তাঁর ভালোবাসা মানুষের নতুন জীবনধারার চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। মানুষের ক্ষত দিনে দিনে সেরে ওঠে, তার শক্তি ফিরে আসে, এবং সে উঠে দাঁড়িয়ে সর্বশক্তিমানের মুখের দিকে তাকায় … আর আবিষ্কার করে যে, তিনি সব সময়েই আমার পাশে থেকেছেন এবং তাঁর হাসি, তাঁর সুন্দর মুখ এখনও কতটা আলোড়ন সৃষ্টিকারী। তাঁর হৃদয় এখনও তাঁর সৃষ্ট মানবজাতির জন্য উদ্বিগ্ন, এবং তাঁর হাত আজও শুরুর দিনের মতোই উষ্ণ এবং শক্তিশালী। যেন মানুষ স্বর্গের এদন বাগানে ফিরে এসেছে, কিন্তু এবার সে আর সাপের প্রলোভনে কান দিচ্ছে না এবং যিহোবার দৃষ্টি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে না। মানুষ ঈশ্বরের সামনে নতজানু হয়ে, তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে তাকায় এবং তার সবথেকে মূল্যবান অর্ঘ্য - আত্মত্যাগ প্রদান করে—হে আমার প্রভু, আমার ঈশ্বর!

ঈশ্বরের ভালোবাসা এবং সহমর্মিতা তাঁর কাজের ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে, এবং মানুষ ঈশ্বরের সৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পারুক বা না পারুক, তিনি অক্লান্তভাবে তাঁর কাজ করে যান, যা তিনি সম্পন্ন করতে চান। ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনা মানুষ কতটা বুঝতে পারলো, তা নির্বিশেষে ঈশ্বরের কাজের মাধ্যমে মানুষের যে সহায়তা এবং সুফল হয়, তার মর্ম সব মানুষই উপলব্ধি করতে পারে। হয়তো আজকের দিনে তুমি ঈশ্বরের প্রদান করা ভালোবাসা অথবা জীবনকে অনুভব করতে পারছো না, কিন্তু তুমি যদি ঈশ্বরকে পরিত্যাগ না করো এবং সত্যের অন্বেষণের সংকল্প ছেড়ে না দাও, তাহলে এমন একদিন আসবে, যখন ঈশ্বরের স্মিত হাসি তোমার কাছে প্রকাশিত হবে। কারণ ঈশ্বরের ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হল শয়তানের শাসনের অধীনে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা; শয়তানের হাতে ভ্রষ্ট এবং ঈশ্বর বিরোধী মানুষদের পরিত্যাগ করা নয়।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০০৫

পূর্ববর্তী: ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

পরবর্তী: সপ্ত বজ্রের নিনাদ—ভবিষ্যদ্বাণী করছে যে রাজ্যের সুসংবাদ মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

সম্পর্কিত তথ্য

ঈশ্বর হলেন মানুষের জীবনের উৎস

ক্রন্দনরত অবস্থায় এই জগতে ভূমিষ্ঠ হবার সময় থেকেই তুমি তোমার কর্তব্য পালন করা শুরু করো। ঈশ্বরের পরিকল্পনা ও তাঁর নির্ধারিত নিয়তি অনুসারে...

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন