ঈশ্বর সকল সৃষ্টির প্রভু

পূর্ববর্তী দুটি যুগের মধ্যে এক পর্বের কাজ হয়েছিল ইস্রায়েলে, অন্য পর্বটি জুডিয়াতে। সাধারণভাবে বলতে গেলে, এই কাজের কোনোটিই ইস্রায়েলের বাইরে হয়নি আর প্রতিটি কাজই প্রথম নির্বাচিত ব্যক্তিদের ওপরেই সম্পন্ন হয়েছিল। ফলত, ইস্রায়েলবাসীদের বিশ্বাস, যে যিহোবা কেবল ইস্রায়েলবাসীদেরই ঈশ্বর। যেহেতু যীশুর কর্মক্ষেত্র ছিল জুডিয়া এবং সেখানেই তাঁর ক্রুশবিদ্ধকরণের কাজ হয়েছিল, তাই ইহুদিরা মনে করে যে যীশু হলেন ইহুদি জনগণের মুক্তিদাতা। তারা ভাবে যে তিনি কেবল ইহুদিদেরই প্রভু, অন্য কারো নন; তিনি ইংরেজদের, এমন কি আমেরিকানদের মুক্তিদাতাও নন, তিনি একমাত্র ইস্রায়েলবাসীদেরই প্রভু। কারণ, ইস্রায়েলে তিনি কেবল ইহুদিদেরই মুক্তিদান করেছিলেন। আসলে, ঈশ্বর এই বিশ্বের সমস্ত কিছুরই মালিক, সৃষ্ট প্রতিটি অস্তিত্বের ঈশ্বর। তিনি কেবল ইস্রায়েলবাসীদের বা ইহুদিদের নন; যা কিছুই সৃষ্ট হয়েছে তিনি তাদের সবার ঈশ্বর। যেহেতু তাঁর পূর্ববর্তী দুটি পর্বের কাজ ইস্রায়েলেই, চলেছিল, তাই সেখানকার মানুষের মনে এই ধারণা হয়েছিল যে, যিহোবার কার্যকলাপও যেহেতু ইস্রায়েলেই হয়েছে এবং যীশু নিজেও দেহরূপে তাঁর কাজ জুডিয়াতে করেছেন—এবং অন্যান্য নানা কারণে, তাঁর এই কাজ ইস্রায়েলের বাইরে সম্প্রসারিত হয়নি। তাই তাদের ধারণা, মিশরীয় বা ভারতীয়দের মধ্যে ঈশ্বর তাঁর কাজ করেন নি; তাঁর কাজ শুধুমাত্র ইস্রায়েলবাসীদের জন্যই। এই ভাবেই মানুষের মধ্যে গড়ে উঠেছে বিচিত্র সব ধারণা। এবং ঈশ্বরের কর্ম-পরিধিকে তারা একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই গণ্ডীবদ্ধ রাখতে চেয়েছে। তাদের ধারণা, ঈশ্বর শুধুমাত্র তাঁর নির্বাচিত জনগোষ্ঠী এবং ইস্রায়েলেই তাঁর কর্ম সম্পাদন করেন। ইস্রায়েলবাসী ছাড়া অন্য কেউই বা অন্য কোনও স্থানেই তাঁর কর্মের কোনও বৃহত্তর অবকাশ নেই। তারা এমনই গোঁড়া যে ঈশ্বরের অবতারের কর্ম-পরিধিকে তারা ইস্রায়েলের ভৌগোলিক সীমার বাইরেও যেতে দিতে চায় না। এগুলি কি নেহাতই তুচ্ছ মানবোচিত ধারণা নয়? আকাশ ও পৃথিবী এবং সমস্ত কিছু যেখানে তাঁর সৃষ্টি সেক্ষেত্রে তাঁর কাজ কি কেবলমাত্র ইস্রায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে? যদি তাই হত, তাহলে তাঁর এই বিশ্বজোড়া সৃষ্টির অর্থ কী? তিনি জগতের সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর ছয় হাজার বছর ব্যাপী পরিচালনামূলক পরিকল্পনা কেবলমাত্র ইস্রায়েলের জন্য হতে পারে না, তা বিশ্বের সমস্ত মানুষের জন্যই। তারা চীন, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য বা রাশিয়া যেকোনো স্থানের বাসিন্দাই হোক না কেন, তারা আদমের বংশধর; প্রত্যেকেই ঈশ্বরের সৃষ্টি। এবং কেউই তাঁর সৃষ্টি-সীমা লঙ্ঘন করতে পারে না, অস্বীকার করতে পারে না “আদমের বংশধর” হিসাবে নিজের পরিচয়। তারা সবাই ঈশ্বরের জীব, প্রত্যেকেই আদমের সন্ততি, এবং সকলেই আদম ও ইভের ভ্রষ্ট বংশধরও বটে। কেবল ইস্রায়েলবাসীরাই ঈশ্বর-সৃষ্ট নন, বিশ্বের সব মানুষই তাঁর সৃষ্টি; পার্থক্য হল, কেউ বা অভিশপ্ত আর কেউ কেউ তাঁর আশীর্বাদ-ধন্য। তবে ইস্রায়েলবাসীদের সাথে সহমত হবার মতো অনেক যুক্তি আছে; সবচেয়ে কম ভ্রষ্ট হওয়ার কারণে তাদের মধ্যেই ঈশ্বর প্রথম তাঁর কাজ শুরু করেন। চীনারা তাদের তুলনায় নেহাতই নগণ্য এবং নিকৃষ্ট। তাই, ইস্রায়েলবাসীদের মধ্যেই ঈশ্বরের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয় এবং তাঁর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ কেবল জুডিয়াতেই পরিচালিত হয়েছিল—ফলে মানুষের মনে বিচিত্র সব ধারণা গড়ে উঠেছে এবং তৈরি হয়েছে নানা বিধি। ঈশ্বরকে যদি মানুষের ধারণা অনুসারে কাজ করতে হত, তাহলে তিনি কেবল ইস্রায়েলবাসীদেরই ঈশ্বর থাকতেন। পরজাতীয় দেশগুলিতে প্রসারিত হত না তাঁর কর্মক্ষেত্র। সেক্ষেত্রে তিনি শুধুমাত্র ইস্রায়েলবাসীদেরই আরাধ্য ঈশ্বর হতেন, বিশ্বস্রষ্টা হিসাবে বন্দিত হতেন না। ভবিষ্যৎবাণী ছিল যে পরজাতীয় দেশগুলিতে যিহোবার নাম বিপুলভাবে বর্ধিত এবং প্রচারিত হবে। এমন ভবিষ্যৎবাণী কেন করা হয়েছিল? ঈশ্বর যদি কেবল ইস্রায়েলবাসীদের ঈশ্বর হতেন তাহলে তো তাঁর কর্মকাণ্ড কেবল ইস্রায়েলেই হওয়ার কথা। বিশ্বজুড়ে তাঁর কাজ এত বিস্তৃত করতেন না বা এমন এমন ভবিষ্যৎবাণীও করতেন না। যেহেতু তিনি এই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, তাই নিশ্চিতভাবেই তিনি সব পরজাতীয় রাষ্ট্রগুলিতে এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশে এবং স্থানে তাঁর কাজ প্রসারিত করবেন। যেহেতু এই ভবিষ্যৎবাণী তাঁরই করা, তাই তিনি অবশ্যই এটি করবেন; এটাই তাঁর পরিকল্পনা, কারণ, আকাশ ও পৃথিবী এবং সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা তিনিই এবং সৃষ্ট সব কিছুরই তিনি ঈশ্বর। তিনি ইস্রায়েলবাসী বা সমগ্র জুডিয়া-যেখানেই তিনি কাজ করেন তা সমগ্র বিশ্বের এবং সমগ্র মানবজাতির কাজ। অতিকায় লাল ড্রাগনের সেই দেশের মত এক অ-ইহুদি দেশেও তিনি বর্তমানে যে কাজ করে চলেছেন, তাও সমস্ত মানবজাতির জন্যই। পৃথিবীতে তিনি যে কাজ করেছেন, ইস্রায়েল যদি বিশ্বজোড়া তাঁর সেই কাজের ভিত হয়ে থাকে তা হলে পরজাতীয় দেশগুলিতে তাঁর কাজের ভিত হয়ে উঠতে পারে চীন। “পরজাতীয় দেশগুলিতে যিহোবার নাম বিপুলভাবে বর্ধিত এবং প্রচারিত হবে” এই ভবিষ্যৎবাণী তিনি করেছিলেন, তা কি এখনও সফল হয়নি? অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশে তিনি এখন যে কাজ করছেন তা হবে পরজাতীয় দেশগুলিতে তাঁর প্রথম পর্যায়ের কাজ। সাধারণ মানুষের ধারণার বিপরীতে ঈশ্বরের অবতার এই দেশে এবং এইসব অভিশপ্ত মানুষের মধ্যেই কাজ করবেন। অকিঞ্চন এবং সর্বার্থে তুচ্ছ এইসব মানুষদের প্রাথমিকভাবে যিহোবাও পরিত্যাগ করেছিলেন। মানুষ মানুষকে ছেড়ে যেতে পারে কিন্তু তাদের যদি ঈশ্বরও পরিত্যাগ করেন, তাহলে তাদের মতো দুর্ভাগা আর কেউ নেই, এত অকিঞ্চিৎকর আর কেউই হয় না। ঈশ্বরের সৃষ্ট যেকোনো প্রাণীই যদি শয়তান-অধিকৃত বা মানুষ দ্বারা পরিত্যক্ত হয় তবে তা নিশ্চিতরূপেই খুব পরিতাপের বিষয়। তবে স্রষ্টাই যদি তাকে পরিত্যাগ করেন, তবে তার মত অভাগা আর কেউ নেই। মোয়াবের অভিশপ্ত বংশধররা এই পিছিয়ে পড়া দেশেই যে জন্মগ্রহণ করেছিল সেকথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে মানবগোষ্ঠী অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত, তাদের মধ্যে হীনতম হল মোয়াবের বংশধররা। এইসব মানুষ এত দিন পর্যন্ত নিতান্ত তুচ্ছতায় দিন কাটাচ্ছিল। তাই এদের নিয়ে ঈশ্বরের কাজ শুরু হলে, তা মানুষের বহু দিনের বহু ভুল ধারণা সবচেয়ে ভালো ভাবে ভেঙে ফেলতে সক্ষম হবে আর সেটাই হবে ঈশ্বরের ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার সার্থক রূপায়ণ। ঈশ্বরের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে মানুষের যেসব ভুল ধারণা বিদ্যমান সেগুলি নিশ্চিহ্ন করার এই সবচেয়ে ভালো উপায় হল এটিই এবং এভাবেই নতুন এক যুগের সূচনা করবেন ঈশ্বর। প্রথাগত সব ভ্রান্ত ধারনার অবসান ঘটিয়ে সমাপ্ত করবেন তাঁর অনুগ্রহের যুগ। তাঁর প্রথম কর্মসম্পাদনা হয়েছিল জুডিয়াতে, ইস্রায়েলের সীমার মধ্যে; নতুন যুগের সূচনার জন্য পরজাতীয় দেশগুলিতে তিনি কাজ করেন নি। তার চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ শুধুমাত্র পরজাতীয়দের মধ্যেই হবে না বরঞ্চ আরো বেশি প্রসারিত হবে সব অভিশপ্ত মানবগোষ্ঠীর জন্য। এই একটি ঘটনাই নির্দ্বিধায় প্রমাণ করবে শয়তানের চূড়ান্ত লাঞ্ছনা এবং এই ভাবেই তিনি “হয়ে উঠবেন” বিশ্বের প্রতিটি সৃষ্টির ঈশ্বর, প্রতিটি বস্তুকণার প্রভু এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উপাস্য।

আজকের যুগেও এমন কিছু মানুষ আছে যারা এখনও উপলব্ধি করতে পারছে না যে ঈশ্বর নতুন কাজের সূত্রপাত করেছেন, পরজাতীয় দেশগুলিতেই শুরু করেছেন তাঁর নতুন কর্মধারা। নতুন এক যুগের সূচনা এবং নতুন কাজের উদ্যোগ নিয়েছেন ঈশ্বর এবং তা তিনি সম্পন্ন করবেন মোয়াবের বংশধরদের মধ্যেই। এটা কি তাঁর নবীনতম কাজ নয়? এই ধরনের কাজ হতে ইতিহাসে কেউ কখনও দেখেনি। এমনকি শোনেও নি, প্রশংসা করা তো দূরের কথা। ঈশ্বরের প্রজ্ঞা, বিস্ময়কর ক্ষমতা, দুর্জ্ঞেয়তা, মহত্ত্ব এবং পবিত্রতা সবই তাঁর এই অন্তিম সময়ের কর্ম-পর্যায়ে প্রকাশিত হবে। প্রাচীন এবং প্রথাগত ধ্যান-ধারণাগুলি ভেঙে এইগুলি কি নতুন কাজ হিসাবে অভিষিক্ত হবে না? অনেকেই আছে যাদের ধারণা হল: “মোয়াবকে ঈশ্বর অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তার বংশধরদের তিনি পরিত্যাগ করবেন। যদি তাই হয়, তাহলে এখন তিনি কীভাবে তাদের উদ্ধার করবেন?” এরা হল সেই পরজাতীয় যাদেরকে ঈশ্বর অভিসম্পাত করেছিলেন এবং যারা ইস্রায়েল থেকে বিতাড়িত হয়েছিল; ইস্রায়েলবাসীরা তাদেরকে বলত “পরজাতীয় কুকুর।” প্রত্যেকেরই চোখে, এরা কুকুরেরও অধম, নিকৃষ্টতম প্রাণী—বিনাশের সন্তান অর্থাৎ ঈশ্বরের নির্বাচিত মানুষ নয়। ইস্রায়েলের ভৌগোলিক সীমানায় জন্মালেও তারা ইস্রায়েলের জনগোষ্ঠীর কেউ নয় এবং এরা বহিষ্কৃত হয়েছিল পরজাতীয় দেশগুলিতে। মানবজাতির মধ্যে এরা হীনতম। এই হীনতম হওয়ার কারণেই ঈশ্বর এদের মধ্যেই শুরু করবেন তাঁর নতুন যুগের, কেননা এরাই হল ভ্রষ্ট মানবতার প্রতিনিধি। নির্দিষ্ট ও নির্বাচিত মানুষের মধ্যে এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই ঈশ্বরের কর্মধারা চলে। এই সব মানুষের মধ্যে ঈশ্বর আজ যে কাজ শুরু করেছেন, সেগুলিও তাঁর সৃষ্টির উপরেই বিদ্যমান। নোয়া এবং তার বংশধররা ঈশ্বরেরই সৃষ্টি। রক্ত-মাংসের প্রতিটি পার্থিব প্রাণীই ঈশ্বর-সৃষ্ট। সমগ্র সৃষ্টির মধ্যেই ঈশ্বরের কর্মধারা প্রবাহিত। সৃষ্টির পরে কে অভিশপ্ত হবে বা আশীর্বাদ পাবে সে বিচার করে তাঁর সৃষ্টিকর্ম চলে না। তাঁর নির্বাচিত মানুষ অথবা যারা অভিশপ্ত নয় শুধু তাদের গণ্ডীতেই তার কর্মপরিচালনা আবদ্ধ থাকে না, কারণ, তাঁর ইচ্ছা হল সর্বত্রই বিস্তৃত হোক তাঁর কর্ম-পরিধি, তাই নিশ্চিতভাবে প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং তিনি সেই সব মানুষের মধ্যেই কাজ করবেন, যারা তাঁর কাজের উপযোগী। তাই, প্রচলিত সব ধারণা ভেঙেই তিনি কাজ করেন, তাঁর কাছে তখন নিরর্থক হয়ে পড়ে কে “অভিশপ্ত”, কে “শাস্তিপ্রাপ্ত” আর কেই বা “আশীর্বাদধন্য”! ঈশ্বরের নির্বাচিত গোষ্ঠী ইস্রায়েলবাসীদের মত ইহুদিরাও ভাল মানুষ-উত্তম যোগ্যতার অধিকারী এবং মানবিক গুণসম্পন্ন । আদিতে, এদের মধ্যেই অভিযান শুরু করেন যিহোবা এবং তাঁর প্রথম কাজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু বর্তমানে এই অভিযান তাদের মধ্যেই আবার চালানো নিরর্থক। নিঃসন্দেহে তারাও সৃষ্টির অংশ এবং বহু ইতিবাচক গুণের অধিকারী কিন্তু এই পর্যায়ের কাজ তাদের মধ্যে চালানো অর্থহীন। সমগ্র মানবগোষ্ঠীর জয় বা অনুপ্রাণিত করার কাজ ঈশ্বর এখনও সমাধা করে উঠতে পারেন নি। এবং ঠিক এই পরিস্থিতিতেই তিনি অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশের মানুষের মধ্যে কাজ করতে চাইছেন। পুরানো সব ধ্যান-ধারণা ভেঙে, তাঁরই অনুগ্রহের যুগের সব সৃষ্টির অবসান ঘটিয়ে তিনি সূচনা করতে চলেছেন নতুন এক যুগের। বর্তমানেও তিনি যদি ইস্রায়েলবাসীদের মধ্যেই কাজ করতেন তাহলে তাঁর ছয় হাজার বছরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার মেয়াদ যখন শেষ হত, তখন সকলেই মনে করত যে তিনি শুধুমাত্র ইস্রায়েলবাসীদেরই ঈশ্বর এবং তারাই ঈশ্বর-নির্বাচিত এবং তাঁর আশীর্বাদ এবং সুরক্ষার আশ্বাসের একমাত্র উত্তরাধিকারী। অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশের মত পরজাতীয় রাষ্ট্রে যদি অন্তিম সময়ে ঈশ্বরের আবির্ভাব ঘটে তবেই সমগ্র বিশ্বের সব সৃষ্টির ঈশ্বর-রূপে তাঁর কর্ম সম্পন্ন হবে। এই অতিকায় লাল ড্রাগনের দেশে কর্ম-সমাধাতেই তাঁর কর্ম-পরিচালনার মূল ভাগের সমাপ্তি ঘটবে। তিন পর্বের কাজের মূল কথা হল—মানুষের পরিত্রাণ, তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিরই উপাস্য যেন হন ঈশ্বর। ফলে প্রতি পর্যায়ই গভীর অর্থবহ। নিরর্থক বা মূল্যহীন কোন কাজই তিনি করেন না। এই পর্যায়ের কাজ যেমন পূর্ববর্তী দুটি যুগের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক যুগের সূচনা করবে তেমনই আর এক দিকে মানুষের বিশ্বাসের সব প্রাচীন ধ্যান-ধারণা এবং জ্ঞানকে ধূলিসাৎ করে দেবে। আগের দুই যুগের কাজ হয়েছিল তখনকার মানুষের বিভিন্ন ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী। তবে, এই পর্যায়ে মানুষের চিন্তা-ভাবনা সম্পূর্ণ বর্জিত হবে এবং মানবজাতির মধ্যে প্রোথিত হবে ঈশ্বরের বিজয়-নিশান। মোয়াবের বংশধরদের মধ্যে কাজ করে এবং জয়ী হয়ে ঈশ্বর তাদের মধ্যে এই বিশ্বাস গড়ে তুলেছিলেন যে এই বিশ্বের প্রতিটি মানুষকেই ঈশ্বর পরাজিত করতে পারেন এবং এটিই হল এই পর্যায়ের সুগভীর তাৎপর্য ও অমূল্য দিক। এখনও যদি মনে করো যে তোমার মর্যাদা একান্তই নগণ্য এবং তুমি নেহাতই তুচ্ছ, তবু মনে মনে বুঝবে যে বিশ্বের আনন্দিততম ঘটনার মুখোমুখি তুমি, উত্তরসূরি হিসাবে সেই মহান আশীর্বাদে পেয়েছ ঐশী সুরক্ষার আশ্বাস এবং হতে পারো ঈশ্বরের মহান কর্ম-সম্পাদনের শরিক। ঈশ্বরের প্রকৃত রূপ তোমার কাছে দৃশ্যমান, তুমি জেনেছ তাঁর সহজাত স্বভাব এবং ঈশ্বরের ইচ্ছাই তোমার কাজ। আগের দুই পর্যায়ের কাজ ঈশ্বর করেছিলেন ইস্রায়েলে। অন্তিম সময়ের এই কাজ যদি ইস্রায়েলেই সম্পন্ন হত, তাহলে ঈশ্বর-সৃষ্ট সকলেই ভাবত যে একমাত্র ইস্রায়েলবাসীরাই তাঁর নির্বাচিত জনগোষ্ঠী—কিন্তু তাতে ঈশ্বরের পরিচালনামূলক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যেত। ইস্রায়েলে তাঁর দুই পর্বের কাজের সময়কালে পরজাতীয় দেশগুলিতে নতুন কোনও কাজ বা বা নতুন যুগের সূচনার আভাস ছিল না। বর্তমান পর্যায়ের কাজ অর্থাৎ নতুন যুগের সূচনা করার কাজ প্রথম শুরু হয়েছিল পরজাতীয় দেশগুলিতে। উপরন্তু তার সূত্রপাত হয় মোয়াবের বংশধরদের মধ্যেই এবং সূচিত হয় নতুন যুগ। মানুষের মধ্যে থাকা সমস্ত প্রাচীন ধারণা ও বিশ্বাসকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ এবং নিশ্চিহ্ন করে দেন তিনি, অবশিষ্ট রাখেন না কিছুই। তাঁর বিজয় রথের চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় মানুষের সমস্ত অতীত বিশ্বাস, জ্ঞান অর্জনের প্রাচীন পন্থা। তিনি মানুষকে দেখাতে চান যে ঈশ্বর-সান্নিধ্যের জন্য কোনও বিধি-নিষেধ নেই, কোনো প্রাচীনতা নেই ঈশ্বরের। তাঁর সমস্ত কাজই সম্পূর্ণ মুক্ত ও স্বাধীন এবং তিনি যে কাজই করেন তা সম্পূর্ণ সঠিক। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে তিনি যে কাজই করুন না কেন, তাতেই তুমি অবশ্যই সম্পূর্ণ সমর্পণ করবে। তাঁর সমস্ত কাজেরই একটি নির্দিষ্ট অর্থ আছে এবং তা সম্পন্ন হয় একান্তভাবেই তার ইচ্ছা এবং প্রজ্ঞায়—কোনোভাবেই প্রভাবিত হয় না মানুষের পছন্দ বা ধারণায়। তাঁর উপযুক্ত কোনও কাজ হলে তিনি তা অবশ্যই করেন নতুবা নয়—তা সে যতই মহান কাজ হোক না কেন। তাঁর কর্মপরিকল্পনার অর্থ এবং উদ্দেশ্য অনুসারে তিনি স্থান এবং তাঁর কর্মের ফলভোগীদের নির্বাচন করেন। প্রাচীন নিয়ম নীতি ও কর্মপদ্ধতিকে তিনি আঁকড়ে রাখেন না—বরং কাজের তাৎপর্য অনুযায়ী গড়ে ওঠে তাঁর নতুন কর্মপরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত তাঁর পূর্ব পরিকল্পিত অভীষ্টই সিদ্ধ হয় এবং তার নিখাদ প্রভাব পড়ে। আজকের দিনেও তুমি যদি এই কথাগুলি না বুঝে থাকো, তাহলে তাঁর কাজের কোনও প্রভাবই তোমার ওপর পড়বে না।

পূর্ববর্তী: ঈশ্বরের অবতার এবং ঈশ্বর কর্তৃক ব্যবহৃত মানুষের মধ্যে মূল পার্থক্য

প্রতিদিন আমাদের কাছে 24 ঘণ্টা বা 1440 মিনিট সময় থাকে। আপনি কি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর বাক্য শিখতে 10 মিনিট সময় দিতে ইচ্ছুক? অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 😊

সম্পর্কিত তথ্য

সেটিংস

  • লেখা
  • থিমগুলি

ঘন রং

থিমগুলি

ফন্টগুলি

ফন্ট সাইজ

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

লাইনের মধ্যে ব্যবধান

পৃষ্ঠার প্রস্থ

বিষয়বস্তু

অনুসন্ধান করুন

  • এই লেখাটি অনুসন্ধান করুন
  • এই বইটি অনুসন্ধান করুন

Messenger-এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন