যতক্ষণে তুমি যীশুর আধ্যাত্মিক দেহ প্রত্যক্ষ করবে, ততক্ষণে ঈশ্বর স্বর্গ ও পৃথিবীকে নতুন করে তৈরি করে ফেলবেন

তুমি কি যীশুকে দেখতে চাও? তুমি কি যীশুর সঙ্গে বসবাস করতে চাও? তুমি কি যীশুর উচ্চারিত বাক্য শুনতে চাও? তাই যদি হয়, তাহলে তুমি কীভাবে যীশুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাবে? তুমি কি পুরোপুরি প্রস্তুত? কোন পদ্ধতিতে তুমি যীশুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাবে? আমি মনে করি, যে সকল ভ্রাতা ও ভগিনীগণ যীশুকে অনুসরণ করে, তারা তাঁকে সুন্দরভাবে স্বাগত জানাতে চাইবে। কিন্তু তোমরা কি এটা ভেবে দেখেছ: যীশু যখন ফিরবেন, তখন কি তুমি তাঁকে সত্যিই চিনতে পারবে? তিনি যা বলবেন, তা কি তোমরা সত্যিই অনুধাবন করতে পারবে? তিনি যে সকল কার্য সম্পাদন করেন, তার সবটুকু কি তোমরা সত্যিই নিঃশর্তভাবে মেনে নেবে? যারা যারা বাইবেল পড়েছে, তারা সকলেই যীশুর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে জানে, এবং তারা সকলে আগ্রহের সাথে তাঁর আগমনের প্রতীক্ষা করে। তোমরা সকলে সেই মুহূর্তের আগমনের দিকে অপলকে চেয়ে আছো, এবং তোমাদের আন্তরিকতা প্রশংসনীয়, তোমাদের বিশ্বাস সত্যিই ঈর্ষনীয়, কিন্তু তোমরা কি উপলব্ধি করেছো যে, তোমরা এক গুরুতর ত্রুটি করে ফেলেছো? যীশু কি পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তন করবেন? তোমরা বিশ্বাস করো যে যীশু সাদা মেঘে চড়ে প্রত্যাবর্তন করবেন, কিন্তু আমি তোমাদের জিজ্ঞাসা করছি: এই সাদা মেঘ কীসের প্রতি নির্দেশ করছে? যীশুর এত অনুগামী তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষা করছে, এর মধ্যে তিনি কাদের মাঝে অবতীর্ণ হবেন? যীশু যদি প্রথমে তোমাদের মাঝে অবতীর্ণ হন, তাহলে কি বাকিরা একে চরম অন্যায্যতা হিসাবে দেখবে না? আমি জানি তোমাদের যীশুর প্রতি অত্যন্ত আন্তরিকতা এবং আনুগত্য রয়েছে, কিন্তু তোমরা কি কখনো যীশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছ? তোমরা কি তাঁর স্বভাব জানো? তোমরা কি কখনো তাঁর সঙ্গে থেকেছ? তোমরা তাঁর বিষয়ে সত্যিই কতখানি উপলব্ধি কর? কেউ কেউ বলবে যে এই বাক্যগুলি তাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে। তারা বলবে, “আমি অনেকবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাইবেল পড়েছি। আমি কীভাবে যীশুকে না বুঝে থাকতে পারি? যীশুর স্বভাব ছাড়ো–তিনি কী রঙের পোশাক পরতে ভালোবাসতেন, আমি তা-ও জানি। তুমি যখন বলো যে আমি তাঁকে বুঝি না, তখন তুমি কি আমায় ছোট করছ না?” আমার পরামর্শ এই যে, এসব বিষয় নিয়ে তুমি তর্ক কোরো না; তার চেয়ে শান্ত হয়ে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলি নিয়ে সহকারিতা করাই শ্রেয়: প্রথমত, তুমি কি জানো কোনটা বাস্তবিকতা, আর কোনটা তত্ত্ব? দ্বিতীয়ত, তুমি কি জানো কোনটা ধারণা, আর কোনটা সত্য? তৃতীয়ত, তুমি কি জানো কোনটা কল্পিত, আর কোনটা বাস্তব?

কিছু মানুষ এই সত্যকে অস্বীকার করে-যে তারা যীশুকে উপলব্ধি করে না। এবং আমি তবু বলি, তোমরা তাঁকে লেশমাত্রও উপলব্ধি করো না, এবং যীশুর একটি বাক্যও হৃদয়ঙ্গম করো না। কারণ তোমাদের প্রত্যেকে বাইবেলের বিবরণের কারণে, অন্যের বলা কথার জন্য তাঁকে অনুসরণ করো। তোমরা কখনো যীশুকে দেখো নি, তাঁর সঙ্গে বসবাস তো করোইনি এবং স্বল্প সময়ের জন্যও তাঁকে সঙ্গদান করো নি। সেই অর্থে, যীশুর বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান কি কেবলই তত্ত্ব নয়? তা কি বাস্তবতাবিহীন নয়? হয়তো কিছু মানুষ যীশুর প্রতিকৃতি দেখেছে, বা কেউ হয়তো ব্যক্তিগতভাবে যীশুর গৃহ দর্শন করেছে। হয়তো কেউ কেউ যীশুর পরিহিত পোশাক ছুঁয়ে দেখেছে। যদি তুমি যীশুর খাওয়া আহারও নিজে চেখে থাকো, তবুও তাঁর বিষয়ে তোমার জ্ঞান এখনো ব্যবহারিক নয়, শুধুই তাত্ত্বিক। যাই হোক না কেন, তুমি কখনোই যীশুকে দেখো নি, এবং তাঁর দেহরূপকে কখনো সঙ্গদান করো নি, আর তাই যীশুর বিষয়ে তোমার জ্ঞান সবসময়েই বাস্তবিকতাবিহীন, অন্তঃসারশূন্য তত্ত্ব হয়েই থাকবে। হয়তো আমার কথার গুরুত্ব তোমার কাছে খুবই কম, কিন্তু আমি তোমায় জিজ্ঞাসা করছি: হয়তো তুমি তোমার সবচেয়ে পছন্দের লেখকের অনেকগুলি বই পড়েছ, তবু তার সঙ্গে কখনো সময় না কাটিয়ে কি তুমি তাঁকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবে? তুমি কি জানো তাঁর ব্যক্তিত্ব কীরকম? তুমি কি জানো তিনি কীরকম জীবনযাপন করেন? তুমি কি তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানো? তুমি যাকে পছন্দ করো, সেরকম একজন মানুষকেই পুরোপুরি বুঝতে পারো না, তাহলে তোমার পক্ষে কীভাবে যীশু খ্রীষ্টকে উপলব্ধি করা সম্ভব? তুমি যীশুর বিষয়ে যা বোঝো, তা কল্পনা ও ধারণায় পরিপূর্ণ, এবং তাতে কোনো সত্য বা বাস্তবতা নেই। এটা পূতিগন্ধময়, এবং সম্পূর্ণই জৈবিক বিষয়ে দুষ্ট। এই জ্ঞান কীভাবে তোমাকে যীশুর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানানোর যোগ্য করে তুলতে পারে? যীশু তাঁদের গ্রহণ করবেন না, যারা দেহরূপ-বিষয়ক কল্পনা এবং র ধারণায় পরিপূর্ণ। যারা যীশুকে বোঝে না, তারা কীভাবে তাঁর বিশ্বাসী হওয়ার উপযুক্ত?

ফরিশীরা কেন যীশুর বিরোধিতা করেছিল, তার উৎস কি তোমরা জানতে চাও? তোমরা কি ফরিশীদের সারসত্য জানতে চাও? তারা মশীহের বিষয়ে কল্পনায় পরিপূর্ণ ছিল। উপরন্তু, তারা বিশ্বাস করত যে মশীহ আসবেন, তবুও তারা জীবনের সত্যের অনুসরণ করত না। আর তাই, আজও তারা মশীহের অপেক্ষা করে, কারণ জীবনের প্রকৃত পথের কোনো জ্ঞান তাদের নেই এবং তারা জানে না সত্যের পথ কী। তোমরাই বলো, এমন মূর্খ, জেদী আর অজ্ঞ লোকেরা কীভাবে ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করবে? কীভাবে তারা মশীহকে প্রত্যক্ষ করবে? তারা যীশুর বিরোধিতা করেছিল, কারণ তারা পবিত্র আত্মার কাজের অভিমুখ জানত না, যীশুর কথিত সত্যের পথের বিষয়ে জানত না, এবং তদুপরি, তারা মশীহকে বোঝে নি। এবং যেহেতু তারা কখনো মশীহকে দেখে নি বা তাঁর সঙ্গলাভ করে নি, তাই তারা যেকোনো উপায়ে মশীহের সারসত্যের বিরোধিতা করে কেবলমাত্র তাঁর নামকেই আঁকড়ে ধরে থাকার ভুল করেছিল। এই ফরিশীরা সারমর্মে ছিল জেদী, উদ্ধত, এবং সত্য অমান্যকারী। তাদের ঈশ্বর বিশ্বাসের নীতিই ছিল: আপনার ধর্মোপদেশ যতই গভীর হোক না কেন, আপনার কর্তৃত্ব যতই উচ্চ হোক না কেন, আপনাকে যতক্ষণ না মশীহ নামে সম্বোধন করা হচ্ছে, ততক্ষণ আপনি খ্রীষ্ট নন। এই বিশ্বাস কি অযৌক্তিক এবং হাস্যকর নয়? আমি তোমাদের আরও জিজ্ঞাসা করি: যীশুর বিষয়ে তোমাদের ন্যূনতম জ্ঞান না থাকায় তোমাদের পক্ষে প্রথমদিকের ফরিশীদের মতো ভুল করা খুব সহজ নয় কি? তুমি কি সত্যের পথ উপলব্ধি করতে সক্ষম? তুমি কি সত্যিই প্রতিশ্রুতি দিতে পারো যে, তুমি খ্রীষ্টের বিরোধিতা করবে না? তুমি কি পবিত্র আত্মার কার্য অনুধাবন করতে সক্ষম? তুমি যদি না-ই জানো যে তুমি খ্রীষ্টের বিরোধিতা করবে কিনা, তাহলে আমি বলি যে তুমি ইতোমধ্যেই মৃত্যুর কিনারায় জীবনযাপন করছ। যারা মশীহকে জানত না, তারা সকলেই যীশুর বিরোধিতা করতে, যীশুকে প্রত্যাখ্যান করতে, তাঁকে অপবাদ দিতে সক্ষম ছিল। যেসব লোকেরা যীশুকে উপলব্ধি করে না, তারা সকলেই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করতে এবং তাঁর নিন্দা করতে সক্ষম। উপরন্তু, তারা যীশুর প্রত্যাবর্তনকে শয়তানের প্রতারণা বলে ভাবতে সক্ষম, এবং আরও বেশি মানুষজন দেহরূপে প্রত্যাবৃত্ত যীশুকে তিরস্কার করবে। এইসব কি তোমাদের ভীত করে না? তোমরা যার সম্মুখীন হবে, তা হল পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে ধর্মনিন্দা, গির্জাগুলির প্রতি পবিত্র আত্মার সকল বাক্যের বিনষ্টিকরণ, এবং যীশুর দ্বারা প্রকাশিত সবকিছুর বর্জন। তোমরা যদি এত বিমূঢ় হয়ে থাকো, তাহলে তোমরা যীশুর থেকে কী অর্জন করবে? তোমরা যদি তোমাদের ত্রুটিগুলি বুঝতে অনড়ভাবে অস্বীকার করো, তাহলে যীশু যখন সাদা মেঘে চড়ে দেহরূপে প্রত্যাবর্তন করবেন, তখন তোমরা তাঁর কার্য কীভাবে বুঝতে পারবে? আমি তোমাদের বলি: যেসব লোকেরা সত্যকে গ্রহণ করে না, তবু অন্ধভাবে সাদা মেঘে চড়ে যীশুর আগমনের প্রতীক্ষা করে, তারা নিশ্চিতভাবে পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে ধর্মনিন্দা করবে, এবং তারাই সেই শ্রেণী, যাদের ধ্বংস করা হবে। তোমরা কেবল যীশুর অনুগ্রহ পেতে চাও, এবং কেবলই স্বর্গের আনন্দময় জগৎ উপভোগ করতে চাও, তবুও তোমরা কখনোই যীশুর উচ্চারিত বাক্যকে মান্য করো নি, এবং যীশু যখন দেহরূপে প্রত্যাবর্তন করেন, তখনও কখনোই তাঁর প্রকাশিত সত্যকে গ্রহণ করো নি। সাদা মেঘে চড়ে যীশুর প্রত্যাবর্তনের তথ্যের বিনিময়ে তোমরা কোন ধারণা বজায় রাখবে? এই আন্তরিকতাতেই কি তুমি বারবার পাপ করো, আর তারপর বারবার নিজের স্বীকারোক্তি দাও? যীশু, যিনি সাদা মেঘে চড়ে প্রত্যাবর্তন করেন, তাঁকে উৎসর্গ করে তোমরা কী অর্পণ করবে? তা কি সেই বহু বছরের কাজ যা দিয়ে তোমরা নিজেদের মহিমান্বিত করেছো? প্রত্যাবৃত্ত যীশুর আস্থা তোমাদের উপর আনার জন্য তোমরা কী তুলে ধরবে? তা কি তোমাদের সেই উদ্ধত প্রকৃতি, যা কোনো সত্যকে মান্য করে না?

তোমাদের আনুগত্য কেবল মুখেই, তোমাদের জ্ঞান নিতান্তই বৌদ্ধিক ও ধারণামূলক, তোমাদের পরিশ্রম কেবল স্বর্গের আশীর্বাদ লাভের স্বার্থেই, তোমাদের বিশ্বাস তাহলে কেমন হবে? আজও তোমরা প্রতিটি সত্য বাক্য থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকো। তোমরা জানো না ঈশ্বর কে, তোমরা জানো না খ্রীষ্ট কে, তোমরা জানো না কীভাবে যিহোবাকে সম্মান করতে হয়, তোমরা জানো না কীভাবে পবিত্র আত্মার কার্যের মধ্যে প্রবেশ করতে হয়, আর তোমরা এও জানো না কীভাবে স্বয়ং ঈশ্বরের কার্য এবং মানুষের শঠতার মধ্যে পার্থক্য করতে হয়। তুমি কেবল ঈশ্বরের প্রকাশিত যেসব সত্যের বাক্য তোমার ভাবনার সঙ্গে মেলে না, সেগুলির নিন্দা করতে জানো। তোমার বিনয় কোথায়? তোমার আজ্ঞাকারিতা কোথায়? তোমার আনুগত্য কোথায়? তোমার মধ্যে সত্যকে খোঁজার আকাঙ্ক্ষা কোথায়? তোমার মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি সম্ভ্রম কোথায়? আমি তোমাদের বলছি, যারা কেবল প্রতীকের কারণে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তারা নিশ্চিতভাবে সেই শ্রেণী যাদের ধ্বংস করা হবে। যারা দেহরূপে প্রত্যাবৃত্ত যীশুর বাক্য গ্রহণ করতে অক্ষম, তারা নিশ্চিতভাবেই নরকের বংশধর, প্রধান দেবদূতের বংশধর এবং সেই শ্রেণী যারা চিরকালীন ধ্বংসের শিকার হবে। অনেকে হয়তো আমি যা বলছি তার পরোয়া না করতে পারে, কিন্তু তাও আমি সকল তথাকথিত সন্ত যারা যীশুকে অনুসরণ করে তাদের বলতে চাই যে, তোমরা যখন তোমাদের নিজেদের চোখে যীশুকে স্বর্গ থেকে সাদা মেঘে চড়ে অবতীর্ণ হতে দেখবে, তা হবে ন্যায়পরায়ণতার সূর্যের জনসমক্ষে আবির্ভাব। হয়তো তোমার জন্য তা দারুণ উত্তেজনার এক মুহূর্ত হবে, তবু তোমার জানা উচিত যে, যে সময়ে তুমি স্বর্গ থেকে যীশুকে অবতীর্ণ হতে দেখবে, সেই একই সময়ে তুমিও শাস্তিভোগ করার জন্য নরকে নিমজ্জিত হবে। সেই সময়েই ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সমাপ্তি ঘটবে, এবং সেই সময়েই ঈশ্বর শিষ্টকে পুরস্কৃত করবেন এবং দুষ্টকে দণ্ড দেবেন। মানুষের কোনো প্রতীক দেখতে পাওয়ার আগেই ঈশ্বরের বিচার সম্পন্ন হয়ে যাবে, শুধুমাত্র সত্যের অভিব্যক্তিই থেকে যাবে। যারা প্রতীক না খুঁজে সত্যকে স্বীকার করে এবং ফলত যারা পরিশুদ্ধ, তারা ঈশ্বরের সিংহাসনের সম্মুখে ফিরে যাবে এবং সৃষ্টিকর্তার আলিঙ্গনে আবদ্ধ হবে। কেবলমাত্র যারা এই বিশ্বাসে অনড় থাকবে যে “যে যীশু সাদা মেঘে চড়ে আসে না, সে ভণ্ড খ্রীষ্ট”, তারা চিরকালীন দণ্ড ভোগ করবে, কারণ তারা কেবলমাত্র সেই যীশুকে বিশ্বাস করে যিনি প্রতীক প্রদর্শন করেন, কিন্তু যে যীশু কঠোর বিচার ঘোষণা করেন এবং প্রকৃত পথ ও জীবন উন্মুক্ত করেন, তাঁকে বিশ্বাস করে না। আর তাই এটাই হতে পারে যে যীশু যখন সাদা মেঘে চড়ে সবার সামনে প্রত্যাবর্তন করবেন, কেবল তখনই তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করবেন। তারা অত্যন্ত জেদী, নিজেদের ওপর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, অত্যন্ত অহংকারী। এরকম অধঃপতিতেরা কীভাবে যীশুর দ্বারা পুরস্কৃত হতে পারে? যারা সত্য স্বীকার করতে সক্ষম, তাদের জন্য যীশুর প্রত্যাবর্তন এক মহান পরিত্রাণ, কিন্তু যারা সত্যকে স্বীকার করতে অক্ষম, তাদের জন্য এটা তিরস্কারের প্রতীক। তোমাদের নিজেদের পথ নিজেদের বেছে নেওয়া উচিত এবং পবিত্র আত্মার ধর্মনিন্দা বা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত না। তোমাদের অজ্ঞ এবং অহংকারী মানুষ হওয়া উচিত না, এমন একজন মানুষ হওয়া উচিত যে পবিত্র আত্মার নির্দেশিকা মান্য করে এবং সত্যকে খোঁজার কামনা করে; একমাত্র এই উপায়েই তোমরা লাভবান হবে। আমি তোমাদের ঈশ্বর-বিশ্বাসের পথে সযত্নে চলার উপদেশ দিই। প্রথমেই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ো না; এছাড়াও, ঈশ্বরের প্রতি তোমার বিশ্বাসে উদ্দেশ্যহীন এবং ভাবনাহীন হয়ো না। তোমাদের ন্যূনতম এটা জানা উচিত যে, যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তাদের অন্তত বিনয়ী এবং সম্ভ্রমপূর্ণ হওয়া উচিত। যারা সত্য শুনেও তা প্রত্যাখ্যান করে, তারা মূর্খ এবং অজ্ঞ। যারা সত্য শুনেও উদ্দেশ্যহীনভাবে সিদ্ধান্তে উপনীত হয় বা তাকে নিন্দা করে, তারা অহংকারে আচ্ছন্ন। যারা যীশুকে বিশ্বাস করে, তারা কেউই অন্যকে নিন্দা বা অভিসম্পাত করার যোগ্য নয়। তোমাদের সকলকে এমন হতে হবে, যারা বিচক্ষণ এবং যারা সত্যকে স্বীকার করে। হয়তো সত্যের পথের বিষয়ে শুনে বা জীবনের বাক্য পড়ে তুমি বিশ্বাস করো যে, এই বাক্যগুলির ১০,০০০-এর মধ্যে একটি হয়তো তোমরা ধারণা এবং বাইবেলের সঙ্গে সুসঙ্গত, আর তারপর তোমার ১০,০০০তম বাক্য অবধি অনুসন্ধান চালানো উচিত। আমি এখনো তোমায় বিনয়ী হতে, অতি আত্মবিশ্বাসী না হতে, এবং নিজেকে অতি উচ্চে উন্নীত না করতেই উপদেশ দিই।তোমার হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রতি সামান্য সম্মান থাকলেই তুমি মহত্তর আলোক অর্জন করবে। তুমি যদি এই বাক্যগুলিকে সযত্নে পরীক্ষা করো এবং বারংবার চিন্তা করো, তাহলেই তুমি বুঝতে পারবে এগুলি সত্য কিনা, এগুলিই জীবন কিনা। হয়তো মাত্র কিছু বাক্য পড়েই কিছু মানুষ এই বাক্যগুলিকে অন্ধভাবে নিন্দা করে বলবে, “এটা পবিত্র আত্মার কিছু আলোকপ্রাপ্তির চেয়ে বেশি কিছু নয়,” অথবা “এ এক ভণ্ড খ্রীষ্ট মানুষকে বোকা বানাতে এসেছে।” যারা এসব বলে, তারা অজ্ঞতার বশে অন্ধ! তুমি ঈশ্বরের কার্য এবং প্রজ্ঞা সম্বন্ধে খুবই কম বোঝো, এবং আমি তোমাকে আবার শূন্য থেকে শুরু করার উপদেশ দিই! অন্তিম সময়ে ভণ্ড খ্রীষ্টদের আগমনের কারণে ঈশ্বরের অভিব্যক্ত বাক্যকে অন্ধভাবে নিন্দা করা একেবারেই অনুচিত, এবং শঠতার প্রতি তোমার ভয়ের কারণে পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে ধর্মনিন্দা করাও তোমার অনুচিত। সেটা কি খুবই দুঃখের বিষয় হবে না? যদি অনেক পরীক্ষার পরেও তুমি বিশ্বাস করতে থাকো যে এই বাক্যগুলি সত্য নয়, প্রকৃত পথ নয়, এবং ঈশ্বরের অভিব্যক্তি নয়, তাহলে অবশেষে তোমাকে দণ্ড ভোগ করতে হবে, এবং তুমি আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত থাকবে। তুমি যদি এত সাধারণ এবং স্পষ্টভাবে কথিত সত্য স্বীকার করতে না পারো, তাহলে কি তুমি ঈশ্বরের পরিত্রাণ লাভের অনুপযুক্ত নও? তুমি কি তাহলে এমন কেউ নও যে ঈশ্বরের সিংহাসনের কাছে প্রত্যাবর্তনের পক্ষে যথেষ্ট আশীর্বাদপ্রাপ্ত নয়? ভেবে দেখো!হঠকারী বা প্ররোচিত হয়ো না, এবং ঈশ্বর-বিশ্বাসকে নিছক খেলা হিসেবে দেখো না। তোমার গন্তব্যের স্বার্থে, প্রত্যাশার স্বার্থে, জীবনের স্বার্থে ভাবো, আর নিজেকে ঠকিয়ো না। তুমি কি এই বাক্যগুলিকে স্বীকার করতে পারো?

পূর্ববর্তী: ঈশ্বরের কর্মের দর্শন (৩)

পরবর্তী: যারা খ্রীষ্টের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ তারা অবশ্যই ঈশ্বরের বিরোধীপক্ষ

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? শিখতে আমাদের ফেলোশিপে যোগ দিন। কোন ফি লাগবে না।👇

সম্পর্কিত তথ্য

প্রার্থনার অনুশীলন বিষয়ে

তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রার্থনার উপর জোর দাও না। মানুষ প্রার্থনার বিষয়টিকে অবহেলা করে। প্রার্থনা সাধারণত করা হয়ে থাকে দায়সারাভাবে...

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন